আমি
আমার
ভাই-বোনের
মধ্যে
সর্বকনিষ্ঠ।
অধ্যাপক
রওনক
জাহান
দ্বিতীয়।
আমি
ছোটবেলা
থেকেই
দেখেছি
আমার
বড়
ভাইবোনেরা
তাকে
ছোটবু
বলে
ডাকত।
আমিও
সেজন্য
তাকে
ছোটবু
বলে
ডাকা
শুরু
করি,
যদিও
তার
পরে
এবং
আমার
ওপরে
আরো
এক
বোন
আছে।
ছোটবুর কর্মজীবন
সম্পর্কে
অনেকেই
লিখবে
বিশেষত
যারা
তার
কাজকর্মের
সঙ্গে
নিবিড়ভাবে
জড়িত।
আমার
পেশার
ভিন্নতার
কারণে
আমি
তার
কাজের
সঙ্গে
প্রত্যক্ষভাবে
জড়িত
ছিলাম
না,
সেজন্য
আমার
লেখা
একজন
রওনক
জাহানকে
কীভাবে
আমি
অন্যরূপে
দেখেছি।
প্রথমেই তাকে
দেখেছি
একজন
অত্যন্ত
স্পষ্টবাদী
মানুষ
হিসেবে
যিনি
‘সাদাকে
সাদা’
ও
‘কালোকে
কালো’
বলেই
অভিহিত
করেন।
তার
সঙ্গে
চলাফেরা
করলে
কখনই
বুঝতে
অসুবিধা
হয়
না
কোন
মুহূর্তে
তিনি
বিরক্ত
বা
রাগান্বিত
বা
খুশি।
এক
কথায়
তিনি
তার
মনের
ভাব
কখনই
লুকিয়ে
একটা
আবরণ
দিয়ে
ঢেকে
রাখেন
না।
ছোটবেলায়
আমি
পিতৃহারা
হওয়ার
পর
তিনি
আমার
ও
পরিবারের
অভিভাবক
হয়ে
ওঠেন।
তিনি
অনেকবার
বিদেশ
যেতেন,
বিভিন্ন
সেমিনারে
যোগ
দিতেন।
আমার
বাল্যকালে
হেন
জিনিস
নেই,
যেটা
আমার
জন্য
তিনি
বিদেশ
থেকে
আনেননি।
তার কর্মক্ষেত্রের
সফলতার
সাক্ষী
হিসেবে
আমি
দুটো
অনুষ্ঠানের
উল্লেখ
করতে
চাই,
প্রথমটা
১৯৭৭
সালে
যখন
তিনি
ঢাকায়
একটি
আন্তর্জাতিক
সেমিনার
আয়োজন
করেন
‘নারীদের
উন্নয়ন’
উপলক্ষে
এবং
সেই
সেমিনারটিতে
দেশী-বিদেশী
অনেক
গবেষক
উপস্থিত
ছিলেন।
উদ্বোধন
করেন
তদানীন্তন
সরকারের
প্রধান
কর্ণধার
এবং
অনেক
মন্ত্রী
ও
নীতিনির্ধারকরা
অংশ
নেন।
আমার
মতে
সেমিনারটি
বাংলাদেশের
নারীদের
জন্য
এবং
এ
অঞ্চলের
একজন
গবেষক
হওয়ার
পথে
একটি
মাইলফলক।
দ্বিতীয়
অনুষ্ঠানটি
যা
উল্লেখ
করতে
চাই
তা
হলো
যখন
তিনি
২০২১
সালে
মুজিব
চিরন্তন
রাষ্ট্রীয়
অনুষ্ঠানে
বাংলাদেশ
ও
ভুটানের
প্রধানমন্ত্রীর
উপস্থিতিতে
বক্তব্য
রাখেন।
প্রথম
অনুষ্ঠানটিতে
আমি
সরাসরি
উপস্থিত
ছিলাম।
দ্বিতীয়টি
টিভিতে
দেখি।
দুটো
অনুষ্ঠানে
তার
বক্তব্য
শুনে
আমি
অত্যন্ত
খুশি
হই
এবং
গর্ব
অনুভব
করি।
আমার নিজের
কর্মজীবনে
বহুবার
নিউইয়র্ক
যেতে
হয়
এবং
সেখানে
তিনি
পৃথিবীর
বিভিন্ন
রকম
খাদ্য
যেখানে
পাওয়া
যায়,
সেখানে
নিয়ে
যেতেন।
সত্যি
কথা
বলতে
আমার
ছোটবেলায়
তিনি
আমাকে
চট্টগ্রাম,
কক্সবাজার,
কলকাতা,
ব্যাংকক,
কুয়ালালামপুর
বেড়াতে
নিয়ে
যান
এবং
সেসব
স্মৃতি
এখনো
উজ্জ্বল
আমার
মনে।
শত ব্যস্ততার
মধ্যেও
তিনি
সবসময়
যোগাযোগ
রাখতেন
আমি
যেখানেই
থাকি
না
কেন।
যদিও
আমি
একজন
ব্যাংকার
কিন্তু
নিজের
ব্যক্তিগত
বিনিয়োগের
ব্যাপারে
আমি
ছিলাম
উদাসীন।
ছোটবু
আমাকে
অনেক
উৎসাহ
দেন
এবং
অনেক
প্রতিষ্ঠানের
সঙ্গে
পরিচয়ও
করিয়ে
দেন,
যাতে
আমি
বিনিয়োগ
শুরু
করতে
পারি
এবং
তার
সুফল
আমি
পরবর্তী
জীবনে
পাওয়া
শুরু
করি।
তিনি অত্যন্ত
অতিথিপরায়ণ।
আমি
যতবার
নিউইয়র্ক
গিয়েছি,
ততবার
তিনি
আমাকে
ছাড়াও
আমার
সঙ্গের
সহকর্মীদেরও
সাদর
আমন্ত্রণ
জানান।
আমার
পুরনো
সহকর্মীরা
এখনো
ছোটবুর
কথা
জানতে
চায়,
যদিও
এগুলো
২৫-৩০
বছর
আগের
ঘটনা।
তিনিও
কয়েকবার
দুবাইয়ে
আসেন
এবং
অনেক
জায়গায়
তাকে
নিয়ে
যাই।
তার
সঙ্গে
আমার
আম্মাও
ছিলেন,
এই
সফরগুলো
খুব
আনন্দদায়ক।
ছোটবুর
সঙ্গে
আমি
অকপটে
মনের
দুঃখবেদনা,
সুখ
জানাতে
পারি
এবং
সবসময়
ভালো
উপদেশ
পেয়ে
আসছি।
বিগত ১০
বছরে
আমাদের
যোগাযোগ
আরো
বৃদ্ধি
পায়,
বিশেষত
আমাদের
মরহুমা
মায়ের
চিকিৎসা,
দেখাশোনা
ও
আমাদের
পৈতৃক
সম্পত্তির
ডেভেলপমেন্ট
ও
বিক্রির
ব্যাপারে।
ছোটবু
সবসময়
বলতেন
‘দেখ,
সবসময়
সম্পর্ক
বজায়
রাখবি,
কোনোদিন
কাজের
প্রয়োজন
ফুরিয়ে
গেলেও
বন্ধ
করবি
না’।
আমি
তা
অকপটে
চেষ্টা
করি
রাখতে।
বিশেষত
করোনাকালে
আমাদের
ভাইবোনদের
মধ্যে
‘জুম’-এ
মিটিং
বেড়ে
যায়।
প্রত্যেক
সপ্তাহে
আমরা
জুম
মিটিং
করি।
কোনো
সময়
তিনি
যদি
দেরিতে
যোগদান
করতেন
সবসময়
প্রশ্ন
করতেন,
এতক্ষণ
আমরা
কী
আলাপ
করছি
তার
সংক্ষিপ্তসার
জানাতে।
এটা
তার
আগ্রহের
পরিচয়।
আমি তার
অনেক
‘টক
শো’
দেখেছি
এবং
প্রবন্ধও
পড়েছি।
সেই
সঙ্গে
আমার
নিজের
অবসর
জীবন
শুরু
হওয়ার
পরে
আমার
ভগ্নিপতির
লেখাও
পড়তে
শুরু
করি।
যখন
কোনো
বই
পড়ে
তাদের
অনেক
ব্যাপারে
প্রশ্ন
করি
তারা
আমাকে
একজন
বুক
রিভিওয়ার
হওয়ার
জন্য
চেষ্টা
করতে
বলেন।
আহমদ মুনির: অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট, আল হিলাল ব্যাংক, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত





