রওনক জাহানের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ৫০ বছরের বেশি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে উন্নয়ন সহায়তা প্রোগ্রাম কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমার ঢাকায় পোস্টিং হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সিডার হয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। প্রথম থেকেই রওনক জাহানের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ। তিনি খুবই মিশুক ছিলেন। ক্রমেই আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বে রূপ নেয়। সে সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমার মেয়েকে দত্তক হিসেবে নিয়েছিলাম। এ বিষয়ে রওনক আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ থেকে চলে আসার পরও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি যোগ দিই। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনকালে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাতে অংশগ্রহণের। সে সময় রওনক জাহান পাশে থেকে আমাকে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনেও তার ভূমিকা স্বীকার করতেই হবে।

বাংলাদেশ থেকে চলে আসার পরও বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেখা হয়েছে। আমরা পরিবারসহ তার বাড়িতে গিয়েছি, তিনিও এসেছেন। বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারেও আমি অংশগ্রহণ করেছি রওনকের অনুরোধে। রওনক খুবই আশাবাদী একজন মানুষ। বাংলাদেশ নিয়ে তার সবসময়ই উচ্চাশা রয়েছে। তার পুরো জীবনটি গবেষণা, পড়ালেখা আর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ব্যয় করেছে। রওনকের গবেষণার কেন্দ্রে বাংলাদেশের রাজনীতি, নারীর বঞ্চনা ও ক্ষমতায়ন, দেশের মানুষ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। সবসময় গণতন্ত্র ও সুশাসন  প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা এবং সমাজের দুর্বল গোষ্ঠীর অগ্রগতি বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্ন সম্পর্কিত বিষয়গুলোয় মনোযোগী থেকেছেন। আজ তিনি যে পেশাগত উত্কর্ষের পরিচয় দিয়েছেন, সেটা তিনি শুধু তার নিজের সততা, বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে করেছেন। তার অনন্য অর্জন ও স্বীকৃতি সত্ত্বেও তিনি একজন বিনয়ী, অমায়িক ও উদার মনের মানুষ হিসেবে থেকেছেন। সর্বদাই তিনি তার সহকর্মী হোক কিংবা ছাত্র, সবাইকে আন্তরিকভাবে তার মনে স্থান দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করতে মোটেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।

 

ড. বুরিয়ে লুংগ্রেন: বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত সুইডেনের

সাবেক রাষ্ট্রদূত