ড.
আকবর আলি
খান আমার
বন্ধু, সহপাঠী
ও সহকর্মী।
১৯৬১ সালে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ইতিহাস বিভাগের
ছাত্র হিসেবে
আমাদের প্রথম
দেখা হয়।
এসএম হলের
আবাসিক ছাত্র
হিসেবে বন্ধুত্ব
হয়। পরবর্তী
সময়ে তদানীন্তন
সিএসপি ক্যাডারে
১৯৬৭ সালে
একই ব্যাচে
সরকারি কর্মকর্তা
হিসেবে সম্পর্ক
আরো গভীর
হয়। বিবাহিত
জীবনে স্ত্রীদের
মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ
সম্পর্কের কারণে
সেই নৈকট্য
আত্মীয়তায় রূপান্তরিত
হয়।
আকবর আলি
খান গুরুতর
অসুস্থতার জন্য
যুক্তরাষ্ট্রে অপারেশন
করে দেশে
ফেরত আসার
পর দীর্ঘদিন
মিরপুরের সিআরপিতে
ভর্তি হয়ে
বিভিন্ন ধরনের
চিকিৎসা ও
থেরাপি গ্রহণ
করে গ্রহণযোগ্য
পর্যায়ে কর্মক্ষমতা
অর্জন করেন।
এটা ছিল
তার প্রবল
মানসিক শক্তির
পরিচায়ক। কিন্তু
তার স্ত্রীর
অসুস্থতা, অপ্রত্যাশিতভাবে
তাদের একমাত্র
কন্যা নেহরীন
খানের মৃত্যু
এবং এর
অল্পদিন পর
তার স্ত্রীর
মৃত্যু তার
জন্য কঠিন
পরীক্ষা হিসেবে
দাঁড়ায়। একজন
মানুষ জীবনের
ঘাত-প্রতিঘাতের
কঠিন বাস্তবতাকে
মেনে নিয়ে
যে জীবন
সংগ্রামে আত্মপ্রত্যয়ী
হয়ে চলতে
পারেন তার
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
ছিলেন আকবর
আলি খান।
তিনি একনিষ্ঠভাবে
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যবসা প্রশাসনের
অধ্যাপক হিসেবে
কাজ করার
পাশাপাশি আত্মজীবনীসহ
একাধিক বিষয়ে
গ্রন্থাদি রচনা
করে এ
দেশের মানুষের
কাছে অতিপরিচিত
একজন সমাজসচেতন
চিন্তাবিদ ও
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত
করতে সক্ষম
হয়েছিলেন। বিভিন্ন
সভা-সমিতি,
টেলিভিশন ও
সংবাদমাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ
বিষয়ে তার
সাহসী ও
যুক্তিগ্রাহ্য বক্তৃতা-বক্তব্য
তাকে বাংলাদেশের
মানুষের হূদয়ে
উচ্চ মর্যাদার
আসনে সমাসীন করেছে। তার
সহপাঠী, সহকর্মী
এবং বন্ধু
হিসেবে আমি
এজন্য গৌরব
বোধ করি।
ছাত্রজীবনের মেধাবী,
পরিশ্রমী ও
পড়ুয়া মানুষটি
চাকরি জীবনে
সরকারের অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন
পদে দক্ষতা
ও নিষ্ঠার
সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করে
আমলাতন্ত্রের সর্বোচ্চ
পদ মন্ত্রিপরিষদ
সচিব হিসেবেও
দায়িত্ব পালন
করেছেন।
২০০৬ সালের
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
উপদেষ্টা হিসেবে
শপথ গ্রহণ
এবং পরবর্তী
সময়ে স্বেচ্ছায়
পদত্যাগ করে
আকবর আলি
খান প্রমাণ
করেছেন যে
তিনি কোনো
অবস্থায়ই অযৌক্তিক
বা অন্যায়
কোনো পদক্ষেপের
সঙ্গে আপস
করতে রাজি
নন।
দীর্ঘ ৬১
বছরের স্মৃতিতে
সহপাঠী, বন্ধু,
সহকর্মীকে মূল্যায়ন
করলে অনস্বীকার্যভাবে তার মেধা,
অক্লান্ত পরিশ্রম
করার ক্ষমতা,
অদম্য সাহসিকতার
ও বিনয়ী
মনমানসিকতায় পরিপূর্ণ
একজন মানুষ
হিসেবেই আকবর
আলি খানকে
মূল্যায়ন করতে
চাই।
তার আকস্মিক
মৃত্যু এ
দেশের সর্বস্তরের
মানুষকে ব্যথিত
করেছে। তার
সম্পর্কে প্রায়
সব জাতীয়
দৈনিকে সমাজসচেতন
ব্যক্তিদের সুচিন্তিত
প্রশংসাসূচক মতামত
প্রকাশিত হয়েছে,
যা স্মরণকালের
একটি উল্লেখযোগ্য
ঘটনা। রাষ্ট্রীয়
কর্মকাণ্ডের বাইরে
থাকা একজন
মানুষকে নিয়ে
এত লেখালেখি
অনেক গুরুত্ব
বহন করে।
আকবর আলি
খানের রুহের
মাগফেরাত কামনা
করছি। আশা
করছি তার
দার্শনিক চিন্তা-চেতনা
দেশের মানুষকে
সামাজিক উন্নয়নের
ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন
অনুপ্রাণিত করবে,
যা এ
দেশের গণতন্ত্রকে
সুসংহত করার
মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের
লক্ষ্য অর্জনে
সহায়ক হবে।
আব্দুল মুয়ীদ
চৌধুরী: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের উপদেষ্টা





