ড.
আকবর
আলি
খানের
সঙ্গে
আমার
ঘনিষ্ঠতা
গত
প্রায়
তিন
দশকের।
১৯৯৩
সালের
ফেব্রুয়ারি
মাসে
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ডের
চেয়ারম্যান
হিসেবে
তার
যোগ
দেয়ার
আগে
তার
সঙ্গে
আমার
ব্যক্তিগত
পরিচয়
ছিল
না।
যদিও
ডাকসাইটে
আমলা
হিসেবে
তাকে
চিনতাম।
আমি
তখন
আয়কর
বিভাগে
কর্মরত।
সহকর্মীদের
সঙ্গে
আলোচনায়
বিশেষত
যারা
লোকপ্রশাসন
ট্রেনিং
একাডেমিতে
প্রশিক্ষণ
নিয়েছেন
বা
চাকরি
করেছেন,
তাদের
কাছে
ড.
আকবর
আলি
খান
সম্পর্কে
শুনেছিলাম।
এছাড়াও
কর
বিভাগে
ড.
খানের
অনেক
সহপাঠী
এবং
বন্ধুবান্ধব
কর্মরত
ছিলেন
যাদের
কাছে
তার
পাণ্ডিত্য
ও
সুনাম
সম্পর্কে
শুনেছিলাম।
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ডের
চেয়ারম্যান
ড.
একেএম
মসিউর
রহমানের
বদলির
পর
ওই
সময়ে
নতুন
চেয়ারম্যান
কে
হচ্ছেন
তা
নিয়ে
আমরা
বেশ
চিন্তিত
ছিলাম।
কারণ
ওই
সময়ে
আয়কর
বিভাগে
এক
বিশাল
সংস্কার
কার্যক্রম
বাস্তবায়ন
শুরু
হয়েছিল,
যা
এগিয়ে
নিতে
একজন
ডায়নামিক
চেয়ারম্যান
দরকার।
আর
ব্যক্তিগতভাবে
আমার
চিন্তার
কারণ
ছিল
এজন্য
যে,
বিসিএস
(ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের
মহাসচিব
হিসেবে
কর
বিভাগ
এবং
কর
ক্যাডারের
সদস্যদের
স্বার্থসংশ্লিষ্ট
বিভিন্ন
বিষয়ে
চেয়ারম্যানের
সঙ্গে
প্রায়ই
দেনদরবার
আমাকে
করতে
হতো
যেজন্য
সহানুভূতিশীল
ও
ইতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গির
একজন
চেয়ারম্যানের
প্রয়োজনীয়তা
আমি
জোরালোভাবে
অনুভব
করছিলাম।
ড. আকবর
আলি
খান
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ডের
চেয়ারম্যান
হিসেবে
যোগ
দেয়ার
কিছুদিনের
মধ্যেই
আমরা
বুঝে
গেলাম,
আমাদের
প্রত্যাশা
পূরণ
হয়েছে।
মনে
হলো,
যা
চেয়েছিলাম
তার
চেয়েও
বেশি
কিছু
আমরা
পেয়ে
গেছি।
যতই
দিন
গুজরান
হচ্ছিল,
এ
কর্মবীরকে
আমরা
নিত্যনতুন
আবিষ্কার
করছিলাম।
তার
সততা,
প্রজ্ঞা,
কর্মদক্ষতা,
কর্তব্যনিষ্ঠা,
বুদ্ধিমত্তা
ও
অধীনদের
আস্থায়
নেয়ার
ক্ষমতা
ছিল
তুলনাহীন।
তিনি
ছিলেন
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
ও
বাস্তবায়নে
পারঙ্গম।
যেকোনো
বিষয়ে
ত্বরিত
ও
স্পষ্ট
সিদ্ধান্ত
তার
কাছ
থেকে
পাওয়া
যেত
এবং
ওই
সিদ্ধান্ত
বাস্তবায়নের
ব্যবস্থাও
তিনি
নিতেন।
বলা
হয়ে
থাকে,
উইজডম
ইজ
নলেজ
হোয়াট
টু
ডু
নেক্সট,
স্কিল
ইজ
নলেজ
হাউ
টু
ডু
ইট,
ব্রুট
ইজ
ডুয়িং
ইট (প্রজ্ঞা
হলো
পরবর্তী
সময়ের
কী
করতে
হবে
তা
জানা,
দক্ষতা
হলো
কীভাবে
করতে
হবে
তা
জানা
এবং
সদ্গুণ
হলো
তা
করা)।
ড.
আকবর
আলি
খানের
মধ্যে
ছিল
উইজডম,
স্কিল
ও
ভারচু—এ
তিন
বৈশিষ্ট্যের
সমাহার।
সরকারি
আইন-কানুন
বিধিবিধানের
মধ্যে
থেকেও
প্রতিষ্ঠিত
ব্যবস্থার
বাইরে
গিয়ে
প্রয়োজনে
তিনি
কাজ
সমাধা
করতেন।
এ
প্রসঙ্গে
আমার
দেখা
দু-একটা
ঘটনা
উল্লেখের
লোভ
সামলাতে
পারছি
না—
একসময় তদানীন্তন
দুর্নীতি
দমন
ব্যুরোর
(বর্তমান দুর্নীতি
দমন
কমিশন)
কতিপয়
অসাধু
কর্মকর্তা
কর
বিভাগের
বিভিন্ন
কর্মকর্তার
অফিসে
গিয়ে
তাদের
বিরুদ্ধে
কথিত
দুর্নীতির
অভিযোগের
অজুহাতে
গণহারে
হয়রানি
করছিল।
এতে
কর্মকর্তাদের
মধ্যে
তীব্র
প্রতিক্রিয়া
দেখা
দেয়
এবং
তাদের
কাজকর্মে
এক
ধরনের
স্থবিরতা
নেমে
আসে।
অ্যাসোসিয়েশনের
মহাসচিব
হিসেবে
এ
হয়রানি
বন্ধের
ব্যবস্থা
নেয়ার
জন্য
আমার
ওপর
ক্যাডার
সদস্যদের
কাছ
থেকে
প্রবল
চাপ
আসে।
অ্যাসোসিয়েশনের
পক্ষ
থেকে
আমরা
কয়েকজন
গিয়ে
চেয়ারম্যান
ড.
আকবর
আলি
খানকে
বিষয়টি
অবহিত
করলাম।
আমাদের
উপস্থিতিতেই
তিনি
তদানীন্তন
মুখ্য
সচিব
মরহুম
এএনএম
ইউসুফকে
ফোন
করে
ওই
দিনই
তার
সঙ্গে
দেখা
করার
সময়
নিলেন
এবং
আমাদের
বিষয়টা
দ্রুত
সুরাহার
আশ্বাস
দিলেন।
পরদিন
থেকে
হয়রানির
আর
কোনো
অভিযোগ
পাওয়া
যায়নি।
কর বিভাগের
চলমান
সংস্কার
কার্যক্রমের
কারণে
সারা
দেশে
অনেক
নতুন
অফিস
ভবন
ভাড়া
করার
প্রায়োজন
দেখা
দেয়।
সরকার
নির্ধারিত
ভাড়ায়
মানসম্মত
বাড়ি
পাওয়া
ছিল
দুরূহ।
তাছাড়া
বাড়ি
ভাড়া
অনুমোদনের
প্রক্রিয়া
ছিল
জটিল
ও
সময়সাপেক্ষ।
এতে
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ড,
অভ্যন্তরীণ
সম্পদ
বিভাগ,
জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়,
অর্থ
মন্ত্রণালয়
ইত্যাদির
অনুমোদন
প্রয়োজন
হওয়ায়
অনেক
সময়ক্ষেপণ
হতো।
ড.
খান
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ড,
অভ্যন্তরীণ
সম্পদ
বিভাগ,
জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়,
অর্থ
মন্ত্রণালয়ের
প্রতিনিধি
সমন্বয়ে
একটা
কমিটি
গঠনের
ব্যবস্থা
করলেন
যাতে
‘ওয়ান
স্টপ
সার্ভিস’
সেন্টারের
মতো
এক
জায়গা
থেকে
বাড়ি
ভাড়া
অনুমোদন
দেয়া
যায়।
ফলে
অতিদ্রুত
নতুন
অফিসের
জন্য
বাড়ি
ভাড়া
কার্যক্রম
সম্পন্নের
ব্যবস্থা
হয়েছে।
ড. আকবর
আলি
খান
আয়কর
আইনের
প্রয়োজনীয়
সংস্কারের
উদ্যোগ
নেন।
ওই
সময়
সবে
নতুন
আইন
চালু
হয়েছে।
এ
আইনের
প্রয়োগে
উদ্ভূত
বিভিন্ন
সমস্যা
তিনি
অত্যন্ত
দক্ষতার
সঙ্গে
সামাল
দেন।
ওই
সময়
প্রচলিত
আয়কর
রিটার্ন
ফর্ম
ছিল
বেশ
জটিল।
সাধারণ
করদাতার
পক্ষে
রিটার্ন
ফর্ম
বোঝা
ও
পূরণ
ছিল
বেশ
কঠিন।
নতুন
একটা
জুতসই
আয়কর
রিটার্ন
ফর্ম
ডিজাইন
করে
দেয়ার
জন্য
ড.
আকবর
আলি
খান
একপর্যায়ে
তিন
সদস্যবিশিষ্ট
একটি
কমিটি
গঠন
করে
দেন।
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ডের
তখনকার
প্রথম
সচিব
মরহুম
আবদুস
সাত্তারের
নেতৃত্বে
ওই
কমিটিতে
আমি
ছাড়াও
অন্য
সদস্য
ছিলেন
কর
প্রশিক্ষণ
একাডেমির
উপপরিচালক
মেফতাহ
উদ্দিন
খান।
ভারত,
শ্রীলংকা,
নেপাল,
পাকিস্তানসহ
আরো
বেশ
কয়েকটা
দেশের
আয়কর
রিটার্ন
ফর্ম
পর্যালোচনাপূর্বক
আমরা
একটা
লাগসই
রিটার্ন
ফর্ম
ডিজাইন
করে
দিই,
যা
ড.
খান
অনুমোদন
করেন।
আজ
প্রায়
২৬-২৭
বছর
পরও
ওই
রিটার্ন
ফর্ম
ব্যবহার
করা
হচ্ছে।
ড. খান
মেধা
ও
দক্ষতাভিত্তিক
প্রশাসনে
বিশ্বাসী।
কর্মকর্তাদের
প্রশিক্ষণকে
তিনি
খুবই
গুরুত্ব
দিতেন।
প্রশিক্ষণ
প্রতিষ্ঠানগুলোর
দিকে
ছিল
তার
সুনজর।
এগুলোকে
যথাযথ
গড়ে
তোলার
জন্য
প্রয়োজনীয়
সহায়তার
ব্যাপারে
তিনি
ছিলেন
উদার।
মেধাবী,
দক্ষ,
সুনামসম্পন্ন
কর্মকর্তাদের
তিনি
প্রাধান্য
দিতেন,
পৃষ্ঠপোষকতা
করতেন।
কর্মনিষ্ঠ
ভালো
কর্মকর্তাদের
সুরক্ষা
দেয়ার
চেষ্টা
করতেন।
প্রশাসনে
‘রিওয়ার্ডেড
অ্যান্ড
পানিশমেন্ট’ নীতি
যথাসাধ্য
অনুসরণ
করতেন।
একবার
এক
বড়
ব্যবসায়ী
তদানীন্তন
অর্থমন্ত্রী
মরহুম
সাইফুর
রহমানের
কাছে
এক
আয়কর
উপ-কমিশনার
কর্তৃক
তাকে
হয়রানির
অভিযোগ
করেন।
কথিত
অভিযোগটা
পত্রপত্রিকায়ও
প্রকাশিত
হয়েছিল।
অর্থমন্ত্রী
এতে ওই
কর্মকর্তার
পর
খুবই
ক্ষেপে
যান।
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ডের
চেয়ারম্যানকে
ওই
কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে
কঠোর
ব্যবস্থা
নেয়ার
নির্দেশ
দেন
এবং
কী
ব্যবস্থা
নেয়া
হয়েছে
তা
তাকে
অবহিত
করতে
বলেন।
মাঝেমধ্যে
তিনি
এ
ব্যাপারে
খোঁজও
নিতেন।
আমাকে
তদন্ত
কর্মকর্তা
নিয়োগ
দেয়া
হয়েছে।
তদন্তে
দেখা
গেল,
অভিযোগের
কোনো
ভিত্তি
নেই।
ওই
ব্যবসায়ীর
কর
ফাঁকির
তদন্ত
ঠেকানোর
লক্ষ্যেই
এ
অভিযোগ
করা
হয়েছে।
আমার
প্রতিবেদনের
ভিত্তিতে
ওই
কর্মকর্তাকে
অভিযোগ
থেকে
ড.
খান
অব্যাহতি
দেন।
নির্দোষ
অফিসারকে
সুরক্ষা
দিতে
সাইফুর
রহমানের
নির্দেশের
বিরুদ্ধে
অবস্থান
নেয়া
ছিল
দুঃসাহসিক
কাজ।
ড. আকবর
আলি
খানের
জন্ম
(১৯৪৪ সালে)
ও
বেড়ে
ওঠা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলার
নবীনগরে।
১৯৬৭
সালে
তিনি
পাকিস্তান
সিভিল
সার্ভিসে
যোগ
দেন।
দীর্ঘদিন
বাংলাদেশ
সরকারের
অর্থ
সচিব
ছিলেন।
অত্যন্ত
দক্ষতার
সঙ্গে
তিনি
অর্থ
মন্ত্রণালয়
সামলেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ
সচিব
হিসেবেও
দায়িত্ব
পালন
করেছেন।
সবখানেই
তিনি
মেধাবী
ও
দক্ষ
অফিসারদের
পৃষ্ঠপোষকতা
করেছেন।
তার
ধ্যান-জ্ঞানই
ছিল
বাংলাদেশের
জন্য
একটা
দক্ষতা
ও
মেধাভিত্তিক
আমলাতন্ত্র।
সে
লক্ষ্যে
তিনি
সাধ্যানুযায়ী
অবদান
রাখার
চেষ্টাও
করেছেন
অবিরত।
ড. আকবর
আলি
খান
একজন
সুবক্তা।
শ্রোতাদের
মনোযোগ
ধরে
রাখার
কৌশল
তিনি
বেশ
ভালোই
জানতেন।
তার
বক্তৃতা
সবসময়ই
বিষয়কেন্দ্রিক
এবং
তথ্যবহুল
চুটকির
মাধ্যমে
আকর্ষণীয়
করে
তোলায়
তিনি
ছিলেন
পারঙ্গম।
২০০৪
সালে
সাবেক
মুখ্য
সচিব
ড.
কামাল
উদ্দিন
সিদ্দিকীর
লিখিত
‘দ্য
মেগাসিটি
গভার্মেন্ট
ইন
সাউথ
এশিয়া’
বইয়ের
প্রকাশনা
অনুষ্ঠানে
ড.
আকবর
আলি
খান
প্রধান
অতিথি
ছিলেন।
প্রধান
অতিথির
ভাষণে
বাংলাদেশের
স্থানীয়
সরকার
সম্পর্কে
তার
একটা
সরস
মন্তব্য
আমার
মনে
এখনো
গেঁথে
আছে।
তিনি
বলেছিলেন,
‘স্থানীয়
সরকার
ব্যবস্থার
ওপর
ড.
কামাল
সিদ্দিকীর
লিখিত
বই
যতই
মোছা
হচ্ছে,
বাংলাদেশের
স্থানীয়
সরকার
ব্যবস্থা
ততই
দুর্বল
হচ্ছে’।
হাল্কা
মেজাজে
বলা
হলেও
কথার
মধ্যে
গভীর
বাস্তবতা
লুকিয়ে
ছিল।
ড.
খানের
সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত
দাপ্তরিক
সভায়
কোনো
সিদ্ধান্ত
তিনি
চাপিয়ে
দিতেন
না।
যৌক্তিকতার
সঙ্গে
তার
মতামত
পেশের
মাধ্যমে
সিদ্ধান্ত
গ্রহণে
সহায়তার
চেষ্টা
করতেন।
তিনি
ছিলেন
যেকোনো
জটিল
বিষয়
সমাধানের
পথনির্দেশের
ঈর্ষণীয়
ক্ষমতাসম্পন্ন
কর্মকর্তা।
বেআইনি কোনো
চাপ
বা
তদ্বির
অত্যন্ত
সাহসিকতা
ও
বুদ্ধিমত্তার
সঙ্গে
তিনি
ঠেকিয়ে
দিতেন।
এক্ষেত্রে
তার
জুড়ি
মেলাভার।
স্বচ্ছতা,
সততা
এবং
আইন-কানুন-বিধিবিধান
সম্পর্কে
গভীর
জ্ঞানই
ছিল
এক্ষেত্রে
তার
মূল
শক্তি।
১৯৯৭
সালের
মে
মাসে
আমি
তখনকার
প্রাইভেটাইজেশন
বোর্ডের
(বর্তমান প্রাইভেটাইজেশন
কমিশন)
সচিব
হিসেবে
যোগ
দিই।
ওই
সময়ে
প্রাইভেটাইজেশন
বোর্ডের
চেয়ারম্যান
ছিলেন
প্রতিমন্ত্রীর
মর্যাদায়
বিশিষ্ট
ব্যবসায়ী
ও
সরকারি
দলের
এক
প্রভাবশালী
নেতা।
অর্থ
সচিব
হিসেবে
পদাধিকারবলে
ড.
আকবর
আলি
খান
বোর্ডের
সদস্য
ছিলেন।
সরকারি
শিল্প-প্রতিষ্ঠান
বেসরকারীকরণের
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
প্রক্রিয়ায়
তার
জোরালো
ভূমিকা
কাছে
থেকেই
দেখেছি।
এছাড়া
অর্থনৈতিক
বিষয়সংক্রান্ত
মন্ত্রিসভা
কমিটির
বহু
সভায়
তার
ভূমিকা
দেখার
সুযোগ
আমার
হয়েছে।
তিনি
কোনো
অপ্রয়োজনীয়
ও
অপ্রাসঙ্গিক
কথা
বলতেন
না।
শুধু
প্রয়োজনীয়
ক্ষেত্রে
কোনো
বিষয়ে
সুনির্দিষ্ট
মতামত
পেশ
করতেন।
কথার
বাহুল্য
তার
ধাতে
নেই।
একবার একটি
শিল্পপ্রতিষ্ঠান
হস্তান্তর
নিয়ে
চারদিক
থেকে
বোর্ডের
চেয়ারম্যানের
ওপর
সাঁড়াশি
চাপ
আসে।
১৯৯৪
সালে
দরপত্র
আহ্বান
করার
পর
সর্বোচ্চ
দরদাতাকে
লেটার
অব
ইনটেন্ট
(এলওআই) দেয়া
হয়
এবং
কারখানার
হস্তান্তর
গ্রহণের
জন্য
অনুরোধ
করা
হয়েছে।
একাধিক
অনুরোধ
সত্ত্বেও
দরদাতা
কারখানার
হস্তান্তর
গ্রহণে
আগ্রহ
দেখাননি।
এদিকে
সময়ের
সঙ্গে
সঙ্গে
কারখানার
দায়দেনাও
বাড়তে
থাকে।
১৯৯৮
সালে
দরদাতা
দায়দেনাবিহীন
কারখানা
হস্তান্তরের
ব্যবস্থা
গ্রহণে
বোর্ডকে
অনুরোধ
জানাতে
থাকেন।
সরকারি
দায়দেনা
গ্রহণে
তিনি
রাজি
নন।
অথচ
আইনে
এর
কোনো
সুযোগ
ছিল
না।
অনেক
প্রভাবশালী
মন্ত্রী,
এমপি
দরদাতার
পক্ষে
জোরালো
তদ্বির
করতে
থাকেন।
তদানীন্তন
অর্থমন্ত্রীও
দরদাতাকে
তার
আবেদন
মোতাবেক
মিল
হস্তান্তরের
ব্যবস্থা
নেয়ার
অনুরোধসহ
চেয়ারম্যান
বরাবর
একটা
উপানুষ্ঠানিকপত্র
(ডিও লেটার)
দেন।
চেয়ারম্যানকে
বেশ
বিচলিত
দেখা
গেল।
এসব
তদ্বির
অগ্রাহ্য
করা
ছিল
চেয়ারম্যানের
জন্য
রাজনৈতিক
বিবেচনায়
খুবই
কঠিন।
আমার
মতামত
চাওয়া
হলে
বললাম,
দরদাতা
কর্তৃক
সরকারি
দায়দেনা
পরিশোধের
দায়িত্ব
গ্রহণ
ব্যতিরেকে
দরদাতাকে
মিল
হস্তান্তর
হবে
সম্পূর্ণ
বেআইনি
এবং
তদ্বির
এড়ানোর
উপায়
হিসেবে
পরামর্শ
দিলাম
যে
আমরা
এ
বিষয়ে
অর্থ
মন্ত্রণালয়ের
মতামত
চাইতে
পারি।
এও
বললাম,
আমি
নিশ্চিত
ড.
আকবর
আলি
খান
এ
বেআইনি
তদ্বির
ঠেকিয়ে
দেবেন।
চেয়ারম্যান
অর্থমন্ত্রীর
উপানুষ্ঠানিক
(ডিও লেটার)
পত্রের
প্রসঙ্গ
উত্থাপন
করলে
বললাম,
মন্ত্রীর
মতামত
এবং
মন্ত্রণালয়ের
মতামত
এক
জিনিস
নয়।
মন্ত্রণালয়ের
বিভিন্ন
পর্যায়ে
পরীক্ষা-নিরীক্ষার
পর
শীর্ষ
পর্যায়ের
অনুমোদনক্রমে
যে
মতামত
আসে
সেটাই
মন্ত্রণালয়ের
মতামত।
অর্থমন্ত্রীর
উপানুষ্ঠানিক
(ডিও লেটার)
পত্রের
মতামত
তার
ব্যক্তিগত।
বোঝাই
যাচ্ছিল
তদ্বিরের
চাপেই
তিনি
এ
পত্র
লিখেছেন।
অর্থমন্ত্রীর
উপানুষ্ঠানিক
(ডিও লেটার)
পত্রের
কপিসহ
বিস্তারিত
জানিয়ে
অর্থসচিব
বরাবর
মতামতের
জন্য
পত্র
লেখা
হলো।
ক’দিন
পরই
মতামত
এলো,
দরদাতা
কর্তৃক
সরকারের
দায়দেনা
পরিশোধের
দায়িত্ব
গ্রহণ
ব্যতিরেকে
মিল
হস্তান্তরে
কোনো
সুযোগ
নেই।
পরে
খোঁজ
নিয়ে
জেনেছি,
অর্থমন্ত্রীর
উপানুষ্ঠানিক
(ডিও লেটার)
পত্রের
মতামত
এবং
সব
তদ্বির
অগ্রাহ্য
করে
অর্থমন্ত্রীর
অনুমোদন
নিয়েই
ড.
আকবর
আলি
খান
মন্ত্রণালয়ের
মতামত
চূড়ান্ত
করেছিলেন।
আমরা
হাঁফ
ছেড়ে
বাঁচলাম।
ড. আকবর
আলি
খানকে
শুধু
একজন
সাবেক
আমলা
হিসেবে
দেখলে
খণ্ডিতভাবে
দেখা
হবে।
বহুমুখী
এবং
বহুমাত্রিক
মেধাসম্পন্ন
এ
বিরল
প্রতিভার
বিচরণ
সরকারি
চাকরির
গণ্ডির
বাইরে
আরো
অনেক
বিস্তৃত।
তিনি
একাধারে
সাবেক
আমলা,
শিক্ষক,
অর্থনীতিবিদ,
লেখক
ও
গবেষক।
বইপাগল
এ
ব্যক্তিত্বের
পড়াশোনার
পরিধি
অত্যন্ত
ব্যাপক।
বিভিন্ন
বিষয়ের
ওপর
বহু
বই
তিনি
লিখেছেন।
এছাড়া
তার
বিভিন্ন
গবেষণামূলক
প্রবন্ধ
দেশী-বিদেশী
জার্নালে
প্রকাশিত
হয়েছে।
কোনো
বিষয়ে
লেখার
আগে
সে
বিষয়ে
প্রচুর
পড়াশোনা
ও
গবেষণাপূর্বক
তিনি
লেখায়
হাত
দিয়েছেন।
শেষ
বয়সে
এসে
শারীরিক
অসুস্থতা
সত্ত্বেও
তার
লেখালেখি
থেমে
থাকেনি।
ড. আকবর
আলি
খান
মুক্তিযুদ্ধে
সক্রিয়
অংশগ্রহণ
করেছেন।
তিনি
প্রবাসী
মুজিবনগর
সরকারে
উপসচিব
হিসেবে
দায়িত্ব
পালন
করেন।
মুক্তিযুদ্ধ
ও
মুজিবনগর
সরকারের
কর্মকাণ্ড
সম্পর্কে
নির্মোহ
আলোচনা
করা
হয়েছে
তার
‘পুরানো
সেই
দিনের
কথা’
গ্রন্থে।
মুক্তিযুদ্ধের
বস্তুনিষ্ঠ
ইতিহাসের
বর্ণনা
রয়েছে
ওই
আত্মজীবনীতে।
বাংলা
সাহিত্যেও
রয়েছে
তার
ব্যাপক
পদচারণা।
রবীন্দ্রনাথ
সম্পর্কে
তিনি
প্রচুর
গবেষণা
করেছেন।
কবিকে
নিয়ে
যে
বিতর্কগুলো
চালু
রয়েছে
তার
বিস্তারিত
এবং
নির্মোহ
বিশ্লেষণ
রয়েছে
ড.
খানের
লেখা
‘দুর্ভাবনা
ও
ভাবনা
রবীন্দ্রনাথকে
নিয়ে’
গ্রন্থে।
লেখক
এ
বইয়ে
রবীন্দ্রপ্রতিভার
অবমূল্যায়ন
ও
অতিমূল্যায়ন
এ
দুই
ধারার
বিপরীতে
তথ্যভিত্তিক
বস্তুনিষ্ঠ
পর্যালোচনা
ও
মূল্যায়ন
করেছেন।
এছাড়া
রয়েছে
তার
লিখিত
‘চাবিকাঠির
খোঁজে:
নতুন
আলোকে
জীবনানন্দের
বনলতা
সেন’
নামীয়
গবেষণাধর্মী
ও
বিশ্লেষণমূলক
আরো
একটা
পাঠকনন্দিত
গ্রন্থ।
ড. খান
অত্যন্ত
ভদ্র,
অমায়িক
এবং
অতি
উঁচু
মানবিক
গুণসম্পন্ন
শ্রদ্ধাজাগানিয়া
অনুকরণীয়
ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশ
সিভিল
সার্ভিসে
এত
উঁচু
মানের
আদর্শবান
কর্মকর্তা
বিরল।
তিনি
দেশকে
দিয়েছেন
অনেক।
ঝুলিতে
তার
অঢেল
অর্জন
ও
সাফল্য।
বলা
হয়ে
থাকে
‘সাকসেস
ইজ
লিভিং
আপ
টু
ওয়ান্স
পটেনশিয়াল’ মাপকাঠির
নিরিখে
ড.
আকবর
আলি
খান
নিঃসন্দেহে
একজন
সর্বাংশে
সফল
মানুষ।
এএমএম নাসির উদ্দিন: সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার





