দেশের মেডিকেল কলেজে বাড়ছে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা, চেষ্টা রয়েছে তাদের আরো আগ্রহী করে তোলারও। এসব নিয়েই কথা বলেছেন, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. জাকির হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এইচ আলিম
বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় অনেক বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর কারণ কি?
বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার খরচ বাংলাদেশে কম। এ কারণে দেশের মেডিকেল কলেজে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাপ থাকে।
টিএমএসএস মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী সুবিধা রয়েছে?
দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে টিএমএসএসের পরিবেশ ও শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো। কলেজের পাশাপাশি এক হাজার শয্যার হাসপাতাল থাকায় টিএমএসএসে বাড়তি সুবিধা পান শিক্ষার্থীরা। এখানে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়, যেগুলো নতুন শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখতে পারেন। টিএমএসএস মেডিকেলে ছয়টি সাবজেক্টে পোস্টগ্র্যাজুয়েট চালু রয়েছে। দেশের বেসরকারি মেডিকেলে এক সঙ্গে এতগুলো পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স নেই। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব ও লাইব্রেরি আছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক রেফারেন্স বই পান। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে পর্যাপ্ত। দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ভালো পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। লাইসেন্স পরীক্ষায় সফলতার হারেও প্রতিষ্ঠানটি অনেক এগিয়ে। বিদেশী শিক্ষার্থীর এখানে আলাদা যত্ন নেয়া হয়। তাদের জন্য একজন শিক্ষক থাকেন সার্বক্ষণিক। যিনি তাদের সব সমস্যা প্রাথমিকভাবে দেখভাল করবেন। নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো সময়ও কাটাতে পারেন। মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চাপ অনেক বেশি। তার পরও সময় পেলে তারা টিএমএসএসের নিজস্ব ইকো পার্ক বা টিএমএসএস বিনোদন জগৎ পার্কে ভ্রমণ করতে পারবেন।
বর্তমানে এ কলেজে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কত? কোন কোন দেশের শিক্ষার্থীরা বেশি রয়েছেন এ কলেজে?
এমবিবিএস কোর্সে আমাদের প্রতি বছর ১৫০টি আসন, বিডিএস কোর্সে ৫০টি আসন বরাদ্দ থাকে। বর্তমানে এ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আট শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৬ জন রয়েছেন ভারতীয় ও নেপালি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ভারতীয় রয়েছেন ২৬২ জন। বাকিরা নেপালি।
ডিগ্রি অর্জনের পর তারা এ দেশে পেশাজীবন শুরু করতে কেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন?
বিদেশী শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগ পাস করার পর তাদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল অর্জন করছেন। কেউ কেউ আবার এদেশেই বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে সনদ পাওয়ার জন্য থেকে যাচ্ছেন।
দেশী আর বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোলাবরেশন কেমন দেখতে পাচ্ছেন? সাংস্কৃতিক বিনিময় কেমন হচ্ছে?
কলেজে দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী একই সঙ্গে অবস্থান করছেন। কারো কাছ থেকেই এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। কোনো বিদ্বেষমূলক আচরণ কারো পাইনি। বরং বিদেশী শিক্ষার্থীরা তাদের দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, আত্মীয়স্বজনের গল্প করেন। কোনো কোনো বিদেশী শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখছেন আবার কোনো কোনো দেশী শিক্ষার্থী তাদের কাছ থেকে বিদেশী ভাষা শিখছেন। এতে করে নিজেদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশ হওয়ার কারণে সাংস্কৃতিক চেতনাও প্রায় একই রকম। খুব বেশি পার্থক্য না থাকায় দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা অর্জন করছেন।
চিকিৎসা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আপনাদের লক্ষ্য কী?
চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ কাজ করে যাচ্ছে। টিএমএসএস একটি সেবা সংস্থা। এ বিষয়টি শিক্ষার্থীকে বোঝানো হয়। যেন তারা আরো ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ কাজ করে যাচ্ছে। দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী নিয়ে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত ভালো পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। লাইসেন্স পরীক্ষায় সফলতার হারেও এ প্রতিষ্ঠান অনেক এগিয়ে। চেষ্টা চলছে টিএমএসএসকে চিকিৎসা শিক্ষায় দেশসেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার। সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ এগিয়ে চলছে।
বিদেশী শিক্ষার্থীদের আরো আগ্রহী করে তুলতে এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আর কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
মেডিকেলে যেহেতু সরকার ভর্তি সীমাবদ্ধ করেছে। এটা ওপেন বা সংখ্যা বাড়ানো হলে বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার আরো সুনাম ছড়িয়ে যাবে। তখন বিদেশীরাও আগ্রহ দেখাবেন।





