আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর বেশির ভাগ কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ডলারের দাম বাড়তি হওয়ার কারণে এসবের দাম আরো বাড়ছে। একই সময়ে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। এসব কারণে এ খাতের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধিতে বাজেটে করণীয় কী হতে পারে, আবাসন খাতের কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা করছেন এমন বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি, আলমগীর শামসুল আলামিন
নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি আবাসন শিল্পে বড় একটি
সমস্যা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। এ
বিষয়ে করণীয়
কী?
নির্মাণসামগ্রীর বেশির
ভাগ কাঁচামাল
আমদানি করতে
হয়। আন্তর্জাতিক
বাজারে এসব
পণ্যের দাম
বেড়েছে। ডলারের
দাম বাড়তি
হওয়ার কারণে
এসবের দাম
আরো বাড়ছে।
একই সময়ে
জাহাজ ভাড়া
বেড়েছে। এসব
কারণে এ
খাতের কাঁচামালের
দাম বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার
আমরা নিয়ন্ত্রণ
করতে পারব
না। এক্ষেত্রে
সরকারের দুটি
কাজ করতে
হবে। প্রথমত,
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে
বাজারের ওপর
কঠোর নজরদারি
রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আগামী
বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর
কাঁচামাল আমদানিতে
শুল্ক কমিয়ে
দাম কিছুটা
সহনীয় পর্যায়ে
রাখা যেতে
পারে।
ফ্ল্যাটের দাম
মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার
উপায় কী?
মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার
মধ্যে ফ্ল্যাট
নিয়ে আসতে
হলে দুটি
বিষয়ে নজর
দিতে হবে।
প্রথমত, আমাদের
নির্মাণসামগ্রীর দাম
নিয়ন্ত্রণে রাখতে
হবে। দ্বিতীয়ত,
যদি রাজউক
ও ন্যাশনাল
হাউজিং থেকে
ডেভেলপারদের জমি
বরাদ্দ দেয়া
হয় এবং
সেখানেই যদি
আমরা ফ্ল্যাট
নির্মাণ করতে
পারি, তাহলে
সেটি মধ্যবিত্তের
ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে
রাখা সম্ভব।
বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন
খাতে বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়ে
আপনাদের প্রত্যাশা কী?
বাজেটে আবাসন
খাতে অপ্রদর্শিত
অর্থ বিনিয়োগের
বিষয়টি সবসময়
থাকে। কিন্তু
আমাদের চাওয়া
হলো সেটি
কোনো প্রশ্ন
ছাড়াই, অর্থের
উৎস জানতে
না চেয়ে
যেন বিনিয়োগের
সুযোগ দেয়া
হয়। যেটা
২০২০-২১
অর্থবছরের বাজেটে
ছিল। ওই
বাজেটে অপ্রদর্শিত
অর্থ বিনা
প্রশ্নে আবাসন
খাতে বিনিয়োগের
সুযোগ দেয়ায়
প্রায় ২০
হাজার কোটি
টাকা এ
খাতে এসেছে।
আমরা প্রত্যাশা
করি, আগামী
বাজেটেও যেন
বিনা প্রশ্নে
আবাসন খাতে
বিনিয়োগের সুযোগ
রাখা হয়।
আমরা পত্রপত্রিকায়
দেখছি বর্তমানে
দেশে প্রায়
৭৭ লাখ
কোটি টাকা
অপ্রদর্শিত হিসেবে
রয়েছে। এ
টাকাটা আমাদের
মূলধারার অর্থনীতিতে
নিয়ে আসা
প্রয়োজন। তাহলে
বাজারও ভালো
হবে। অর্থনীতিও
ভালো হবে।
সরকারের রাজস্বও
বাড়বে।
সম্প্রতি এক
অনুষ্ঠানে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা প্রচলনের বিষয়ে
আপনি আলোকপাত করেছেন? বিষয়টি বিস্তারিত বলবেন?
সেকেন্ডারি বাজারের
রেজিস্ট্রেশন খরচ
ও নতুন
ফ্ল্যাটের খরচ
একই। নতুন
ও পুরনো
ফ্ল্যাটে যদি
দুই ক্ষেত্রেই
১২ শতাংশ
রেজিস্ট্রেশন খরচ
দিতে হয়,
তাহলে সেটি
মানুষের ক্রয়ের
ওপর বাড়তি
চাপ তৈরি
হয়। আমরা
যদি অন্যান্য
ক্ষেত্রে দেখি,
যেমন নতুন
গাড়ি কেনার
ক্ষেত্রে একটা
রেজিস্ট্রেশন খরচ
আছে। কিন্তু
পুরনো গাড়ি
বিক্রি করার
সময় নামমাত্র
মূল্যে রেজিস্ট্রেশন
খরচ দেয়া
হয়। একই
সুবিধা যদি
আবাসন খাতের
সেকেন্ডারি মার্কেটে
দেয়া যেত,
তাহলে এ
বাজারে চাঞ্চল্য
ফিরত। নতুন
কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরি হতো।
বেশি পুরনো
ফ্ল্যাট বেচাকেনা
হতো। তখন
বেশি নতুন
ফ্ল্যাটের চাহিদাও
তৈরি হতো।
বাজেটে আবাসন
খাতে একটি
বিশেষ তহবিল
গঠনের দাবি
রয়েছে আপনাদের? এ তহবিল
সম্পর্কে জানতে
চাই।
পৃথিবীর সব
দেশেই হোম
লোনের মাধ্যমে
বাড়িঘর হয়।
কিন্তু আমাদের
দেশে এখনো
হোম লোনের
ব্যবস্থা সেভাবে
প্রসার হয়নি।
এটির প্রসার
করতে হলে
হোম লোনের
জন্য সরকারকে
একটা বিশেষ
তহবিল গঠন
করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের
যে তথ্য,
সেখানে দেখা
যাচ্ছে হোম
লোনের ক্ষেত্রে
খেলাপি খুবই
কম। ফলে
এ খাতে
বিনিয়োগ হবে
নিরাপদ। এ
তহবিলের অর্থ
দিয়ে স্বল্প
সুদে দীর্ঘমেয়াদি
হোম লোনের
ব্যবস্থা করতে
হবে।
বাজেটে ফ্ল্যাট ও প্লট
রেজিস্ট্রেশন-সংশ্লিষ্ট কর ও
ফি নিয়ে
আপনাদের কোনো
দাবি আছে
কিনা?
দক্ষিণ এশিয়ার
মধ্যে আমাদের
রেজিস্ট্রেশন খরচ
অনেক বেশি।
এটিকে কমিয়ে
যদি ৭
শতাংশে আনা
যায়, তাহলে
একদিকে খরচ
কমবে। বাজার
আরো বেশি
চাঙ্গা হবে।
সরকারও আরো
বেশি কর
পাবে। এজন্য
আমাদের দাবি
রেজিস্ট্রেশন খরচ
কমিয়ে ৭
শতাংশে আনতে
হবে।
গৃহায়ন শিল্পে উদ্যোক্তাদের আয়করের বিষয়ে বাজেটে কোনো প্রত্যাশা আছে?
গৃহায়ন শিল্পের
উদ্যোক্তারা যারা
ঢাকা শহরের
বাইরে বিনিয়োগ
করবেন, বিশেষ
করে জেলা-উপজেলায়
বিনিযোগ করবেন,
তাদের আয়করের
ক্ষেত্রে সরকার
একটি বিশেষ
প্রণোদনা দিতে
পারে। এতে
ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত
হবেন।
সামগ্রিকভাবে বাজেট
নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কভিড মহামারী-পরবর্তী একটি বাজেট। সারা বিশ্বই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সমস্যায়। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে। এ কারণে আগামী বাজেট এমনভাবে করতে হবে, যেন বাংলাদেশের রফতানি আরো জোরদার করা যায়। যেন আমাদের ডলার আয় বাড়ে। প্রবাসী যারা আছেন, তারা যেন তাদের আয় দেশে পাঠাতে আগ্রহী হন। এসব বিষয় মাথায় রেখে এবারের বাজেট করতে হবে।





