১৯৬৪ সালে আমি যখন ভারত থেকে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ সম্পন্ন করে হার্ভার্ডে ফিরে আসি, তখন গভর্নমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান আমাকে ডেকে বললেন পূর্ব পাকিস্তান থেকে একজন নতুন শিক্ষার্থী এসেছেন, আমি যেন তার দিকে খেয়াল রাখি। তিনি ছিলেন তৃতীয় বিশ্ব থেকে আসা এ বিভাগে ভর্তি হওয়া প্রথম শিক্ষার্থী আর অবশ্যই স্বল্পসংখ্যক নারীদের মধ্যেও অন্যতম একজন। এর মাধ্যমে এশিয়া থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে আসা ছোটখাটো শারীরিক গড়নের বন্ধুসুলভ ও সদ্য হাস্যময়ী মেয়েটিকে ঘিরে আমেরিকার রাজনীতির বিশিষ্ট পণ্ডিত দলটির প্রতিক্রিয়াগুলো পুরোপুরি না হলেও খানিকটা অনুমান করতে পারি। পরে হার্ভার্ডে তার গবেষণা থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া গ্রন্থটি আজ বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পণ্ডিতদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

নারী ও উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা শুরু করা প্রথম দিককার পণ্ডিতদের দলে ছিলাম আমি ও রওনক। এক্ষেত্রে তিনি একজন পণ্ডিত এবং একজন প্রশাসক হিসেবে স্বাতন্ত্র্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি নৈপুণ্যের সঙ্গে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সম্মেলনে দুটি এনজিও ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন এবং সমস্যাগুলোকে উন্নয়ন কর্মসূচির মূলধারায় আনার জন্য গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ ও জেনেভায় আইএলওর নারী কর্মসূচির প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।

রওনক ক্রমেই খ্যাতিমান হয়ে তাঁর দ্যুতি ছড়ালেও আজও তিনি সেই হাস্যোজ্জ্বল বন্ধুটিই আছেন, হার্ভার্ডে যেমন ছিলেন। ওখানে আমাদের রুমগুলো ছিল একই আবাসিক হলে, দিনের পর দিন অসহযোগী একটি পরিবেশে আমরা নিজেদের গবেষণার বিষয়গুলো নিয়ে তুমুল আলোচনা চালিয়ে গেছি।

এরপর আমাদের দেখা হয় শিকাগোয়। মনে আছে সাঁতার শেখার ক্ষেত্রে রওনক সেদিন তার অগ্রগতির কথা বলেছিলেন, যা শুনে আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। এরপর আমাদের দেখা হয় দিল্লিতে, আমার দত্তক কন্যাদ্বয়ের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছিলেন তিনি। আর এখন আমাদের দেখা হয় নিউইয়র্কে, যেখানে তিনি বছরের কিছু সময় ব্যয় করেন তাদের সঙ্গে।

ড. ক্যারোলিন এলিয়ট: ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক