১৯৬১
সাল
হবে।
ওই
বছরেই
ড.
আকবর
আলি
খান
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইতিহাস
বিভাগে
প্রথম
বর্ষে
ভর্তি
হয়।
তখন
থেকেই
পরিচয়।
ছাত্র
হিসেবে
তাকে
দ্বিতীয়
বর্ষেও
কিছুটা
সময়
পেয়েছি।
এরপর
আমি
উচ্চ
শিক্ষার
জন্য
ইংল্যান্ডে
চলে
যাই
১৯৬২
সালের
সেপ্টেম্বরে।
আবার
যখন
ফিরে
আসি
১৯৬৫
সালের
সেপ্টেম্বরে
তখন
সে
এমএ
ফাইনালের
ছাত্র।
ফাইনালেও
তাকে
কিছুদিন
পেয়েছি।
শিক্ষকজীবনে আমি
হাজারো
শিক্ষার্থী
পড়িয়েছি।
তার
মধ্যে
আকবর
আলি
খানকে
এক
নম্বরেই
বসাতে
হবে।
সে
খুব
মেধাবী
ছাত্র
ছিল।
প্রথম
বর্ষে
আমার
সঙ্গে
টিউটোরিয়াল
ছিল।
বিষয়টা
এখন
মনে
নেই।
কিন্তু
প্রথম
টিউটোরিয়ালে
যে
উত্তরটা
সে
লিখেছিল,
সেটি
ছিল
দেড়
পৃষ্ঠা
মাত্র।
বিষয়সংশ্লিষ্ট
সব
উত্তরই
ওই
দেড়
পৃষ্ঠার
মধ্যেই
পাওয়া
গিয়েছিল।
এ
লেখা
দেখেই
আমি
খুব
বিমুগ্ধ
হলাম।
বলেছিলাম,
‘তোমার
লেখাটা
পড়ে
আমার
মনে
হয়েছে
চারটা
বছর
ভালো
করে
পড়লে
তুমি
ইতিহাস
বিভাগের
অন্যতম
মেধাবী
ছাত্র
হবে।’
আমি
তাকে
অনুপ্রাণিত
করার
জন্য
এ
কথা
বলেছিলাম।
অনার্সে সে প্রথম শ্রেণী পেয়েছিল। এমএ ফাইনালেও প্রথম শ্রেণী। বিভাগে একটা সাড়া জাগানো নাম ছিল আকবর আলি খান। যেমন আমরা ছাত্র থাকাকালে সাড়া জাগানো আরেকজন ছাত্র ছিলেন হেদায়েতুল হক। তিনি কিছুদিন আগে ইহ জগৎ ত্যাগ করেছেন। তিনি কালী নারায়ণ স্কলার ছিলেন। তিনি শিক্ষক হয়েছিলেন। কিন্তু তার মনটা পড়েছিল সিএসপিতে। সেজন্য তার শিক্ষকতার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। তখনকার দিনে বিভাগীয় প্রধান ও অন্য সিনিয়র শিক্ষকরা ক্লাস পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতেন। হেদায়েত ভাই মেধাবী হলেও ক্লাস পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল না। সেজন্য তাকে বিভাগীয় প্রধান ডেকে অন্য চাকরি খোঁজার কথা বলেছিলেন এবং তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।
আকবর আলি
খানও
মেধাবী
ছিল।
অনার্স
ও
মাস্টার্সে
প্রথম
হয়েছিল।
শিক্ষকতার
প্রতি
তার
মন
ছিল।
কিন্তু
তখন
চলে
গেল
সিএসপিতে।
এমন
না
যে
তাকে
ইচ্ছা
করেই
শিক্ষক
করা
হয়নি।
তখন
কোনো
পোস্ট
খালি
ছিল
না।
স্বাভাবিকভাবে
পোস্ট
খালি
না
থাকলে
বিজ্ঞপ্তি
দেয়া
হতো
না।
ওই
সময়
পোস্ট
খালি
না
থাকায়
বিজ্ঞপ্তি
দেয়া
হয়নি।
সুতরাং
আকবর
আলি
খান
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
শিক্ষক
হতে
পারেনি।
পরে
সিএসএস
পরীক্ষা
দিয়ে
সিএসপিতে
যোগ
দেয়।
সিভিল সার্ভিসে
থাকাকালে
একসময়
লিয়েনে
সে
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ে
যোগ
দিয়েছিল।
আমি
তখন
সেখানে
পার্ট
টাইম
পড়াতাম।
কারণ
সেখানে
ইতিহাস
বিভাগ
সবে
খোলা
হয়েছিল।
অভ্যন্তরীণ
শিক্ষক
সংখ্যা
পর্যাপ্ত
ছিল
না।
সেজন্য
সপ্তাহে
দুদিন
আমি
সেখানে
পার্ট
টাইম
পড়াতাম।
বেশ
কিছুদিন
হয়েছে।
ইতিহাস
বিভাগ
খোলা
হয়েছে।
সালাউদ্দিন
সাহেব
রাজশাহী
থেকে
এসে
যোগ
দিয়েছেন।
হঠাৎ
একদিন
দেখি,
আকবর
আলি
খান
সিএসপি
থেকে
লিয়েন
নিয়ে
শিক্ষক
হিসেবে
যোগ
দেয়
সেখানে।
বিজ্ঞপ্তি
দেয়া
হয়েছিল।
যথারীতি
সে
আবেদন
করেছে।
কোনো
সমস্যা
ছাড়াই
সে
যোগ
দিতে
পেরেছে।
হেয়
করার
জন্য
বলছি
না।
দেখতে
সে
তেমন
চিত্তাকর্ষক
নয়।
বুদ্ধিদীপ্ত
অবশ্যই।
তবে
বাহ্যিক
‘লুকটা’
ওই
রকম
শার্প
কিছু
না।
কিন্তু
সে
আসলে
খুব
মেধাবী,
তীক্ষ
ধীসম্পন্ন।
জাহাঙ্গীরনগরে
কয়েক
বছর
শিক্ষক
ছিল।
সেখান
থেকে
উচ্চ
শিক্ষার
সুযোগ
পেয়ে
বাইরে
গেল।
পড়াশোনা
শেষে
আবার
সে
সিএসপিতে/সিভিল
সার্ভিসে
ফিরে
এল।
শিক্ষকতা করা
তার
অন্তরের
একটা
গভীর
ইচ্ছা
ছিল।
অবশেষে
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ে
শিক্ষকতার
মধ্য
দিয়ে
সেই
ইচ্ছাটা
পূরণ
হলো।
আমি
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ে
তার
সহকর্মী
ছিলাম।
শিক্ষক
হিসেবেও
সে
মেধাবী
ছিল।
অনেকেই
আমাকে
বলেছে
তার
লেকচার
বুঝত
না।
বুঝত
না
মানে
ওই
মাত্রার
পড়াশোনা
ছাত্রদের
ছিল
না।
তখনকার
দিনে
ভালো
মানের
বই
মানে
ইংরেজি।
ইংরেজিতে
বই
না
পড়লে
ভালো
ফল
করা
প্রায়
অসম্ভব।
সে
শিক্ষক
হিসেবে
অনেক
ভালো
ছিল।
সালাউদ্দিন
সাহেব
সব
সময়
তার
প্রশংসা
করতেন।
তিনি
বিভাগীয়
প্রধান
ছিলেন।
কাজেই
শিক্ষক
হিসেবে
আকবর
আলি
খানের
সুনাম
ছিল।
আকবর আলি
খান
অনেক
বই
লিখেছে।
একটার
কথা
মনে
পড়ছে।
তার
ডিসকভারি
অব
বাংলাদেশ
যখন
প্রকাশ
হলো,
তখন
ঠিক
হলো
এর
ওপর
একটা
আলোচনা
সভা
হবে।
সেটি
হয়েছিল
ধানমন্ডির
সাত
মসজিদ
রোডে।
সেটি
নিয়ে
আলোচনা
করতে
আমাকেও
ডাকা
হয়েছিল।
সেখানে
আমি
খুব
সানন্দে
অংশ
নিয়েছিলাম।
ডিসকভারি
অব
বাংলাদেশে
যা
লক্ষণীয়
তা
হলো,
এমন
অনেক
বিষয়
সে
এখানে
অন্তর্ভুক্ত
করেছে
যেটা
পাশ্চাত্যের
লেখকরা
চিন্তাই
করেননি।
ইসলামাইজেশন
নিয়ে
একটা
অধ্যায়
তার
বইয়ে
সংযোজন
করেছে।
সেখানে
সে
তার
ওপেন
ভিলেজ
থিওরিটা
প্রয়োগ
করে।
সেটা
অন্য
কেউ
করেনি,
যারা
এ
বিষয়ে
গবেষণা
করেছেন।
পূর্ববঙ্গে
ইসলাম
কেন
এত
প্রসার
লাভ
করল,
তার
কারণ
হিসেবে
অন্য
পণ্ডিতরা
অনেক
কারণ
দেখিয়েছে।
সে
এগুলোও
পর্যালোচনা
করেছে,
সঙ্গে
তার
এই
‘ওপেন
ভিলেজ
থিওরি’
ব্যাখ্যা
করে।
এর
মূল
কথা
হলো,
পশ্চিমবঙ্গে
কেন
ইসলাম
এত
প্রসার
লাভ
করেনি,
অথচ
পূর্ববঙ্গে
এর
বিপরীতটা
ঘটল।
তখনকার
উত্তরবঙ্গসহ
(অর্থাৎ এখনকার
রাজশাহী
ও
মালদহসহ
পুরো
অঞ্চল)
পুরো
অঞ্চল
নিয়ন্ত্রিত
হতো
নির্বাচিত
বা
মনোনীত
পঞ্চায়েত
দিয়ে।
এর
ভিত্তিতে
গ্রামের
কর্মকাণ্ড
চলত।
অনেকটা
বলা
যেতে
পারে
আমাদের
ইউনিয়ন
পরিষদের
মতো।
এ
পঞ্চায়েত
ব্যবস্থা
যেখানে
ছিল
সেখানে
ইসলাম
প্রসার
লাভ
করতে
পারেনি।
কারণ
পঞ্চয়েতের
লোকেরা
চোখ
রাখত
এবং
তাদের
অনুমতি
প্রয়োজন
হতো।
যদি
কেউ
ইসলাম
গ্রহণ
করতেও
চায়
তার
জন্য
অনুমতি
লাগবে।
তারা
অনুমতি
দেবে
কীভাবে,
অনেক
ক্ষেত্রে
তারা
তো
গোঁড়া
হিন্দু।
তারা
তাদের
শ্রেণীভেদ
শক্ত
করে
ধরে
রাখতে
চাইত।
সুতরাং
সেখানে
ইসলামের
ততটা
প্রসার
ঘটেনি
বলা
যেতে
পারে।
তবে
পূর্ববঙ্গে
পঞ্চায়েত
ব্যবস্থা
ছিল
না।
সুতরাং
হিন্দু
নমশূদ্রসহ
নিম্নবর্ণের
জাতিগোষ্ঠী
ধীরে
ধীরে
ইসলাম
ধর্ম
গ্রহণ
করেছে।
ধর্মান্তরিত
হয়েছে।
কাজেই
এটা
বেশ
গুরুত্বপূর্ণ
একটা
কারণ,
দক্ষিণ
আর
পূর্ববঙ্গে
কেন
ইসলামের
বেশি
প্রসার
ঘটেছে।
ব্রিটিশ
ভারতে
প্রথম
জনশুমারি
হয়
১৮৭০
সালে।
সেখানে
প্রথম
ধরা
পড়ে
এ
অঞ্চলে
৫০
ভাগের
বেশি
মুসলমান।
আর
বেঙ্গল
প্রেসিডেন্সিতে
হিন্দু-মুসলিম
জনগোষ্ঠী
ছিল
৪৮
ভাগ।
বিষয়টি
তার
বইয়ে
তুলে
ধরেছে
আকবর
আলি
খান।
এটা
তার
পাণ্ডিত্যের
একটা
নমুনা।
ইদানীংকালে যেসব
ছাত্রছাত্রী
দেখছি
তাদের
সঙ্গে
আকবর
আলি
খানের
আকাশ-পাতাল
ব্যবধান।
ভালো
ছাত্রের
সঙ্গে
শিক্ষকের
সম্পর্কটা
দেয়া-নেয়ার
হয়ে
যায়।
তার
কাছ
থেকে
আমি
অনেক
কিছু
শিখেছি।
তার
বই
পড়ে
অনেক
সমৃদ্ধ
হয়েছি।
তার
সঙ্গে
আমার
সম্পর্ক
শিক্ষক-ছাত্রের
মধ্যেই
অনেকটা
সীমাবদ্ধ
ছিল।
পারিবারিক
বলয়ে
তেমন
সম্পর্ক
গড়ে
ওঠেনি।
তার
বাসায়
আমি
যাইনি।
সেও
কখনো
আমার
বাসায়
আসেনি।
তবে
সে
এবং
তার
সহধর্মিণীর
সঙ্গে
ইউনাইটেড
হাসপাতালে
আমার
একবার
দেখা
হয়েছিল।
একবার
তার
স্ত্রী
পা
ভেঙে
ফেলেছিল,
অর্থোপেডিক
ডিপার্টমেন্টের
দিকে
নিয়ে
যেতে
হুইলচেয়ার
ঠেলছে
আকবর
আলি
খান।
তারপর
প্লাস্টার
করিয়ে
নিজেই
হুইলচেয়ার
ঠেলে
নিয়ে
আসছে।
এ
দৃশ্যটা
আমি
দেখেছি।
ড. আবদুল মমিন চৌধুরী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক





