আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের থিম ‘দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ ইন কো-ক্রিয়েটিং এডুকেশন’ আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬-এর থিম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষা দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আমাদের দর্শন হলো শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান প্রদান নয়, বরং শিক্ষা প্রক্রিয়ার সহনির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা। বিইউএফটিতে ২৩টি স্টুডেন্ট ক্লাব রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিতর্ক, আইটি, ফ্যাশন, পরিবেশ, ক্রীড়া ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে তারা পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা, প্রকল্প নকশা এবং ক্লাবভিত্তিক উদ্যোগে নেতৃত্ব নিয়ে শিক্ষা প্রক্রিয়া সহনির্মাণ করে। ভবিষ্যতে আমরা শিক্ষার্থীদের আরো বেশি করে গবেষণা প্রকল্প, ইন্টার্নশিপ ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি, যাতে তারা ফ্যাশন, প্রকৌশল, ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশীদার হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের থিমটি আমাদের আরো অনুপ্রাণিত করছে, যাতে যুবকরা শিক্ষা-শিল্পের সেতুবন্ধ হিসেবে উঠে আসে।

এ যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ কী কী?

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পাঠ্যক্রমকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা—যেমন অটোমেশন, ডাটা অ্যানালিটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন যুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং ল্যাব সুবিধার অভাব, যা হাতে-কলমে শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে। তৃতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অভাব, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দেয়। চতুর্থত, ইংরেজি ভাষা দক্ষতা এবং সফট স্কিলস যেমন নেতৃত্ব ও যোগাযোগের উন্নয়ন। বিইউএফটিতে আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার করেছি, যাতে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ এবং বাস্তব প্রকল্পে যুক্ত হয়ে স্নাতকের আগেই চাকরির প্রস্তাব পায়। এছাড়া ৪৩টি ল্যাব ও ২৩টি প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করছি।

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমানের করে তোলে। র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়ে এবং আরো ভালো শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হয়। একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা দেয়। যৌথ গবেষণা উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করে, যেমন আমাদের ফ্যাশন, প্রকৌশল ও ব্যবসা-সম্পর্কিত প্রকল্পে। এ সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে, তাই এটিকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

ডিজিটাল সাক্ষরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কারিকুলাম আধুনিকায়নে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে? বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন কোনো প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা আছে কি?

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে বিইউএফটির কারিকুলাম আধুনিকায়নে আমরা ডিজিটাল সাক্ষরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন যুক্ত করেছি। পাঠ্যক্রমে ডাটা অ্যানালিটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজাইন, স্মার্ট উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়ন যুক্ত হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ফ্যাশন, প্রকৌশল, ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত হয়। ল্যাবগুলোতে আধুনিক সফটওয়্যার ও ডিজিটাল টুলস যুক্ত করা হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ প্রকৌশল বা ব্যবসায় প্রশাসনের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম, যা ২০২৬-২৭ সেশনে চালু হতে পারে। এ পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সব পর্যায়ে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিতকরণে করণীয় কী?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিতকরণে কয়েকটি করণীয় রয়েছে। প্রথমত, শিক্ষক নিয়োগে কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করা দরকার, যেমন পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি, শিল্প অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের জন্য অব্যাহত পেশাগত উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালু করা, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হয়। তৃতীয়ত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্প-সহযোগিতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ কী?

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে বিইউএফটিতে শিক্ষকদের মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়। আমরা একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট চালু করেছি, যেখানে ফ্যাশন, প্রকৌশল, ব্যবসা ও প্রযুক্তি-সম্পর্কিত যৌথ প্রকল্প চলছে। উদ্ভাবনে ৩৯টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত, যা যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক বিনিময়কে সহজ করে। এছাড়া শিক্ষকরা শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ রেখে পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করেন, যাতে শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী বিষয় শিখতে পারে। এ উদ্যোগগুলো আমাদের শিক্ষাকে বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণামুখী করে তুলেছে।