ড. রওনক জাহান (আমার কাছে রওনক আপা) আমার শিক্ষক ছিলেন। আমি এমএ পাস করার আগেই কিছুদিন আমি তার গবেষণায় সম্পৃক্ত ছিলাম। ১৯৭৩ সালে আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার সহকর্মী হয়েছি এবং আজ পর্যন্ত তিনি আমার একজন পরামর্শক ও সুহূদ থেকেছেন।

রওনক আপার সঙ্গে পরিচয়ের আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবে তার নাম শুনি। স্নাতকে তিনি ও আমার বড় ভাই একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন, যারা মূলত তুখোড় মেধাবী ও উচ্চাভিলাষী একটি দল হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তখন আজকের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও শ্বাসরুদ্ধকর কর্তৃত্ববাদী পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম, তাদের উপস্থিতি একটু ছায়াসম, তাদের কাছে প্রত্যাশা কিছুটা ক্ষীণ। রওনক আপা তার প্রতিভা, পরিশ্রম ও সংকল্পের দৃঢ়তার মাধ্যমে এসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে একজন পণ্ডিত ও গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

উনি কিন্তু কোনো ঘটনাক্রমে কিংবা নিয়তি দ্বারা আকস্মিক সৌভাগ্যপ্রাপ্ত হয়ে উন্নতি করেছেন, তা নয়। প্রসঙ্গত, তিনি উচ্চশিক্ষিত একটি পরিবার থেকে এসেছেন। তার বাবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। মা ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু সম্ভ্রান্ত একটি জমিদার পরিবারে জন্ম। পিতা-মাতা উভয়ই শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচণ্ডভাবে সচেতন ছিলেন এবং ছয় সন্তানের প্রত্যেককে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা চেয়েছিলেন যেন সব সন্তানই প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে নিজ নিজ আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোকে বেছে নিতে সক্ষম হয় এবং শিক্ষাকে আশ্রয় করে তাদের জীবনযাত্রার পথ যেন মসৃণ হয়। প্রাথমিক শিক্ষা পর্যন্ত তার সন্তানদের সবাইকে বাড়িতে রেখে পড়িয়েছেন তার মা। পাশাপাশি চিন্তাজগৎ ও সাহিত্যের প্রতি নিজের আগ্রহ ধরে রেখেছিলেন সারাটা জীবন, তাই বয়স আশির কোটায় পৌঁছালেও নিজের অন্তর্দৃষ্টি, উপলব্ধি আর বিচক্ষণতা দিয়ে তিনি রচনা করতে পেরেছিলেন স্মৃতিকথামূলক দুটি গ্রন্থ।

এটা বলাই বাহুল্য যে তারা সফল পিতা-মাতা। তাদের তিন সন্তান (হার্ভার্ড, বার্কলে ও আইওয়া থেকে) পিএইচডি এবং অন্য তিনজন (বোস্টন, ইন্ডিয়ানা ও শিকাগো থেকে) স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। সংগত কারণেই তার মা নিজেকে ‘রত্নগর্ভা’ বলে দাবি করতে পারেন।

রওনক আপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণী নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন ১৯৬৩ সালে। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের উৎসাহে (শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক প্রতিশ্রুতি খুঁজে বের করার অদম্য ও অভ্রান্ত প্রবৃত্তি ছিল তার) হার্ভার্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। রক্ষণশীল প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সত্ত্বেও হার্ভার্ড একটা প্রাণবন্ত ও আনন্দদায়ক পরিবেশে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল, বিশেষ করে ষাটের দশকে। সে সময় হার্ভার্ডের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট অনুষদ রাজনৈতিক উন্নয়ন অধ্যয়নের ক্ষেত্রে অগ্রগামী এবং উত্তেজক গবেষণায় থেকেছে সেখানকার পণ্ডিতদের নেতৃত্বে। রওনক জাহান যেমন ওখানে পড়তে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছিলেন, তেমনি তাকে শিক্ষার্থী হিসেবে পেয়ে পরিচর্যা করে হার্ভার্ডও খুবই সন্তুষ্ট ছিল।

১৯৬৮ সালে তিনি হার্ভার্ড থেকে স্নাতকোত্তর ও ১৯৭০ সালে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি সম্ভবত প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশী, যিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে হার্ভার্ড থেকে এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একই বছর তিনি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৭৩ সালে অর্থাৎ বয়স তিরিশ অতিক্রম করার আগেই তিনি বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যদিও তখনো বয়স্ক পুরুষেরাই এ বিভাগে আধিপত্য বিস্তার করতেন। ১৯৭৮ সালে তিনি অধ্যাপক হন। স্থান-কালভেদে সে অর্জনটি ছিল সত্যিই অনন্য।

বছরের পর বছর ধরে আমি যখন তাকে আরো কাছ থেকে জেনেছি, পেয়েছি, তখন তার অনেকগুলো দিক আমার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে আমার মতো একজন, যে কিনা অল্প বয়সে নিজেকে একাডেমিক জীবনে জড়িত থাকার স্বপ্ন দেখেছিল।

প্রথমত, ভালো শিক্ষক হওয়ার জন্য কতটা হোমওয়ার্ক ও প্রস্তুতি প্রয়োজন তা বুঝতে শুরু করি। তথ্যপূর্ণ ও উপযোগী ক্লাস লেকচারের জন্য খুব সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, যা মোটেই নাটুকে উপস্থাপনা বা বাকচাতুর্যের ওপর নির্ভর করে না। অনেক শিক্ষকই আছেন, যারা এই দ্বিতীয় বিনোদনমূলক পদ্ধতিটাই সহজতর ও সুবিধাজনক মনে করেন। এতে হয়তো কিছু কিছু শিক্ষার্থীও আকর্ষিত হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের ‘মনোরঞ্জনকারী’ শিক্ষকেরা হয়তো কিছু সময়ের জন্য জনপ্রিয় হন, তবে শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের সত্যিকারের প্রভাব হয় সামান্য ও ক্ষণস্থায়ী। সফল শিক্ষক হওয়ার জন্য রওনক আপার কাছে পেয়েছি সময়ানুবর্তিতা, কাজের প্রতি জবাবদিহিতা, নিয়মকানুনের প্রতি আস্থা, কথা দিয়ে কথা রাখার চেষ্টা ও অত্যন্ত সচেতন একটা ওয়ার্ক এথিকস বা সব কাজ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করা এবং শেষ করার দীক্ষা।

আরো একটা কথা এখানে প্রাসঙ্গিক। প্রফেসর রাজ্জাক প্রায়ই আমাদের মনে করিয়ে দিতেন যে একজন শিক্ষকের পাণ্ডিত্য শুধু ক্লাসরুমে তার লেকচারের মাধ্যমেই প্রকাশ পায় না, বরং তারা শিক্ষার্থীদের জীবনে যে ‘ক্লাস’ নিয়ে আসেন (অর্থাৎ যা সৎ, সহিষ্ণু ও আলোকিত মানুষ হতে সহায়তা করে) তার মাধ্যমেও প্রকাশ হয়। তারা যে নৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে তাদের জীবনযাপন করেন, যে পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রতিশ্রুতিকে আলিঙ্গন করেন ও উচ্চ আদর্শের উদাহরণ স্থাপন করেন, তা থেকেই এটি উদ্ভূত হয়। ক্লাসে ও ক্লাসের বাইরে, একজন শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে রওনক আপা সবসময়ই একজন রোল মডেল হিসেবে থেকেছেন, একজন অনুপ্রেরণা।

পাশাপাশি তিনি প্রশংসিত ও সৃজনশীল একজন গবেষক। তার প্রথম বই ‘পাকিস্তান: ফেইলিউর ইন ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন’ (১৯৭২ সালে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত)। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে তিনি তার পিএইচডি গবেষণাপত্র হিসেবে এটি জমা দেন। একটি বেঢপ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নির্মাণকে টিকিয়ে রাখার জন্য সুসংহত ও জাতি গঠনের লক্ষ্যে, নীতি ও প্রতিষ্ঠান তৈরিতে ক্ষমতাসীন পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছা ও অক্ষমতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে বজায় রাখার চ্যালেঞ্জগুলোকে বিশ্লেষণ করে, তিনি তার সাহসিকতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শন করেন।

এখন পর্যন্ত তার লেখা সর্বশেষ বই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ফিলোসফি, পলিটিকস ও পলিসি’ (প্রথমা ২০২২, ঢাকা)। বইটি তিনি অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন। তিনি বর্তমানের সংবেদনশীল ও হ্যাজিওগ্রাফিক প্রবণতাগুলো পরিহার করে বঙ্গবন্ধু যে ধরনের ন্যায়সংগত ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ অর্জন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন তা তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা ও লেখাগুলো ব্যবহার করে একটা বাস্তবধর্মী ও বস্তুনিষ্ঠ পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করেছেন।

উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ এ বই দুটির মাঝখানে তিনি প্রায় ১০টির মতো গ্রন্থ ও ৫০টি মৌলিক নিবন্ধ লিখেছেন, যা বই আকারে ও বিভিন্ন পিয়াররিভিউড জার্নালে প্রকাশ হয়। এছাড়া মনোগ্রাফ প্রকাশ করাসহ রাজনীতি, সুশাসন, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ, উন্নয়ন-সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সেমিনারে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

চিন্তা ও ভাষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রাসঙ্গিক তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা, উপযুক্ত ও সঠিক গবেষণা কৌশল বজায় রাখা, তথ্যনির্ভরতা, যুক্তিকেন্দ্রিকতা, প্রমাণ সাপেক্ষতার ভিত্তিতে ও যাচাইযোগ্য উপসংহারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নিয়মাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টায় তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজগুলো একটা বিশেষত্ব অর্জন করেছে। এর ভিত্তিতেই তিনি দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ সমাজবিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত হয়েছেন।

এ পর্যায়ে আমাকে অবশ্যই অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের গবেষণামূলক অপ্রকাশিত অভিসন্দর্ভ (যা সম্পাদনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে) বহুল প্রতীক্ষিত প্রকাশনা নিশ্চিত করতে তার প্রকৃত ও আন্তরিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করতে হয়। আমাকে শুধু পরামর্শ বা উৎসাহ দেননি, তিনি বইটির একটা খুবই মনোগ্রাহী এবং তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকাও লিখেছেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি কখনো ‘আইভরি টাওয়ার’ অধ্যাপক হিসেবে আটকে থাকতে চাননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার গবেষণার দৃষ্টিকোণের পরিবর্তন ঘটেছে হয়তো, তবে বৃহত্তর আঙ্গিকের বা প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে তিনি অনড় থেকেছেন। রওনক আপা সবসময় গণতন্ত্র ও সুশাসন  প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা এবং সমাজের দুর্বল গোষ্ঠীর অগ্রগতি বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্ন সম্পর্কিত বিষয়গুলোয় মনোযোগী থেকেছেন। এ ‘বিষয়গুলো’ তাকে একজন সমাজকর্মী, সংগঠক ও সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে সাহস জুগিয়েছে ও উৎসাহিত করেছে এবং এসব প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে সচেষ্ট থেকেছেন।

তিনি বাংলাদেশের রিসার্চ ও স্ট্যাডি গ্রুপ ‘ওমেন ফর ওমেন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ছিলেন (১৯৭৩-৭৭); নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৩২তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন (১৯৭৭); ছিলেন সদস্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি, পরিকল্পনা কমিশন, বাংলাদেশ (১৯৭৭-৭৮); নিউইয়র্কের জনসংখ্যা কাউন্সিল (১৯৮২-১৯৯১) এবং এশিয়া সোসাইটির আন্তর্জাতিক কাউন্সিলের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য (১৯৮৩-১৯৯০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনো তিনি আছেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা বোর্ডের আহ্বায়ক (২০০৬-বর্তমান)।

কুয়ালালামপুরে ১৯৮২-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে (এপিডিসি) ইন্টিগ্রেশন অব ওমেন ইন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন। জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হয়ে গ্রামীণ নারী, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন বিভাগের প্রোগ্রাম প্রধান হয়ে কাজ করেন ১৯৮৫-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে সিনিয়র রিসার্চ স্কলার ও অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন ১৯৯০-২০১০ সাল পর্যন্ত। এছাড়া দিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের রজনী কোঠারি প্রফেসর অব ডেমোক্রেসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১০)।

তিনি জড়িত থেকেছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শক ও উপদেষ্টা হিসেবে; যেমন সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সিডা), নরওয়েজিয়ান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (এনওআরএডি), ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএইড) এবং ফোর্ড ও রকফেলার ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে।

সিএনএন, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, এনপিআরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে মতামত প্রকাশ করার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদপত্রে তার বিষয়ভিত্তিক মন্তব্য ও সাক্ষাত্কার ছাপা হয়েছে। সোস্যাল চেঞ্জ, এশিয়ান সার্ভে, জার্নাল অব এশিয়ান পলিটিক্যাল থট অ্যান্ড সোসাইটি, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড কমপারেটিভ পাবলিক পলিসি, অলটারনেটিভসহ বেশ কয়েকটি একাডেমিক জার্নালের এডিটোরিয়াল বোর্ডে যুক্ত থেকেছেন। এছাড়া হার্ভার্ড, শিকাগো ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং নরওয়ের ক্রিস মিশেলসেন ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ র্যাডক্লিফ ইনস্টিটিউট গ্র্যাজুয়েট সোসাইটি পুরস্কার পান।

রওনক আপা সবসময় ব্যক্তিগত মর্যাদাপূর্ণ ও উন্নত মানসিকতায় সমৃদ্ধ জীবনযাপন করেছেন। ব্যক্তি, চিন্তাবিদ, শিক্ষক, সংগঠক বা গবেষক হিসেবে, নিজের স্বার্থে বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনোদিনও কোনো আপস বা নমনীয়তা প্রদর্শন করতে দেখিনি। সবসময় সব কাজে নির্ভীক থেকেছেন। আজ তিনি যে পেশাগত উত্কর্ষের পরিচয় দিয়েছেন, সেটা তিনি শুধু তার নিজের সততা, বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে করেছেন।

 

ড. আহরার আহমেদ: মহাপরিচালক, জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন