অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্র সংস্কারে অনেক কমিশন গঠন হয়েছে। শিক্ষা খাতে কোনো সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান রোডম্যাপ দেখা যায়নি। শিক্ষা খাত সংস্কার জরুরি ছিল বলে আপনি মনে করেন?

শিক্ষা একটি বিশাল খাত এবং এর সংস্কার সবসময়ই প্রয়োজন ছিল, এখনো আছে। কেন শুরুতে কমিশন গঠন করা হয়নি, সে উত্তর দেয়া আমার পক্ষে কঠিন। কারণ আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না। তবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর দেখেছি, একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রতিবেদন তৈরি করা বেশ দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমার এ স্বল্পমেয়াদে সেই পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করা সম্ভব ছিল না। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা কাজ করিনি। আমরা শ্বেতপত্র ও টাস্কফোর্সের সুপারিশগুলোকে ভিত্তি হিসেবে নিয়ে কাজ করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শ্বেতপত্র কমিটির সঙ্গে বসেছে এবং তাদের ইনসাইটগুলো নিয়েছে। এছাড়া আগের কমিশনগুলোর রিপোর্টও আমরা কাজে লাগিয়েছি। আমরা কেবল দাপ্তরিক তথ্যের ওপর নির্ভর করিনি। আমরা দেশের চার-পাঁচটি প্রধান শহরে অংশীজন সভা করেছি। বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা ভালো করা ও খারাপ করা—উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছি। এমপিওভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, তাদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বড় পরিসরে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করছি। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য আমরা একটি কনসালটেশন কমিটি গঠন করেছি। এ কমিটির সদস্যরা সবাই উচ্চমানের গবেষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তারা মূলত মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সুপারিশ দেবেন। এ সুপারিশগুলো আমরা পরবর্তী সরকারের জন্য একটি রোডম্যাপ হিসেবে রেখে যাব। অর্থাৎ গত নয় মাসে আমরা কনসেপচুয়াল ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় লেভেলে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়েছি।

শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আপনার উল্লেখযোগ্য বড় পদক্ষেপগুলো জানতে চাই।

এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল যে হাজার হাজার শিক্ষক ৮-১০ বছর ধরে একই পদে আটকে ছিলেন। বড় কোনো আর্থিক সংশ্লেষ না থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের পদোন্নতি হচ্ছিল না, তা রহস্যজনক। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখি যে লেকচারার থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হওয়ার পথে একটি আইনি বাধা ছিল। সেটি দূর করার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পদোন্নতি শুরু করি। গত তিন মাসে তিন ধাপে প্রায় ৫ হাজার ২০০ শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করেছে। এনটিআরসির মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ৬১ হাজার নিয়োগ দিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ ‘পেপার বেজড’ ছিল, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ বা ম্যানিপুলেশনের কোনো সুযোগ ছিল না। এছাড়া আরো ৬৭ হাজার নতুন নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষকদের যে তীব্র সংকট ছিল, তা বহুলাংশে দূর হবে। আগে একেক ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই বিষয়ের জন্য ভিন্ন যোগ্যতার মাপকাঠি ছিল। আমরা প্রায় ৪০টি ক্ষেত্রে এ অসামঞ্জস্য দূর করেছি। এখন একজন বাংলার শিক্ষক একই যোগ্যতা দিয়ে মাদ্রাসা, কারিগরি বা সাধারণ শিক্ষা—সবখানেই আবেদন করতে পারবেন। উপাচার্য নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছি। আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় সরাসরি নিয়োগ দেয়া হতো, কিন্তু আমরা এবার একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছি। আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে, যা অতীতে কখনো ছিল না। ইন্টারভিউর মাধ্যমে যোগ্য ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদদের বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এটি উচ্চশিক্ষার মর্যাদা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ।

শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক স্তর। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষকের অভাব এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতায় প্রাথমিক শিক্ষা এখনো নড়বড়ে। গ্রামীণ ও শহরের প্রাথমিক শিক্ষার মানে বিশাল বৈষম্য রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আপনার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ কী?

উচ্চশিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার উন্নয়ন অপরিহার্য। কারণ গোড়ার শিক্ষা ঠিক না থাকলে ওপরের স্তরে তার প্রভাব পড়ে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ এরই মধ্যে একটি কনসালটেশন কমিটির মাধ্যমে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট তৈরি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য একটি ভিশন কমিটি এবং একটি সেকেন্ডারি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে একাডেমিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে নিবিড় কাজ চলছে। এ কমিটির মূল লক্ষ্য হলো কেবল সিলেবাস শেষ করা বা ডেলিভারির ওপর জোর না দিয়ে শিক্ষার্থীর লার্নিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া। এ মাসেই কমিটির ফাইন্ডিংসগুলো প্রকাশ করা হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে নির্বাচনের পর পরবর্তী সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পথরেখা অনুসরণ করতে পারে।

শিক্ষা খাতে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল নতুন কারিকুলাম। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন কারিকুলাম বাদ দিয়ে আগের কারিকুলামে ফিরে গেছে। বারবার শিক্ষাক্রম পরিবর্তন শিক্ষার্থী তথা গোটা শিক্ষা খাতকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয় কিনা? পাশাপাশি এত বছরেও বাংলাদেশ কেন একটি যুগোপযোগী কারিকুলাম বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

কারিকুলামের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। সাধারণত একটি কারিকুলামে ১০ শতাংশের বেশি পরিবর্তন করা উচিত নয়, কিন্তু অতীতে রাজনৈতিক তাড়াহুড়ো এবং বিশেষ ইডিওলজি বা মতাদর্শ চাপিয়ে দেয়ার জন্য বড় ধরনের ওলটপালট করা হয়েছে; বিশেষ লেখকদের প্রচার-প্রসার ঘটানো হয়েছে—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা, যাতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও শিক্ষার মূল ভিত্তি ও মনন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। একই সঙ্গে এনসিটিবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার জনবল ও স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে; বর্তমানে এনসিটিবির ৮০ শতাংশ শক্তি ব্যয় হয় বই ছাপানোর পেছনে, অথচ তাদের মূল কাজ হওয়া উচিত ছিল কারিকুলামের মানোন্নয়ন। স্বাধীনতার এত বছর পরও সুসংহত কাঠামো না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অনাস্থা ও অদূরদর্শিতা দায়ী। আমার মেয়াদের সিংহভাগ সময় ব্যয় হয়েছে একের পর এক আন্দোলন সামলাতে, যা প্রকৃত সংস্কারের পথে বড় বাধা ছিল। আমি মনে করি, কেবল একটি কমিশন বা রিপোর্ট সব সমস্যার সমাধান নয়; বরং শিক্ষা খাতে বড় ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও একটি উন্মুক্ত মন নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়া এখন সময়ের দাবি।

দেশে হাতেগোনা কিছু ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নিবন্ধিত থাকলেও বড় একটি অংশ নিবন্ধনের বাইরে এবং তারা কোনো সরকারি নীতিমালা ছাড়াই চলছে। শিক্ষানীতিতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

এ বিষয়গুলো অবশ্যই আমাদের নজরে আসা এবং কাজ করা প্রয়োজন। এখানে মূল বিষয় হলো এগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে এ স্কুলগুলোর কারিকুলাম মূলত আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের একটি পছন্দ বা ভূমিকার বিষয় থাকে যে তারা কোন সিস্টেমে পড়াশোনা করতে চায়। তবে তদারকির ক্ষেত্রে বড় কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন অনেক ক্ষেত্রে ফিসের হার অস্বাভাবিক বা সামঞ্জস্যহীন। এছাড়া ব্রিটিশ কাউন্সিল বা অন্যান্য সংস্থা এ পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করে। এখানে বেশকিছু অপারেশনাল দিক রয়েছে, যা নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগে বিগত সময়ে দলীয়করণের সংস্কৃতি ছিল। সম্প্রতি কিছু নিয়োগ নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার বা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কী?

বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি ও সরকারের মধ্যকার আইনি সম্পর্কের বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে। আমি চাইলেই স্বায়ত্তশাসিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। যদিও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি আমাদের ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করে। এখানে আমাদের আইনি প্রক্রিয়ার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমি নিজে ৪০ বছরের বেশি সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি এবং কখনো শিক্ষক রাজনীতি বা নির্বাচনে জড়াইনি। উচ্চশিক্ষায় দলীয়করণ বর্তমানে একটি পঙ্কিল ও নিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোনমি বা স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন ছিল শিক্ষকদের নিজস্ব বিবেক ও মেধা প্রয়োগের জন্য, কিন্তু আমরা সেটাকে চরম অপব্যবহার করেছি। এর ফলে নীতিবান শিক্ষকরা তাদের মর্যাদা হারিয়েছেন এবং ছাত্রদের কাছে শ্রদ্ধাভাজন থাকতে পারছেন না। এর খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার মাধ্যমে।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা রাজনীতি করতে চান, তারা শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে যান। শিক্ষকতাকে রাজনীতির লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করা ছাত্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি চরম অন্যায়। এখন রাজনৈতিক লিডারশিপের সময় এসেছে এটা বোঝার যে দেশ ও শিক্ষা খাতকে বাঁচাতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের হাত সরিয়ে নিতে হবে। কেবল মেধা বা মেরিটই হতে হবে শিক্ষক থেকে শুরু করে ডিন বা উপাচার্য নিয়োগের একমাত্র ভিত্তি। দলীয় বিবেচনায় নিজের লোককে ভিসি বা ডিন বানিয়ে আবার শিক্ষার চ্যাম্পিয়ন সাজাটা একধরনের হিপোক্রেসি। এমনকি বর্তমান সময়েও আমি জানি, অনেক উপাচার্য শঙ্কার মধ্যে আছেন যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলে হয়তো তাদের অফিস দখল হয়ে যাবে। এ ধরনের প্রবণতা খুবই উদ্বেগজনক। আমি রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধ করব, আপনারা দলীয় সংকীর্ণতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে শিক্ষার প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে নিজেদের বিচক্ষণতার পরিচয় দিন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনার এমন একটি কাজের কথা জানতে চাই, যা বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন।

আমি সাফল্য হিসেবে বড় করে দেখতে চাই না। তবে আমি কিছু মৌলিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি। প্রপার পলিসি মেকিংয়ের জন্য আমাদের বাস্তবসম্মত ধারণা থাকা খুব জরুরি। এ কারণে আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষা র‍্যাংকিং সিস্টেমের The Trends in International Mathematics and Science Study (TIMSS) সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা জানি যে এ র‍্যাংকিংয়ে হয়তো আমরা তলানির দিকে থাকব, কিন্তু আয়নায় নিজের চেহারাটা ঠিকমতো দেখা প্রয়োজন। চেহারা না দেখলে নিজেকে সাজানো সম্ভব নয়। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে আমরা জানতে পারব আমাদের শিক্ষার আসল অবস্থান কোথায় এবং সে অনুযায়ী আমরা সংস্কার করতে পারব।

আগামীতে যারা রাজনৈতিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় আসবেন, তাদের প্রতি আপনার বিশেষ কোনো প্রত্যাশা বা পরামর্শ আছে কি?

আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো শিক্ষা খাতের কোনো নিয়োগ বা সিদ্ধান্তে আপনারা দয়া করে দলীয় বিবেচনা আনবেন না। খাতটিকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হতে দিন। আমাদের দেশে যথেষ্ট যোগ্য ও দক্ষ মানুষ আছেন; ভিসি নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ কিংবা বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য নির্বাচনে কেবল তাদেরই সুযোগ দিন। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা আমাদের মেধাবী সন্তানদের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করুন যাতে তারা দেশে ফিরে তাদের সেবা দিতে পারেন। পদগুলোতে ‘ল্যাটারাল এন্ট্রি’ বা সরাসরি মেধাভিত্তিক প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। আমরা যদি এ সেক্টরে পর্যাপ্ত রিসোর্স বা সম্পদ বরাদ্দ করতে পারি এবং সঠিক জায়গায় সঠিক লোক বসাতে পারি, তবে অবিশ্বাস্য উন্নতি সম্ভব। আমাদের যোগ্য শিক্ষকের অভাব নেই; অভাব শুধু সঠিক প্রণোদনা ও পরিবেশের।

আমরা বেশকিছু সংস্কারের রূপরেখা রেখে যাচ্ছি। পরবর্তী সরকার যদি সেগুলো বিবেচনায় নেয়, তবে জাতি উপকৃত হবে। ছাত্র-জনতা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। প্রতিদিন ঘর থেকে বেরোনোর সময় দেয়ালে যে লিখনগুলো আমরা দেখি, সেগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং একটি মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হোক আগামীর লক্ষ্য।