চিকিৎসা শিক্ষায় আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ (টিএমসি)। যেহেতু টিএমএসএস একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। পিছিয়ে পড়া মানুষকে সহযোগিতা করা টিএমএসএসের কাজ। সে বিষয়টি সামনে রেখে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হয়। বগুড়ার মূল শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ঠেঙ্গামারায় ২০০৮ সালে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। মেডিকেল কলেজের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল। মূল ভবনটি ২০ তলা। 

এখন প্রতি বছর দেশী-বিদেশী অনেক চিকিৎসক তৈরি করে চিকিৎসাসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। তাছাড়া ভালো মানের চিকিৎসক তৈরি করে চিকিৎসাসেবার সহজকরণও চাই আমরা। প্রতি বছর দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী নিয়ে ভালো ফল অর্জন করে চলেছে মেডিকেল কলেজটি।

কলেজটি স্থাপন করা হয় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে। এখান থেকে প্রতি বছর কিছু দক্ষ চিকিৎসক বের হবেন। তারা যেন সুন্দরভাবে রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন, সেদিকেও নজর রাখা হয়। এমবিবিএস কোর্স ছাড়া আমাদের এখানে বিডিএস চালু রয়েছে। এসব শিক্ষাকার্যক্রমে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়—ল্যাব, ডিজিটাল ক্লাস, প্যাথলজি, লাইব্রেরি ইত্যাদি। এমবিএসএস কোর্স শেষ করার পর ইন্টার্ন করার জন্য আমাদের নিজস্ব মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্ন করতে পারেন। টিএমএসএস মেডিকেলে ইন্টার্ন করার সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভাতা দেয়া হয়। মেডিকেলের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শেখানোর পাশাপাশি আলাদা করে বোঝানোর মতো প্র্যাকটিকাল নিয়ে থাকেন। রোগীকে বোঝানোর মতো নিজস্ব যোগ্যতা, রোগীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে, এসব বিষয়ও তাদের শেখানো হয়। 

বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজকে বিদেশী ও দেশী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ মেডিকেল কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শুধু পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে। ভালো ক্যাম্পাসও নেই। কিন্তু টিএমএসএস নিজস্ব ক্যাম্পাসে গড়ে তুলেছে আধুনিকমানের মেডিকেল কলেজ। যেহেতু এক হাজার শয্যার হাসপাতাল রয়েছে, সেহেতু এ মেডিকেলে অন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ২৫০ শয্যার ক্যান্সার সেন্টার রয়েছে। হার্ট সেন্টার স্থাপনের কাজ চলমান। দেশের প্রথম বায়োমলিকুলার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এখানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ভালো ফল ও ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা কাজ করে যাচ্ছেন। 

দেশে এখন প্রায় নয় হাজারের বেশি বিদেশী বেসরকারি মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী রয়েছেন। যাদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে এবং তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে পারলে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় বিদেশী শিক্ষার্থীদের আগমন বাড়বে। বগুড়ায় এখন যারা বিদেশী মেডিকেল শিক্ষার্থী রয়েছেন তাদের বড় অংশ ভারতের আর তার পরে নেপালের। চিকিৎসাসেবায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মেডিকেল স্কিল সেন্টার ও স্কিল ল্যাবরেটরি চালু হয়েছে। টিএমএসএস মেডিকেলে চিকিৎসকদের জন্য পড়াশোনার মান খুবই ভালো। এখান থেকে পাস করার পর লাইসেন্স পরীক্ষায় বাংলাদেশে অধ্যয়ন করা বিদেশী শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে ভালো ফল অর্জন করেন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোয় রোগী বেশি থাকে। এশিয়া মহাদেশের হওয়ায় প্রায় একই রকম রোগের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষার্থীরা ভালো করে জানতে পারছেন। ফলে তারা নির্ধারিত রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত শিখতে পারছেন। 

টিএমসি ক্যাম্পাসে বিদেশীদের জন্য আলাদা হলও রয়েছে। তার পরও দেশী-বিদেশী সব শিক্ষার্থী একসঙ্গে বেড়ে উঠছেন। নিজেদের ভাষায় গান ও নাচে অংশ নেন এসব বিদেশী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর সুবিধার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে টিএমসি স্পোর্টস ক্লাব, নাট্যদল ও ফটোগ্রাফি সোসাইটি ক্লাব, মেডিসিন ক্লাব, জার্নাল ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব। স্টুডেন্ট উইকে সপ্তাহজুড়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকসন্ধ্যার আয়োজনও থাকে। এসব কারণেই আমাদের এখানে পড়তে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

তাছাড়া বিদেশের চেয়ে বাংলাদেশে মেডিকেল শিক্ষায় খরচ বেশ কম, এটিও বিদেশীদের এখানে পড়তে আসার ক্ষেত্রে আগ্রহ তৈরির একটি বড় কারণ।