আসবাবকে সরকার চলতি বছরের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ খাতের বৈশ্বিক বাজার ৬২০-৬৫০ বিলিয়ন ডলারের। ২০৩০ সাল নাগাদ এ বাজারের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ আসবাব পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশের অবদান খুবই নগণ্য। সম্ভাবনাময় এ খাতে রফতানি বাড়ানোর সুযোগ, সম্ভাবনা ও করণীয় ঠিক করতে গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সেমিনার আয়োজন করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। ‘বাংলাদেশের আসবাব শিল্প: রফতানির সম্ভাবনা উন্মোচন’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজনে সহযোগী ছিল বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফইএ)। গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে ছিল বণিক বার্তা। সেমিনারে অংশীজনদের মতামত নিয়ে আজকের এ বিশেষ আয়োজন

1

শেখ বশিরউদ্দিন

উপদেষ্টা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে আসবাবপত্র রফতানি করে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের চিন্তা করছি। এটা আসলে সম্ভব কিনা তা আমাদের ভাবতে হবে। ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাইলে এ সময়ের মধ্যে আমাদের ন্যূনতম ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। বর্তমানে যে কয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত, এ অল্প কয়টি প্রতিষ্ঠান দিয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে যেতে পারব না। এটাকে আরো বৃদ্ধি করতে হবে। বন্ড সুবিধা প্রয়োজন কিন্তু শুধু বন্ড সুবিধা দিয়ে ব্যবসা বাড়ানো সম্ভব নয়। বন্ডের কারণে এ দেশে গার্মেন্ট শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) সুবিধা দিয়ে যতটা কাজ হবে, তার থেকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নেবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা ট্র্যাপে (ফাঁদে) পড়ে গেছি, এখন এখান থেকে বের হতে পারব না। ‌ব্যবসায়ীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে হবে। বাণিজ্য উদারীকরণ হবে, নিজেদের সক্ষমতা না বাড়ালে ভবিষ্যতে টিকে থাকা যাবে না। বেশি সংখ্যক দেশের সঙ্গে এফটিএ করলে ব্যবসা বাড়বে, এটা ঠিক নয়। ‌ইউরোপের যে দেশের বাজারে আমাদের অ্যাকসেস (প্রবেশাধিকার) আছে তাদের সঙ্গে এফটিএ করলে বরং দেশের ক্ষতি হবে। তাদেরকেও তো আমাদের বাজারে প্রবেশাধিকার দিতে হবে।

2

দেওয়ান আতিফ রশীদ

পরিচালক, বিএফইএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

আয়ত ফার্নিচার

বাংলাদেশের আসবাব রফতানিকারকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাজারে প্রবেশ এবং সম্প্রসারণ করতে বিভিন্ন মানদণ্ড এবং সনদ অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এ বাজারগুলোয় পণ্যের গুণমান, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রভাবের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। এ মানদণ্ড মেনে চলা কেবল পণ্যগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে না, বরং বাংলাদেশের আসবাব শিল্পের বিশ্বব্যাপী বিশ্বাসযোগ্যতা ও খ্যাতি বৃদ্ধি করবে। রফতানি প্রতিযোগিতায় সফলতা অর্জনে আমাদের কমপ্লায়েন্স সমস্যা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতি ও সরকারের নীতিসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্ববাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা অর্জনের জন্য কাঁচামালের ওপর প্রতিকূল উচ্চ আমদানি শুল্ক কাঠামো অন্যতম বাধা হিসেবে সরকারি বিভিন্ন পর্যালোচনায়ও উঠে এসেছে। ইপিবির নিরীক্ষা অনুযায়ী আসবাব পণ্যের ভ্যালু সংযোজন ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ এ পণ্যের ৭০ শতাংশই কাঁচামাল, যার ৮০ শতাংশ আবার আমদানিনির্ভর। সুতরাং বিষয়টি উপেক্ষা করে বিশ্ববাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা অর্জন সম্ভব নয়। বৈশ্বিক বাজার চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন সক্ষমতা অর্জন না হলে মূলধারার ক্রেতাদের আকর্ষণ করা অসম্ভব। প্রয়োজন এখন দেশীয় ডিজাইন স্কুলের সঙ্গে উন্নত বিশ্বের স্বনামধন্য ফার্নিচার ডিজাইন প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধনে ফার্নিচার ডিজাইন কোর্স চালুকরণ। ফার্নিচার শিল্পে দক্ষ জনশক্তির জোগান শূন্য। সরকার, অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় সক্ষম ব‍্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হতে হবে শিগগিরই। সরকারের নীতি সহায়তার সঙ্গে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই আছে আসবাবপত্র রফতানি বৃদ্ধির সমাধান।

3

সেলিম এইচ রহমান

মহাসচিব, বিএফইএ

চেয়ারম্যান

হাতিল ফার্নিচার

ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আসবাবপত্রের সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, সবাই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রফতানির বিষয়টি বিবেচনা করে সুন্দর ও কার্যকর পরামর্শ দেবেন। ফার্নিচার অ্যাসোসিয়েশন এ ব্যাপারে জোর প্রত্যাশা ও দাবি করছে। কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্কের প্রভাবে প্রতিযোগিতামূলক মূল‍্য দিতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসন চীনা ফার্নিচারে ২০১৮ সালে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধার্য করেছে তার সামান্য সুযোগও আমরা নিতে পারিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী চার বছরে একই সুযোগ নিতে না পারলে এটা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ভুল হয়ে থাকবে বলে আশঙ্কা করি।

4

মো. মঈনুদ্দিন খান

উপপ্রধান বন সংরক্ষক

বন অধিদপ্তর

আমাদের দেশে কাঠের চাহিদার ৭০ ভাগ আসে গ্রামীণ কাঠ থেকে। ২৬ ভাগ আসে কিছু সামাজিক বনায়ন থেকে, যেগুলো রাস্তার পাশে লাগানো হয়। বাকি ৪ শতাংশ আসে আমদানির মাধ্যমে। সেখানে আমাদের আমদানি বাড়ানোরও সুযোগ আছে এবং সরকারি বিধিমালা অনুসারেই সে সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পরিবহন করার ক্ষেত্রে যেন বনের কাঠ মিশে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ফার্নিচার মার্ট ও এ-সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছেন তাদের জন্য লাইসেন্সিংয়ের একটা বিষয় রয়েছে। সার্টিফিকেশনের ব্যাপারটা আমরা পলিসিতে যুক্ত করেছি। সেটা করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন তথ্য ও স্টাডি লাগবে। বাংলাদেশের বন কী অবস্থায় রয়েছে, পাশাপাশি এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের যে ডাটা রয়েছে তা মূল্যায়ন করতে হবে। যাতে দেশের কোনো ক্ষতি না হয় এবং যে দেশে রফতানি করবে সে দেশেরও কোনো ক্ষতি না হয়।

5

মো. সাইফুর রহমান

চেয়ারম্যান

এসকেবি স্টেইনলেস স্টিল মিলস লিমিটেড

ভিয়েতনাম ২০২৩ সালে ৩৫৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছে। অথচ এই ভিয়েতনাম আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। আমরা ৪৭ বিলিয়ন ডলারে আটকে আছি। তার মাঝে আবার শুনি ২৩ বিলিয়ন ডলার নেই। ৫৩ বছর হয়ে গেছে, বাংলাদেশের অবস্থা এখনো বলার মতো কোনো জায়গায় নেই। ভৌগোলিক দিক থেকে আমরা ছোট্ট একটা দেশ। কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু ব্যবসার দিক থেকে বাংলাদেশকে তাইওয়ান বানানো যাবে, যদি আমাদের সরকারি লোকদের সদিচ্ছা থাকে। আমরা অনেক নীতি তৈরি করছি। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটা বাংলাদেশের বিরাট একটা রোগ। এক্ষেত্রে রাজস্ব বোর্ডকে প্রধান করে অর্থ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইপিবি কিংবা অন্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে একটা অ্যাকশন কমিটি গঠন করা যায়।

6

মো. মোয়াজ্জেম হোসেন

সদস্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

শুধু একটি বা দুটি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হয় না। আমরা একটা খাতের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে গেছি। বিশেষ একটা খাতকে গুরুত্ব দিলে রফতানির বাজার টেকসই ও উন্নত হবে না। পোর্টফলিও তত্ত্ব অনুসারে এ জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা সব সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছি। কারণ আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ না করি, তাহলে উন্নয়ন হবে না। ভিয়েতনাম যদি পারে, আমরা কেন পারব না? অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে, সেগুলো ভুলে ভবিষ্যতের দিকে আমাদের তাকাতে হবে এবং দৃঢ় বিশ্বাস আসতে হবে যে আমরা পারব।

7

আহসান খান চৌধুরী

চেয়ারম্যান ও সিইও

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

ব্যবসায়ীরা যদি ন্যায্যমূল্যে আমদানি করতে না পারেন, তাহলে আমরা চাইলেও ভিয়েতনাম হতে পারব না। আসবাবপত্র বানাতে যেসব জিনিসপত্র লাগে, সবগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে পেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। বন্ডে যদি জিনিসপত্র আনা যায়, তাহলে আমরা জিততে পারব। সরকারি সহায়তা ছাড়া বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন। আমাদের কাজ হলো ব্যবসা করা এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা। আসবাবপত্র শিল্পের বদৌলতে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আমাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন হবে। ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমরা ধীরে ধীরে কাজ করতে পারি। রফতানির জন্য বাংলাদেশের এখন স্বর্ণযুগ। আসবাবপত্র শিল্প যথাযথভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। আর একাডেমিয়া ও শিল্প একসঙ্গে হলে এ শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

8

কাউসার চৌধুরী

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

কেসি ইন্টেরিয়র ফ্যাশন লিমিটেড

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাজারের দিকে তাকালে দেখি, যে পণ্য ১০০ ডলারে বিক্রি করা হচ্ছে, সেই একই পণ্য আমরা এ দামে বানাতে পারি না। এটা যদি না পারি, আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারব না। চীনের ওপর যখন ট্রাম্প বাড়তি করারোপ করলেন, এর পরই ভিয়েতনামের রফতানির উত্থান ঘটে। ভিয়েতনামের ৮০ শতাংশ রফতানিই যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। বাকি ২০ শতাংশ এফটিএ। তাহলে বাংলাদেশ কেন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষবস্তু করছে না? এটা করতে গেলে আমাদের কিছু নীতি তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে ব্র্যান্ড বানাতে হবে। ইউরোপের বাজার বাংলাদেশকে কেবল গার্মেন্টের জন্য চেনে। কিন্তু এ দেশের আসবাব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

9

মো. আনোয়ার হোসেন

ভাইস চেয়ারম্যান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো

প্রতিটি খাতেই অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। বন্ডেরও অনেক জটিলতা আছে। বন্ডের অপব্যবহার হচ্ছে, এটাও বাস্তবতা। পোশাক শিল্প বর্তমানে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি পণ্য। এ খাত এতদূর আসার পেছনে সরকারের অনেক সহায়তা আছে। আসবাবপত্র শিল্পকেও এগিয়ে নিতে হলে সরকারের সহায়তা দরকার হবে। শিল্পসংক্রান্তদের নিজেদেরও কারিগরি উন্নতি দরকার। প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত ফার্নিচারের প্রসারে ইপিবি বিশ্ববাজারে মূলধারার ট্রেড ফেয়ারগুলোয় দেশীয় উৎপাদকদের অংশগ্রহণকে ফ্যাসিলিটেট করার পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় টেস্টিং ল্যাব ও সার্টিফিকেশন কার্যক্রম চালু এবং ডিজাইন স্কিল প্রসারে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। রফতানি বাণিজ্যে পোশাক শিল্পের মতোই এই শিল্পের অবদান সৃষ্টি সম্ভব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

10

অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ

নির্বাহী পরিচালক

র‌্যাপিড

আসবাবপত্রের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। সে বাজারে আমাদের অংশীদারত্ব খুবই নগণ্য। এখনো আমরা দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছি। আমাদের দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে ও মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে স্থানীয় চাহিদাও অনেক উঁচু। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ১৮ বিলিয়ন ডলারের মতো রফতানি করছে, পাশের দেশ ভারতও ২৩-২৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি করছে। আমাদের চ্যালেঞ্জটা হলো দামে। আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত, সব রফতানিপণ্যকে সমান সুযোগ-সুবিধা দেয়া। স্বীকার করছি, তৈরি পোশাক খাত আমাদের অর্থনীতির পাইপলাইন। কিন্তু রফতানির ক্ষেত্রে কোনো পণ্যের মূল্য ১ ডলার হলেও সেটা সমান সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। যেহেতু অধিকাংশ কাঁচামালই আমরা আমদানি করি। আমদানি প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরো সহজ করা যায়, সে দিকটাও দেখা জরুরি। আরেকটা হচ্ছে, আমাদের উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ খরচ। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এটিও একটি চ্যালেঞ্জ। যেহেতু বিশ্ববাজারে আসবাবপত্রের একটা চাহিদা আছে এবং আমাদের রফতানি সম্ভাবনা আছে, আমাদের বাজারকে আরো বৈচিত্র্যমূলক করতে হবে। এগুলো করতে চাইলে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আমাদের অংশীদারত্ব লাগবে। সেজন্য আমাদেরকে আরঅ্যান্ডডিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এখানে বিনিয়োগের জন্য নীতি সহায়তা লাগবে। যেহেতু এটি একটি বিশেষায়িত খাত। আমাদের দেশে কিছু ব্র‍্যান্ডিং কোম্পানি থাকলেও প্রশিক্ষণের জন্য আমরা বিদেশীদের নিয়ে আসতে পারি এবং তাদের দেশেও দক্ষ জনশক্তিকে পাঠাতে পারি। বৈশ্বিক বাজারে যেতে হলে আমাদের ডিজাইন প্রতিষ্ঠান উন্নত করতে হবে। এ খাতের পরিচিতি বাইরের বাজারে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন মেলা আয়োজন করা যেতে পারে।

11

ড. আহমেদ শরিফ

অধ্যাপক, বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগ, বুয়েট

আমাদের দেশে সাধারণত অন্যের ডিজাইন নকল করে নিজেদের পণ্যে ব্যবহার করতে দেখি আমরা। এভাবে বিভিন্ন নকশা নকল করে চললে টিকে থাকা যাবে, কিন্তু কখনো এ খাতে নেতৃত্ব দেয়া যাবে না। আমরা যদি নেতৃত্ব দিতে চাই, নকশা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। এ নকশার সঙ্গে গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই কোয়ালিটির কিছু যোগ্যতা/কোয়ালিটি অনুসরণ করতে হবে। কাঁচামাল থেকে পণ্যের শেষ পর্যন্ত সবকিছু মানসম্মত হতে হবে এবং এটা সমন্বয় করতে হবে। এক্ষেত্রে ফার্নিচার অ্যাসোসিয়েশন বুয়েটের সহায়তা নিতে পারে। বুয়েট সনদ দেয়ার সময় যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। দেশের ফার্নিচার খাত যেহেতু এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বুয়েট যুক্ত থাকলে তা আরো অধিকমাত্রায় কার্যকর হবে।

12

ড. ফুয়াদ এইচ মল্লিক

ডিন, স্কুল অব ডিজাইন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশে প্রচুর ভালো ডিজাইনার আছে। তারা ভালো কাজ করে। অসুবিধা হলো উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে। বাংলাদেশে এটা হয় না। গার্মেন্ট খাতে বাংলাদেশ ভালো করে। কিন্তু আসবাবপত্র খাত এক্ষেত্রে আলাদা। আসবাবপত্রের নকশার ক্ষেত্রে জ্ঞান লাগে। এ জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক বাংলাদেশে নেই। বাইরের কোনো দেশ থেকে ডিজাইনের শিক্ষক এনে প্রশিক্ষণ দেয়া অনেক ব্যয়বহুল। সরকার বাইরে থেকে শিক্ষক আনার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। এটা এমন হতে পারে যে শিক্ষক আনা হবে সাময়িক সময়ের জন্য। কয়েক বছর প্রশিক্ষণ দেয়ার পর যখন শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠবে, তখন আর বাইরের শিক্ষকের প্রয়োজন পড়বে না। আগে এমন অনেকবার হয়েছে যে কোনো শিক্ষক বিদেশ থেকে এসেছেন। পরে শিক্ষার্থীরা রপ্ত করার পর ওই শিক্ষক পাঁচ-সাত বছর পর ফিরে গেছেন। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গেলে বাংলাদেশের আসবাবপত্র খাত নতুনভাবে এগিয়ে যাবে।

প্রতিবেদক: মহিউদ্দিন মাহি

ছবি: মাসফিকুর সোহান