আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক হিসেবে ইস্টার্নের বেশ সুনাম আছে। আপনাদের হাত ধরে ডিজিটাল অনেক সেবা এ দেশে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের এ সময়ে আপনার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি কেমন?
ইস্টার্ন ব্যাংক সব সময়ই বিশ্বাস করে ব্যাংকিং মানে সুবিধার পরিসর বাড়ানো। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যাত্রার শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রাহকের সময়, নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা উন্নত করা। বর্তমানে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, দেশের অন্যতম উন্নত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ‘ইবিএল স্কাই ব্যাংকিং’য়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসেই প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিংকে সহজ করা। যেটি এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আমরা প্রতিনিয়ত নতুনত্ব যোগ করছি।
ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রমের মূল দিকগুলো কী?
গ্রাহকরা আমাদের স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে অ্যাকাউন্ট চেক, ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, ক্রেডিট কার্ড ম্যানেজমেন্ট, এটিএম লোকেশন, ব্রাঞ্চ লোকেশন ট্র্যাকিংসহ আরো অনেক সেবা নিতে পারেন। পাশাপাশি করপোরেট ক্লায়েন্টদের জন্যও রয়েছে ‘ইবিএল কানেক্ট’। এটি একটি উন্নত ডিজিটাল ট্রানজেকশন ব্যাংকিং প্লাটফর্ম।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনাদের কী ধরনের ঋণ সুবিধা আছে, এগুলো কীভাবে কাজ করছে?
আমরা পার্সোনাল লোন, ক্রেডিট কার্ড লোন, অটো লোনসহ বিভিন্ন ধরনের রিটেইল ঋণসেবা দিচ্ছি। গ্রাহকরা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে পারেন।
ঋণ বিতরণে নিয়মকানুনে অ্যানালগ পদ্ধতি নাকি ঋণের আবেদন অনলাইনে সম্ভব?
ঋণের আবেদন এখন অনলাইনে করা যায়। গ্রাহক অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্ট জমা দিলে আমাদের প্রসেসিং টিম তা যাচাই করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু যাচাইকরণ ধাপ অফলাইনে সম্পন্ন করতে হয়, তবে পুরো প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই ডিজিটাল।
ঋণ বিতরণের পর ঋণ আদায়ে সমস্যার কথা সব সময় শুনে থাকি। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনাদের পরিস্থিতি কী?
আমরা ডাটা অ্যানালিটিকস ও বিহেভিয়ারাল স্কোরিং ব্যবহার করি, যা আমাদের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ফলে ঋণ আদায়ের হার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির তুলনায় ভালো। পাশাপাশি গ্রাহকরা এসআইয়ের (স্ট্যান্ডিং ইন্সট্রাকশন) মাধ্যমে অনলাইনেই কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন, যা তাদের সময় ও ঝামেলা দুই-ই কমায়।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় আদায়ের জটিলতা কেমন?
আমরা নিয়মিত গ্রাহকের পেমেন্ট বিহেভিয়ার মনিটর করতে পারি, ফলে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়। এসএমএস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিয়মিত রিমাইন্ডার পাঠানো হয়। ফলে ডিফল্ট রেট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সেবায় ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে?
ইবিএল দেশের প্রথম ব্যাংকগুলোর একটি যারা ইএমভি কার্ড, কন্টাক্টলেস কার্ড ও ভার্চুয়াল কার্ড চালু করেছে। গ্রাহক এখন মোবাইল ফোন দিয়ে নিরাপদ লেনদেন করতে পারছেন। তবে ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমরা নিয়মিত সাইবার সিকিউরিটি কমিউনিকেশন ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।
ডিজিটাল সেবার অন্যতম জনপ্রিয় দিক হলো অ্যাপের ব্যবহার। আপনার ব্যাংক এক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নিয়েছে?
ইবিএল স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপ আমাদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু। ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পেমেন্ট ও কিউআর পেমেন্টসহ সব সুবিধাকে এক জায়গায় আনতেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। বর্তমানে আমাদের ব্যবহারকারী সংখ্যা সাড়ে চাল লাখেরও বেশি। আমরা নিয়মিত অ্যাপের অনবোর্ডিং ও কাস্টমার এনগেজিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।
ডিজিটাল সেবায় কম বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য আপনাদের কী ব্যবস্থা রয়েছে?
আমরা বিশ্বাস করি ডিজিটাল ব্যাংকিং সবার জন্য। তাই আমাদের ইবিএল পেরোল সলিউশনের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মীদের বেতন সরাসরি ডিজিটালি প্রদান করছে। কর্মীরা এটিএমের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন ও স্কাইব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার ও বিল প্রদান করতে পারছেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনার ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দেয়া, যেখানে গ্রাহক যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটালি সেবা পান। আমরা আগামীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আর্থিক সেবা চালুর পরিকল্পনা করছি, যাতে ব্যাংকিং আরো সহজ, স্মার্ট ও মানবিক হয়ে ওঠে।










