শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাতে শ্রেণীকক্ষ, আবাসন ও গবেষণা সুবিধার সংকট নিরসনে আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

চীন সরকারের সহযোগিতায় মেয়েদের জন্য একটি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত হল নির্মাণের কাজ চলছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে, বর্তমানে সয়েল টেস্টিংসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ১৪ মাস ধরে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে আমরা এ পর্যায়ে পৌঁছেছি। এছাড়া ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় মোট ১৩টি নতুন হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক। ছেলে ও মেয়েদের আবাসন সংকট ১০ বছরের মধ্যে অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী। গবেষণার ক্ষেত্রেও এ প্রকল্পে আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা আরো তিন-চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনের মাধ্যমে আমরা নতুন গবেষণা প্রকল্প পেয়েছি। গত ১৪ মাসে আন্তর্জাতিক এমওইউ ও প্রকল্পভিত্তিক অংশীদারত্বে প্রায় ৩১টি নতুন প্রকল্প যুক্ত হয়েছে। এর ফলাফল হিসেবে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে আমরা উন্নতি করতে শুরু করেছি। যদিও এখনো অনেক পথ বাকি, তবু কিউএস র‍্যাংকিংয়ে আমরা প্রায় ১৫৮ ধাপ এগিয়েছি। টাইমস র‍্যাংকিংয়েও আমাদের অবস্থান দেশের সেরা। আমি আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না; শুধু এটুকু বলছি যে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রো-ভিসির (একাডেমিক) নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী রিসার্চ সাপোর্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত গবেষণা সহায়তা দিচ্ছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আমরা গবেষণা ফান্ড কাটছাঁট করিনি। আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করছে। গবেষকদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কোলাবরেটিভ প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গবেষণার অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়েছে। তবে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’—যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ—অনুমোদন হয়েছে। এর প্রায় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ গবেষণার জন্য, যেখানে ল্যাবরেটরি নির্মাণ ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট গবেষণার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সহনশীল একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সহনশীল একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে উদ্যোগগুলো নেয়া হয়েছে, তার একটি বড় দিক হলো নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়া। এটি আমাদের ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গুণগত পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ, প্রতিযোগিতা ও ভিন্নমত ছিল, তবু আলোচনার ক্ষেত্রে তারা সংবেদনশীলতা বজায় রেখেছে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরো কার্যকর করতে আপনার পরিকল্পনা কী?

আমরা কিছু কাঠামোগত সংস্কার করেছি। উপাচার্যের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম (এসএমটি) গঠন করা হয়েছে, যেখানে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অন্তর্ভুক্ত। এখন বড় সিদ্ধান্ত এককভাবে নেয়া যায় না; এসএমটির অনুমোদন ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন। উপাচার্যের আর্থিক ক্ষমতাও সীমিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওপেন ডোর পলিসি’ চালু রয়েছে, তারা যেকোনো সময় এসে কথা বলতে পারে। নিয়মিত ডাকসু, হল সংসদ ও বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন হচ্ছে। ডাকসু ও হল সংসদের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আপাতত তারা অবজার্ভার হিসেবে থাকলেও ধীরে ধীরে নিয়মিত সদস্যে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এর জন্য আইনি পরিবর্তন প্রয়োজন।

সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বিকল্প ফান্ডিং ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

প্রো-ভিসির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ছয় মাসে অন্তত এক ডজন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্য থেকে অন্তত তিনটি বড় গবেষণা প্রকল্প এসেছে। আমরা সিলেবাস আধুনিকায়নে ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিধিদের যুক্ত করছি। আইকিউএসি সেলের মাধ্যমে করপোরেট গভর্ন্যান্স ও গবেষণা পদ্ধতির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। নতুন শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন ও রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

I সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ঢাবি