ব্যক্তি এবং জ্ঞানের একনিষ্ঠ সাধক হিসেবে ড. দেবের কথা স্মরণ করলে তাঁর জন্য শ্রদ্ধা এবং মমতায় মন পূর্ণ হয়ে ওঠে। আজীবন কুমার তিনি, সন্তান বাত্সল্যে হিন্দু-মুসলমান কত কিশোর-কিশোরীকে লালন-পালন করেছেন। তাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছেন। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে অর্জিত আয় কোনোরূপ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নয়, ব্যয় করেছেন তাঁর নিজের দর্শন অনুযায়ী জ্ঞান বিস্তারের প্রয়াসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সেখানে তিনি ‘দেব ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকাতেও তিনি একটি দর্শন সভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জীবনে অন্যের সঙ্গে বিরোধ বা সংঘাত কাকে বলে তা তিনি জানতেন না। ছোট-বড় কাউকে কাছে পেলেই তিনি বুকে জড়িয়ে ধরতেন। সব কিছুকে গ্রহণ করার এই উদার চিত্ততা থেকেই জন্ম নিয়েছে ড. দেবের সমন্বয়বাদী জীবনদর্শন। জন্মসূত্রে পিতা এবং পারিবারিক পরিবেশ থেকে পেয়েছিলেন তিনি প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের সাক্ষাত্ পরিচয়। আর এই সূত্রে প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য তিনি অর্জন করেন। কিন্তু জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সর্বগ্রাহী। তাই শুধু সংস্কৃত নয়, ইংরেজি ভাষায়ও পারদর্শী হয়েছিলেন। বাংলা ভাষায় তিনি একজন সুরসিক শিল্পী ছিলেন। যেমন ইচ্ছে তেমন করে বাংলায় গল্প, উপন্যাস, কৌতুক মিশিয়ে দর্শনের কঠিন তত্ত্বকে শুধু বলতে পারতেন তাই নয়, তাঁর বাংলা রচনা সাম্প্রতিককালে বাংলাতে দর্শন চর্চার একটি অনন্য আদর্শ স্থাপন করে গেছে। তাঁর রচনা পাঠে ইসলাম ধর্মের দর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যেও তাঁর প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ড. দেব হয়তো কেবল জানতেন না তাঁর দর্শন যতই উদার এবং সমন্বয়বাদী হোক না কেন, এমন জ্ঞানের স্পৃহা এবং সর্ব ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা পাকিস্তানি শাসককুলের দর্শনের পরিপন্থী ছিল এবং শৃঙ্খলিত বাঙালির যে সংগ্রাম ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল তার এ পরিণামে ড. দেবসহ বাংলাদেশের সব দেশপ্রেমিকই পাকিস্তানি শাসকচক্রের কাছে বড় শত্রু হিসেবে পরিগণিত হবে। সেদিন স্পৃহ-নিষ্পৃহ কেউই বর্বর পশুর আক্রমণ থেকে রেহাই পাবে না। ড. দেবের প্রতি শ্রদ্ধা আরো বৃদ্ধি পায় যখন দেখি সেই পাশবিক শক্তির বুলেটকে অন্তিম মুহূর্তে তিনি বুক পেতে নিয়েছেন, অযুত সংগ্রামী বাঙালির সাথীত্বের মিছিল থেকে সরে যেতে চাননি।

জীবন ও জগতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দর্শনের ইতিহাসে দুটি প্রধান ধারার সাক্ষাত্ পাওয়া যায়। এর একটি ভাববাদ বা অধ্যাত্মবাদ। অন্যটি বস্তুবাদ। ভাববাদের প্রকারভেদ আছে। বস্তুবাদেরও প্রকারভেদ আছে। প্রাচীন গ্রিক দর্শনের পরবর্তীকালে ইউরোপে মধ্যযুগে ভাববাদের প্রভাব ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ভাববাদের মূল বৈশিষ্ট্য বস্তু এবং প্রত্যক্ষকে অস্বীকার করা। কে সত্য? ভাব, না বস্তু এই প্রশ্ন তুলে ভাববাদ বস্তুকে অনিত্য এবং ভাবকে মূল এবং নিত্য সত্য বলে যুক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করেছে। ভাববাদের সামাজিক তাত্পর্য ছিল প্রতিক্রিয়াশীল। ভাববাদকে শোষক শ্রেণী সর্বদা শোষিতকে দমিত এবং বিভ্রান্ত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভাববাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস। ধর্মীয় ঈশ্বর, গড বা আল্লাহ এবং দার্শনিক অতীন্দ্রিয় ‘ভাব’-এর মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। শোষক ও শাসক শ্রেণীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভাববাদ এবং ভাববাদী দার্শনিক সমাজের ক্রমবিকাশকে স্তব্ধ কিংবা দমিত করার প্রয়াস পেয়েছে। তবু দ্বন্দ্বমান শ্রেণীসমাজ বিবর্তিত হয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তার ঘটেছে। নানা যন্ত্র এবং কৌশলের উদ্ভাবন ঘটেছে। নির্বিত্ত শ্রেণী নিজেদের সংঘবদ্ধ শক্তির মূল্য অনুধাবন করেছে। আর তাই মধ্যযুগের শেষে বিজ্ঞানের বিকাশে ভাববাদের স্থলে বস্তুবাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। এই নতুন
ভাবধারার প্রভাবে নতুন সামাজিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। অবশ্য নতুনতর পর্যায়ে কায়েমি স্বার্থ বিজ্ঞানকেও ভাববাদী রহস্যলোকের মধ্যে আটকে রেখে বিজ্ঞানের শক্তি ব্যাপকতম জনসাধারণের নাগালের বাইরে রাখতে প্রয়াস পায়। এই পর্যায়ে আর্থনীতিক এবং সামাজিক সংগ্রামের চরম স্তরে দ্বন্দ্বমূলক এবং ঐতিহাসিক বস্তুবাদী দর্শনের বিকাশ ঘটে। সর্বহারা শ্রেণীসমাজকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক নতুন হাতিয়ারের সন্ধান পায়। বিশ শতকে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ শ্রেণীবিভক্ত পুঁজিবাদী সমাজের সত্যকার রূপ যখন প্রকট করে দিতে থাকে, তখন কোথাও শ্রেণী সংগ্রামের ওপর প্রলেপ বোলাবার জন্য, কোথাও মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের কূট চিন্তার বিলাসকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্য, আবার কোথাও হানাহানি, বিরোধ, সংঘাত অবাঞ্ছিত বলে শিশুসুলভ মৈত্রীর বাণী হিসেবে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের ভিন্নতর ব্যাখ্যা এবং ভাববাদের নতুনতর প্রকরণের সৃষ্টি হতে থাকে।

নির্বিবাদী ড. দেব বস্তুবাদ এবং ভাববাদের এ হানাহানি বাঞ্ছিত মনে করেননি। তাঁর মতে দ্বন্দ্ব, সংঘাত মাত্রই খারাপ, সে দর্শনেই হোক, আর শ্রেণীতে শ্রেণীতেই হোক। কিন্তু মহত্ ব্যক্তির কামনা মাত্র তো বাস্তব জগেক বদলে দিতে পারে না। মাধ্যাকর্ষণের টানে উপর থেকে আমার শরীরটা নিচে পড়ে গেলে আমি ব্যথা পাই বলে আমার কামনায় তো মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সক্রিয়তা বন্ধ হয়ে যাবে না।

ড. দেব আমার জীবন-দর্শন গ্রন্থে বলেছেন: ‘একদিকে আধুনিক উগ্র জড়বাদ আর অন্যদিকে অতি পুরনো অধ্যাত্মবাদ। প্রথমটি এক নিঃশ্বাসে অসংকোচে উড়িয়ে দেয় পরকাল আর ইহকালের সুখকেই মানুষের উন্নতির মাপকাঠি মনে করে। দ্বিতীয়টি তার ঠিক উল্টো। তার কাছে ইহকালের মূল্য অতি নগণ্য, পরকালই প্রধান। সে এক নিঃশ্বাসে মানুষকে বলে ইহকালের সব বেচাকেনা বন্ধ রেখে সবসময় পরকালের জন্য তৈরি থাক। অথচ প্রয়োজনের নিক্তিতে এ দুটির ওজনই সমান। প্রথমটির আশ্রয় নিলে সবকিছু আধ্যাত্মিককে বিসর্জন দিয়ে দুনিয়ার কামড়া-কামড়ি নিয়েই মানুষকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। আর দ্বিতীয়টির আশ্রয় নিলে আধ্যাত্মিকতার নামে বহুলোক ইহলোকের সুখ-ভোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এই দুই পথের কোনো পথেই মানুষের তৃষ্ণা মিটতে পারে না। তাই যাঁরা ভাবুক, তাঁরা বেছে নেন মধ্যপথ ও এই মধ্যপথেই পান সত্যের সন্ধান। এই মধ্যপথই আমার জীবন-দর্শনের মধ্যমণি। দর্শনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি হিসেবে ড. দেব সতর্ক ছিলেন। কারণ মধ্যপথই নিরাপদ পথ। মধ্যপন্থা কালো-সাদা সবকিছুকেই মিলিয়ে চলতে পারে। আর এর মধ্যপথের দর্শন খুব নতুন কিছু নয়, এ কথাও ড. দেব জানেন। তাই তিনি বলেছেন: ‘মধ্যপথ কথাটা এমন কিছু নতুন নয়।’ বুদ্ধের মধ্যে তিনি দেখেছেন সেই মধ্যপথের প্রকাশ। ‘সত্যলাভের জন্য প্রয়োজন, কৃচ্ছ্র তপঃ আর সহজ ভোগ এই দুয়ের মধ্যপথে পদচারণা। ...গীতা শাস্ত্রের বহুজনবিদিত কর্মযোগ এই মধ্যপথেরই এক বড় সংকেত। ... এই মধ্যপথের বাণী ঘোষিত হয়েছে ইসলামের ভেতর। দীন ও দুনিয়া, ধর্ম আচরণ ও সংসার-জীবন, এ দুয়ের সামঞ্জস্য বিধান কোরআনের বিশেষ নির্দেশ। এ মধ্যপথের নির্দেশ ব্যক্তির জন্য, বিশেষ করে জীবিকার উপায়হীন সর্বহারার ব্যক্তিগত জীবনে সান্ত্বনার প্রলেপ বোলাতে পারে, তার মনে একটা নিরাসক্তির ভাব আনতে পারে (নাইবা পেল সুখ এ জীবনে, পরকালে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে সুখ দেবে স্বাচ্ছন্দ্য দেবে!) কিন্তু সামগ্রিকভাবে সর্বহারার মুক্তির সংগ্রামকে ব্যাহত করা ছাড়া তাকে ত্বরান্বিত করতে পারে না। আর তাই মধ্যপথের এই সমন্বয়বাদী দর্শনকে যুগ থেকে যুগে শোষকশ্রেণী তার নিজের শোষণকে স্থায়ী করে রাখার মোহময় মাধ্যম হিসেবে প্রতিফলন করে এসেছে। শ্রদ্ধেয় ড. দেব তাঁর দর্শনকে সমাজবিজ্ঞানের সঠিক ব্যাখ্যাকারী মাধ্যমে পরিণত না করে দর্শনকে ধর্মীয় বিশ্বাসে পর্যবসিত করে তাঁর মধ্যপথকে ব্যক্তির মুক্তির উপায় বলে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ জ্ঞান সাধক। যেন তাঁর জীবনের মটো ছিল: কেবল জ্ঞানের জন্য জ্ঞান আহরণ। কিন্তু ‘জ্ঞানের জন্য জ্ঞান আহরণ’ কথাটি মহত্ হলেও সে জ্ঞান তো জীবনের ক্ষেত্রে নিষ্ফল। জ্ঞান হবে মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির হাতিয়ার। জ্ঞান সাধক নিজের জীবন উত্সর্গ করবেন সেই মুক্তির হাতিয়ারকে মুক্তিকামীদের হাতে তুলে দিতে। তাদের শিক্ষা দেবেন শোষকের বিরুদ্ধে সেই হাতিয়ারকে সার্থকভাবে ব্যবহারের কৌশল। তা না হলে কোনো ব্যক্তি কেবল জ্ঞান সাধনা করল কিংবা করল না তাতে নির্যাতিত মানুষের উপকার বা মঙ্গলের দিকটা কি থাকতে পারে? বরং তার অপকারের দিকটা এই যে, এই জ্ঞান সাধকের কাছ থেকে সর্বহারা যে সাহায্য পেতে পারত তা থেকে সে বঞ্চিত হলো এবং শক্তির দ্বন্দ্বে সে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অধিকতর দুর্বল হয়ে পড়ল।

সরল প্রাণ ড. দেব ইতিহাসের পরিক্রমাকে কেবল জড়-অজড়ের প্রতি মানুষের আসক্তির ওঠানামা হিসেবে দেখানোর প্রয়াসে বলেছেন: ‘কখনো জড়ের প্রতি আসক্তি প্রবল হয় আর আধ্যাত্মিকের প্রতি আকর্ষণ এক রকম অন্তর্হিত হয়। আর তার উল্টোটাও মাঝে মাঝে জীবনের তাগিদে ঘটে। তখন মানুষ ব্যবহারিককে ত্যাগ করে পারমার্থিককে আঁকড়ে ধরতে চায়। এ কথা ব্যক্তির জীবনে যেমন সত্য, তেমনি তার ব্যাপকতর সামাজিক জীবনেও সত্য। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় এই ওঠানামার সাক্ষাত্ প্রচুর পাওয়া যায়। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় সমগ্র মানবসমাজের মধ্যে জড়-অজড়ের প্রতি আকর্ষণের ওঠানামার সাক্ষাত্ পাওয়া যায়, তা ঠিক নয়। সাক্ষাত্ পাওয়া যায় ইতিহাসের ভাববাদী ব্যাখ্যা তাদের রচনার পৃষ্ঠায়। কারণ ‘জড়’ হচ্ছে জঙ্গম জীবন, বৃহত্তর জনমানবের সংগ্রামী জীবন। অজড় বা অধ্যাত্ম হচ্ছে শোষিত মানুষের দুঃখময় জীবনের মোহময় ব্যাখ্যা। জীবনেই সব শেষ নয়। জীবনের পরেও জগত্ আছে, মৃত্যুর ওপারে। এ কালের দুঃখে আফসোস কেন? পরকালে তো ছেদহীন শান্তি, বিরতিহীন বিশ্রাম, ক্ষুধাহীন অন্নপূর্তি। ড. দেব এ কথা যে না জানেন, তা নয়। তিনি বলেছেন: ‘বর্তমান যুগে যেখানে অধ্যাত্মবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান, সেখানে সেখানেই অধ্যাত্মবাদের নামে ধর্মব্যবসায়ীদের চেষ্টায় জনসাধারণের শোষণ, এ কথা ঠিকই।’ এ কথা যদি ঠিক হয় তাহলে দার্শনিকের কর্তব্য হবে মানুষের হাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান আর আর্থনীতিক উন্নতির এমন চাবিকাঠির হদিস দান, যার শক্তিতে জনসাধারণ আর ধর্মব্যবসায়ীদের শিকারে পরিণত হবে না। আর ধর্মব্যবসায়ী তো আসলে শোষকদের স্বার্থের তল্পিবাহক। কিন্তু ড. দেব জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিরামহীন বিকাশকে স্বাগত জানাতে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। কারণ তাঁর মতে: ‘বৈজ্ঞানিক জ্ঞানস্পৃহার চরম পরিণতি হয়েছে বহিঃপ্রকৃতির ওপর মানুষের শক্তিবৃদ্ধিতে। নানা নতুন যন্ত্রপাতির আবিষ্কারে মানুষের শক্তিও যেমন বেড়েছে, তেমনি তার প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টাও হয়েছে অপরিমিত ও প্রচুর। এতে পরলোকবাদী অধ্যাত্মবাদের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এতেও তার জীবন-সমস্যার সমাধান হয়নি। এই অতি প্রাচুর্যের কোলাহলের মধ্যেও দুঃখের করুণ সুর মোটেই ক্ষীণ হয়নি। তাই মাত্র পঁচিশ বছরের ভেতর দু’দুটো ভয়াল মহাযুদ্ধের তাণ্ডবলীলা পৃথিবীর বুকে ঘটল।

কিন্তু প্রাচুর্যের মধ্যে করুণ কান্না কার? ‘মানুষ’ বলে ভুক্ত আর অভুক্তকে এক সাম্যবাদী চোখে দেখে কী লাভ? প্রাচুর্যের মধ্যে করুণ কান্না অবশ্যই শোনা যায়। কিন্তু সে কান্নার উত্স দুটো। তার একটা হতে পারে অতিভুক্তের যন্ত্রণার কান্না, ব্যারামের কান্না: আমি সব পেয়েছি, এখন আর কি খাব! আমার পেটে যন্ত্রণা, কিন্তু মুখে খিদে, চোখে খিদে। অসুখীর দাবি: আমাকে আরো দাও। আমাকে এক টাকায় একশো টাকা মুনাফা দাও। আমাকে এক উপনিবেশের জায়গাতে শত উপনিবেশ দাও। আমাকে বাজার দাও। বাজার না দাও, আমাকে গোলা দাও, গুলি দাও। আমাকে অ্যাটম বোম দাও। সেই বোম আমি নিরীহ জাপানিদের মাথায় মারব, সেই বোম আমি নিষ্পাপ ভিয়েতনামি কৃষকের কুঁড়েঘরে মারব, ওদের শস্যের ক্ষেত আর জলের বাঁধের ওপর মারব।

অতি প্রাচুর্যের মধ্যে কাঁদে অভুক্ত সর্বহারাও। তারা বলে: দেখ কী অমানবিক সভ্যতা। দেখো কী অসঙ্গতি। আমরা খিদের জ্বালায় পাগল। ওরা আমাদের জোর করে দখল করা শস্যের ক্ষেত থেকে সোনার ফসলকে সমুদ্রে ফেলছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে। দেখো, কী অসঙ্গতির সভ্যতা আমাকে সর্বস্বহারা করে দিনমজুরির হাটে কেনাবেচা করে বলছে: পুরো দিন আমাকে কলে বাঁধা কলুর বলদ হয়ে খাটতে হবে। আমার খাটনিতে ওরা পয়দা করবে ষোলো আনার কাপড়-চোপড় দ্রব্য সামগ্রী। কিন্তু আমাকে দেবে মাত্র এক আনা। আমার রক্তের বিনিময়ে ওরা মুনাফা করবে। তবু এর বিরুদ্ধে কিছু বললে বলবে বিদ্রোহী, রাষ্ট্রবিরোধী দুশমন। আর গুলি করে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেবে খিদের কীটে কুরে কুরে খাওয়া আমাদের বুককে। দেখো দেখো কী অসঙ্গতি? আমার স্বাধীনতা চাই, স্বাতন্ত্র্য চাই। আর এই অপরাধে শক্তিমান সাম্রাজ্যবাদের হাওয়াই জাহাজ থেকে নেমে আসে আমাদের মাথার ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে নিষ্পিষ্টকারী বোমা।

তাই মানুষ আজ অতি প্রাচুর্যের মধ্যে কাঁদছে বলার অর্থ এই নয় যে, আজ আর মানুষের ওপর কোনো শোষণ নেই। সবাই আজ বিত্তবান হয়ে গেছে, সবাই বিত্তবান হয়ে দেখছে বিত্তেও সুখ নেই। হতে পারে এ বিত্তবানদের অতিভোজের কাতর বিলাপ। যন্ত্রপাতির আবিষ্কার হয়েছে প্রচুর এ কথা সত্য। কিন্তু সে যন্ত্রপাতির শক্তি এখনো কবলিত হয়নি নির্বিত্ত সংগ্রামী মানুষের হাতে সর্বজনীনভাবে। সমাজতান্ত্রিক দুনিয়া প্রসারিত হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক মানুষ দেখিয়েছে বিজ্ঞানের উন্নতি মানুষের জন্য অতি প্রাচুর্যের কোনো সংকট আনে না। শ্রেণীহীন সঙ্গতিপূর্ণ সমাজের মানুষের জন্য প্রয়োজন আরো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির, আরো খাদ্যের, আরো বস্ত্রের। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির কৌশলে যত বেশি খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান তৈরি হবে তত সমাজবাদী মানুষ নতুনতর এক সভ্যতা তৈরি করতে পারবে, যেখানে আজকের দুনিয়ার কৃত্রিম অমানবিক সমস্যার জন্ম হতে পারবে না। কিন্তু শহীদ ড. দেবকে আজ আর এ নিয়ে সমালোচনা করা যায় না। আমি একটি ভিন্ন দৃষ্টি থেকে কথা বলছি বলেই তাঁর জীবন-দর্শনকে পৃথিবীর সমস্যার অতি সরলীকরণ এবং সমাধানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিক কামনা বলে বোধ হচ্ছে। বস্তুত দর্শন যখন দৃষ্টির ব্যাপার, দেখার ব্যাপার, তখন দ্রষ্টায় দ্রষ্টায় তাদের স্বার্থ, চেতনা ও ইচ্ছা-অনিচ্ছার ভিত্তিতে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে পার্থক্য ঘটবেই। ড. দেব এত আত্মচিন্তায় সমাহিত ছিলেন যে, তাঁর পক্ষে বলতে অসুবিধা হয়নি: ‘জড়বাদ এবং অধ্যাত্মবাদকে আমি পরস্পরবিরোধী বলে মনে করি না এবং অসুবিধা হয়নি এই উক্তিকে প্রমাণ করার জন্য যুক্তি উপস্থিত করতে।

আমার জীবন-দর্শন গ্রন্থে ড. দেব ‘মধ্যপথ’, ‘আত্মপক্ষ’, ইতিহাস’, ‘দর্শন ও জীবন’, ‘বিপর্যস্ত বিজ্ঞান’, ‘বিপর্যস্ত বুদ্ধি’, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মানবসমাজের ভবিষ্যত্’ এবং ‘শেষ কথা’ শীর্ষক কয়েকটি নিবন্ধ রচনা করেছেন। সব কয়টিতেই তিনি পরিহাস মধুর দৃষ্টান্তের পর দৃষ্টান্ত দ্বারা তাঁর জীবন-দর্শনকে পাঠকের সামনে পেশ করার চেষ্টা করছেন। কথায় কথায় গল্প বলা, বাক্যে বাক্যে সরস দৃষ্টান্ত পেশ করা ড. দেবের এক অতুলনীয় গুণ ছিল। তাঁর মতে, দ্বন্দ্বমান বিক্ষুব্ধ সমাজে আজ সমন্বয়ের প্রয়োজন হলেও সমন্বয়বাদ যে আজ গ্রাহ্য নয়, প্রশংসার নয় এ কথা ড. দেব জানতেন। আর সেই চেতনাকেই তিনি বারবার পরিহাসের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। ‘‘জড়-জগতের আলোকে আমার দর্শনের নাম ‘আলু-দর্শন’। বঙ্কিমচন্দ্রের উদর-দর্শনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানি না। তবে আলু-দর্শনের অর্থ আমার কাছে অত্যন্ত পরিষ্কার। গোল আলু যেমন সব তরকারির সঙ্গে— আমিষই হোক আর নিরামিষই হোক, স্থলজ হোক জলজ হোক অথবা উভজই হোক না কেন, অক্লেশে মিলে-মিশে তাদের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে; তেমনি আমার এই অতি প্রিয় আলু-দর্শন যাঁরা মনে-প্রাণে অনুসরণ করবেন তাঁরাও সবার সঙ্গে মিশে, সব ভাবের রসিক হয়ে মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি, শান্তি সমঝোতা নিয়ে আসবেন। আলু-দর্শনের এমনি মহিমা।’’ আবার পরিহাস করে বলেছেন: ‘অর্থাগমের পন্থা আমার যাই হোক না কেন, পিতৃভক্তির আতিশয্যে আমি কবিরাজি বিদ্যা একেবারে ছেড়ে দিইনি। পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্রের বনে যাওয়ার গল্প বাবার মুখে বারবার শুনেছি। তাই বাবার অভিলাষ পূরণের জন্যে, তাঁর পরলোকপ্রাপ্তির বহু পরে এবং সম্ভবত আমার পরলোকপ্রাপ্তির সন্নিকট মুহূর্তে, দর্শনের প্রসারিত ক্ষেত্রে কবিরাজি ঔষধালয় খুলে দিয়ে জড়বাদের অনুপানে অধ্যাত্মবাদের জোরালো ওষুধ বিক্রি করতে আরম্ভ করেছি। ক্রেতা জুটলে পসার ভালোই জমবে। নইলে দেউলিয়া হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ড. দেবের ব্যক্তিগত কথোপকথন কিংবা ছাত্রদের কাছে বক্তৃতা দান থেকে গ্রন্থ রচনায় সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল ড. দেবের এরূপ সরস উক্তির টুকরো।

ড. দেবের দৃষ্টিতে মনুষ্য জগতের সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞান বল, বুদ্ধি বল— সবই আজ বিপর্যস্ত। তিনি বলেছেন: ‘মানুষের বৃহত্তর পরিবেশের চাহিদা এবং তাগিদ এত জরুরি যে, ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে জড়বাদের দিকে একটু একটু করে এগোনোর পর, বিজ্ঞানও যেন আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। নিজের অজ্ঞাতেই যেন বিজ্ঞান আজ জড়বাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছে। কেবল বিজ্ঞান নয়, বুদ্ধি বা দর্শনও বিপর্যস্ত। ‘পরিবেশের চাপে মানুষের দার্শনিক চিন্তায় এক এক যুগে মনের এক এক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য লাভ করেছে। ফলে দর্শন প্রায়ই একচোখা ও এক-রঙে রঙিন হয়ে গেছে। মানুষের আত্মিক প্রয়োজনের সামগ্রিক প্রতিফলন তাতে বিশেষ দেখা যায় না।’ ড. দেব ধারণা করতেন যেন শ্রেণী নির্বিশেষে, পরিবেশ নির্বিশেষে সব মানুষের একটা সাধারণ আত্মিক প্রয়োজন থাকতে পারে। অবশ্য এটা অধ্যাত্মবাদী দর্শনের পুরনো ধারণা। ড. দেব দুঃখ করেছেন এমন একটা দর্শন পাওয়া গেল না যে, নিরপেক্ষভাবে ভুক্ত এবং অভুক্ত উভয়ের আত্মিক সমস্যার সমাধান দিতে পারে। আর এই অভাব পূরণের জন্য তিনি সমন্বয়বাদী দর্শন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেন। তিনি বললেন: ‘যে সমন্বয়-দর্শন আমি সারাজীবন খুঁজে বেড়াচ্ছি— মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্যে যার প্রয়োজন অপরিমিত, তাকে পেতে হলে পুরো অন্তঃকরণ দিয়ে তাকে গ্রহণ করার জন্যে উন্মুখ হতে হবে। এখানে দার্শনিক ড. দেব একেবারে মরমীয় সুফি কিংবা বৈষ্ণব সন্ন্যাসীতে পরিণত হয়েছেন। এবং দার্শনিক বলেই আবার তার এই পরিণামকে উপলব্ধিও করেছিলেন। কিন্তু তাকে অগ্রাহ্য করেননি। ইহুদিদের ঈশ্বর তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘তারা যেন শুধু তাঁকেই ভালোবাসে, কারণ অন্য কারো প্রতি আসক্তি ভগবান বরদাশত করেন না। সমন্বয়-দর্শনের সম্পর্কেও এ উক্তি হয়তো প্রযোজ্য। আর এক জায়গায় বলেছেন, ‘একমাত্র ইউরোপীয় চার্চের আলোচনায় জানা যায়, হাজার বছরেরও অনেক বেশি এ বিশ্বাসবাদ ইউরোপীয় জীবনে বিপ্লব সাধন করেছে। এ থেকেই বোঝা যায়, নিছক বুদ্ধির বাণী তা যতই নিরপেক্ষ হোক না, হূদয়ের আবেদনের কাছে দাঁড়াতে পারে না।’ গোবিন্দ দেবের মুখে এর পরে শোনা যায়: ‘হূদয়ের উত্ফুল্ল আবেগ যখন বন্ধনহারা স্রোতস্বতীর মতো উচ্ছলবেগে গন্তব্য পথে অগ্রসর হয়, তখন যুক্তির ছোট ছোট বাঁধ তার গতিপথ সংযত করতে পারে না। ভাবরাজ্যে, বুদ্ধি হূদয়ের কাছে সূর্যের সামনে জোনাকি পোকার মতই নিষ্প্রভ। শ্রী চৈতন্য দেবের কথা স্মরণ করে আমাদের যেমন হূদয়ে শ্রদ্ধার উদ্রেক হয়, তেমনি গোবিন্দচন্দ্র দেবের উদারতা ও আবেগের কথা স্মরণ করলে আমাদের হূদয় অভিভূত হয়। কিন্তু তবু এ কথা সত্য যে, শ্রী চৈতন্য দেবের ভাবের বন্যা সমাজে কোনো প্রগতিশীল সামাজিক বিপ্লব সাধন করতে পারেনি। তাঁর অকৃপণ ‘প্রেমদান’ অত্যাচারী শোষক শ্রেণীর মনকে স্পর্শ করে আর্থনীতিক ও সামাজিক অত্যাচারের নিরসন ঘটাতে পারেনি। ড. দেবের হূদয়াবেগও তাঁর পারিপার্শ্বের অবস্থাতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিক মহত্ত অনস্বীকার্য। যুক্তি নয় ভক্তি, তর্ক নয় বিশ্বাস— এই ছিল ড. দেবের জীবন-দর্শনের মূল। আসলে দার্শনিক দেব ভক্ত দেবে পরিণত হয়েছিলেন। ভক্তির সঙ্গে যুক্তির দ্বন্দ্ব চলে না। ভক্তি যুক্তির বাইরে। তাই দর্শনের কূটতর্ক দিয়ে ড. দেবের বিশ্বাস ও ভক্তিকে বিশ্লেষণ করা চলে না। ‘অধ্যাত্মবাদের মূলকথা বিচার বিশ্লেষণ নয়— প্রেম। সে প্রেমের বাঁধন নেই, গণ্ডি নেই। তাতে শত্রুমিত্রের তফাত নেই। ‘শেষ কথা’ নিবন্ধে ড. দেব বলেছেন: ‘আমার নিজের জীবনে এ বিশ্বাসের মূল্য অজস্র ও অপরিমিত। কল্পনার তুলিকায় ভাবের যে রঙিন ছবি আঁকলে মানুষের জীবন আনন্দে তখনকার মতো ভরপুর হয়ে ওঠে ও সে নিজের দুঃখ-দৈন্য, অসামর্থ্য, অসাফল্য ও অকৃতকার্যতার কথা ভুলে যায়, প্রাত্যহিক জীবনে সে বিশ্বাস সে মরণ কামড়ে আঁকড়ে ধরে। তা-ই তাঁর কল্পতরু, তা-ই তাঁর কাম্য। তার আশার স্বর্গ, কল্পনার বেহেস্ত। সে তাকে ছেড়ে থাকতে পারে না, থাকতে চায়ও না। আমার অবস্থাও হয়তো তাই। শুধু বাস্তব জ্ঞান আমার চাহিদা মেটাতে পারে না, কঠোর বাস্তবকে আঁকড়ে থাকলে অনেক আগেই জীবন-যুদ্ধে আমার মৃত্যু হয়ে যেত। আমার স্বপ্নই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে ও রাখবে। আমি স্বাপ্নিক, আমি ভাব-বিলাসী।’

ড. দেব স্বাপ্নিক ছিলেন, ভাববিলাসী ছিলেন। একজন মহত্ মানুষ ছিলেন। ড. দেবের মৃত্যু তাঁর জীবন-দর্শনের শেষ ভাষ্য। এ ভাষ্যের তাত্পর্য অস্পষ্ট নয়। এ ভাষ্য আমাদের সুনিশ্চিতভাবে বলে দেয়: পৃথিবীময় সংগ্রামী জনতা এমন এক শ্রেণীহীন মহত্ সমাজ তৈরি করার সংগ্রামে আজ নিয়ত যে সমাজে ড. দেবের ন্যায় মহত্ ভাববিলাসী নিজের হূদয়ের আবেগ ভরে স্বপ্ন দেখতে পারবেন, নিজের ভাবের বিলাসে ডুবে যেতে পারবেন, যেখানে ব্যক্তির আপন সত্তা বিকাশের ক্ষেত্রে তার পরিবেশ ও জীবিকা প্রতিকূল হয়ে দাঁড়াবে না। সেই সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের আসন্ন সাফল্যে পাশবিক শক্তি কেঁপে উঠেছিল। তাই মানুষ মাত্রের মহত্ সব স্বপ্নকে বোমা রকেট আর মেশিনগানের গুলিতে নিহত করার বর্বর অভিযান শুরু করেছিল সেই পাশব শক্তি। কিন্তু পৃথিবীর সংগ্রামী জনতার মহত্ স্বপ্ন মৃতুঞ্জয়ী। সে দুর্নিবার একদিন পৃথিবীর বুক থেকে মানবসমাজের অসঙ্গতির বিলোপ ঘটবে। বিলোপ ঘটবে সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই জনতার শক্তিতে। সেই মহত্ মানবসমাজে আজকের মতো নিশ্চয়ই ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব ১৯৭১ সালের অযুত শহীদের সঙ্গে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মৃত হবেন।

[পুনর্মুদ্রণ]

 

লেখক: গবেষক