অধ্যাপক
রওনক
জাহানের
কাজের
সঙ্গে
আমি
পরিচিত
হতে
শুরু
করি
মূলত
তার
‘পাকিস্তান:
ফেইলিউর
ইন
ন্যাশনাল
ইন্টিগ্রেশন’
গ্রন্থটি
পড়তে
গিয়ে।
বর্তমান
সময়ে
এসেও
কেউ
যদি
বুঝতে
চায়
যে
বাংলাদেশ
নামক
আলাদা
একটি
ভূখণ্ডের
প্রয়োজনীয়তা
কেন
তৈরি
হয়েছিল
তাহলে
এ
বইটি
তাকে
পড়তে হবে।
১৯৭১-৭২
সালে
আমি
শিকাগো
বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষক
ও
ছাত্রদের
নিয়ে
গঠিত
সক্রিয়
একটি
সংগঠনের
সঙ্গে
যুক্ত
ছিলাম।
তখন
বাংলাদেশের
পরিস্থিতি
সম্পর্কে
আমি
তাঁর
লেখার
মাধ্যমেই
জানতে
পারি
ও
মুক্তিকামী
মানুষের
পক্ষে
কথা
বলতে
শুরু
করি।
সংগঠনের
হয়ে
আমরা
তখন
বিভিন্ন
কাজ
করছি,
যেমন
আমেরিকানদের
কীভাবে
বাংলাদেশ
সম্পর্কে আরো শিক্ষিত
করে
তোলা
যায়,
পাশাপাশি
আমেরিকান
রাজনীতিবিদদের
ওপর
বিভিন্নভাবে
বাংলাদেশের
মুক্তিকামী
জনতাকে
সমর্থনের
জন্যও
চাপ
তৈরি
করেছিলাম
আমরা।
মনে
আছে,
বাংলাদেশ
স্বাধীন
হওয়ার
পর
রওনকের
সঙ্গে
খুব
অল্প
সময়ের
জন্য
আমার
দেখা
হয়েছিল।
তবে তার
সঙ্গে
আমার
পরবর্তী
দেখা
হওয়ার
ক্ষণটি
আজও
স্মরণীয়
হয়ে
আছে।
১৯৭৫
সালের
গ্রীষ্মের
কথা।
তখন
‘১৯৭১’-এর
ওপর
আমি
একটি
গবেষণা
করছি,
যা
পরে
‘দ্য
ব্রেকআপ
অব
পাকিস্তান’
নামে
প্রকাশিত
হয়।
রওনক
তখন
শিকাগোতে
আসবে।
আমাকে
দায়িত্ব
দেয়া
হলো
বিমানবন্দর
থেকে
তাঁকে
ক্যাম্পাসে
নিয়ে
আসার
জন্য।
দিনটি
আমার
স্মৃতিতে
আজও
উজ্জ্বল
হয়ে
আছে,
কারণ
আমি
যখন
রওনককে
আনতে
ভক্সওয়াগনে
করে
আমার
সদ্য
বিবাহিত
স্ত্রী
ভিনাকে
নিয়ে
এয়ারপোর্টের
দিকে
যাচ্ছি
তখন
কাছাকাছি
কোথাও
টর্নেডো
আঘাত
হানায়
ভীষণ
বৃষ্টি
শুরু
হয়।
(রওনক সম্ভবত
ঢাকা
থেকে
তার
সঙ্গে
করে
এ
ধরনের
আবহাওয়া
নিয়ে
এসেছিল)।
বৃষ্টি
কমলেও
শিকাগো
রেল
লাইনের
আন্ডারপাসগুলো
প্লাবিত
হলো—ঠিক
যেমনটা
ঢাকা
কিংবা
দিল্লিতে
ঘটে—ফলে
ক্যাম্পাসে
পৌঁছতে
আক্ষরিক
অর্থেই
আমাদের
কয়েক
ঘণ্টা
বেশি
সময়
লাগে।
আমার
মনে
আছে,
রওনক
এসব
নিয়ে
মোটেও
উদ্বিগ্ন
হলো
না।
তার
সঙ্গে
আমার
চমত্কার
একটি
বন্ধুত্বের
সূচনাটা
ছিল
এমন।
আমাদের সে
বন্ধুত্ব
আজও
অটুট।
যদিও
রওনকের
সঙ্গে
ঢাকায়
দেখা
হয়েছে
মাত্র
একবার,
১৯৯৬
সালে।
বেশির
ভাগ
সময়ে
আমাদের
দেখা
হয়েছে
নিউইয়র্কেই।
রওনক
যখন
অধ্যাপক
ও
জ্যেষ্ঠ
গবেষক
হিসেবে
কলাম্বিয়ার
সাউদার্ন
এশিয়া
ইনস্টিটিউটে
কর্মরত,
আমি
তখন
সেখানে
পরিচালক
হিসেবে
কাজ
করাতে
নিয়মিত
সাক্ষাতের
পাশাপাশি
আলোচনার
জন্যও
অনেক
সময়
পেয়েছি
আমরা।
এ
পর্যায়ে
রওনকের
পাণ্ডিত্যপূর্ণ
ও
চিত্তাকর্ষক
গবেষণাগুলোর
কথা
বলতে
হয়।
প্রকাশের
পঞ্চাশ
বছর
পরও
তার
লেখা
প্রথম
বইটির
চেয়ে
আরো
ভালো
বই
লেখা
হয়নি
পাকিস্তান
কেন
ভেঙে
গেল
এবং
কেমন
করে
বাংলাদেশের
অভ্যুদয়
এ
বিষয়ে।
বাংলাদেশের
রাজনীতি,
দক্ষিণ
এশিয়ার
রাজনীতিতে
নারী,
উন্নয়নের
বিভিন্ন
দিক
নিয়ে
কয়েক
দশক
আগে
করা
তার
গবেষণাকাজগুলো
আক্ষরিক
অর্থে
আজও
প্রাসঙ্গিক
ও
প্রয়োজনীয়।
(স্বীকার করতে
দ্বিধা
নেই
যে
আমি
এইমাত্র
আবার
তার
লেখাগুলো
পড়েছি
ও
তার
ভিত্তিতে
লিখছি)।
নিজ
দেশের
পাশাপাশি
নারী
ইস্যুতে
বিশ্বের
অন্যান্য
দেশেও রওনক একজন
সক্রিয়
পরামর্শক
হিসেবে
স্বীকৃত।
যার
অর্থ
নিজের
লেখা
ও
গবেষণা-সম্পর্কিত
প্রশ্নগুলোর
উত্তর
প্রদানের
ক্ষেত্রে
সবসময়
সতর্ক
ও
প্রস্তুত
থাকতে
হয়
তাঁকে
এবং
এ
সম্পর্কিত
প্রশ্নের
উত্তর
প্রদানের
সময়ও
উচ্চ
মান
ধরে
রাখতে
হয়।
প্রশ্নকারীকে
তিনি
কখনো
বলবেন
না
যে
আপনি
বিভ্রান্ত
হয়েছেন
(কারণ তিনি
কখনই
ওতটা
রূঢ়
হন
না)।
কিন্তু
তাঁর
উত্তর
শুনে
পরবর্তী
প্রশ্ন
করার
আগে
আপনাকে
অবশ্যই
অনেক
বেশি
সুচিন্তিত
প্রশ্ন
করতে
হবে।
তাছাড়া
খুব
মনোযোগ
সহকারে
রওনকের
কথা
শোনাটাও
দারুণ
উপভোগ্য—বিশেষ
করে
তার
নির্ভুল
আলোচনা
ও
দুর্লভ দৃষ্টিকোণগুলোর
কথা
না
বললেই
নয়।
ড. ফিলিপ ওল্ডেনবার্গ: খণ্ডকালীন প্রফেসর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়





