মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ কী?
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, গবেষণা প্রণোদনা, সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ এবং গবেষণা প্রকাশনায় সহায়তার মাধ্যমে একটি গবেষণামুখী একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে জ্ঞান সৃষ্টি ও জ্ঞান প্রয়োগ একসঙ্গে এগিয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ ও অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কারিকুলাম আধুনিকায়নে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে? নতুন প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা আছে কি?
ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কারিকুলাম আধুনিকায়ন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা সায়েন্স, বিজনেস অ্যানালিটিকসসহ নতুন ও সময়োপযোগী একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ কী কী?
বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের অসামঞ্জস্য এবং সফট স্কিল ও যোগাযোগ দক্ষতার ঘাটতি এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাস্তবমুখী শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ, শিল্প খাতের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের এ বছরের থিম ‘দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ ইন কো-ক্রিয়েটিং এডুকেশন’। আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে এ ধারণা কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষা দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে থিমটি গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের শিক্ষা দর্শনের মূল লক্ষ্যই হলো শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়তা করা। কো-ক্রিয়েটিং এডুকেশন ধারণাটি আমাদের জন্য নতুন নয়; আমরা বরাবরই শিক্ষার্থীদের কেবল জ্ঞানগ্রহীতা নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টির অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি। পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শ্রেণীকক্ষভিত্তিক শিক্ষা, প্রজেক্টভিত্তিক লার্নিং ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মতামত ও সৃজনশীল উদ্যোগকে গুরুত্ব দেয়া হয়। ভবিষ্যতে ইয়ুথ লিডারশিপ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ আরো জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা এ থিমের মূল ভাবনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা আধুনিক উচ্চশিক্ষার অপরিহার্য অংশ। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত হয়, গবেষণার পরিসর বিস্তৃত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছতে বিদেশী অংশীদারদের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সব পর্যায়ে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিতকরণে করণীয় কী? যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে তাদের মান কেমন?
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মানসম্মত শিক্ষকের ঘাটতি একটি বাস্তব ও দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশেই শিক্ষকের দক্ষতা, পেশাগত মান ও গবেষণামুখী মানসিকতার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যাগত ঘাটতির পাশাপাশি দক্ষ ও গবেষণায় সম্পৃক্ত শিক্ষকের সংকটও বিদ্যমান। এ পরিস্থিতি উত্তরণে শিক্ষক নিয়োগে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, গবেষণায় প্রণোদনা ও আন্তর্জাতিক এক্সপোজার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক ও একাডেমিক পটভূমি থেকে আসে। তাদের মান বিভিন্ন স্তরের হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলো এ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, মনন ও নৈতিকতার সুষম বিকাশ ঘটানো। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি একাডেমিক কাউন্সেলিং, মেন্টরিং ও সহায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।










