এম মাশরুর রিয়াজ, চেয়ারম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি)

এবারের বাজেটে তিনটা বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক পরিপ্রেক্ষিত ছিল। মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতার মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যাত্রা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। মোটাদাগে এ তিন বিষয় ছিল এবারের বাজেটের অগ্রাধিকার।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে ভালো দিক হলো মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সার্বিক বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমানো হয়েছে। সংকোচনমূলক বাজেটের দিকে যাওয়াটা ইতিবাচক দিক। তবে পরিচালন ব্যয়ের মতো খাতগুলোয় আরেকটু সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করলে বাজেটটা আরো বেশি কমানোর সুযোগ ছিল। মহার্ঘ্য ভাতা হয়তো এখানে বড় একটা কারণ। এ সময় আমাদের কৃচ্ছ্রসাধণের দিকে নজর দেয়ার দরকার ছিল। অর্থনীতি ভবিষ্যতে যখন ঘুরে দাঁড়াবে তখন সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রতিদান দেয়া যেত। আবার এডিপি কমালেও সেখানে আরো গুণগত ব্যয়ের সুযাগ ছিল। সব ধরনের খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ভবন নির্মাণে। এ রকম একটা সংকট মুহূর্তে ভবন নির্মাণ তো অগ্রাধিকার পাওয়ার দরকার ছিল না।

দ্বিতীয়ত, সুশাসনসংক্রান্ত ব্যয়। অর্থনৈতিক, ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাত সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক ইস্যুতে বড় ধরনের কিছু দেখা যায়নি। সংস্কার এগিয়ে নিতে কিন্তু সরকারের ব্যয় আছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ বা লক্ষ্য আমরা দেখছি না। গ্রামীণ, যুবক, নারী কিংবা প্রবাসফেরতদের জন্য নির্দিষ্টভাবে কর্মসংস্থানের কোনো কিছু দেখিনি। অথছ গত কয়েক মাসে বেকারত্বের হার আরো বেড়েছে। এ সময় সরাসরি টার্গেট করে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ দেয়া দরকার ছিল।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের কথা মাথায় রেখে এলএনজিতে ভর্তুকি বাড়ানোর মতো ছোটখাটো কিছু উদ্যোগ আছে। আবার কৃষির ক্ষেত্রে গুদাম কিংবা হিমাগারের জন্য কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল ইকোনমি ও পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দেয়ার জন্যও কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো ভালো দিক। তবে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রে আবার বিপরীতমুখিতা দেখা গেছে।