ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল অ্যাপস, এমএফএস, কিউআর কোড ও ডিজিটাল ওয়ালেটের বিস্তার ক্যাশলেস অর্থনীতিকে কতটা এগিয়ে নিচ্ছে? এক্ষেত্রে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ক্রেডিট কার্ড, এমএফএস, মোবাইল অ্যাপ, কিউআর কোড ও ডিজিটাল ওয়ালেট বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এখন কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলা কিউআর ও ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ এ অগ্রগতিকে আরো শক্তিশালী করছে। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ওয়ানঅ্যাপকে আরো আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব করা, ওকে ওয়ালেটের মাধ্যমে বাংলা কিউআর বিস্তার, মার্চেন্ট পেমেন্ট উন্নত করা এবং দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ক্রেডিট কার্ডে অনলাইন, আন্তর্জাতিক, কিস্তি ও ক্যাশব্যাক সুবিধা আরো সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে আপনার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে কী ধরনের অফার দিয়েছেন? ক্যাশব্যাক অফারে এবারে কী থাকছে?
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাশব্যাক অফার দিয়েছে। লাইফস্টাইল, গ্রোসারি, ইলেকট্রনিকস ও বিনোদন—এ চারটি খাতে নির্দিষ্ট ন্যূনতম খরচে গ্রাহকরা সুবিধা পাবেন। আড়ং, সেইলর, এক্সট্যাসি, ইয়েলো, জেন্টল পার্ক; স্বপ্ন, আগোরা, ইউনিমার্ট, খুলশী মার্ট, মীনা বাজার, ডেইলি শপিং, মসলা বাজার, সনি-স্মার্ট, ওয়ালটন প্লাজা, ট্রান্সকম, সিঙ্গার, রÅvংগস, বাটারফ্লাই, স্টার সিনেপ্লেক্স প্রভৃতিতে এসব সুবিধা প্রযোজ্য। ইলেকট্রনিকস কেনাকাটায় শূন্য শতাংশ স্মার্ট ইএমআইও আছে। পাশাপাশি ডাইনিং, ক্যাফে, জুয়েলারি, জুতো, অটোমোবাইল, ট্রাভেল ও কোরবানির হাটের ডিজিটাল লেনদেনেও বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে, যাতে উৎসবের সময়ে নগদের ওপর চাপ কমে।
কোরবানির পশুর হাটে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে ওয়ান ব্যাংক কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে?
কোরবানির পশুর হাটে নগদ কমিয়ে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন পশুর হাটে অস্থায়ী ডিজিটাল ব্যাংকিং বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে সিআরএম মেশিনের মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা গণনা এবং জাল টাকা শনাক্তকরণে সহায়তা থাকবে। এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্ট ও ব্যাংক কর্মকর্তারাও ক্রেতা-বিক্রেতাকে সহায়তা করবেন। পশু ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে তারা সহজে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসতে পারেন। হাশিল ঘরে ওকে ওয়ালেটের বাংলা কিউআর দিয়ে হাশিল আদায়ের ব্যবস্থাও থাকছে, যা লেনদেনকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখনো বড় বিষয়। নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করতে আপনাদের প্রস্তুতি কী?
ক্যাশলেস ব্যবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই গ্রাহকের তথ্য ও লেনদেন সুরক্ষায় ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ব্যাংক মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা মানদণ্ড, যেমন আইএসও ও পিসিআই ডিএসএস অনুসরণ করছে। পাশাপাশি ফিশিং, ওটিপি প্রতারণা, সামাজিক কৌশলে প্রতারণা এবং অন্য ডিজিটাল জালিয়াতি সম্পর্কে গ্রাহককে নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে। নিরাপদ লেনদেনের জন্য শুধু প্রযুক্তি নয়, সচেতন ব্যবহারকারীও সমান জরুরি।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে কী ধরনের ব্যাংকিং উদ্ভাবন প্রয়োজন?
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে ক্যাশলেস ব্যবস্থায় আনতে প্রযুক্তিকে সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিং, কিউআর পেমেন্ট এবং কম খরচের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ মার্চেন্ট অনবোর্ডিং, তাৎক্ষণিক সেটেলমেন্ট এবং কম খরচে লেনদেনের সুযোগ জরুরি। নারী উদ্যোক্তা, কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা তৈরি করতে হবে। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং নগদ নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে।
ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক সহযোগিতা ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক সহযোগিতা ভবিষ্যতের ব্যাংকিংকে আরো স্মার্ট, দ্রুত ও গ্রাহককেন্দ্রিক করে তুলবে। এআই দিয়ে গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবা এবং স্বয়ংক্রিয় সহায়তা আরো কার্যকর হবে। ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক সেবা এক প্লাটফর্মে আনা সম্ভব হবে, ফলে গ্রাহক আরো সহজে সেবা পাবেন। ব্যাংক ও ফিনটেকের সমন্বিত উদ্যোগ ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনের গতি বাড়াবে।










