ঈদুল আজহা দেশের অন্যতম বড় উৎসব। এ উৎসবে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন?

ঈদুল আজহা আমাদের কাছে শুধু একটি উৎসব নয়; এটি গ্রাহকদের পাশে থাকার একটি বিশেষ সময়। এ সময়ে মানুষের কেনাকাটা, ভ্রমণ, আতিথেয়তা এবং পারিবারিক ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তাই আমরা চেষ্টা করি গ্রাহকদের জন্য এমন কিছু সুবিধা রাখতে, যা তাদের ঈদের প্রস্তুতিকে আরো সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা গ্রাহকদের জন্য নানা রকম অফার ও সুবিধা রেখেছি। ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করতে ক্যাটেল ফার্মে পশু ক্রয়ে বিশেষ ডিসকাউন্ট ও সুবিধা, পাঁচ তারকা হোটেলে ‘‌বাই ওয়ান গেট ফ্রি’ অফার, জনপ্রিয় লাইফস্টাইল ও ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ডে ডিসকাউন্ট, অনলাইন শপিং অফার এবং মোবাইল অপারেটরভিত্তিক টক টাইম রিওয়ার্ড সুবিধা চালু করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনে আরো উৎসাহিত করা। ঈদের মতো বড় উৎসবের সময় মানুষ যদি নিরাপদ, সহজ ও শরিয়াহ্সম্মত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিধা অনুভব করতে পারেন, তাহলে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রতি তাদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। আমরা বিশ্বাস করি, অফার শুধু সাময়িক সুবিধা নয়; এটি গ্রাহকের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার একটি কার্যকর মাধ্যম।

আপনি ক্যাশলেস লেনদেনের কথা বলছিলেন। ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কী করা প্রয়োজন?

বাংলাদেশ ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে এনপিএসবি, বাংলা কিউআর এবং ডিজিটাল ক্যাশলেস বাংলাদেশ ভিশন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন মূল প্রয়োজন হলো এ অবকাঠামোকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরো গভীরভাবে যুক্ত করা।

আমার দৃষ্টিতে ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস, আস্থা এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করতে না পারা। আমাদের অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের সংখ্যা অনেক এবং তারা নগদ অর্থ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ডিজিটাল পেমেন্টকেও একইভাবে সহজ, নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। গ্রাহক যখন দেখবেন ডিজিটাল লেনদেন নগদের মতোই দ্রুত, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা ক্যাশলেস ব্যবস্থাকে আরো বেশি গ্রহণ করবেন। ব্যাংকগুলো এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট দোকান, বাজার, হাসপাতাল, পরিবহন কাউন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এসব জায়গায় মার্চেন্ট অ্যাকুইজিশন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহককে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও সহজ অভিজ্ঞতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। গ্রাহক তখনই ক্যাশলেস হবেন, যখন তিনি দেখবেন গ্রহণকারীর দিকেও সুবিধা আছে এবং লেনদেনটি নিরাপদ। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এ জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আমরা একটি ইসলামিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির পথে কাজ করছি, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা একই ডিজিটাল প্লাটফর্মে সংযুক্ত হতে পারবেন। ইসলামিক ওয়ালেট, ডিজিটাল দানবক্স এবং বাংলা কিউআর সম্প্রসারণ আমাদের এ ভিশনের অংশ।

এজন্য সরকারের দিক থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন?

সরকার বাংলা কিউআরকে জাতীয় পর্যায়ে আরো জনপ্রিয় করতে সচেতনতা, মার্চেন্ট অনবোর্ডিং ও প্রণোদনামূলক উদ্যোগ বাড়ানো। ডিজিটাল পেমেন্টে কর-সুবিধা ও প্রণোদনা দেয়া হলে ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল লেনদেনকে বাড়তি ঝামেলা নয়, বরং সুবিধা হিসেবে দেখবেন। একই সঙ্গে ব্যাংক, এমএফএস ও ফিনটেক প্লাটফর্মের মধ্যে নির্বিঘ্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে সমন্বিত জাতীয় পেমেন্ট আর্কিটেকচার আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয় অবকাঠামো আরো কার্যকর হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি দ্রুত ও নিরাপদ হবে। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বাংলা কিউআর, ইসলামিক ওয়ালেট ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এ জাতীয় স্বপ্নের অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। ক্যাশলেস বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তিগত রূপান্তর নয়; এটি আস্থা, অন্তর্ভুক্তি ও সমৃদ্ধির যৌথ যাত্রা। আমরা সেই যাত্রায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সব অংশীজনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্যাংকিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেক সহযোগিতা ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে?

আমি এ তিনটি বিষয়কে ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ের বড় শক্তি হিসেবে দেখি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার দ্বারা বিনিয়োগ মূল্যায়ন, জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক আর্থিক সেবায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশেষ করে যাদের প্রচলিত ব্যাংকিং ইতিহাস নেই, তাদের জন্য বিকল্প ডেটাভিত্তিক ক্রেডিট মূল্যায়ন একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।