ঈদুল আজহা উপলক্ষে আপনার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে কী ধরনের অফার দিয়েছেন? ক্যাশব্যাক অফার এবার কি থাকছে?
ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য বেশকিছু আকর্ষণীয় অফার নিয়ে এসেছে। মধুমতি ব্যাংকের ক্রেডিট/ডেবিট/প্রি-পেইড কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য দেশব্যাপী বিভিন্ন লাইফস্টাইল, ফ্যাশন, হসপিটাল, ফার্নিচার, হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ট্রাভেল ও রেস্টুরেন্ট পার্টনারের সঙ্গে যৌথভাবে ডিসকাউন্ট সুবিধা তো আছেই। এ ঈদে ক্রেডিট কার্ডে সুপারশপে কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক থাকছে সপ্তাহের সব দিন, শুধু উইকএন্ডে নয়। পাশাপাশি কার্ড গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটল ফার্ম থেকে পশু ক্রয়ে ফ্রি হোম ডেলিভারি এবং কোরবানির পশু প্রসেসিংয়ে বিশেষ ডিসকাউন্টও থাকছে। এছাড়া ইলেকট্রনিকস আউটলেটে থাকছে শূন্য কিস্তি ও সহজ কিস্তিতে ক্রয় সুবিধা। এ সবকিছুই করা হয়েছে যাতে আমাদের গ্রাহক ঈদের কেনাকাটা স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারেন।
বাংলাদেশে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তুলতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? ব্যাংকগুলো এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কী ভূমিকা রাখতে পারে?
বাংলাদেশে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের দীর্ঘদিনের নগদ অর্থ ব্যবহারের সংস্কৃতি ও মানসিক নির্ভরতা। এখনো অনেক মানুষ মনে করে, হাতে নগদ টাকা থাকলেই লেনদেন বেশি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে নগদের ব্যবহার অত্যন্ত বেশি। দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল ও আর্থিক সাক্ষরতার সীমাবদ্ধতা। অনেক মানুষ এখনো ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন পেমেন্ট ব্যবহারে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ঘাটতি, সাইবার প্রতারণার ভয় এবং ভুল তথ্যও ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি দেশের সব এলাকায় এখনো সমানভাবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অনেক স্থানে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ডিজিটাল মার্চেন্ট না থাকাও একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল অ্যাপস, এমএফএস, কিউআর কোড ও ডিজিটাল ওয়ালেটের বিস্তার ক্যাশলেস অর্থনীতিকে কতটা এগিয়ে নিচ্ছে? এক্ষেত্রে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং এটি ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), কিউআর কোড পেমেন্ট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ ব্যাংকিং ও ডিজিটাল ওয়ালেট মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের ধরন বদলে দিচ্ছে। আজ একজন গ্রাহক ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং, বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, অনলাইন শপিং ও ফান্ড ট্রান্সফার করতে পারছেন।
ই-কমার্স ও অনলাইন সার্ভিস ইকোনমি বৃদ্ধির ফলে কার্ডভিত্তিক পেমেন্টও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, মধুমতি গো স্মার্ট অ্যাপের ফিচার বৃদ্ধির মাধ্যমে সেবার পরিধি আরো বিস্তৃত করা; এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকভিত্তিক সেবা প্রদান; কিউআর মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ; কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট জনপ্রিয় করা; এসএমই ও গ্রামীণ মার্চেন্ট বৃদ্ধি করা এবং ফিনটেক কোলাবরেশনের মাধ্যমে নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করা। আমরা চাই ভবিষ্যতের ব্যাংকিং হোক ‘ব্রাঞ্চ-লাইট বাট ডিজিটালি পাওয়ারফুল’, যেখানে গ্রাহক একটি স্মার্টফোন থেকেই পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখনো বড় বিষয়। নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করতে আপনাদের প্রস্তুতি কী?
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে গ্রাহকের আস্থার ওপর। তাই সাইবার সিকিউরিটি বর্তমানে ব্যাংক খাতের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। বর্তমানে ডিজিটাল প্রতারণার ধরন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফিশিং, ওটিপি ফ্রড, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেক অ্যাপ, আইডেন্টিটি থেফট ও ম্যালওয়্যার অ্যাটাকের মতো ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, গ্রাহক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যাংক অত্যাধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন; এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন; সাসপিশাস ট্রানজেকশনস মনিটরিং; সিকিউরড এপিআই ফ্রেমওয়ার্ক ও রেগুলার ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তথ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। আমরা নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের জন্য অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি, যেখানে ওটিপি শেয়ার না করা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হয়।










