দেশের অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল আজহা। এ উৎসব উপলক্ষে ব্র্যাক ব্যাংক তাদের ক্রেডিট কার্ডে কী ধরনের অফার দিচ্ছে?
দেশের প্রধান প্রধান উৎসবের সময় উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা করা আমাদের শহুরে সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাসজুড়ে আমরা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন অফার দিয়ে আসছি। গ্রোসারি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে স্বপ্ন, মীনা বাজার, আগোরা, ইউনিমার্ট ও চালডাল ডটকমের মতো পার্টনার আউটলেটগুলো থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ৩ হাজার টাকা বা তার বেশি কেনাকাটা করলে কার্ডধারীরা তিন গুণ রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন।
সহজ, যাত্রী, পরিবহন ডটকম ও বিডি টিকিটস প্লাটফর্মের পাশাপাশি গ্রিন লাইন ও সোহাগ পরিবহনের মতো শীর্ষস্থানীয় বাস অপারেটরগুলো থেকে ন্যূনতম ২ টাকার টিকিট কিনলে সর্বোচ্চ দুবার ১০০ টাকা করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে। লাইফস্টাইল ক্যাশব্যাক ক্যাটাগরিতে, আড়ং অনলাইন থেকে ন্যূনতম ২ হাজার টাকার কেনাকাটায় গ্রাহকরা ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট (সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা) উপভোগ করতে পারবেন।
এছাড়া ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস থেকে ব্যাংকের ‘পে-ফ্লেক্স ইএমআই’ সুবিধার আওতায় ন্যূনতম ৪০ হাজার টাকার কেনাকাটা করলে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ই-কমার্স অফারের মধ্যে থাকছে ‘দারাজ’ থেকে সর্বনিম্ন ১ হাজার ৯৯৯ টাকার কেনাকাটায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং ‘অথবা’ থেকে ২ হাজার টাকার লেনদেনে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট।
বাংলাদেশে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় বাধা কী? ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?
দেশে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জনগণের বড় একটা অংশের মধ্যে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ নেই। ফলে তারা ডিজিটাল পেমেন্ট করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি জানে না। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে একধরনের দ্বিধা বা ভয়ও কাজ করে। সবাইকে ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত করতে পারাটাই এখানে মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার কম থাকাটাও ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থাকাটাও একটা বড় সংকট। কারণ দেশের নগদ লেনদেনের মূল অংশটাই আবর্তিত হয় এ শ্রেণীকে ঘিরে। ফলে এ ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসতে পারলে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম অনেক বড় হয়ে যাবে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ করে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর সীমানা পেরিয়ে গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলে ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাপ বা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের প্রক্রিয়াটি আমাদের বিপুল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজবোধ্য ও সহজগম্য করা গেলে দেশে দ্রুত ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের সম্প্রসারণ হবে।
ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে ব্র্যাক ব্যাংক কী ধরনের পরিকল্পনা করছে?
শুরুর দিকে আমাদের দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার পিওএস মেশিনভিত্তিক ছিল। ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে পিওএস মেশিনের ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকায় কার্ডের গ্রাহকও এ কয়েকটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এরই মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় ‘অ্যাকোয়ারিং’ ব্যবসার সম্প্রসারণ করেছে, ফলে গ্রাহকরা কার্ড ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ পাচ্ছেন।
ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’ স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে আমরা কিউআর পেমেন্ট চালু করেছি
একই সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংক ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের কার্ড গ্রাহকরা দেশব্যাপী সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সর্বত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যেও ডিজিটাল পেমেন্ট করার আগ্রহ বাড়বে।
সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক ভিসা ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য ‘গুগল পে’-র মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করার সেবা নিয়ে এসেছে। ফলে এখন গ্রাহক কেবলমাত্র তার এনএফসি সক্রিয় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ডেবিট কার্ডেও আমরা এ সেবা চালু করব। একই সঙ্গে আমরা গ্রাহকদের ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করতে উৎসাহিত করছি এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতেও কাজ করে যাচ্ছি।
ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রস্তুতি কেমন?
আমাদের সব ধরনের লেনদেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে করা হয়। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের ‘রিয়াল-টাইম ফ্রড ডিটেকশন অ্যালার্ট’ চালু আছে। আমরা গ্রাহকদের লেনদেন নিয়মিত মনিটরিং করি, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করা যায়। জালিয়াতি প্রতিরোধে আমরা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘স্মার্ট পিওএস’ ডিভাইস নিয়ে আসতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে কার্ড ও কিউআর উভয় পদ্ধতিতেই পেমেন্ট করা যাবে। পেমেন্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসটি ‘রিয়াল-টাইম ভয়েস নোটিফিকেশন’ দেবে। ফলে আলাদা করে মেসেজ চেক করার প্রয়োজন হবে না।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনতে ব্যাংকগুলো কী করতে পারে?
ব্র্যাক ব্যাংকের জন্মই হয়েছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও লেনদেন জটিলতা সমাধান করার জন্য। আমরা প্রতিনিয়ত এসএমই উদ্যোক্তাদের লেনদেন সহজ করতে কাজ করছি। ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করতে আমরা ‘বাংলা কিউআর’ স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে কিউআর পেমেন্ট সুবিধা দিচ্ছি। আমাদের সাড়ে তিন লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এছাড়া আমরা ‘এসএমই ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছি, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ট্রাভেল কোটার বাইরেও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করতে পারছেন। আগামী দিনগুলোয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন বেশি সংখ্যায় ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আসে, সেজন্য আমাদের ব্যাংক খাতের ‘অ্যাপ’গুলোকে আরো সহজ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।










