ক্যাশলেস লেনদেনে বিশ্ব অনেক দূর এগিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোয়ও এখন নগদ লেনদেন নেই বললেই চলে। বাংলাদেশকে ক্যাশলেস করতে কী করা প্রয়োজন?

ক্যাশলেস সমাজের মূল ভিত্তি হলো স্মার্ট ফোন। বিবিএসের জরিপ বলছে, দেশে বর্তমানে শতকরা ৭০-৭৫ ভাগ পরিবারের কাছে অন্তত একটি স্মার্ট ফোন আছে। এর পরও ক্যাশলেস সমাজ গড়ে না ওঠার প্রধান কারণ জনগণের মধ্যে ডিজিটাল সার্ভিসের সুবিধাগুলোর প্রচার-প্রসারে সীমাবদ্ধতা, গ্রাহকের ডিজিটাল সচেতনতার ঘাটতি, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ। এছাড়া অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখনো সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে অভ্যস্ত নন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো সহজ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। তবে সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে নগদ টাকা লেনদেনে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও গ্রহণ করা যেতে পারে।

ক্যাশলেস লেনদেনে না উৎসাহিত হওয়ার পেছনে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রতারণাও ভূমিকা রাখছে। এখানে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রস্তুতি কেমন?

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ওটিপি ভেরিফিকেশন, ফ্রড মনিটরিং সিস্টেম, ট্রানজেকশন এলার্ট ও উন্নত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ার জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে গ্রাহকরা নিরাপদভাবে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারেন। আমরা নিয়মিত গ্রাহকের কাছে এসএমএস, ই-মেইল ও সোশাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তাও পাঠাচ্ছি।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ক্যাশলেস লেনদেনের অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যাংকগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?

ক্যাশলেস অর্থনীতির সফল বাস্তবায়নের জন্য গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সহজ মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, কিউআর পেমেন্ট, অনলাইন পেমেন্ট, কার্ড সার্ভিস, অনলাইন রেমিট্যান্স ট্রান্সফার, ইউটিলিটি ও বিভিন্ন ধরনের বিল পেমেন্ট এবং স্বল্প খরচে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। যেহেতু সারা দেশে বিভিন্ন এমএফএস সক্রিয় রয়েছে এবং তারা অধিক জনগোষ্ঠীকে সেবার আওতায় আনতে পেরেছে, তাই আমরা কিন্তু তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবায় সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ক্যাশলেস ব্যবস্থার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছি।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আপনার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে কী ধরনের অফার দিয়েছেন? এবারের ক্যাশব্যাক অফার কি থাকছে?

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারদের জন্য আকর্ষণীয় বিভিন্ন অফার রেখেছি আমরা। কোরবানির পশু ক্রয়ে থাকছে বিশেষ ডিসকাউন্ট সুবিধা। হোম ডেলিভারি, পশু জবাই ও মিট প্রসেসিং সেবায়ও গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন আকর্ষণীয় ছাড়। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ফ্যাশন ও রিটেইল আউটলেটে থাকছে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট সুবিধা। এছাড়া ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য ক্রয়ে পাওয়া যাবে শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা ও বিশেষ মূল্যছাড়। বিশেষভাবে বাংলাদেশের প্রায় সব জনপ্রিয় গ্রোসারি ও সুপারশপে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটায় থাকছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার। ঈদের কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় ব্যয়কে আরো সাশ্রয়ী ও আনন্দময় করতে শাহ‌্জালাল ইসলামী ব্যাংকের এ আয়োজন গ্রাহকদের জন্য এনে দিচ্ছে বাড়তি সুবিধা ও স্বস্তি।

বাংলাদেশকে ক্যাশলেস করতে সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

আমাদের বিশ্বাস, আগামী কয়েক বছরেই বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে। ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লেনদেন বর্তমানে ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল ট্রানজেকশনের পরিমাণ অন্তত ৮০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচার প্রচারণাও অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া সরকারের নীতিগত সহায়তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ব্যাপক উদ্যোগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এ অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করবে।