বাংলা সংগীতের আকাশে এক নক্ষত্র শচীন দেব বর্মণ; যার নাম সবসময়ই বাংলা গানের শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের মাঝে উঠে আসে বারবার। তবে যে কথাটি না বললেই নয়, বাঙালির গান লোকসংগীত, যা বাংলাকে বিশ্বদরবারে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেয়। সেই সবুজঘেরা নদীমাতৃক বাংলার মানুষ, জন্মসূত্রেই যিনি বাংলাদেশী, যাঁর গানের মধ্যে লোকসুরের ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও বাউল গানের প্রভাব সবসময়ই বিরাজমান, তিনি শচীন দেব বর্মণ। রাগসংগীতের প্রতি অনুরাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন রাগসংগীতের ওপর। কিন্তু প্রকৃতি অনুরাগী হয়ে মাটি ও মানুষের প্রাণের সুর সবসময়ই প্রতিফলিত হয় তার গানে। লোকসুরের সহজ-সরলতা আবেগপ্রবণ করে তুলেছে বারবার তার গানে। তার গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে দেশের প্রতি আনুগত্য ভাব—
(আমি) তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল
সব ভুলে যাই তাও ভুলি না বাংলা মায়ের বোল।
এ গানটির সুরের মধ্যে যেমন জেগে ওঠার প্রবণতা লক্ষণীয়, তেমনি ভাটির টানও লক্ষ করা য়ায়। মাতৃভূমির প্রতি তার যে টান, তা এ গানে সৃষ্টি করেছে। আজো মানুষের প্রাণের মধ্যে বেজে ওঠে তাঁর কণ্ঠের সেই সুমধুর সুর। শচীনকর্তার গানে লোকসুরের প্রভাব নিয়ে আলোচনার আগে তার জীবন সম্পর্কে, শিক্ষা সম্পর্কে একটু আলোচনা করা প্রয়োজন।
জন্ম অক্টোবর ১, ১৯০৬ সাল। সবাই যাকে এসডি বর্মণ নামে জানে। কিছুটা অনুনাসিক মিষ্টি কণ্ঠস্বরের জন্য শ্রোতাদের কাছে আলাদা করে শিল্পী চিহ্নিত করতে বা নামে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না একেবারেই। শুধু গান গাওয়া নয়, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তার নামের সাথে সবাই পরিচিত। শৈশবচিত্র তুলে ধরলে নির্দ্বিধায় বলা যায়, তিনি জন্মসূত্রে এবং মনে-প্রাণে বাঙালি ও বাংলাদেশী। জন্ম কুমিল্লার ত্রিপুরায় চন্দ্রবংশীয় মাণিক্য রাজপরিবারে। বাবা নবদ্বীপ চন্দ্র দেব বর্মণ, মা মণিপুরি রাজবংশের, মেয়ে নিরূপমা দেবী, রাজপরিবারের নয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ ও অন্যতম। শচীন দেব বর্মণ কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ওই কলেজ থেকে আইএ পাস করেন এবং পরবর্তীতে একই কলেজে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন।
এবার আসা যাক সংগীতের প্রতি অনুরাগ ও শিক্ষার বিষয়ে। বাবা নবদ্বীপ চন্দ্র দেব বর্মণ ছিলেন একজন সেতার বাদক ও ধ্রুপদ সংগীতশিল্পী। তিনিই ছিলেন শচীন দেবের প্রথম শিক্ষাগুরু। এর পর তার সংগীতশিক্ষা চলে উস্তাদ বাদল খাঁন ও বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। ধ্রুপদ সংগীতশিক্ষা, তাঁর মধ্যে সংগীতের মৌলিক জ্ঞানসঞ্চারে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। এ শিক্ষায় শচীনকর্তার পরবর্তী জীবনে সুর সাধনায় প্রভাব বিস্তার করে। এর পর তিনি উস্তাদ আফতাব উদ্দিন খাঁনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি শচীন দেবের অনুরাগের কথা একটি ঐতিহাসিক রচনা থেকে এভাবে জানা যায় যে, কৈশোরে একদিন শচীন দেব ও মর্তুজ মিয়া মুন্সিবাড়ির সামনের রাস্তায় রাতের বেলা পায়চারি করছিলেন এবং শচীন দেব তখন গুন গুন করে গান গাইছিলেন। এ সময় বাড়ির সামনে বসা জমিদার নাবালক মিয়া তাঁর কণ্ঠ শুনে বাড়ির সফর আলীকে রাস্তায় গান গাওয়া ছেলেটাকে ডেকে আনতে বললেন। সফর গিয়ে শচীন দেবকে হুজুরের নির্দেশমতো ডেকে আনলেন। হুজুর শচীন দেবকে দেখে বললেন, ‘তোর গলা তো ভালো, কোনো বাদ্যযন্ত্র আছে কিনা?’ তখন তিনি না সূচক উত্তর দিলে জমিদার মহাশয় তাকে সংগীতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র কিনে তার নিজের বাড়ির একটি ঘরে সংগীত সাধনার ব্যবস্থা করে দিলেন। কানাকেষ্ট নামের একজন তবলা বাদককে তাঁর সাধনায় সহযোগিতার জন্য রাখলেন। সেই থেকে সংগীতে শচীনের উত্থান ঘটে।
১৯১০ থেকে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঠাকুরপাড়ার সুরলোক- কান্দির পাড়ের সবুজ সংঘ নাট্যদল, দ্য গ্রেট জার্নাল থিয়েটার পার্টি, ইয়ং ম্যাস ক্লাব ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল কুমিল্লার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। ত্রিপুরার মহারাজা কুমিল্লায় তৈরি করেছেন টাউন হল, নাট্যশালা, লাইব্রেরি ও নানা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র।
১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে শচীনকর্তা আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে প্রথম গান করেন। নিজের লেখা আত্মজীবনীতে তিনি যা লিখেছেন, তার আলোকে এটুকু বলা যায় যে, তিনি রাজকীয়ভাবে জীবন ধারণ করতে পারতেন। হতে পারতেন রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ সংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল, আসক্ত ছিলেন সুরের মায়ায়। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি অডিশনে ভারতের শীর্ষ রেকর্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এইচএমভিতে ফেল করেন। তবে একই বছরে তাঁর প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড বের হয় হিন্দুস্তান মিউজিক্যাল প্রডাক্টস থেকে। তাঁর প্রথম রেকর্ডকৃত দুটি গান হলো পল্লীগীতির ঢঙে গাওয়া ‘ডাকিলে কোকিল রোজ বিহানে’, গীতিকার হেমেন্দ্র কুমার রায় এবং খাম্বাজ ঠুমরি অঙ্গের রাগপ্রধান ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়’, যার গীতিকার শৈলেন রায়। ১৯৩০-এর দশকে তিনি রেডিওতে পল্লীগীতি গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পূর্ব বাংলা ও উত্তর বাংলার পল্লীগীতির ওপর তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সে গান গেয়ে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে বেঙ্গল মিউজিক কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে তিনি উস্তাদ ফৈয়াজ খাঁর নজরে আসেন। দেহতত্ত্ব ও সাধনতত্ত্বের গান ‘নিশিথে যাইও ফুল বনে’ শেখ ভানু রচিত গানটিকে প্রেমের গানে রূপান্তর করলেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীনকে দিয়ে এবং গানটি রেকর্ড করলেন ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে।
এর মধ্যে তিনি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন মীরা ধরের সাথে (মীরা দেব বর্মণ)। মীরা ধর ছিলেন তার সংগীতজীবনের বিশ্বস্ত সঙ্গী। মীরা দেব বর্মণও সংগীতাঙ্গনের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সার্থক গীতিকার হিসেবে আমরা তাঁকে জানি। তাঁর রচিত গানগুলোর মধ্যে অন্যতম— শোন গো দখিনো হাওয়া, বিরহ বড় ভালো লাগে, সুবল রে বল বল বল চাই, বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে হূদয়ে দিয়েছ দোলা, কে যাসরে ভাটির গাঙ বাইয়া এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে লেখা উল্লেখযোগ্য গান তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল। তাঁদের সুযোগ্য সন্তান রাহুল দেব বর্মণ (আরডি বর্মণ) সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে সমানভাবে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়।
রাজগী নামক চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্রথম সংগীত পরিচালকের খাতায় নাম লেখান শচীন দেব বর্মণ ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে। সম্মাননা পেয়েছেন ১৯৫৮ সালে এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি লন্ডন থেকে ও ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী খেতাব লাভ করেন এ গুণী শিল্পী।
এবার সংগীতের বিষয় নিয়ে কথা বলব। লোকসুরের প্রভাব শচীনকর্তার গানের মধ্যে বরাবরই আমরা লক্ষ করে থাকি। ধ্রুপদ সংগীতের পূর্ণাঙ্গ তালিম নেয়ার পর তাকে লোকসুরের সাথে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি বাংলা গানের এক আলাদা মাত্রা সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি সুরের মধ্যে বাউল, কীর্তন, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি গানের সুর লক্ষণীয়।
কে যাসরে ভাটির গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধনরে কইও নাইওর নিত গিয়া।।
এ গানের মধ্য দিয়ে গ্রাম্য সমাজের একজন নারীর জীবনের আকুতি ফুটে উঠেছে। মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীর সংসারকে আপন ঘর হিসেবে গ্রহণ করে সারাটি জীবন কাটিয়ে দেয় এবং দরিদ্র পিতা অর্থের অভাবে মেয়েকে বাড়িতে আনতে চায় না। এই যে কষ্ট, তা তিনি তার গানের সুর ও গায়কিতে বুঝিয়েছেন। পাশাপাশি গানটির মধ্যে ফুটে উঠেছে বাংলার প্রকৃতির কথা, নদীর কথা, মাঝির কথা, এমনকি বাংলার ঐতিহ্যমণ্ডিত উত্সবের কথাও। জোয়ার-ভাটার নদীতে একজন মাঝির নৌকা বেয়ে যাওয়ার সময় যে ক্লান্তি, দুঃখ, কষ্ট, তা তাঁর সুরের মাদকতায় পরিলক্ষিত হয়েছে এ গানের মধ্য দিয়ে।
বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি
সে যে দিন দুপুরে চুরি করে রাত্তিরেতো কথা নাই।।
একজন রাখালের বাঁশির সুরে গ্রামের নারীর মনের যে ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয়, তিনি তা সুরের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। পল্লীবাংলার মানুষের মনে যে ভালোবাসা বোধ, যা রাখালিয়া বাঁশির সুরে আকুল হয়ে ওঠে এ গানের মধ্যে সেটি প্রমাণিত। রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কথা এখানে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। এ গানের সুরে কীর্তনের একটা আভাস বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
শোন গো দখিনো হাওয়া প্রেম করেছি আমি লেগেছে চোখেতে নেশা দিক ভুলেছি আমি।।
গেয়েছেন প্রেমের গান, কিন্তু সেখানেও তিনি লোকসুরের প্রয়োগ করেছেন অত্যন্ত সুন্দরভাবে। দরাজ কণ্ঠে মনের অভিব্যক্তিকে উপস্থাপন করেছেন শ্রোতাদের সামনে। এতটা খোলা কণ্ঠে সংগীতটাকে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য হলো একজন প্রেমিক যখন প্রেমিকাকে ভালোবাসে, তার সে ভালোবাসাটা কেমন তা সবাই জানুক বা তার মনে লুকানো যে বাসনা, তা আজ সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠুক। ভালোবাসার জন্য যে সুন্দর মন, যে সাহস থাকা প্রয়োজন, তা তিনি সুরের প্রয়োগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ গানের মধ্যে বাংলার ঋতুর কথা যেমন রয়েছে, তেমনি সুরের মধ্যেও রয়েছে মাটির গানের মাদকতা।
ঘাটে লাগাইয়া ডিঙা পান খাইয়া যাও মাঝি আল্লার দোহায়।।
লোকসুরের এ গানটি তত্কালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত সমানভাবে জনপ্রিয়, যার সুর শুনলেই শ্রোতার মনে প্রেমানুভূতি সিক্ত হয়। একজন নারী তার ভালোবাসাকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে এ গানের মধ্য দিয়ে। এ গানে শিল্পীর সুরের মাধুর্য এবং তাল-ছন্দের প্রয়োগ পরিপূর্ণ ও সার্থকরূপে ফুটে উঠেছে তাঁর গায়কির মাধ্যমে।
(আমি) তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল
সব ভুলে যাই তাও ভুলি না বাংলা মায়ের বোল।
বাংলা গানের লোকজ ধারা বেশি ফুটে উঠেছে শচীনকর্তার এ গানের মধ্য দিয়ে। এখানে কীর্তনের সুরেরও মিশ্রণ ঘটিয়েছেন খুব সুন্দরভাবে। বাংলা মায়ের কথা তিনি যে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন তাঁর সুরে প্রাণের আকুতিতে তা প্রমাণ করিয়ে দেয় বারবার।
সংগীতে ছন্দের প্রয়োগগুলো ধ্রুপদ ভাবধারার হলেও তাঁর গানে সবসময় বাংলা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায় । বাংলা ঢোল, মৃদঙ্গ, বাঁশি, কাঁসা, মন্দিরা, সানাই— এ-জাতীয় বাদ্যযন্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে ধ্রুপদ ছন্দকে মিল করে তিনি সংগীতের এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছেন। তালের নাম ধ্রুপদ হলেও ছন্দটা স্বাভাবিক বাঙালি ঘরানার মতো। চলনটাও ঠিক সহজ-সরল বাংলার মেঠো পথের মতো। সাধারণ মানুষকে সহজেই তার গান আকৃষ্ট করে। মানুষের প্রাণের আকুতি সর্বদাই তার গানে পরিলক্ষিত হয়। বাংলাকে ভালোবেসে বাংলার প্রকৃতির সহজ-সরলতাকে তার গানের সুরের উপজীব্য হিসেবে তুলে ধরেছে বারবার। তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল গানের মধ্যে আমরা তার দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। প্রেম-রস তার গানে সর্বদাই বিরাজমান ‘শোন গো দখিনো হাওয়া, বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, বিরহ বড় ভালো লাগে, কি সাপে দংশে আমায়’ গানগুলো যেন ভালোবাসার এক অনবদ্য সৃষ্টি।
১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্যারালিটিক স্ট্রোক হয়ে কোমায় ছিলেন পাঁচ
মাস এবং ৩১ অক্টোবর এ কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা ও শিল্পীর জীবনাবসান
ঘটে।
এ বিশ্বায়নের যুগেও আমরা তাঁর গানে মুগ্ধ হই। মাটির টান অনুভব করি, মানুষের প্রতি সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ উপলব্ধি করি। সুরের মাদকতায় মানুষের উপলব্ধি বোধ সৃষ্টি করতে সক্ষম তা তাঁর গানের মধ্য দিয়ে বহুভাবে প্রমাণিত। দেশের প্রতি ব্যাকুলতা বোধ তাঁর গানের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিয়ে যায় বারবার। লোকসুর আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের অবস্থানকে, জাগ্রত করে আমাদের অস্তিত্ববোধকে।
তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়






