বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ কী কী?

চাকরির বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতেও ইউআইইউ বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন শুরুর জন্য ইউআইইউ প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন করপোরেট এক্সপার্টদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম এবং বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। যার ফলে ইউআইইউ গ্র্যাজুয়েটরা দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে শিক্ষকতা এবং বড় করপোরেট হাউজ যেমন অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফ্ট, ভিসা ইত্যাদিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জগুলো হলো একাডেমিক দক্ষতার সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সমন্বয়, সফট স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল, নেগোসিয়েশন স্কিল ও নেতৃত্বের বিকাশ ছাড়াও যুগের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ কী?

ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে কাজ করে থাকে। শিক্ষকদের জন্য প্রতি সেমিস্টারে ইনডাকশন ট্রেনিং এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এছাড়া গবেষণা ও উদ্ভাবনে উদ্বুদ্ধ করেতে নানা ওয়ার্কশপ, সেমিনার এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। শিক্ষকরা গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য ইউআইইউর গবেষণা কেন্দ্র ও ইনোভেশন হাব ফ্রি ব্যবহার করতে পারে। গবেষণার জন্য শুধু শিক্ষার্থী নয় বরং শিক্ষকদেরও নানাভাবে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। প্রথমত, এখন অনলাইন জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করা ব্যয়বহুল ও ডলার রেট বৃদ্ধির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩-৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ খরচের পুরোটাই বহন করে থাকে। দ্বিতীয়ত, কিউ-১ ও কিউ-২ জার্নালে পাবলিকেশনের জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে আমরা ২৫ হাজার টাকা প্রণোদনা দিই।

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। র‌্যাংকিং নির্ভর করে কয়েকটি ইনডেক্সের ওপর। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধি করে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক এক্সপোজার ও সম্পর্ক তৈরি হয়। ইউআইইউ এরই মধ্যে বিভিন্ন বিদেশী শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এমওইউ এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করেছে।

ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কারিকুলাম আধুনিকায়নে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে? বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন কোনো প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা আছে কি?

আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কারিকুলাম আধুনিকায়নে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে হলে কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ইউআইইউতে ডাটা সায়েন্স প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এছাড়াও ক্যারিকুলামে সাইবার সিকিউরিটি, এআই ও রোবোটিকস, এমবেডেড সিস্টেম ভিএলএসআই ফেব্রিকেশন, ফিনটেকসহ নানা টেকনোলজি কোর্স সংযোজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউজিসি বিলুপ্ত করে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠন হচ্ছে। এ কমিশনের কাছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা কী?

ইউজিসির পরিবর্তে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠনের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যেমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। মাননিয়ন্ত্রণে সহায়ক ও উন্নয়নমুখী ভূমিকায় কাজ করতে হবে। এক কথায় পাবলিক ও প্রাইভেট উভয় বিশ্ববিদ্যালয় সমানভাবে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা দিতে পারবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের থিম ‘দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ ইন কো-ক্রিয়েটিং এডুকেশন’। আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে এ ধারণা কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষার গুণমান নিশ্চিত করে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসে থিমের সঙ্গে ইউআইইউর শিক্ষা দর্শনের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউআইইউ বিশ্বাস করে, শিক্ষার্থীরা কেবল জ্ঞান গ্রহণকারী নয় বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার। তাই এখানে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সব কার্যক্রমে যেমন—পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ক্লাব বা ফোরাম সংগঠন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক কার্যক্রম ইত্যাদিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নেরও কাজ করে যাচ্ছে ইউআইইউ।