ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন?
ঈদুল আজহাকে আরো আনন্দময় ও সাশ্রয়ী করতে আমরা ‘ঈদুল আজহা ক্যাম্পেইন ২০২৬’ চালু করেছি। ১৫ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ভিসা কার্ডহোল্ডাররা শীর্ষ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে কেনাকাটায় পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক। দেশজুড়ে ১৮০টির বেশি মার্চেন্টে থাকছে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং ১৩০টির বেশি রেস্তোরাঁয় মিলবে বিশেষ ডাইনিং সুবিধা। পাশাপাশি ই-কমার্স ও ট্রাভেল পার্টনারদের মাধ্যমে পাওয়া যাবে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। নিরাপদ ও ক্যাশলেস কোরবানির কেনাকাটার জন্য ৭৫টির বেশি ক্যাটেল ফার্মে কার্ড পেমেন্ট সুবিধাও চালু করেছে ব্যাংকটি। এছাড়া গ্রোসারি কেনাকাটায় অতিরিক্ত রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও মিট প্রসেসিং ফিতে বিশেষ সাশ্রয়ের সুযোগ থাকছে।
ঈদসহ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা ক্যাশলেস হতে পারলো?
বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি ‘ক্যাশ-লাইট’ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। এখন গ্রাহক ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে কোরবানির পশু কেনা পর্যন্ত নানা লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্টকে বেশি বেছে নিচ্ছেন। কারণ এটি আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ। বড় রিটেইলার থেকে ছোট ব্যবসায়ী—সবার মধ্যেই এখন ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম ব্যাংকিং অ্যাপ, কিউআর কোড ও কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট ব্যবহারে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। ফলে উৎসবকেন্দ্রিক লেনদেনেও নগদের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যম দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং এখন আর শুধু বিকল্প নয়; ধীরে ধীরে এটি উৎসবকালীন লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশে আমেরিকান এক্সপ্রেসের (অ্যামেক্স) বাজার সম্প্রসারণে এখন আপনাদের মূল পরিকল্পনা কী?
বাংলাদেশে আমেরিকান এক্সপ্রেস নিয়ে আসার মাধ্যমে আমরা মূলত একটি নতুন প্রিমিয়াম কার্ড বাজার তৈরি করেছি। বর্তমানে আমাদের প্রায় ১০ লাখ অ্যামেক্স গ্রাহক রয়েছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে এ গ্রাহকদের জন্য আরো সমৃদ্ধ ডিজিটাল ও লাইফস্টাইলভিত্তিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
শিগগিরই অ্যামেক্স কার্ডের জন্য ‘গুগল পে’ চালু করা হবে। এতে গ্রাহক আরো সহজ ও নিরাপদভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। পাশাপাশি ভ্রমণ, শপিং, রেস্টুরেন্ট ও বিনোদন খাতে নতুন পার্টনারশিপ ও অফার বাড়ানো হচ্ছে। আমরা নতুন প্রজন্ম ও ভ্রমণপ্রেমী গ্রাহকদের জন্য নতুন প্রিমিয়াম কার্ডও আনছি। আমরা চাই, গ্রাহক শুধু একটি কার্ড ব্যবহার না করুক; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লাইফস্টাইলের অংশ হোক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইনকে কীভাবে দেখছেন?
আমি মনে করি এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। নতুন গাইডলাইনে জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বৈশ্বিক কেনাকাটায় গ্রাহকের সুবিধা বাড়বে।
এছাড়া ওটিপি ভেরিফিকেশন, ফ্রড মনিটরিং, গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা—এসব বিষয় বাধ্যতামূলক করায় পুরো খাত আরো সুশৃঙ্খল হবে। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের কার্ড শিল্প এখন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক মানের দিকে এগোচ্ছে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ ও কার্ডসেবার সমন্বয় গ্রাহক অভিজ্ঞতায় কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে?
আমাদের ‘সিটি টাচ’ অ্যাপ এখন শুধু একটি ব্যাংকিং অ্যাপ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। গ্রাহক অ্যাপ থেকেই কার্ড সক্রিয়করণ, পিন তৈরি, স্টেটমেন্ট ডাউনলোড, বিল পরিশোধ, এমনকি কার্ড ব্লকও করতে পারছেন। ফলে গ্রাহক এখন ব্যাংকে না গিয়ে নিজেরাই অধিকাংশ সেবা গ্রহণ করছেন। এতে সময় বাঁচছে, নিরাপত্তা বাড়ছে এবং ব্যাংকিং আরো স্বচ্ছ হচ্ছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পরবর্তী ধাপ হবে আরো বেশি ‘সেলফ সার্ভিস’ ও তাৎক্ষণিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা।
কিউআর ও পিওএস-ভিত্তিক লেনদেনে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়াতে সিটি ব্যাংক কী করছে?
বাংলাদেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির বিকাশে ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি ব্যাংক মার্চেন্টদের বিনামূল্যে পিওএস ও কিউআর সেবা দিচ্ছে এবং এর পুরো পরিচালন ব্যয় ব্যাংক বহন করছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করা হচ্ছে। আমরা পিওএস-ভিত্তিক ছোট ঋণ সুবিধা নিয়েও কাজ করছি, যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন পেতে পারেন। কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট শুধু একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়; এটি ব্যবসার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোরও একটি মাধ্যম।
বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের ভবিষ্যৎকে কীভাবে দেখছেন?
বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট এখন আর ভবিষ্যতের ধারণা নয়; এটি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম দ্রুত ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হচ্ছে, ই-কমার্স বাড়ছে এবং স্মার্টফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা বিস্তৃত হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, আগামী কয়েক বছরে কিউআর, কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট ও সমন্বিত আর্থিক সেবা বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে বড়ভাবে বদলে দেবে। সিটি ব্যাংক সেই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।










