বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পাঠক্রম ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমানো। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি, সফট স্কিলের ঘাটতি, শিল্প-বিশ্ববিদ্যালয় সংযোগের অভাব এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা বড় বাধা। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে আমরা ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ, ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও স্কিল বেজড লার্নিংয়ের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সব পর্যায়ে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিতকরণে কী করণীয়? ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করতে প্রয়োজন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ ও প্রণোদনাভিত্তিক কর্মপরিবেশ। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আমরা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, পেডাগোজিক্যাল সক্ষমতা ও গবেষণার আগ্রহকে শিক্ষক নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করি। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আমরা মেধা, আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিই। পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রিজ কোর্স ও একাডেমিক সাপোর্টের ব্যবস্থা রেখে সবাইকে মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনার চেষ্টা করি।
শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলো কী?
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, গবেষণা অনুদান, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার উৎসাহ ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। পাশাপাশি উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতি, ব্লেন্ডেড লার্নিং ও গবেষণাভিত্তিক পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ও যৌথ গবেষণায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে শিক্ষার মান, গবেষণার পরিসর ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি বৃদ্ধি পায়। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ফ্যাকাল্টি ও শিক্ষার্থী এক্সচেঞ্জ, যৌথ গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করছে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমরা ১১তম স্থানে রয়েছি।
ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে কারিকুলাম আধুনিকায়নে কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে? নতুন প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা আছে কি?
আমরা কারিকুলামে ডিজিটাল লিটারেসি, ডাটা অ্যানালিটিকস, এআই বেসিকস, সাইবার সিকিউরিটি ও উদ্যোক্তা দক্ষতা সংযুক্ত করছি। পাশাপাশি বাজার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ও আধুনিক প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।
এ বছরের আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের থিম ‘দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ ইন কো-ক্রিয়েটিং এডুকেশন’। আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
থিমটি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষা দর্শনের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রক্রিয়ার সহনির্মাতা। শিক্ষার্থীদের মতামত, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নেতৃত্বগুণকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা পাঠক্রম উন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণায় তাদের সম্পৃক্ত করছি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যুবকদের অংশগ্রহণ আরো জোরদার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনভিত্তিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম অনুষঙ্গ পিএইচডি প্রোগ্রাম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রোগ্রাম চালুর প্রতিবন্ধকতা কী? স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি কতটা প্রস্তুত?
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সক্ষমতা ও প্রস্তুতি অর্জন করেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি গড়ে তুলেছি। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে রয়েছে অভিজ্ঞ ও গবেষণামুখী শিক্ষক, আধুনিক লাইব্রেরি ও তথ্যভিত্তিক রিসোর্স সুবিধা, গবেষণা নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকির জন্য কার্যকর কাঠামো এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকের মধ্যে গবেষণা সংস্কৃতি বিকাশের পরিবেশ। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সফল পিএইচডি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখবে এমন গবেষক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।










