তোমরা যখন ছিলে ভুলের ঘুমে
আমি বারে বারে এসেছি দ্বারে
ডেকে গেছি ওঠ সব ভাই
কেহ জাগিলে না, অভিমানে চলে যাই
যখন ভাঙিবে ঘুম আমি সেথা নাই।
উদ্ধৃতিটা বুলবুল চৌধুরীর। লেখাটি পড়ে মনে হয় কোনো কবি তিনি। অবশ্য কবি বললে ভুল হবে না। কিন্তু তার কবিতার ছন্দ ততটা সাদা কাগজে ফুটে ওঠেনি, যতটা ফুটে উঠেছিল অঙ্গসৌষ্ঠবে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, কাব্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন নাচের মুদ্রায়। আবুল ফজল তার এক লেখায় নজরুল ও জয়নুলের পর বাঙালির ‘তৃতীয় প্রতিভা’ বলে অভিহিত করেন বুলবুল চৌধুরীকে। তার আগে বাঙালি মুসলিম সমাজে নৃত্যচর্চা ছিল না। নাচকে এ সমাজের কাছে শিল্পে পরিণত করেছিলেন তিনি। কাজটি সহজ ছিল না।
১৯১৯ সাল। ভারতবর্ষ তখন ব্রিটিশদের ছত্রচ্ছায়ায়। ওই বছরের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার চুনতি গ্রামের আজম উল্লাহ চৌধুরী ও মাহফুজা খাতুনের ঘর আলো করে এল তাদের প্রথম সন্তান। নাম রাখলেন রশীদ আহমদ চৌধুরী। বাড়ির সবার কাছে তিনি টুনু। তখন কে জানত এই ছেলের কীর্তি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়বে ত্রিভুবনে?
নৃত্যকলায় বুলবুলের প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই কোনো। তবে সংস্কৃতির অন্য ক্ষেত্রগুলোয়ও তার অনবদ্য কীর্তি আলোক রশ্মি ছড়িয়ে গেছে। চিত্রশিল্পী, ঔপন্যাসিক, কবি, যে উপাধিই দেয়া হোক না কেন, সবেতেই তিনি অম্লান।
বলা হয়, যদি নৃত্যশিল্পী না হতেন, তাহলে বুলবুলকে আমরা পেতাম কথাসাহিত্যিক বা চিত্রশিল্পী হিসেবে। কিশোর বয়সে অজয় কুমার ছদ্মনামে লিখেছেন ‘শেফালিকা সংকলন’। পরবর্তীতে নাচকে ধ্যানজ্ঞান করে নেয়ায় লেখালেখি করা হয়ে ওঠেনি। তবে বেশকিছু প্রবন্ধ, ছোটগল্প প্রকাশিত হয়। তার একমাত্র উপন্যাস ‘প্রাচী’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এ উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশ হয় কলকাতা থেকে। বইটির প্রচ্ছদ অলঙ্করণে ছিলেন কামরুল হাসান। আরেকটি উপন্যাস নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন শোনা যায়। সেটি অসমাপ্ত রেখে মনোযোগী হন ছোটগল্প লেখায়। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল বুলবুল চৌধুরীর গল্প-সংগ্রহ।
সব পরিচয় ছাপিয়ে যায় তার নৃত্যশিল্পীর পরিচয়টি। বিশেষ করে বাংলাদেশে নাচকে মর্যাদাপূর্ণ একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম পথিকৃত্ বুলবুল চৌধুরী।
পড়াশোনায় হাতেখড়ি গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি আর পার্সি ভাষা আয়ত্ত করে। পরে হাওড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বাবা ছিলেন বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিসের ইন্সপেক্টর। বদলির চাকরি। তাই বেশি দিন থাকা হয়নি হাওড়ার এ স্কুলে। তত্কালীন ম্যাট্রিকুলেশনের গণ্ডি পার হলেন মানিকগঞ্জ হাইস্কুল থেকে, ১৯৩৪ সালে। মানিকগঞ্জ স্কুলে পড়াকালে স্কুল বিচিত্রায় চাতক নৃত্যের মুদ্রা তুলে চমকে দিয়েছেন সবাইকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া। ওই সময়ই রচনা করেছেন গীতিকবিতার পাণ্ডুলিপি বুলবুলি। এ পাণ্ডুলিপি থেকে কবিতা নিয়ে তাতে সুর দেন বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়। মানিকগঞ্জের এই ব্যক্তি ছিলেন সে সময়ের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী। স্কুলে পড়ার সময় নিজ প্রচেষ্টায় ‘বকুল’ নামের একটি পত্রিকার দুটো সংখ্যা বের করেন রশীদ। রক্ষণশীল পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা রশীদ আহমদ চৌধুরীর পক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়ার পেছনে তার মা-বাবার আধুনিক মনোভাবের অবদান ছিল নিশ্চয়ই। কলকাতা থেকে বাড়িতে প্রায়ই আসত নানা পত্রপত্রিকা ও বই। এগুলো তার মানসিক বিকাশে ভূমিকা রেখেছে নিঃসন্দেহে। তাই বলে রশীদের নতুন কিছু করার প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করা যায় না কিছুতেই।
বাবা আজম উল্লাহ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, আদর্শবাদী এক মানুষ। স্বদেশীরা ব্রিটিশদের দেশ থেকে উচ্ছেদ করার কাজে ব্রতী। তাই তাদের ধরপাকড়েও ব্যস্ত উপরমহল। কিন্তু আজম উল্লাহ সুযোগ বুঝে পালাতে সাহায্য করতেন বিপ্লবী, রাজবন্দিদের। এসবে সরকার নীতিবিরুদ্ধ কাজের ফল হিসেবে তার পদোন্নতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। বাবার কর্মস্থল বাঁকুড়ায় স্বদেশী বিপ্লবী রাজেন বাবুর দেখা পান রশীদ। শোনা যায় তার কাছেই নাকি হয় ছবি আঁকার হাতেখড়ি। কিন্তু নাচ? বাঁকুড়ায় থাকাকালে সাঁওতাল নৃত্য ও মানিকগঞ্জে মুন্সেফের শান্তিনিকেতনে পড়ুয়া দুই আত্মজ-আত্মজার নাচ দেখা ছাড়া আর কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। নৃত্যশিল্পের সীমিত এ রসবোধ হয়তো রশীদের অবচেতন মনে বাসা বেঁধেছিল। পরবর্তীতে তার নাচের ছন্দে এসব অভিজ্ঞতার ছায়া দেখা যায়।
শুরুটা যখন করেছিলেন— ভদ্রসমাজে নাচের কোনো স্থান তৈরি হয়নি। বায়েজীদের ঘুঙুরের শব্দে নাচের তাল থমকে থাকত কোনো জলসাতেই। ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মুসলিমদের কাছে নৃৃত্যকলা ছিল নিন্দিত ও নিষিদ্ধ এক মাধ্যম। হিন্দু সমাজেও এর কোনো স্থান নেই। স্বর্গের অপ্সরারা দেবতাদের মনোরঞ্জনে নৃত্য পরিবেশন করে থাকেন। তাই ভদ্রসমাজে এর কোনো স্থান নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকেও নাচ নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। জোড়সাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নাচকে ভদ্রসমাজে ঠাঁই করে দেন। নাচকে জাতে তোলায় আরেক অভিযাত্রী উদয় শঙ্কর। ইউরোপে চিত্রকলা নিয়ে পড়তে গিয়েছিলেন। সেখানেই উত্সাহী হয়ে ওঠেন নৃত্যে। সাধনার বলে ইউরোপে নৃৃত্যশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পান। এর পর রাশিয়ার বিখ্যাত ব্যালে শিল্পী আনা পাভলোভার সঙ্গে ইউরোপ-আমেরিকার সংস্কৃতমনাদের জয় করে দেশ ফেরেন। তখন ১৯৩০ সাল। রশীদ আহমদ চৌধুরী তখনো বুলবুল চৌধুরী হয়ে ওঠেননি। নাচ চলছে তার নিজস্ব গতিতে। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৯৩৪ সালে সেই সূত্রেই কলকাতায় আসা রশীদের। আইএ ক্লাসের ছাত্রটি কলেজের বিচিত্রানুষ্ঠানে সহজাত নৃৃত্য পরিবেশন করে চোখে পড়েন ফজলুল হক, শরত্ বোসের মতো ব্যক্তিদের। সেসঙ্গে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, নরেন্দ্রনাথ মিত্রসহ কয়েকজন বন্ধুর অনুপ্রেরণায় পড়াশোনার পাশাপাশি চলতে থাকে নৃত্যচর্চা। তখনই রশীদ আহমদ চৌধুরী সিদ্ধান্ত নেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজেকে ‘বুলবুল চৌধুরী’ নামে পরিচিত করার। মুসলিম রক্ষণশীল সমাজকে এড়ানোর জন্য এ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন।
কলকাতায় বসবাসকালে সংসর্গে আসেন বিখ্যাত সরোদবাদক সন্তোষ চন্দ্র গুপ্ত, গীতিকার তিমির বরণ ভট্টাচার্য, নৃত্যবিশারদ উদয় শঙ্কর ও সাধনা বোসের। এদের সাহচর্যে নৃত্যের প্রতি অনুরাগ আরো দৃঢ় হয় বুলবুলের। বিশেষ করে উদয় শঙ্কর তাকে প্রভাবিত করেন সবচেয়ে বেশি। কারণ তিনিই ভারতীয় নৃত্যকলায় পশ্চিমা নাচ ব্যালের মিশ্রণ ঘটিয়ে সৃষ্টি করেন এক নতুন ধারা। উদ্ভাবন করেন নতুন সব নাচ। ১৯৩৬ সালে বুলবুল সুযোগ পেলেন মঞ্চে সাধনা বোসের সঙ্গে পারফর্ম করার। রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য ‘কচ ও দেবযানী’ পারফর্ম করলেন সাধনা বোসের সঙ্গে। রবীন্দ্র স্নেহধন্য সাধনার সঙ্গে এর পর অংশ নেন ‘রাসলীলা’, ‘মেঘদূত’ ইত্যাদি নাচে। ১৯৩৭ সালে ‘অরিয়েন্টাল ফাইন আর্টস অ্যাসোসিয়েশন’ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বুলবুলের। অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বাংলার গভর্নর লর্ড ব্রাবোর্ন ও লেডি ব্রাবোর্নকে পেয়েছিলেন তিনি।
১৯৪০ সাল, গোটা পৃথিবী উত্তাল তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামায়। বুলবুল ঢাকায় আসেন অনুষ্ঠান করতে। এর পর কলকাতায় ফিরলেও মাতৃভূমির টানে আবার ফেরেন চট্টগ্রামে। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭; চাকরি করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এর পর চাকরি ছেড়ে মনোযোগী হন নৃত্যচর্চায়। ষাটের দশকে পারফর্ম করেন তত্কালীন পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায়। ১৯৫৩ সালে আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্সসহ ইউরোপে যান নাচের দল নিয়ে। ওই সময় বেশ অর্থকষ্টের মধ্যে থাকতে হলেও বুলবুল তা অতিক্রম করেছিলেন মনের জোরে।
অনেক নৃত্যনাট্যের রচয়িতা তিনি। নাচের বিষয়বস্তু উঠে আসত হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী থেকে। আবার অনেক সময় লোকজসংস্কৃতি ছাপিয়ে প্রকৃতিও জায়গা করে নিত। তার রচিত নৃত্যনাট্যগুলোর মধ্যে অভিমন্যু, ইন্দ্রসভা, কবি ও বসন্ত, মরু সংগীত, ফসল উত্সব, ভবঘুরে, জীবন ও মৃত্যু, শিব ও পার্বতী, অজন্তা জাগরণ, অর্জুন, কালবৈশাখী উল্লেখযোগ্য। মুসলিম সংস্কৃতিও বাদ পড়েনি। ইরানের পান্থশালা দিয়ে শুরু। এর পর সোহরাব রুস্তম, হাফিজের স্বপ্ন, আনারকলি নৃত্যনাট্য বেশ জনপ্রিয় হয়। ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতবর্ষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও তুলে ধরেন নাচের ছন্দে। ইংরেজ শাসনে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন নাচ। ‘কুইট ইন্ডিয়া’, ‘লেটস উই ফরগেট’ নৃত্যনাট্য এরই প্রমাণ।
পাকিস্তান তাকে দিয়েছে নৃত্যশিল্পীর সম্মান। ১৯৪৯ সালে তাকে জাতীয় নৃত্যশিল্পীর মর্যাদা দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নাম ছড়িয়ে পড়ে তার। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বুলবুল চৌধুরীকে নিয়ে ছাপা হয় প্রবন্ধ। বলা হয়— বুলবুল চৌধুরীর নৃত্যকে ঠিক ব্যালে বলা যায় না। নৃত্যনাট্যে তুলে ধরেন দেশজ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য রূপ।
অনেক দিন ধরেই পেটে ব্যথা অনুভব করতেন তিনি। ব্যথা নিয়েও নাচ করতেন। লন্ডনে ধরা পড়ল বুুলবুল কর্কট রোগে আক্রান্ত। রোগের সঙ্গে অর্থকষ্টও যন্ত্রণার কারণ। ১৯৫৩ সালের ২৯ মার্চ যাত্রা শুরু করেছিলেন ট্রুপ নিয়ে। ফেরেন ডিসেম্বরে। চট্টগ্রামে ফিরেই চলে গেলেন কলকাতায়। চিকিত্সার জন্য ভর্তি হন চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালে। সেখানেই ১৯৫৪ সালের ১৭ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স তখন মাত্র ৩৫।
ক্ষণজন্মা এ পুরুষটির স্বপ্ন ছিল একটি একাডেমি তৈরির। জীবদ্দশায় তা না হলেও ঘনিষ্ঠ বন্ু্ল নূরুল হুদা উদ্যোগ নিয়েছিলেন বুলবুলের স্বপ্নপূরণের। ১৯৫৪ সালের ২৮ মে বুলবুলের স্মরণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার কার্জন হলে। প্রতিভাবান এ শিল্পীর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের ফল হিসেবেই আজ দাঁড়িয়ে রয়েছে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস, সংক্ষেপে বাফা। বুড়িগঙ্গার তীরে কুঠিবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন উনিশ শতকের প্রভাবশালী ইংরেজ নীলকর ওয়াইজ। এ কুঠিবাড়ি অনেকদিন ধরেই পড়েছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলে জেলা কর্তৃপক্ষের সচিব নুরুল হুদাকে এ বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগানোর পরামর্শ দেন। সেই থেকেই নীলকর ওয়াইজের বাড়িটি ‘বুলবুল ললিতকলা একাডেমি’।
নৃত্যশিল্পী, লেখক, চিত্রকর বুলবুলকে প্রায় সবাই চেনেন। তবে অভিনেতা বুলবুল রয়ে গেছেন আড়ালে। ইবসেনের দ্য গোস্ট অবলম্বনে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা চোরাবালি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দবাজার পত্রিকায় বুলবুলের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। কৃষাণ নামের চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে সে পথে আর পা রাখেননি।
লেখক: সাংবাদিক






