১. বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত ব্যাংকগুলো ৪০ শতাংশ হারে করপোরেট ট্যাক্স দিচ্ছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এর বাইরেও ব্যাংকগুলোকে রয়্যালিটি ফিসহ অন্যান্য কারণে মার্জিনাল ট্যাক্স রেটের অতিরিক্ত ৮-১০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। যে কারণে আমি চাইব করপোরেট ট্যাক্স রেট সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক।

২. দেশের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো যেখানে ১৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স দেয় সেখানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। ব্রোকারেজ কোম্পানিগুলোও ৩৫ শতাংশ ট্যাক্স দিচ্ছে। এসব কোম্পানিকে ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো সেবা দিতে প্রতিযোগিতাও করতে হয়। এমতাবস্থায় আমার দাবি মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট ট্যাক্স ৩৭ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হোক।

৩. যুগের সাথে তাল মেলাতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নানা ধরনের সেবা নেয়। তাদের প্রদত্ত সার্ভিস ফির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ২০-৩০ শতাংশ ট্যাক্স ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। ফলে এ ধরনের সার্ভিস নিতে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। এ ধরনের সার্ভিসের জন্য সোর্স থেকে ট্যাক্স কাটার বিধান বাদ দেয়া হোক।

৪. বর্তমানে ব্যাংকগুলো বছরে ২ হাজার ২০০ কোটিরও বেশি টাকা সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করে। অথচ এ ব্যয়কে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে দেখাতে পারছে না। যেহেতু দেশ ও মানুষের জন্য ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে, ফলে এ খাতে ব্যয়কৃত অর্থকে ‘অ্যালাউঅ্যাবল এক্সপেনডিচার’ হিসেবে বিবেচনা করা হোক। 

৫. দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সরকারও দেশকে ডিজিটাল করতে চায়। একজন গ্রাহক যখন কোনো মার্চেন্ট পয়েন্টে তার কার্ড চার্জ করে, তখন তার কাছ থেকে ৪ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেয়া হয়। মার্চেন্টরা যখন ব্যাংকগুলোকে কমিশন দেয়, সেই কমিশনের ওপর ব্যাংকগুলোকে আবার ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আমরা এ দ্বৈত ভ্যাটের বিষয়টি বাতিল করার সুপারিশ করছি।

মাসরুর আরেফিন

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড