জাকারিয়া জালাল। বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের হেড অব সেলস। দেশের এলপিজি খাতের বর্তমান অবস্থা, খাতটিকে আরো বড় করতে আসন্ন বাজেটে কী ধরনের নীতিসহায়তা প্রয়োজন ও গ্রাহককে উন্নত সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের অবস্থান ও পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন
আমদানি করা
এলপিজিতে কী
ধরনের সুবিধা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে
করছেন?
এলপিজি একটি
আমদানি
পণ্য।
যে
কারণে
আমাদের
প্রথম
চাওয়া
হলো
আমদানিতে
যেসব
শুল্ক
বা
ট্যাক্স
থাকে,
সেটি
মওকুফ
করা।
১০
বছর
ধরে
বর্তমান
সরকার
এলপিজিকে
প্রাধান্য
দিচ্ছে।
এটি
বিকল্প
জ্বালানি
হিসেবে
কাজ
করছে।
এ
কারণে
এ
খাতে
তেমন
শুল্ক
বা
ট্যাক্স
নেই।
তবে
বিগত
সময়গুলোয়
আমাদের
অপরিশোধিত
জ্বালানি
তেল
আমদানি
ব্যয়
বেড়ে
গিয়েছে,
যে
কারণে
এলপিজির
ক্ষেত্রে
দেশে
আমাদের
অনেক
দাম
দিতে
হচ্ছে।
আবার
গ্রাহকের
কাছে
যখন
আমরা
এলপিজি
বিক্রি
করি,
তখন
৭
শতাংশ
হারে
ভ্যাট
দিতে
হয়।
এজন্য
আমদানি
করার
সময়
শুল্ক
না
থাকলেও
বিক্রির
সময়
শুল্ক
দিতে
হচ্ছে।
এছাড়া
সামগ্রিক
ভ্যাটের
সঙ্গে
সমন্বয়যোগ্য
হলেও
আমাদের
আমদানি
করার
ক্ষেত্রে
আড়াই
শতাংশ
হারে
অগ্রিম
শুল্ক
দিতে
হয়।
কোনো
কোনো
ক্ষেত্রে
এ
হার
৪
শতাংশ
পর্যন্ত।
বড়
আকারে
আমদানি
করার
ক্ষেত্রে
এত
পরিমাণ
অগ্রিম
শুল্ক
দেয়ার
ফলে
কস্ট
অব
ক্যাপিটালে
তার
প্রভাব
পড়ে।
এ
কারণে
আমরা
আমদানির
এ
শুল্কে
ছাড়
চাই।
পাশাপাশি
বিক্রি
করার
ক্ষেত্রেও
ভ্যাট
মওকুফ
চাই।
যদি
ভ্যাট
দিতেই
হয়,
সেটি
ন্যূনতম
হওয়া
দরকার।
এলপিজি খাতে
সুবিধা দিলে
সেটি এ
খাতের ওপর
কেমন প্রভাব ফেলবে? খাতকে
কত বড়
করা সম্ভব?
১০ বছর
আগে
গৃহস্থালি
পর্যায়ে
প্রাকৃতিক
গ্যাস
সরবরাহ
বন্ধ
করে
দেয়
সরকার।
এটি
একটি
যুগান্তকারী
সিদ্ধান্ত।
কারণ
আমাদের
প্রাকৃতিক
গ্যাসের
চাপ
কমে
যাচ্ছে।
এ
সময়
একটি
নতুন
বিকল্প
জ্বালানিকে
অগ্রাধিকার
দেয়ার
ক্ষেত্রে
এটি
একটি
ভালো
সিদ্ধান্ত
ছিল।
গৃহস্থালি
রান্নার
ক্ষেত্রে
সারা
পৃথিবীতে
এলপিজি
একটি
সবচেয়ে
ভালো
বিকল্প
জ্বালানি।
যেসব
দেশে
এলপিজির
বাজার
সম্প্রসারিত
হয়েছে,
সেখানে
সরকারি
সুবিধা
বা
প্রণোদনার
ব্যাপার
ছিল।
গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে অটোগ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার মতামত
কী এবং
বাজেটে কী
ধরনের সুবিধা দেয়া হলে
এটির প্রবৃদ্ধি আরো বেশি
করা সম্ভব?
গাড়িতে বিকল্প
জ্বালানি
হিসেবে
সিএনজি
ব্যবহার
করা
হচ্ছে।
কিন্তু
সেটি
পুরোপুরি
সেবা
দেয়া
যাচ্ছে
না।
সারা
বছর
৫-৬
ঘণ্টা
সেবা
বন্ধ
করে
রাখা
হচ্ছে।
কিন্তু
এ
সেবা
২৪
ঘণ্টা
দেয়া
দরকার।
এ
জায়গায়
অটোগ্যাস
ভূমিকা
রাখছে।
গত
চার-পাঁচ
বছরে
ভালো
প্রবৃদ্ধি
হয়েছে।
সারা
বাংলাদেশে
পাঁচ
শতাধিক
অটোগ্যাস
স্টেশন
স্থাপন
করা
হয়েছে।
আমাদেরও
দুই-আড়াইশ
স্টেশন
আছে।
ফলে
গ্রাহকরা
এখন
হাতের
নাগালে
জ্বালানি
পাচ্ছে।
তবে
এক্ষেত্রেও
এলপিজির
মতো
বিক্রি
পর্যায়ে
৭
শতাংশ
ভ্যাট
দিতে
হচ্ছে।
এটি
যদি
কমিয়ে
আনা
যায়,
তাহলে
আরো
সুলভ
মূল্যে
গ্রাহক
পর্যায়ে
জ্বালানি
দেয়া
সম্ভব।
সেটি
করা
গেলে
পুরো
খাতেই
একটা
ইতিবাচক
প্রভাব
পড়ত।
অনেক কোম্পানি এলপিজি প্লান্ট স্থাপন করছে।
আবার অনেকে
তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সেক্ষেত্রে এ খাতকে
বড় করতে
বাজেটে কী
ধরনের সুবিধা প্রয়োজন?
এলপিজি খাত
এরই
মধ্যে
অনেক
বড়
হয়েছে।
গত
কয়েক
বছরে
বসুন্ধারা
এলপিজি
গ্যাস
অনেক
বিনিয়োগ
করেছে।
পুরো
খাতে
প্রায়
৩৫
হাজার
কোটি
টাকার
বিনিয়োগ
হয়েছে।
এত
অল্প
সময়ে
বাংলাদেশের
কোনো
খাতে
এত
বিনিয়োগ
হয়নি।
জনগণের
চাহিদার
কথা
মাথায়
রেখে
এ
বিনিয়োগ
করা
হয়েছে।
এ
বিনিয়োগের
টাকাটা
কিন্তু
ব্যাংকের,
জনগণের।
বর্তমানে দেশের
এলপিজির বাজারে চাহিদা কেমন?
স্থানীয় উৎপাদনে চাহিদা কতটা
মেটানো সম্ভব
হচ্ছে?
প্রাকৃতিক গ্যাস
ও
এলপিজি
মিলে
বাংলাদেশে
এখন
পর্যন্ত
২০
শতাংশ
মানুষ
পরিচ্ছন্ন
জ্বালানি
ব্যবহার
করছে।
আমরা
চাই
৭০
শতাংশ
মানুষকে
পরিচ্ছন্ন
জ্বালানির
মধ্যে
নিয়ে
আসতে।
কিন্তু
এ-সংখ্যক
মানুষকে
জ্বালানির
আওতায়
নিয়ে
আসতে
সময়
লাগবে।
এ
সময়ের
মধ্যে
আমাদের
ইন্ডাস্ট্রি
কতটা
টেকসই
হবে
সেটি
গুরুত্বপূর্ণ।
আবার
কোম্পানিগুলো
নিজেদের
মধ্যে
দামের
ক্ষেত্রে
প্রতিযোগিতায়
লিপ্ত
হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে
বিনিয়োগকে
ঝুঁকির
মধ্যে
ফেলে
দেয়া
হচ্ছে।
বিনিয়োগ
ঝুঁকিপূর্ণ
হলে
সেটি
দেশের
জন্য
ক্ষতি।
এলপিজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দেয় বসুন্ধরা?
বসুন্ধরা এলপিজি
সর্বপ্রথম
কোম্পানি,
যারা
বিএসটিআই
থেকে
সিলিন্ডারের
সার্টিফায়েড।
আমরা
আশা
করি
সব
কোম্পানিই
পাবে।
সেই
অর্থে
আমরা
আন্তর্জাতিক
মান
অনুসরণ
করছি।
আমাদের
কারখানা
আন্তর্জাতিক
মান
অনুসরণ
করে
তৈরি।
বাংলাদেশের
প্রথম
এলপিজি
সিলিন্ডার
প্লান্ট
কিন্তু
আমাদের।
১০-১৫
বছর
ধরে
আমরা
নিজেরাই
তৈরি
করছি।
৬০
লাখেরও
বেশি
সিলিন্ডার
আমরা
নিজেরাই
বাজারে
দিয়েছি।
সিলিন্ডারে
আমরা
ইউরোপীয়
স্ট্যান্ডার্ড
অনুসরণ
করি।
ইন্ডাস্ট্রিতে
এলপিজি
সিলিন্ডার
নিয়ে
খুব
একটা
অভিযোগ
নেই।
মানুষের
মধ্যে
একটি
মিথ
আছে
যে
এলপিজি
সিলিন্ডার
ব্লাস্ট
হয়।
কিন্তু
আমরা
এলপিজি
দুর্ঘটনার
যতগুলো
বিষয়
পর্যবেক্ষণ
করেছি
বা
বিস্ফোরক
অধিদপ্তরের
সঙ্গে
আমরা
গিয়েছি,
আমরা
দেখেছি
সিলিন্ডার
বিস্ফোরণ
হয়নি।
ভেঙে
যায়নি,
টুকরোও
হয়নি।
কেবল
বসুন্ধরা
না,
ইন্ডাস্ট্রির
কোনো
সিলিন্ডার
বিস্ফোরণ
হয়নি।
যতগুলো
দুর্ঘটনা
ঘটেছে,
এক্ষেত্রে
গ্রাহকের
অসচেতনতা
লক্ষ
করা
গিয়েছে।
৯৯
দশমিক
৫
শতাংশ
দুর্ঘটনা
ঘটেছে
অসচেতনতা
ও
মানহীন
জিনিসপত্র
ব্যবহারের
কারণে।
হোসপাইপসহ
যেসব
রেগুলেটর
ব্যবহার
করার
কথা,
সেগুলো
ঠিকমতো
ব্যবহার
না
করার
কারণে
এসব
দুর্ঘটনা
ঘটে।
এলপিজি খাতকে
আরো বিকশিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে
আপনারা কী
ধরনের নীতিসহায়তা দাবি করেন?
প্রথম কথাই হলো এলপিজি খাতকে এ পর্যন্ত আসার পেছনে সরকারের অবদান রয়েছে। তবে এ খাতকে আরো বড় করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ভ্যাট মওকুফ করে দেয়া, গ্রাহক পর্যায়ে কর কমিয়ে দেয়া—এগুলো আর্থিক ব্যাপার। আরেকটি ব্যাপার হলো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা। অনেক আগে আমরা শুনেছিলাম আমাদের একটা এলপিজি সেল গঠন করা হবে। লাইসেন্সিংসহ অন্যান্য কাজে প্রতি বছর আমাদের ৮-১০টি সংস্থার কাছে যেতে হয়। আমরা একটা সংস্থাকে পাচ্ছি না। একটা রেগুলেটরি বডির অধীনে চলে গেলে আমাদের আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আবার কোন খাতে আমরা এলপিজিকে ব্যবহার করতে চাই, সেই খাতের প্রতিযোগী জ্বালানির সঙ্গে আমরা কতটা পিছিয়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।





