মানুষের নিত্যব্যবহার্য জিনিসের মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য অন্যতম। বসবাস থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে বিভিন্ন পণ্যের প্রয়োজন। এর মধ্যে ফ্রিজ, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ব্লেন্ডার, গ্রাইন্ডার, হ্যান্ড মিক্সার, এয়ার পিউরিফায়ার, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, এয়ার ব্লোয়ারের মতো পণ্য রয়েছে।

কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পণ্যে ছাড় ও অফার দিচ্ছে। অফারের পাশাপাশি প্রয়োজন থাকায় এসব পণ্যের বিক্রিও বাড়ছে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, গুণগতমান ও সাশ্রয়ী দামের কারণে বিশ্বজয় করেছে বাংলাদেশে তৈরি কনজিউমার ইলেকট্রনিক পণ্য। ইউরোপসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় সৃষ্টি হয়েছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এসব পণ্যের নতুন বাজার। করোনার প্রাদুর্ভাব কমায় গতি এসেছে রফতানিতেও।

২০২১-এর জুলাই থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানিতে ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় ৭ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এর আগে গত অর্থবছরের ১০ মাসে এ পণ্য থেকে আয় ছিল ৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

রপ্তাবিন উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছর ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানির মাধ্যমে আয় হয় ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। চলতি বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা অর্জনে খুব বেশি পিছিয়ে নেই রফতানিকারকরা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের কাছ থেকে রফতানি প্রণোদনা ও অন্যান্য নীতিসহায়তা পেলে পোশাক শিল্পের মতো দেশের ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিও বড় রফতানি খাত হয়ে উঠবে।

ভোক্তা পর্যায়ে ঈদের সময় ও পরে টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। টেলিভিশনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে সনি, স্যামসাং, সিঙ্গার, এলজিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড। তবে মানের দিক থেকে অনেকে সনিকেই প্রাধান্য দেন। এর পরের তালিকায় স্যামসাং। আবার দীর্ঘ সময়ের বিশ্বস্ততার অংশ হিসেবে অনেকে সিঙ্গারের টেলিভিশনও কিনছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩২ ইঞ্চি এইচডি এলইডি সনি ব্রাভিয়া টেলিভিশন ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা, ৪৩ ইঞ্চি ফুল এইচডি এলইডি সনি ব্রাভিয়া টেলিভিশন ৫৩ হাজার ৯০০, ৫০ ইঞ্চি ফুল এইচডি এলইডি সনি ব্রাভিয়া টেলিভিশন ৬৪ হাজার ৯০০ ও ৪৩ ইঞ্চি ফোরকে আল্ট্রা এইচডি সনি ব্রাভিয়া টেলিভিশন ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা।

সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন মডেলের টেলিভিশন দিচ্ছে ওয়ালটন। সর্বনিম্ন ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ডব্লিউডি২৪আর২১ (৬১০ মিলিমিটার) এবং ১৬ হাজার ৯৯০ টাকা মূল্যে ডব্লিউ৩২এফ১৩০ (৮১৩ মিলিমিটার) টেলিভিশন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ডব্লিউডিআরএস৪০জি এফএইডডি (১ দশমিক শূন্য ১৫ মিটার) অ্যান্ড্রয়েড টেলিভিশনের মূল্য ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা, ডব্লিউডি২৪আরএ (৬১০ মিলিমিটার) স্মার্ট টেলিভিশন ১৫ হাজার ৩০০, ডব্লিউ৪৩ডি২১০এইচজি১ (১ দশমিক ৯ মিটার) এফএইচডি অ্যান্ড্রয়েড টেলিভিশন ৩৩ হাজার ৯৯০ টাকা।

দৈনন্দিন কাজে রেফ্রিজারেটর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। বাজারে বিভিন্ন ধরনের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো হলো ডিপ ফ্রিজার, ডিরেক্ট কুল, নো ফ্রস্ট, সাইড বাই সাইড, টপ মাউন্ট, বটম মাউন্ট, আপরাইট ও সেমি কমার্শিয়াল সিরিজের ফ্রিজ। দেশী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনেরই ২০০-এর বেশি মডেলের ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্ট, ডিপ ফ্রিজ ও বেভারেজ কুলার ফ্রিজ রয়েছে। মাত্র ১০ হাজার ৯৯০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় এগুলো কেনা যাবে।

স্যামসাং ২৪৫-৪৯১ লিটারের ফ্রিজ ক্রয়ের সুবিধা দিচ্ছে। এসব ফ্রিজের দাম ৪২ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। রেফ্রিজারেটরের জন্য বিখ্যাত হিটাচি ব্র্যান্ডও ২২৩-৫৮৪ লিটারের রেফ্রিজারেটরে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। এগুলোর দাম ৪৬ হাজার ৯০০ থেকে ৩ লাখ টাকা। ওয়ার্লপুল ব্র্যান্ডের ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে ২৬৫-৬০৩ লিটার পর্যন্ত। এসব ফ্রিজের দাম পড়ছে ৫০ হাজার ৯০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯০০ টাকা।

রেফ্রিজারেটরের পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) অন্যতম। এ খাতসংশ্লিষ্টরা বাজার বাড়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে। কভিড-১৯ মহামারীর আগে ২০১৯ সালে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার এসি বিক্রি হয়েছিল। তবে ২০২০ সালে তা সাড়ে তিন লাখে নেমে আসে। ২০২১ সালে এ পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং প্রায় চার লাখ এসি বিক্রি হয়। চলতি বছর ৪ লাখ ৩০ হাজার এসি বিক্রির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন খাতের উৎপাদক ও পরিবেশকরা। বাজারে ব্র্যান্ডভেদে এক টনের বিদেশী ইনভার্টার এসির দাম ৬০-৬৫ হাজার টাকা। আর নন-ইনভার্টারের দাম ৩৫-৫০ হাজার টাকা। দেড় টন ইনভার্টার এসির দাম ৭৫-৮৫ হাজার টাকা।

ওয়াশিং মেশিনের দিক থেকে দেশে সিঙ্গার, ওয়ালটন, এলজি, ভিশন পরিচিত। বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের ওয়াশিং মেশিনে ৫-১৩ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে সিঙ্গার। সেমি অটো, ফুল অটো ও ইনভার্টার ক্যাটাগরিতে ওয়াশিং মেশিন দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ধারণক্ষমতা বিশেষে এগুলোর দাম ১০ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার টাকা।

ওয়ালটন অটোমেটিক ফ্রন্ট, অটোমেটিক টপ লোড ও সেমি অটোমেটিক তিন ক্যাটাগরিতে ওয়াশিং মেশিন সরবরাহ করছে। এগুলোর দাম ৩৩-৬২ হাজার টাকা। স্যামসাংয়ের ওয়াশিং মেশিনের দাম ২৮ হাজার ৯০০ থেকে ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় আরেকটি ইলেকট্রনিক পণ্য হচ্ছে ব্লেন্ডার। দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ব্লেন্ডারগুলো ১ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা। মিয়াকোর ব্লেন্ডারগুলো ৩-৫ হাজার টাকা।

মাইক্রোওয়েভ ও ইলেকট্রিক ওভেনের দিক থেকে কংকা, মিয়াকো, ওয়ালটন, সিঙ্গার, স্যামসাং দেশে প্রচলিত। ওয়ালটন সলো, মাইক্রোওয়েভ অ্যান্ড গ্রিল এবং মাইক্রোওয়েভ, গ্রিল অ্যান্ড কনভেকশন ক্যাটাগরিতে পণ্য বিক্রি করছে। সলো ক্যাটাগরির ওভেনের মূল্য ৬-১০ হাজার টাকা, মাইক্রোওয়েভ অ্যান্ড গ্রিল ওভেন ৮ হাজার ৯০০ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং মাইক্রোওয়েভ, গ্রিল অ্যান্ড কনভেকশন ক্যাটাগরির ওভেনগুলো ১৩-১৯ হাজার টাকা।