ঈদুল আজহা উপলক্ষে আপনাদের ক্রেডিট কার্ডে কী ধরনের অফার দেয়া হচ্ছে? এবারের ক্যাশব্যাক সুবিধা কী থাকছে?
ঈদুল আজহা উৎসবকে ক্যাশলেস ও আনন্দময় করে তুলতে আমরা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করেছি। এবার আমাদের ক্রেডিট কার্ডে আড়ং, এপেক্স, ইয়োলো এবং পিৎজা হাট ও কেএফসিসহ শীর্ষস্থানীয় ফুড চেইনে ১৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত) ক্যাশব্যাক অফার রয়েছে। অনলাইনে কোরবানি পশু কেনার ওপরও রয়েছে বিশেষ ক্যাশব্যাকসহ আকর্ষণীয় সব অফার। এছাড়া পিকাবোসহ বিভিন্ন ই-কমার্স ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি ডিসকাউন্ট পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ঢাকা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নির্ধারিত ইলেকট্রনিকস মার্চেন্ট আউটলেটে উপভোগ করুন ২৪ মাস পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কিস্তিসহ (ইএমআই) সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা। ঢাকা ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো উৎসবের কেনাকাটায় নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনকে আরো পুরস্কৃত ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল অ্যাপ, এমএফএস, কিউআর কোড ও ডিজিটাল ওয়ালেটের বিস্তার ক্যাশলেস অর্থনীতিকে কতটা এগিয়ে নিচ্ছে? এক্ষেত্রে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
উল্লেখিত মাধ্যমগুলো ক্যাশলেস অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ ইন্টারঅপারেবিলিটি ব্যবস্থা খুচরা পর্যায়ের লেনদেনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে আমাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘ঢাকা ব্যাংক গো প্লাস’-কে আরো কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করা। আমরা এরই মধ্যে মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) বিভিন্ন স্টেশনে ক্যাশ রিসাইক্লার মেশিন (সিআরএম) বুথ স্থাপন করেছি এবং ফিনটেক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি। শুধু শহরকেন্দ্রিক লেনদেন নয়, গ্রাম ও উপশহরকে আমরা বাংলা কিউআর প্লাটফর্মে যেন সবাই লেনদেন করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখনো বড় বাধা। নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করতে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের প্রথম শর্তই হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঢাকা ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানের ইএমভি থ্রি-ডি সিকিউর প্রযুক্তি এবং রিয়েল টাইম ফ্রড ডিটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করছে। প্রতিটি কার্ড ও অ্যাপ লেনদেনে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) যাচাই এবং তাৎক্ষণিক এসএমএস অ্যালার্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে কী ধরনের ব্যাংকিং উদ্ভাবন দরকার?
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো জামানতবিহীন সহজ ঋণ সুবিধা এবং খুচরা পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেন সহজলভ্য করা। ঢাকা ব্যাংক এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের (এফআইসিজিএস) আওতায় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার মাধ্যমে ভূমিহীন কৃষক, স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টধারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসছেন। পাশাপাশি আমরা ‘আই-সমাধান’ নামের একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালু করেছি, যেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমএসএমই ঋণের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব।
ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক সহযোগিতা ক্যাশলেস সমাজ গঠনে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে?
ভবিষ্যতের ব্যাংকিং হবে সম্পূর্ণ ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর। আমরা ডেটা অ্যানালিটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিটি গ্রাহকের আর্থিক প্রয়োজন ও ব্যয়ের ধরন অনুযায়ী বিশেষায়িত সেবা প্রদান করছি। ওপেন ব্যাংকিং এবং ফিনটেক-এমএফএস সহযোগিতার ফলে ব্যাংক টু ওয়ালেট লেনদেন আরো নিরবচ্ছিন্ন হবে, যা গ্রাহককে শাখায় না এসেই সব আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ করে দেবে।
ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত ও সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট প্লাটফর্ম (আইআইপিএস) গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ক্যাশলেস অর্থনীতিকে অনেকদূর এগিয়ে নেবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সিংহভাগ লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো ডিজিটাল লেনদেনে কর প্রণোদনা (ট্যাক্স ইনসেনটিভ) প্রদান, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ডেটার ওপর শুল্ক হ্রাস করবে। এছাড়া তৃণমূল মার্চেন্টদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে বিশেষ নীতিগত সহায়তা পাওয়া, যা ক্যাশলেস বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করবে।










