অধ্যাপক
ড.
রওনক
জাহান
আমার
শিক্ষক।
শ্রেণীকক্ষে
তিনি
আমাদের
পাঠদান
করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের
পর
আমরা
যখন
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
ভর্তি
হই,
আপা
তখন
হার্ভার্ড
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
পিএইচডি
করে
বাংলাদেশে
ফিরেছেন।
১৯৭৩
থেকে
১৯৭৫
সাল
পর্যন্ত
তিনি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগের
বিভাগীয়
প্রধান
ছিলেন।
তিনি
একজন
আন্তর্জাতিক
খ্যাতিসম্পন্ন
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
তার
পিএইচডি
গবেষণার
অভিসন্দর্ভ
১৯৭২
সালে
কলাম্বিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়
প্রেস
থেকে
প্রথম
প্রকাশিত
হয়।
এরপর
১৯৮০
সালে
ইউপিএল
থেকেও
প্রকাশ
করা
হয়।
অনার্সের
শুরুর
দিকে
তিনি
আমাদের
ক্লাস
না
নিলেও
তার
‘পাকিস্তান:
ফেইলিউর
ইন
ন্যাশনাল
ইন্টিগ্রেশন’
গ্রন্থটির
সঙ্গে
পরিচিত
ছিলাম।
কারণ
বইটি
তখন
চাঞ্চল্য
সৃষ্টি
করেছিল।
সবার
সব
গবেষণাকাজ
প্রভাব
সৃষ্টি
করে
না,
আবার
সব
কাজ
প্রকাশও
পায়
না।
কিন্তু
রওনক
আপার
এ
কাজটি
কালজয়ী
হয়ে
আছে।
জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধুর
নেতৃত্বে
১৯৭১
সালের
মুক্তিযুদ্ধের
মাধ্যমে
আমরা
স্বাধীনতা
অর্জন
করি।
বাংলাদেশ
তৃতীয়
বিশ্বের
প্রথম
দেশ,
এটি
একটি
রাষ্ট্রের
ভূখণ্ড
থেকে
বিচ্ছিন্ন
হয়ে
স্বাধীনতা
অর্জন
করে।
১৯৭২
সালে
যখন
রওনক
আপার
এ
বই
প্রকাশিত
হয়,
তখন
এটি
বিশ্বজুড়ে
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী,
শিক্ষক,
শিক্ষার্থী
সবার
দৃষ্টি
আকর্ষণ
করে।
কারণ
হিসেবে
এক.
বইটি
প্রকাশের
সময়কাল
ও
বিষয়বস্তু;
দুই.
গ্রন্থটিকে
বলা
যায়
একটি
আকর
গ্রন্থ
বা
‘সেমিনাল
ওয়ার্ক’।
প্রফেসর রওনক জাহানের একজন ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত। নানা কারণে তার সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। পাশাপাশি আরো যাদের শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি তার মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক বি কে জাহাঙ্গীর ও অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী। এ থেকে বোঝা যায়, সে সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ কতটা সমৃদ্ধ ছিল। আমি বরাবরই ভীষণ সিরিয়াস স্টুডেন্ট ছিলাম, যা শিক্ষকদের নজরেও আসে। রওনক আপা তখন বিভাগীয় চেয়ারপারসন। তিনিসহ অন্যান্য শিক্ষক আমাকে তাই কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতেন।
মুক্তিযুদ্ধের আগের
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগ
ও
পরের
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগের
মধ্যে
পার্থক্য
অনেক।
আগেরটা
ছিল
তত্ত্বভিত্তিক।
কিন্তু
১৯৭২
সালের
পর
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
মধ্যে
বিজ্ঞান,
বৈজ্ঞানিক
পদ্ধতি
ব্যবহার
করে
রাষ্ট্র,
সরকার,
রাজনীতি,
রাজনৈতিক
দল
ব্যবস্থা
ইত্যাদি
বিশ্লেষণ
চলে
আসে।
আরেকটা
হলো
কম্পারেটিভ
পলিটিকস
বা
তুলনামূলক
রাজনীতি।
বাংলাদেশের
রাজনীতির
সঙ্গে
অন্যান্য
দেশের
রাজনীতির
তুলনার
বিষয়টিও
আসে।
রাজনীতির
কোয়ান্টিফিকেশন
অর্থাৎ
রাজনীতি,
সমাজবিজ্ঞান
ও
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
অধ্যয়নের
ক্ষেত্রে
যে
কোয়ান্টিটেটিভ
মেথড
বা
সংখ্যাতত্ত্ব,
পরিসংখ্যান,
তথ্য
সাজিয়ে
বিষয়বস্তু
তুলে
ধরার
বিষয়ের
সঙ্গেও
আমরা
এ
সময়ে
পরিচিত
হই।
এভাবে
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
ডিসিপ্লিনে
তখন
নতুন
অধ্যায়ের
সূচনা
হয়।
রওনক আপা
আমাদের
মাস্টার্সে
‘সোশ্যাল
চেঞ্জ
অ্যান্ড
ডেভেলপমেন্ট’
বিষয়টি
পড়াতেন।
এলিট
থিওরি,
পলিটিক্যাল
সায়েন্সের
রিসার্চ,
গেম
থিওরির
মতো
বিষয়গুলোর
সঙ্গে
আমরা
পরিচিত
হই।
কাজেই
বলতে
পারি,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
অধ্যয়নের
ক্ষেত্রে
একটা
নবতর
অধ্যায়ের
সূচনাকালে
রওনক
জাহানদের
মতো
শিক্ষকদের
আমরা
পেয়েছি।
তিনি যেমন
হার্ভার্ড
থেকে
পিএইচডি
করেছেন,
তেমনি
তালুকদার
মনিরুজ্জামান
স্যার
কুইন্স
বিশ্ববিদ্যালয়
(কানাডা) থেকে
আর
নাজমা
চৌধুরী
আপা
লন্ডন
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
প্রফেসর
ডব্লিউ
এইচ
মরিস-জোনসের
অধীনে
পিএইচডি
করেন।
আমি
ছিলাম
মরিস-জোনসের
সর্বশেষ
পিএইচডি
ছাত্র।
এজন্য
আমি
গর্বিত।
তখন
আমাদের
শিক্ষকরা
বিদেশের
স্বনামধন্য
প্রতিষ্ঠানে
পড়াশোনা
করেছেন,
গবেষণা
করেছেন,
উচ্চতর
ডিগ্রি
লাভ
করেছেন,
তারপর
আমাদের
পড়িয়েছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
ডিসিপ্লিনে
যে
পরিবর্তনগুলো
হচ্ছে
তারা
তা
অনুসরণ
করেছেন,
আত্মস্থ
করেছেন।
কাজেই
ওই
সময়টা
ছিল
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগ
ও
পড়াশোনার
জন্য
একটা
টার্নিং
পয়েন্ট।
রওনক আপা
এককথায়
একজন
আদর্শ
শিক্ষক।
তিনি
শিক্ষকতার
পাশাপাশি
আন্তর্জাতিক
বিভিন্ন
সংস্থার
হয়ে
কাজ
করছেন।
তিনি
অনেক
ভালো
সংগঠকও।
কাজ
করেছেন
নারীর
ক্ষমতায়ন
নিয়ে।
আমি
যখন
জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য
ছিলাম
তখন
বঙ্গবন্ধু
মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশ
গবেষণা
ইনস্টিটিউটে
‘বঙ্গবন্ধুর
রাজনীতি
ও
দর্শন’
নিয়ে
তাকে
বিশেষ
বক্তৃতাদানের
জন্য
আমন্ত্রণ
জানাই।
মনে
হচ্ছিল,
আমি
ক্লাসরুমে
বসে
আছি
আর
আপা
লেকচার
দিচ্ছেন।
ক্লাসে আমি
সবসময়
সামনের
বেঞ্চে
বসতাম।
অনেক
সময়
দেখা
যেত
আমি
একা
একা
প্রথম
বেঞ্চে
বসে
আছি,
আমার
সহপাঠীদের
সবাই
পেছনের
দিকে
বসেছে।
বিশেষ
করে
অধ্যাপক
মোজাফফর
আহমেদ
চৌধুরী
স্যারের
বকা
খাওয়ার
ভয়ে।
রওনক
আপা
তার
কোনো
ক্লাস
বাদ
দিয়েছেন
বা
অনুপস্থিত
রয়েছেন—এটা
স্মৃতিতে
আসে
না।
কোনো
দিন
কোনো
ক্লাস
নিতে
না
পারলে
পরে
বিকল্প
ক্লাস
নিতেন।
যারা
ভালো
ছাত্র
ছিল
তাদের
প্রতি
বিশেষ
খেয়াল
রাখতেন।
রওনক
আপা
ছিলেন
অসাধারণ
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন।
মনে
আছে,
তাকে
হেঁটে
আসতে
দেখলে
মুহূর্তের
মধ্যে
করিডোর
খালি
হয়ে
যেত।
একদিকে
আপা
ছিলেন
ভীষণ
স্নেহপরায়ণ,
আবার
অন্যদিকে
দৃঢ়
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন।
চরিত্রের
এ
দুটি
দিকের
মধ্যে
ভারসাম্য
স্থাপন
করাটা
কঠিন।
তিনি যখন
ক্লাস
নিতেন
পিনপতন
নীরবতা
থাকত।
ক্লাসে
তার
কথাগুলো
আমাদের
চিন্তার
জগেক
নাড়া
দিত।
সে
সময়
যারা
শিক্ষক
তাদের
পেশাদারিত্ব
নিয়ে
বলতে
হয়।
আজ
সবার
মতো
বিভিন্ন
পদপদবি
নিয়ে
তারা
ছোটাছুটি
করতেন
না।
অধ্যাপক
রওনক
জাহান
যদি
‘পাকিস্তান:
ফেইলিউর
ইন
ন্যাশনাল
ইন্টিগ্রেশন’
বইটির
পর
আর
কোনো
বই
নাও
লিখতেন,
তাহলেও
তিনি
পূজনীয়
হয়ে
থাকতেন।
তার এ
বইটিতে
পাকিস্তানের
শাসকগোষ্ঠী
বিশেষ
করে
আইয়ুব
খানের
শাসন
ব্যবস্থা
নিয়ে
আলোচনা
করা
হয়েছে।
তারা
রাষ্ট্র
নির্মাণ
ও
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
দিকে
বেশি
নজর
দিয়েছে।
কিন্তু
পূর্ব
পাকিস্তান
থেকে
পশ্চিম
পাকিস্তানের
যেখানে
ন্যূনতম
এক
হাজার
মাইলের
দূরত্ব,
সেখানে
উন্নয়নের
সুফল
একই
হবে
না।
তাছাড়া
জাতি
গঠনের
দিকে
মনোযোগহীনতার
পাশাপাশি
বৈষম্য
বাড়িয়েছে।
মূল
কথা
হলো,
আমরা
বাঙালিরা
পাকিস্তানিদের
থেকে
সম্পূর্ণ
ভিন্ন।
আমাদের
ইতিহাস,
ঐতিহ্য,
সংস্কৃতি
সবই
তাদের
থেকে
আলাদা।
রওনক
জাহান
হার্ভার্ডের
জন
এফ
কেনেডি
স্কুল
অব
গভর্নমেন্টে
জ্যেষ্ঠ
গবেষক
হিসেবে
ছিলেন,
কলাম্বিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ে
অধ্যাপনা
করেছেন,
বোস্টন
বিশ্ববিদ্যালয়সহ
আরো
বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানে
অধ্যাপনা
করেছেন।
অনার্সে আমি
প্রথম
হয়েছিলাম।
তাই
মাস্টার্স
পরীক্ষার
ফলাফল
প্রকাশের
আগেই
আমি
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে
আবেদন
করি।
মাস্টার্সে
আমি
প্রথম
শ্রেণীতে
প্রথম
হই।
অধ্যাপক
রওনক
জাহান
ও
অন্যান্য
যে
শিক্ষকের
নাম
বললাম
তারা
ছিলেন
আমার
অনুকরণীয়
ব্যক্তিত্ব।
ইন্টারভিউ
বোর্ডে
ছিলেন
রওনক
আপা।
তাই
বলব
তার
হাত
ধরেই
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে
আমি
যোগদান
করি।
আমাদের
সময়
মাস্টার্সে
প্রথম
শ্রেণীতে
প্রথম
হলে
তাকে
পুরস্কার
হিসেবে
বই
দেয়া
হতো।
তিনশ
টাকার
মধ্যে
বই
নির্বাচনের
সুযোগ
থাকত।
আমি
তখন
রওনক
আপার
পাকিস্তান:
ফেইলিউর
ইন
ন্যাশনাল
ইন্টিগ্রেশনসহ
আরো
তিনটি
বইয়ের
নাম
দিয়েছিলাম।
এটা
এখনো
আমার
কাছে
আছে।
শিক্ষক ও
ছাত্রের
সম্পর্ক
এমন
একটি
সম্পর্ক,
যা
অন্য
কিছু
দ্বারা
পূরণ
করা
সম্ভব
হয়
না।
বাংলা
একাডেমি
থেকে
আমার
লেখা
‘মূলধারার
রাজনীতি
বাংলাদেশ
আওয়ামী
লীগ:
কাউন্সিল
১৯৪৯-২০১৬’
নামে
একটি
বই
২০১৬
সালে
প্রকাশিত।
বইটি
ইউজিসির
শ্রেষ্ঠ
গবেষণাগ্রন্থ
হিসেবে
পুরস্কার
অর্জন
করে।
আমি
পরে
জেনেছি,
বইটির
রিভিউ
বোর্ডে
অধ্যাপক
রওনক
জাহানও
ছিলেন।
আমার
ধারণা,
বইটি
পাঠ
করে
তিনি
আমাকে
সর্বোচ্চ
নম্বর
দিয়েছেন।
কাজেই
শিক্ষা
জীবনে
যেমন
সর্বোচ্চ
নম্বর
পেয়েছি,
গবেষক
হিসেবেও
তার
সদয়
দৃষ্টি
লাভ
করতে
সক্ষম
হয়েছি।
এজন্য
আমি
কৃতজ্ঞ।
রওনক আপা
বর্তমানে
সিপিডির
ডিস্টিংগুইশড
ফেলো।
এখনো
তিনি
গবেষণার
কাজ
করে
যাচ্ছেন।
তিনি
তার
কাজের
প্রতি
আজও
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আজকের
সময়ের
বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষকেরা
একটা
পদবির
জন্য
ছোটাছুটি
করেন।
কিন্তু
তারা
কেউই
অধ্যাপক
রওনক
জাহানদের
মতো
নিষ্ঠাবান
ও
কাজের
প্রতি
প্রতিশ্রুতিশীল
হতে
পারবেন
না।
কিংবা
তারা
কেউই
একজন
অধ্যাপক
রওনক
জাহান
হতে
পারবেন
না।
অধ্যাপক
রওনক
জাহানকে
আজকের
এ
পর্যায়ে
আসার
জন্য
কিন্তু
উপাচার্য
হতে
হয়নি।
পাণ্ডিত্য
ও
গবেষণায়
তার
অবদানের
মাধ্যমে
তিনি
নিজ
অবস্থান
করে
নিয়েছেন।
বহু
উপাচার্য
হারিয়ে
যাবে,
কিন্তু
অধ্যাপক
রওনক
জাহান
চিরস্মরণীয়
হয়ে
থাকবেন।
ড. হারুন-অর-রশিদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ





