ল্যাবএইড ফার্মা তৈরির পেছনের গল্পটা সম্পর্কে আমরা জানতে চাই।
আমাদের দেশের ওষুধ বানানোর ইতিহাস অনেক পুরনো। হেলথ কেয়ার নিয়ে আমরা কাজ করি ৪০ বছর হয়ে গেল, সেই ১৯৮০ সাল থেকে। কাজ করতে গিয়ে দেখলাম যে আমরা ভালো ওষুধ বানাই। তবে আমাদের আরো ভালো ওষুধ বানানোর স্কোপ আছে।
ফার্মাসিউটিক্যালের একটি বড় খরচ হয় মার্কেটিংয়ে। যারা ওষুধ লেখে, ডাক্তার, কেমিস্ট এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়বস্তুর জন্যও খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কিছু সেমিনারও করা হয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে যদি সেটা ওষুধের উন্নত কাঁচামাল কেনার জন্য ব্যয় করা যায়, তাহলে ওষুধের গুণগত মান বেড়ে যাবে। আমরা কিন্তু এদিকে নজর দিয়ে থাকি। মার্কেটিংয়ে বেশি খরচ করে ফেললে, দেখা যায় যে ভালো সোর্স থেকে ওষুধের কাঁচামালটা আনা সম্ভব হয় না।
একটা উদাহরণ দিই—হার্টের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অ্যাটোরভাস্টাটিন নামের একটি ওষুধ আছে। আমরা যদি সেটা চীন থেকে কিনি তাহলে কেজিপ্রতি দাম পড়ে দেড়শ ডলার, আর যদি আমরা তা সুইজারল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া থেকে কিনি তাহলে সেটার দাম পড়ে ১৪০০ ইউরো। এই যে দামের পার্থক্য, এটা কিন্তু এমনি এমনি নয়। গুণগত মানের কম-বেশির জন্যই হয় এ পার্থক্য। এটা আমরা দেশে বিক্রি করি ৫ বা ৬ টাকায়। অথচ উন্নত বিশ্বের এ ওষুধই ফাইজার বিক্রি করে হয়তো এক সিঙ্গাপুরি ডলারে। যা আমাদের দেশের দামের তুলনায় ১৬ গুণ বেশি। এখন এ প্রতিযোগিতার বাজারে আমরা কী করতে পারি? ইউরোপ থেকে কাঁচামাল এনে ওষুধ বানালে দাম বেড়ে যাবে। তখন সেটা নিয়ে শুরু হবে আর এক হইচই। তাই আমরা মনে করি এ রকম ক্ষেত্রে একটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে।
ওষুধ শিল্পে তিন দশক ধরে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম যে ভালো মানসম্পন্ন ওষুধের চাহিদা আছে। আমরা যদি অন্য তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমাতে পারি, তাহলে সেই অর্থটা উন্নতমানের কাঁচামাল আমদানিতে বিনিয়োগ করে মানুষের সাধ্যের মধ্যেই ভালো ওষুধ দিতে পারি।
একটা বিষয় লক্ষণীয়, আমাদের বেশির ভাগ কোম্পানিরই একটু বাড়তি নজর থাকে মার্কেটিংয়ের দিকে। ওষুধের এই মার্কেটিংয়ে তারা যতটা গুরুত্ব দেয়, ততটা দেয় না ভালো মানসম্মত ওষুধ বানানোর দিকে। এটা দেখার পর একেবারে শুরু থেকেই আমরা একটা প্রতিজ্ঞা করলাম, মার্কেটিংয়ের ব্যয় কমাব, ভালো ওষুধ বানাব। এটাকে আমরা অনেকটা যুদ্ধ হিসাবে নিলাম। এমন সিদ্ধান্তের পর আমরা ভেজিটেবল ক্যাপসুল বানালাম, ওমিপ্রাজল বানালাম। দেখলাম আমরা যে কাঁচামাল ব্যবহার করি সেটার ক্ষেত্রে যদি সোর্সিংটা ভালো হয়, তাহলে দাম একটু বেশি হবে, কিন্তু ওষুধ যেটা তৈরি হবে, তার গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব ওষুধ আছে সেগুলোর সমপর্যায়ে থাকবে।
একটি টেস্ট আছে—ইকুইভোকাল টেস্ট। ওষুধগুলো বানানোর পর আমরা এ টেস্টগুলো করেছি প্যারেন্টস ড্রাগ ও আমাদের ড্রাগের মধ্যে। প্যারেন্টস ড্রাগের দাম হলো ১০০ টাকা, আমাদের হলো ৬ টাকা। পরীক্ষা করার পর আমাদের ২-৩ শতাংশ পার্থক্য থাকে।
আমি বলতে চাই আমাদের দেশে যে ওষুধগুলো বানানো হয় তার মধ্যে ১৫টি ফ্যাক্টরির ওষুধের মান বেশ ভালো। বাকিরা কিন্তু আসলে অত ভালো নয়। আর দ্বিতীয় কথা হলো যাদের ওষুধের মান ভালো, তারা কিন্তু চাইলে আরো একটু ভালো করতে পারে। কারণ একই ওষুধ, যেটা তারা দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি করে, আর যেটা বিদেশে রফতানি করে—দুটোর মান কিন্তু এক হয় না। কারণ ওই একটাই—কাঁচামালের পার্থক্য। রফতানির ওষুধ তৈরির জন্য ইউরোপের উন্নত কাঁচামালই ব্যবহার করা হয়। বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে মার্কেটিংয়ের বাড়তি ব্যয় থাকে না বলেই তারা সহজেই ভালো কাঁচামাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কাজেই আমরা দেখলাম, মার্কেটিংয়ের ব্যয়টা কিছুটা কমাতে পারলে আমরা দেশের মানুষের জন্যও উন্নত মানের ওষুধ দিতে পারব। সে কারণে প্রথম থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল আমরা সব থেকে ভালো ওষুধ বানাব, আমাদের মার্কেটিং খরচটা কম করব। আমাদের ট্যাগলাইনটাও কিন্তু কোয়ালিটি ফার্স্ট। এই মেশিনারিজ কিন্তু আমরা কিনি। আমরা একটি ৬ টাকার ওষুধে এক টাকা বেশি খরচ করি, তাহলে ওষুধের গুণগত মান ভালো হবে। এ চান্সটা অনেকে নেয় না। কারণ ১ টাকা যদি মার্কেটিংয়ে বেশি খরচ করা হয়, আজকে বছরে ৫০০ কোটি বিক্রি হলে তা বেড়ে ৬০০ কোটি বিক্রি হবে। প্রথমদিকে আমরা খুব কষ্ট করেছি। ডাক্তাররা বলতেন, কেমিস্টরা বলতেন আপনাদের ওষুধটা খুব ভালো। ওনাদের পরিবারের কারো যদি ওষুধ লাগত, তাহলে সেটা আমাদের কাছ থেকে চেয়ে নিতেন। কিন্তু প্রেসক্রিপশনে লেখার সময় আমাদের ওষুধ লিখতেন না। সেই সংকল্প থেকে এবং সমাজের জন্য করণীয় বা দায় থেকে আমরা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বানানোর সিদ্ধান্ত নিই। তবে এটা আমাদের কোর বিজনেস না, আমাদের কোর বিজনেস হলো ডায়াগনস্টিক। এছাড়া আমাদের ইউনিভার্সিটি কলেজ আছে। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তৈরি করতে আমরা প্রথম সাত-আট বছর খুব কষ্ট করেছি। তখন আমাদের ৩০০ কোটি টাকা লস হয়েছে। শুরুতে আমাদের ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা লেগেছে। এরপর এই ৫০০ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করার পর এখন আমরা সমান সমান আছি।
কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগের পরিমাণ কত?
প্রথমদিকে আমাদের কারখানা তৈরি করতে প্রায় ২০০-২৫০ কোটি খরচ হয়েছে। আমরা প্রথম বাজারে গেলাম ২০১২ সালে। আমাদের ফ্যাক্টরি সাভারে অবস্থিত। শুরুতে আমাদের ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৩৫০ জন লোক কাজ করত। এখন আমাদের ফার্মায় ২ হাজার ২০০ এমপ্লয়ি। আমাদের বছরে ১০-১৫ শতাংশ গ্রোথ হয়। টার্নওভার হয়তো ৩৫০-৪০০ কোটি টাকা। এতদিন আমরা লস করেছি, এখর আমরা সমান সমান আছি। আগামীতে হয়তো কিছুটা প্রফিট করার আশা রাখি। আমরা এখন নতুন কিছু আনার চেষ্টা করছি, যেমন বায়োটেক, ভ্যাকসিন এগুলো তৈরিতে ইনভেস্ট করব।
ফার্মা হলো ক্যাপিটেল ইনটেনসিভ বেজড প্রডাক্ট। এটায় আপনার প্রতিনিয়ত টাকা ঢালতে হয়। একসময় হয়তো ২ কোটি টাকার জন্য কিছু আটকে যেত, এখন সেটাতে ২০ কোটি টাকা লাগে। পাঁচ বছর পর দেখা যাবে ২০০ কোটি টাকা লাগবে। বর্তমানে ব্যাংক সুদহার সাড়ে ১৫ শতাংশ। এ খাতে ৮-১০টি জায়েন্ট কোম্পানি আছে। ওদের সঙ্গে কম্পিট করে এ ওষুধগুলোকে বাদ দেয়া যায় না। আবার মার্কেটিংয়ে প্রচুর খরচ। বাজারে নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো এটার পেছনে অনেক খরচ করে। তবে একটা জিনিস ভালো, আমাদের দেশের ওষুধের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আছে। দেশের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশ দেশীয় কোম্পানিগুলো পূরণ করে। মাত্র ২-৩ শতাংশ ইম্পোর্ট করা হয়। আমাদের ওষুধ রফতানির পরিমাণ ৪-৫ হাজার কোটি টাকা। এটা প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। এটা আমাদের হসপিটাল সেক্টরের মতো না যে প্রতি বছর অনেক রোগী বাইরে চলে যাবে। এটা আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির গর্ব যে আমাদের ওষুধের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বাড়ছে। আমাদের দেশের ওষুধের কোয়ালিটিও ভালো। তবে সেটা ১৫-২০টি কোম্পানির।
বাজার চাহিদার মোট কতটুকু ল্যাবএইড ফার্মা পূরণ করতে পারছে?
আমরা নতুন। স্কয়ার কিন্তু একাই ১০ শতাংশ দখল করে ছিল। প্রথম ১০টি কোম্পানিই ৮০ শতাংশ নিয়ে গেছে। আমরা একটু পেছনের দিকে রয়েছি। তাই আমরা মোট বাজারে ১ থেকে দেড় শতাংশ বাজার দখল করে আছি। তবে আমাদের কোম্পানির ওষুধের গুণগত মান ভালো। এ নিয়ে আমরা কোনো কম্প্রোমাইজ করি না। আমরা যখন প্রথম ওষুধটা বানাই তখন মূল লক্ষ্য ছিল, যে ওষুধটা আমরা বানাব, সে ওষুধটা আগে আমরা খাব। যেমন আমার একটি ওষুধ লাগে কার্ডিনল। এটা একটি বিসপ্রলিল জাতীয় ওষুধ। আামি কিন্তু আমার কোম্পানির ওষুধটা খাই। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রেও আমি ল্যাবএইড ফার্মার ওষুধই খাই। যেমন আমার যদি চিকিৎসা লাগে আমি কিন্তু সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করতে পারব। যেমন আমার এনজিওপ্লাস্টি লাগছে, স্টেন্ট লাগছে, এটা আমি আমার এখানে করেছি। আমি বলতে চাই এটা আমাদের ব্যবসা না, এটা আমাদের একটা ইচ্ছা। আমাদের একটা স্বপ্ন। আমি আমার একটা স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করব। এ রকম একটি স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে অনেক যুদ্ধ করা লাগে। দিনশেষে আমরা এ প্রতিষ্ঠান চালাতে পারছি। দিনশেষে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে—এটাই একটা বড় ব্যাপার।
আপনাদের প্রতিষ্ঠানে কতজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে?
প্রথমদিকে আমাদের ৫৫০ জনের মতো লোক ছিল। কারখানার আয়তন দেড় থেকে দুই লাখ বর্গফুট। ফার্মাসিউটিকালে প্রডাকশন ফ্যাসিলিটি ৫-১০ বছর পর পর বদলাতে হবে। নতুন মেশিনপত্র বসাতে হয়, নতুন ফ্যাসিলিটি দিতে হয়। ফ্যাক্টরির মানুষ বাড়ে না, বাড়ে সেলসের। এটা কিন্তু অদ্ভুত একটা জায়গা। আমাদের যদি এখন ২ হাজার২০০ এমপ্লয়ি হয়, তাহলে ১ হাজার ৫০০ সেলসের। ফার্মা সেক্টরটা অনেক পুরনো। এখানে পুরনো জায়ান্ট বলি, কম্পিটিটর বলি সবাই আছে। তারা মার্কেট ছাড়ে না। বর্তমানে ২ হাজার ২০০ লোক কাজ করে। ওদের চাহিদা সব জায়গায়ই আছে। ওদের বেতন খুবই কম। ওদের এভারেজ বেতনটাই অনেক বেশি। এরা ব্লু কলার জব করে। আমাদের দেশের তিন-চার লাখ লোক এ খাতে কাজ করে।
আমরা এখন ৩৫০-৪০০ কোটি টাকার মতো বিক্রি করেছি। আর ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিটা একটা জাহাজের মতো। মানে প্রথমে চালানোটা কষ্ট। কিন্তু যদি ভালোভাবে সেট করা যায়, ভালো ক্যাপটিল, ভালো সেলস ওয়ার্কার্স, ভালো টিম, ভাালো লিডার হলে এ খাত উন্নয়ন করবে। ফার্মায় যারা ভালো ব্যবসা করে তারা কিন্তু টিকে থাকে। ওইদিক দিয়ে এফোর্ট দিলে এটার রেজাল্টটা পাওয়া যায়।
কী কী ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে?
আমরা মানুষের জেনারিক ওষুধ তৈরি করি যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিঅ্যালার্জিক, অ্যান্টিহাইপারটেন্সি। এগুলো কিন্তু সচরাচর মানুষের লাগে। এর পরের ধাপে আমরা বায়োটেক প্রডাক্টগুলো তৈরি করব। এরপর আমরা ভ্যাকসিন তৈরি করব। এগুলোয় দেশের মানুষের আস্থারও অভাব আছে। যেমন আমাদের দেশে তৈরি ভ্যাকসিন কিন্তু মানুষ কিনতে চায় না। বাইরের ভ্যাকসিনটা খোঁজে। সরকারের কিন্তু অনেক বিধিনিষেধ আছে। অনেকে বলে আমাদের দেশে গার্মেন্টসের মতো ওষুধও বিক্রি হবে, কিন্তু এটা হবে না। কারণ গার্মেন্টস ব্যবসায় খরচ কম। কিন্তু ওষুধের ক্ষেত্রে তা আলাদা।
ভবিষ্যতে এ কারখানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে কি? আপনাদের পণ্য কি রফতানি হয়? আমরা খুব অল্প পরিমাণে রফতানি করছি। পুরো বাংলাদেশে রফতানি হয় ৩ হাজার কোটি টাকার। যেটা গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ওষুধের মার্কেট প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এগুলো যদি আমরা প্রোপারলি সার্ভ করতে পারি, তাহলে আমাদের বাইরে থেকে আর ওষুধ আমদানি করতে হবে না। সেক্ষেত্রে এটা আমাদের দেশের জন্য বা এ খাতের জন্য বড় একটি সাপোর্ট হবে।
বায়োটেকে আমরা আরো বড় হতে পারব। কভিডের সময় ৪০-৪৫ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন আমদানি করতে হয়েছে। এগুলো আমরা দেশেই বানাতে পারতাম। দেশে বানালে এটার খরচ ১০ ভাগের ১ ভাগে নেমে আসবে। আমি ক্যান্সারের কথা বলি। বাংলাদেশে এখন ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি হচ্ছে। আগে একটা কোর্স বা ছয়-সাতটা কেমোথেরাপি দিতে ১৮-২০ লাখ টাকা খরচ হতো। দেশে এটা ২ লাখ টাকায়ই হচ্ছে। কোয়ালিটি ৯২-৯৫ শতাংশ। এছাড়া কিছু রেয়ার ওষুধ তৈরি করব, যার সব রোগ বাংলাদেশে হয় না। এগুলো বাইরে রফতানি হবে।
আমি সারা পৃথিবীতে ঘুরছি ফ্যাক্টরি দেখার জন্য। আমাদের প্রথম সারির ফ্যাক্টরিগুলো বাইরের দেশের ফ্যাক্টরিগুলোর মতোই। বাইরের দেশে রোবট ব্যবহার করা হয়। আমাদের এখানের লোকজনও অনেক দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোকজন। আমাদের যারা ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে তারা বাইরের যেকোনো জায়গায় গেলে কাজ করতে পারবে।
তবে ওষুধের র ম্যাটেরিয়ালস আমাদের দেশে বানানো শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে ৪ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার একটা চাহিদা আছে র ম্যাটেরিয়ালসের। এর পুরোটাই আমাদের আমদানি করতে হয়। এখানে প্রায় হাজার দেড়েক কোটি টাকার মতো ট্যাক্সও দিতে হয়। তারপর দরকারের সময় এটা পাওয়া যায় না। গজারিয়ায় অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আমাদের জায়গা দিয়েছে। কিন্তু র ম্যাটেরিয়ালসের ক্ষেত্রে যেটা হয়, এটা শুধু দেশে বিক্রি করলে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে না, দেশের বাইরেও রফতানি করা লাগবে। কিন্তু এ বাজার এরই মধ্যে চীন ও ভারত দখল করে রেখেছে। তবে আমরা আশাবাদী ৮০ শতাংশ আমরা দেশেই রফতানি করতে পারব। আমাদের সেই ক্যাপাসিটি আছে। ওষুধের ব্যাপারে বলতে পারি, বাংলাদেশ ওষুধের ব্যাপারে কখনো কোনো অসুবিধায় পড়বে না।
দামের ব্যাপারে একটা কথা বলি। এক্ষেত্রে সরকার ভীষণ শক্ত। আমরা এখন যে চ্যালেঞ্জটা ফেস করছি তা হলো আমাদের আগে ব্যাংক ইন্টারেস্ট ছিল ৭ শতাংশ, এখন তা ১৫ শতাংশ। ডলার আগে কিনতাম ৮২ টাকা করে, এখন তা কেনা লাগে ১২২ টাকা দিয়ে। একটা ওষুধ যদি আমাদের বানাতে ৪ টাকা খরচ হতো, এখন খরচ হয় সাড়ে ৫ টাকা। কিন্তু সরকার আমাদের সেই পরিমাণ ওষুধের দাম বাড়াতে দেয়নি। আমার মনে হয় এ বিষয়টা আপনাদের একটু হাইলাইট করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার যদি একটু নমনীয় না হয়, তাহলে কোয়ালিটিকে কম্প্রোমাইজ করবে অনেকে। কারণ লস দিয়ে কেউ ওষুধ বানাবে না। এটা যদি একদম কেস টু কেস কস্টিং করে একটা প্রাইস রাখে তাহলে কিন্তু শিল্পটাও ভালো করবে। আবার আমাদের ওষুধের কোয়ালিটিও ঠিক থাকে। এটা কিন্তু রিট করে কোর্ট থেকে আদেশ নিয়ে করা যাবে না। গত দেড় বছরে ওষুধ বানানোর খরচ ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। আমরা হয়তো ১০ শতাংশ মুনাফা করি। ২৫ শতাংশ বাড়লে আমাদের প্রায় ৭-৮ শতাংশ লোকসানে ওষুধ বিক্রি করা লাগবে।
কোন কোন দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করা হয়?
জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়। মিড গ্রেডের ওষুধগুলো আসে চীন ও–ইন্ডিয়া থেকে। ওখানে খারাপ ও ভালো দুই ধরনের ফ্যাক্টরি আছে, ওই জায়গায় ভুল করলে খুব বড় ভুল হয়ে যাবে।
সরকার থেকে কী ধরনের সহযোগিতা আপনারা চান?
সরকারকে দামের দিকে নমনীয় হওয়া উচিত। ওষুধ পাস করানোর ক্ষেত্রে পারমিশন নিতে সময় লাগে। সেদিকটাও নজর রাখা উচিত। এছাড়া এ খাতে ইনটেনসিভ দেয়া হয় না এবং ইন্টারেস্টও কমানো হয় না। অন্যান্য সাধারণ খাতের মতোই দেখা হয়। সরকারকে আরো সহযোগী হতে হবে। তাহলে এ খাতের আরো বিকাশ ঘটবে। সরকারকে দামের ব্যাপার দেখতে হবে, না হলে কোয়ালিটি পড়ে যাবে। আমরা বর্তমানে ৩৫০-৪০০ কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি করি। সেটা আরো দেড় গুণ বাড়বে। আমাদের জন্য আরো অনেক ম্পেস আছে, আমরা এটাকে হাজার কোটি টাকায়ও বিক্রি করতে পারব। আমাদের ১০-১২ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি রয়েছে।





