বিশেষ করে ইনভার্টার প্রযুক্তি, উন্নত কুলিং সিস্টেম ও আধুনিক ডিজাইনের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে মোটামুটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র। তবু জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, নগরায়ণ বৃদ্ধি, সহজ কিস্তি সুবিধা ও ব্র্যান্ডভিত্তিক আস্থার কারণে চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, রেফ্রিজারেটরের বাজার এখন একটি পরিণত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে গুণগত মান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তিই ক্রেতার সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা রাখছে।

ক্রেতারা ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন?

ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিদ্যুৎ সাশ্রয়, আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজাইন, দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স ও বিক্রয়োত্তর সেবাকে। বিশেষ করে ইনভার্টার প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী (এনার্জি-এফিশিয়েন্ট) ফিচারের কারণে কম বিদ্যুৎ খরচের ফ্রিজের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি স্মার্ট ও প্রিমিয়াম ডিজাইন, বড় স্টোরেজ সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি কম্প্রেসার ওয়ারেন্টিও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মিনিস্টার ফ্রিজ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং কম্প্রেসারে রয়েছে ১২ বছরের গ্যারান্টি।

‘স্মার্ট হোম’ ধারণার সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিক রেফ্রিজারেটরে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ইনভার্টার প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

বর্তমান সময়ে ‘স্মার্ট হোম’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক রেফ্রিজারেটরে আইওটি, এআই ও ইনভার্টার প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এসব প্রযুক্তি শুধু একটি সাধারণ গৃহস্থালি পণ্যকে স্মার্ট ডিভাইসে রূপান্তর করেনি, বরং ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়, খাদ্য সংরক্ষণে কার্যকারিতা ও উন্নত ব্যবহার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছে। আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে দূর থেকেই রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, স্ট্যাটাস মনিটরিং কিংবা নোটিফিকেশন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর ব্যবহার-প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুলিং অপটিমাইজ করতে পারে। ফলে খাবার দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে।

সামনেই ঈদুল আজহা। এ সময়ে ফ্রিজ ও ডিপ-ফ্রিজের বাজার ধরতে আপনাদের ব্র্যান্ডের বিশেষ প্রস্তুতি, অফারগুলো কী কী?

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি, যাতে গ্রাহক সহজে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন। বিশেষ করে মিনিস্টার ‘ফ্রিজ কিনুন, হাম্বা জিতুন!—সিজন থ্রি!’ অফারটি গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। এ অফারে গ্রাহকরা মিনিস্টার ফ্রিজ কিনে পেতে পারেন গরু, ওমরাহ হজের প্যাকেজ, একটির সঙ্গে আরেকটি ফ্রি, ওভেন, নগদ মূল্যছাড়সহ আকর্ষণীয় উপহার। এছাড়া মিনিস্টার এক্সচেঞ্জ অফারসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে শূন্য শতাংশ ইএমআইতে (কিস্তি) পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে।

একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের জন্য বিক্রয়োত্তর সেবা (আফটার সেলস সার্ভিস) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশব্যাপী গ্রাহকদের দ্রুত এবং মানসম্মত সেবা পৌঁছাতে আপনাদের নেটওয়ার্ক কতটা প্রস্তুত?

গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে আমরা বিক্রয়োত্তর সেবাকে ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করি। এজন্য সারা দেশে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের সার্ভিস নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান টিম এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রাহক যেন সহজে সেবা পান, সে লক্ষ্যে হটলাইন, ডিজিটাল সাপোর্ট ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ, জেনুইন স্পেয়ার পার্টস নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইনস্টলেশন ও সার্ভিস সম্পন্ন করার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা।

বাংলাদেশে শতভাগ গ্রিন বা পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো কতটুকু এগিয়েছে?

বাংলাদেশে বর্তমানে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশ ভালো অগ্রগতি করেছে। ‘শতভাগ গ্রিন বা পরিবেশবান্ধব’ ধারণাটি বাস্তবে একটি ধাপে ধাপে উন্নয়ন প্রক্রিয়া। মিনিস্টার এক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তি উন্নয়ন, এনার্জি এফিশিয়েন্সি বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে আমাদের সব ফ্রিজ আর৬০০এ (আইসো-বিউটেন) পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট এবং ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এনার্জি সেভিং কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করছে, যা বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিসরণও কমায়।