আমি
প্রশাসনের
একজন
সদস্য।
বাংলাদেশ
সিভিল
সার্ভিসে
(প্রশাসন) আমি
যোগদান
করি
১৯৮১
সালে।
এর
আগে
আমি
নটর
ডেম
কলেজে
ইংরেজির
প্রভাষক
হিসেবে
কাজ
করেছি।
আমার
সহধর্মিণী
একদিন
বললেন,
‘প্রতিদিন
ইংরেজি
সাহিত্য
পড়িয়ে
তোমার
কি
ভালো
লাগবে?
তুমি
এক
কাজ
করো,
প্রশাসনে
যোগদান
কর।
প্রশাসনে
নিযুক্তি
হলে
তুমি
অনেক
জায়গায়
ও
বিচিত্র
পদে
চাকরি
করতে
পারবে।’
এরপর
১৯৭৯
সালে
আমি
পরীক্ষায়
অবতীর্ণ
হই
এবং
উত্তীর্ণ
হয়ে
এ
ক্যাডারে
যোগ
দিই।
আমার
প্রথম
পদায়ন
ময়মনসিংহে।
সেখানে
দায়িত্ব
পালন
করি
অ্যাসিস্টেন্ট
কমিশনার
হিসেবে।
তারপর
সেখান
থেকে
আমাকে
বদলি
করা
হয়
সাভারে
লোকপ্রশাসন
কেন্দ্রে।
সেখানে
ড.
আকবর
আলি
খান
ছিলেন
আমার
তত্ত্বাবধায়ক।
তিনি
আমাদের
প্রশিক্ষণ
অধিবেশনে
বক্তা
হতে
আদেশ
দেন।
একদিন
তিনি
আমাদের
বললেন,
‘তোমাদের
একটা
সত্য
কথা
বলি।
কিছু
মনে
করো
না।
অন্যরা
কিছু
মনে
করলে
করুক,
আমি
সত্য
কথা
বলতে
আগ্রহী
এবং
সত্য
কথা
বলার
জন্য
জন্মগ্রহণ
করেছি
বলে
আমি
মনে
করি।
এজন্য
আমি
কোনো
ভয়ও
পাই
না।’
তিনি
বলতেন,
‘সোনার
বাংলা
কোনোদিন
সোনার
বাংলা
ছিল
না।
এখানে
কিছু
হিন্দু
জমিদার
ছিল।
মুসলমানরা
কৃষিজমি
চাষ
করত।
কোনো
অভাব
ছিল
না।
মোটামুটি
সবাই
মাছ-ভাত
পেটপুরে
খেতে
পারত।
এটাকেই
সবাই
বলা
শুরু
করল
সোনার
বাংলা।
আসলে
কীসের
সোনার
বাংলা?’
আমিসহ
অনেকেই
বিস্মিত
হলাম। শৈশব
থেকেই
শুনে
এলাম
সোনার
বাংলা।
আর
আকবর
আলি
খান
বলছেন
ভিন্ন
কথা।
তিনি
বলছেন,
কোনোদিনই
সোনার
বাংলা
ছিল
না।
তখন
সিদ্ধান্ত
নিলাম,
তার
প্রতিটি
অধিবেশনই
আমি
শুনব।
এ
প্রক্রিয়ায়
তার
অধিবেশনের
প্রতি
আমার
একটা
প্রীতি
জন্ম
নিল।
কিছু কথা
মনে
পড়ছে।
তিনি
করোনার
লকডাউনের
সময়
আমাকে
দুটি
বই
পাঠালেন।
মৌলানা
আবুল
কালাম
আজাদের
ইন্ডিয়া
উইন্স
ফ্রিডম
এবং
তার
নিজের
লেখা
বই
‘ডিসকভারি
অব
বাংলাদেশ’।
সবে
লকডাউন
শুরু
হয়েছে।
এক
সপ্তাহের
মধ্যে
ফোন
করে
বললেন,
‘আমি
আপনার
জন্য
বই
পাঠাচ্ছি।’
আমি
বললাম,
‘বৈশ্বিক
মহামারীর
মধ্যে
কীভাবে
পাঠাবেন।’
তিনি
বললেন,
‘চিন্তা
করবেন
না।
আমার
লোক
আছে।
তাদের
দিয়ে
পাঠিয়ে
দিচ্ছি।’
ওই
কঠিন
সময়ের
মধ্যে
তিনি
বই
পাঠিয়ে
দিলেন।
ড.
আকবর
আলি
খানকে
আমি
একটা
বই
উৎসর্গ
করেছি।
সেটি
হলো
ইফেক্টিভ পাবলিক
স্পিকিং।
সংক্ষেপে
বলতে
গেলে
১৯৮৫
সালে
আমি
ড.
আকবর
আলি
খানের
সঙ্গে
পরিচিত
হয়েছি।
তখন থেকেই
তাকে
অনুসরণ
ও
অনুকরণ
শুরু
করলাম।
কাজের একটা
অভিজ্ঞতা
বলি।
আমি
তখন
সহকারী
পরিচালক।
আর
তিনি
মেম্বার
ডাইরেক্টিং
স্টাফ
(যুগ্ম সচিব)।
সত্যি
কথা
বলতে
কি,
যুগ্ম
সচিব
শুনে
আমিসহ
অনেকেই
ভয়ে
কাঁপতাম।
তিনি
একদিক
দিয়ে
এলে
আমরা
ভীত
হয়ে
তার
বিপরীত
দিকে
চলে
যেতাম।
এখন
যুগ্ম
সচিব
সচিবালয়ের
আনাচে-কানাচে,
করিডরে
ঘুরে
বেড়াচ্ছে,
পোস্টিং
পায়
না।
পদ
নেই।
একটা
মজার
স্মৃতি
বলি।
একদিন
আমার
কাছে
নথি
আসে।
আমি
এখানে
কনিষ্ঠ
অফিসার।
তিনি
কয়েকজনকে
ডিঙিয়ে
আমার
কাছে
নথি
পাঠাতেন।
একদিন
এক
নথিতে
লেখা
ছিল,
নকীব
মুসলিমের
মতামতের
জন্য
নথি
পেশ
করা
হলো।
দুয়েক
সোপান
বাদ
দিয়ে
তিনি
সরাসরি
আমার
কাছে
নথি
পাঠালেন।
এটা
আমার
কাছে
এক
মজার
স্মৃতি।
তিনি
সব
পদসোপান
ভেঙে
সরাসরি
আমাকে
পাঠালেন।
আমি
বললাম,
‘স্যার,
সরাসরি
আমার
কাছে
নথি
পাঠালেন।
তিনি
বললেন,
‘যাকে
যোগ্য
মনে
করেছি
তাকেই
নথি
পাঠিয়েছি।’
তিনি
এমনই।
তার
প্রতিটি
অধিবেশন
আমি
নীরবে
শ্রবণ
করতাম।
বিভিন্ন
ভাষণের
সময়
যোগ
দিয়েছি
এবং
আমি
অনেক
কিছু
শিখেছি,
যা
অন্য
কারো
কাছে
শিখিনি।
আর
দেখলাম,
লোকপ্রশাসন
কেন্দ্র
হলো
সব
প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রের
কেন্দ্রীয়
পাদপীঠ।
সব
ক্যাডারের
সদস্যকেই
লোকপ্রশাসন
কেন্দ্রে
যেতে
হয়।
সেখানে
আমার
প্রায়
সাত
বছর
হয়ে
গেল।
কোথাও
বদলি
নেই।
আমলাতন্ত্রে
একই
জায়গায়
এত
বছর
থাকার
কথা
নয়।
আকবর
আলি
খানকে
বললাম,
‘স্যার,
এখন
কি
আমি
যেতে
পারি।
তিনি
মনে
হয়
একটু
অসন্তুষ্ট
হলেন।
তিনি
বোঝাতে
চাইলেন,
‘যখন
মনে
করব
প্রয়োজন
নেই,
তখন
যাবেন।
এর
আগে
কোনো
কথা
বলবেন
না।’
তিনি
চলে
যাওার
পরও
আমাকে
১৫
বছর
অবস্থান
করতে
হলো।
একজন
প্রশাসনের
ব্যক্তির
পুরো
যৌবনকাল
যদি
একটা
প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রে
অতিবাহিত
হয়,
তাহলে
সময়টা
তিনি
কোথায়
কাটাবেন?
কাজেই
এটা
একদিক
দিয়ে
প্রীতিকর,
আরেক
দিক
দিয়ে
অপ্রীতিকর।
সম্ভবত
লোকপ্রশাসন
কেন্দ্রে
ড.
খান
তিন-চার
বছর
চাকরি
করেছেন।
এর
আগে
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ে
ইতিহাস
বিভাগে
শিক্ষকতার
জন্য
তিনি
আবেদন
করেন
এবং
এ
আবেদন
গৃহীত
হয়।
সম্ভবত
তিন-চার
বছর
সেখানেও
চাকরি
করেছেন।
সেখান
থেকে
পিএইচডি
করতে
বিদেশে
চলে
গিয়েছিলেন।
লোকপ্রশাসন কেন্দ্রে
আরেকটা
সুখকর
স্মৃতির
কথা
উল্লেখ
করি।
একদিন
অভ্যর্থনা
কক্ষে
অপেক্ষমাণ
অবস্থায়
বসে
আছি।
লোকজন
আসছে।
অতিথি
বক্তারা
এসেছেন।
তারা
অধিবেশন
নিয়ে
চলেও
যাচ্ছেন।
সম্ভবত
ঢাকায়
যেতে
গাড়ির
জন্য
আমি
অপেক্ষা
করছি।
ওই
সময়
ড.
খান
যাচ্ছিলেন।
ছোট
একটা
গাড়ি
তাকে
বরাদ্দ
দেয়া
হয়েছিল।
বললেন,
‘নকীব,
আপনি
কি
ফ্রি?’
বললেন,
‘ফ্রি
থাকলে
গাড়িতে
ওঠেন।’
আমি
উঠলাম।
দেখি,
গাড়িটা
জাহাঙ্গীরনগরের
দিকে
যাচ্ছে।
তিনি
এক
শিক্ষকের
বাসায়
প্রবেশ
করলেন।
নিচে
তিনি
আর
আমি
বসা।
যার
কাছে
গেছেন,
তিনি
ডুপ্লেক্স
থেকে
নামবেন।
দেখি,
টেবিলে
রাখা
তিন-চারটা
বই
থেকে
একটা
বই
নিলেন।
৫-৬
মিনিট
নড়াচড়া
করলেন।
শুরু
থেকে
শেষ
পর্যন্ত
চোখ
বোলালেন।
বললেন,‘
নকীব,
এখান
থেকে
আমাকে
যেকোনো
প্রশ্ন
করেন।
আমি
এর
উত্তর
দেব।’
সত্যিই
তিনি
যথার্থ
উত্তর
দিয়েছিলেন।
সম্ভবত
আমাকে
শেখাচ্ছেন
দ্রুত
পঠন
কাকে
বলে।
তার
একটা
বিশেষ
গুণ
হলো,
কার
কী
দক্ষতা
সেটা
তিনি
দ্রুত
অনুধাবন
করতে
পারতেন
এবং
সে
অনুযায়ী
সম্পৃক্ত
করতেন।
এখান থেকে
পরে
তার
পদায়ন
হয়েছিল
যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশ
দূতাবাসের
‘ইকোনমিক
মিনিস্টার’
হিসেবে।
রাষ্ট্রদূতদের
কাছাকাছি
পদ।
ওই
পদায়নের
পর
তিনি
আমাকে
বলেছিলেন,
‘আমার
একটা
সুযোগ
এসেছে
(বেতন বা
পদের
সুযোগ
নয়)
লাইব্রেরি
অব
কংগ্রেস
ব্যবহারের।
আমার
অবসর
সময়টা
এ
লাইব্রেরিতে
কাটবে।
আমার
প্রকল্পটি
কী
জানেন।
ডিসকভারি
অব
বাংলাদেশ
রচনা।
এর
জন্য
প্রয়োজনীয়
তথ্যাদি
আমি
ওখানে
পাব।
বাংলাদেশে
কী
হচ্ছে
সেটা
বাংলাদেশের
লোকজন
জানবে
না,
কিন্তু
মার্কিনরা
জানবে।
আমিও
জানব
এবং
ডিসকভারি
অব
বাংলাদেশ
বই
লিখব।’
সত্যিই
তাই
হয়েছে।
ওখানে
পদায়ন
না
হলে
এ
বইটি
আমরা
পেতাম
কিনা
তা
নিয়ে
অনিশ্চয়তা
থেকে
যেত।
সম্ভবত
বছর
তিনেক
সেখানে
ছিলেন।
এরপর
তিনি
চলে
এলেন।
অর্থ
সচিব
হলেন।
তিনি
একজন
সত্যবাদী
মানুষ।
সিভিল
সার্ভিসে,
বিশেষ
করে
প্রশাসনের
মধ্যে
অনেক
সুযোগ-সন্ধানী
মানুষ
দেখেছি।
তিনি
কোনো
সুযোগ-সন্ধানী
ব্যক্তি
নন।
কোনো
সুযোগ
গ্রহণ
করার
স্বপ্ন
তিনি
দেখেননি।
তিনি
বাংলাদেশকে
একটা
আদর্শ
রাষ্ট্র
হিসেবে
দেখতে
চেয়েছেন।
সব
গুণ
ছাপিয়ে
তার
সবচেয়ে
বড়
গুণ
তাকে
কেউ
কিনতে
পারেনি।
এর
মানে
হলো
তিনি
যা
উচ্চারণ
করতেন,
তা
নিজে
অনুশীলনও
করতেন।
ড. সৈয়দ নকীব মুসলিম: সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার





