দেশের মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার জন্য আসছেন বিদেশী শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থী কোন দেশ থেকে আসছেন, কী ধরনের ব্যবস্থাপনার মধ্যে থাকছেন, তাদের খরচ কেমন হচ্ছে, সেসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার পাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিল্পী কুণ্ডু

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিটি ব্যাচে কতজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন? সেখানে বিদেশী শিক্ষার্থীর হার কেমন?

কলেজ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। গত বছর থেকে প্রতি ব্যাচে ৬০ জন করে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রতি ব্যাচে আমরা ৪৫ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারি। গত বছর বিদেশী শিক্ষার্থী ছিল ২৭ জন।

কলেজ চালুর কত বছর পর এখানে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেন? এখন কী সেই প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে?

আমাদের কলেজ চালু হয় নয় বছর আগে। এর চার বছর পর থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীরা এখানে আসতে শুরু করে। প্রথমে সংখ্যা কম ছিল। গত বছর থেকে পরিপূর্ণ বিদেশী শিক্ষার্থী আমরা পাচ্ছি। এবারো তাদের সংখ্যা সন্তোষজনক।

মূলত কোন কোন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আসছেন?

প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপাল থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশি আসে। 

বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক বা অন্যান্য খরচ কী ধরনের হয়ে থাকে?

আমাদের একটা প্যাকেজ সিস্টেম। বর্তমানে খাবার ছাড়া বাকি সবকিছু মিলিয়ে ৪৩ হাজার ডলার দিতে হয়। বাংলাদেশী টাকায় যা প্রায় ৫০ লাখ টাকা। 

যারা এখানে পড়াশোনা করতে আসছেন তারা কী বাংলাদেশে পেশাজীবন শুরুর ব্যাপারে আগ্রহী?

এখন আমাদের এখানে বিদেশী শিক্ষার্থীরা পঞ্চম ব্যাচে পড়ছে। তারা ডাক্তার হয়নি। তাই এটা এখনো বলার সুযোগ আসেনি। তবে যেহেতু আমাদের দেশ পাশাপাশি, সংস্কৃতিও সংগতিপূর্ণ। ফলে তাদের একটা ফ্যাসিনেশন আছে। তারা ডাক্তার হওয়ার পর বিষয়টা বোঝা যাবে।

ভর্তি ব্যবস্থাপনায় বিদেশী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা বা জটিলতার মুখে পড়ছেন কিনা?

এখানে একটা নিয়মের মধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাই তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিছু শিক্ষার্থীর জন্য হয়তো একসঙ্গে ৪৩ হাজার ডলার দেয়া কঠিন হয়। তাদের ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা শিথিলতা দিই। 

বিদেশী-দেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তো সাংস্কৃতিক ভিন্নতা বা ভাষাগত ভিন্নতা আছে। দুই দেশের শিক্ষার্থীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় দেখছেন?

অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, এখানে পড়াশোনার পরিবেশ খুবই সন্তোষজনক। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বিদেশী শিক্ষার্থীদের খুব সুন্দরভাবে স্বাগত জানায় এবং যেকোনো কাজে সহায়তা করে। ভিন্নতা বলতে ভাষাগত ভিন্নতা। এক্ষেত্রে তারা যেমন আগ্রহ দেখায় তেমন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা তাদের যথেষ্ট সহায়তা করে। আমাদের দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে খুব কম সময়েই তারা মিলে যেতে পারে। এটা ভালো দিক।

লাইব্রেরি বা ল্যাব ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা কেমন সুবিধা পাচ্ছেন?

এদিক থেকেও তারা সন্তুষ্ট। ল্যাব বা লাইব্রেরির সুবিধা তো সব শিক্ষার্থীর জন্য একই রকম। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যেও এসব শিক্ষার্থীকে সহায়তা করার একটা প্রচেষ্টা রয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা তো থাকবেই, তবে সেটা চোখে পড়ার মতো না।

দেশে পড়তে আসার বিষয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আরো আগ্রহী করতে আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করছেন?

প্রতিটি কলেজের ক্যাম্পাস সৌন্দর্যময় করতে হবে। তারা যদি ওয়েবসাইটে দেখে যে মেডিকেল কলেজের ফ্যাকাল্টি বা শিক্ষকরা খুবই দক্ষ, তাতেও তারা আকৃষ্ট হবে। হল, ল্যাব, প্রতিটি সাবজেক্টের প্র্যাকটিক্যাল ল্যাবগুলোর সরঞ্জাম এবং অন্য আনুষঙ্গিক বিষয়—ভেন্টিলেশন, এসি সবদিকেই নজর দিতে হবে। আর হাসপাতালকে বলা হয় মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরি। হাসপাতালে যদি রোগী বেশি থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা বেশি শিখতে পারে। এসব উন্নতমানের হলে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আরো আগ্রহী হবে।

মেডিকেল কলেজগুলোর তো বটেই এক্ষেত্রে সরকারের কী কী করার আছে?

সরকারের তো অবশ্যই ভূমিকা থাকবে। আমাদের এখানে বিদেশী শিক্ষার্থী আনানোর ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশী শিক্ষার্থীরা দেশে পড়তে এলে কি দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে?

বিদেশী শিক্ষার্থীরা যখন পড়াশোনা করতে আসবে তখন বোঝা যাবে যে, আমাদের দেশে শিক্ষার মান উন্নত পর্যায়ে গেছে। অবশ্যই এটা দেশের জন্যও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করবে।