এটি আবারো বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় আস্থার উৎস।

আজ আমি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সর্বশেষ অগ্রগতি, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করতে চাই।

চীনের রাষ্ট্র পরিষদের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২-২৬ জুন চীনে সরকারি সফর করেন। এ সময় তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভায়ও অংশ নেন, যা সামার দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত।

সফরকালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চীনের রাষ্ট্র পরিষদের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও লেজিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

দুই পক্ষ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করে এবং ব্যাপক ঐকমত্যে পৌঁছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে একাধিক সহযোগিতা নথি স্বাক্ষরের সাক্ষী হন। সফরের শেষে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার প্রথম চীন সফর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

দুই দেশের নেতারা খোলামেলা ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ নতুন ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং আরো জোরালো যোগাযোগ, গভীরতর পারস্পরিক আস্থা ও ঘনিষ্ঠতর সহযোগিতার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। সফরটি ছিল সম্পূর্ণ সফল এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এ সফরের চারটি নতুন অর্জন আমি বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাই।

প্রথমত, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো, বাংলাদেশ-চীন দুই পক্ষই সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাই এশিয়ায় চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের সর্বোচ্চ পর্যায়।

অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি কেবল একটি নতুন অভিব্যক্তি নয়। এটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়কে নির্দেশ করে। এর মধ্য দিয়ে আরো গভীর পারস্পরিক আস্থা, ঘনিষ্ঠতর সহযোগিতা, স্বার্থের অধিকতর সমন্বয় ও সংহতির প্রতিফলন ঘটেছে।

দুই পক্ষ উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি কৌশলগত সংলাপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। এসব ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগের জন্য আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল একটি প্লাটফর্ম তৈরি করবে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বলেছেন, চীন সব সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে এবং বাংলাদেশের সব মানুষের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অটল থেকেছে। বিশ্ব যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনার প্রতি চীনের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। চীন সব সময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার থাকবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, চীন একটি মহান দেশ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে এবং চীন বাংলাদেশের মূল্যবান ও বিশ্বস্ত অংশীদার।

দুই দেশের নেতাদের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে, তা কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার উভয় পক্ষের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।

একতরফাবাদ ও শক্তির রাজনীতি যখন বাড়ছে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা যখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে এখনো শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা ও সম্ভাবনাময় গতি রয়েছে।

এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আগামী স্বর্ণালি ৫০ বছরের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি অভিন্ন উন্নয়ন ও পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতার আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ উন্মুক্ত করেছে।

দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক সমর্থনের মাধ্যমে নতুন মাত্রার আস্থা তৈরি হয়েছে

দুই পক্ষ তাদের নিজ নিজ মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একে অন্যকে দৃঢ়ভাবে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চীন বাংলাদেশের সব মানুষের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতিতে অটল থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় সমর্থন জানায় এবং বাংলাদেশের জনগণের নিজেদের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাধীন উন্নয়ন পথ বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে।

চীন এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সফল সাধারণ নির্বাচনে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। চীনই প্রথম দেশ, যারা একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় নথিতে বাংলাদেশের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রতি সমর্থন অন্তর্ভুক্ত করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ এক চীন নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ স্বীকার করেছে যে বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’র দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনরেকত্রীকরণ অর্জনে চীনের প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।

এখানে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বর্তমান সরকার তাইওয়ান প্রশ্নে আগের সরকারগুলোর তুলনায় আরো ইতিবাচক ও গঠনমূলক অবস্থান নিয়েছে। এটি চীনের মৌলিক স্বার্থের প্রতি বাংলাদেশের আরো দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরে।

বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের দুই দেশ পারস্পরিক সমর্থনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা আরো জোরদার হয়েছে।

তৃতীয়ত, পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে

দুই পক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় উচ্চ মানের সহযোগিতা এগিয়ে নেয়া, উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরো সমন্বয় তৈরি এবং সবুজ ও নিম্ন কার্বন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে সম্মত হয়েছে।

একই সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থ, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিনিময় ও সহযোগিতা আরো জোরদার করা হবে। পাশাপাশি বন্দর ও পানিসম্পদ উন্নয়নসহ বড় প্রকল্পগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়া হবে, যাতে অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

সফরকালে বাংলাদেশ চীনে তার প্রথম বিদেশী বিনিয়োগ কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য আরো সুবিধাজনক একটি প্লাটফর্ম তৈরি হবে।

বিনিয়োগ ফোরামে দুই পক্ষ চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে একটি চুক্তি এবং মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর সুবিধা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প যৌথভাবে এগিয়ে নেয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল চীনে রফতানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে একটি প্রটোকলও দুই পক্ষ স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশী আমের পর এখন তাজা বাংলাদেশী কাঁঠালও চীনের বাজারে প্রবেশ করবে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের আরো উচ্চ মানের কৃষিপণ্যকে চীনের বাজারে স্বাগত জানানোর প্রত্যাশা রয়েছে আমাদের।

এছাড়া বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। এর কার্যকর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প অন্যতম বহুল আলোচিত বিষয়। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ পানিসম্পদ সহযোগিতা নিয়ে গভীর মতবিনিময় করেছে।

পানিসম্পদ পরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতা জোরদারে চীন প্রস্তুত। একই সঙ্গে পানিসম্পদ খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনবল প্রশিক্ষণেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

এখানে আমি একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই। তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য চীন তার সক্ষমতার মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা করবে।

আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সরাসরি চীন-বাংলাদেশ যোগাযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নসহ নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি করবে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ সফরের অর্জনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরো বিস্তৃত ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হবে, উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছবে এবং দুই দেশ ও দুই দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি সুফল বয়ে আনবে।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো নির্মাণ

দুই পক্ষ জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক নীতিগুলো দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব এবং সর্বজনীনভাবে কল্যাণকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

দুই পক্ষ একমত হয়েছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ফলাফল দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা এবং ফ্যাসিবাদী ও সামরিকতাবাদী পুনরুত্থানের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা অপরিহার্য। কায়রো ঘোষণা, পটসডাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনগত নথির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি দুই পক্ষ সমর্থন জানিয়েছে।

বাংলাদেশ মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তোলার স্বপ্ন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি প্রশংসা ও সমর্থন জানিয়েছে। চীনের সঙ্গে এসব উদ্যোগে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

চীন বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগের বন্ধুদের গোষ্ঠীতে অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা জোরদারের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

চীন জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশের আরো বড় ভূমিকা পালনে সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার আবেদনের প্রতিও চীন সমর্থন জানিয়েছে। দুই পক্ষ এ অঞ্চলে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেয়া এবং এ প্রক্রিয়ায় এ অঞ্চলের আরো দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আরো ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবদান রাখার দায়িত্ব ও সক্ষমতা বাংলাদেশ ও চীন উভয়েরই রয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা সমুন্নত রাখা এবং বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে এবং আরো বড় ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তার সংবাদ সম্মেলনে যেমনটি বলেছেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোত্তম পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের সম্পর্ক এখন শুধু দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বর্তমান সময় ও বিশ্বের জন্য এর আরো বিস্তৃত তাৎপর্য রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দুই দেশ যখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আগামী স্বর্ণালি ৫০ বছরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন চীন আমাদের দুই দেশের নেতাদের মধ্যে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য এবং সফরের ফলাফলগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

আমরা একসঙ্গে এসব ফলাফলকে বাস্তব অর্জনে রূপ দেব এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য আরো শক্তিশালী গতি সৃষ্টি করব। এর মধ্য দিয়ে আমাদের দুই দেশ ও জনগণের জন্য আরো বেশি কল্যাণ নিশ্চিত হবে।

[ঢাকায় চীনা দূতাবাসে ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর-পরবর্তী মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেয়া রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য]