আমি
যখন
কলেজে
পড়ি
সিভিকস
ছিল
আমার
সবচেয়ে
অপ্রিয়
বিষয়।
সে
কারণে
পরে
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
পড়ব
তা
ভাবার
প্রশ্নই
ওঠে
না।
অ্যাকসিডেন্টালি
ভর্তি
হয়ে
গেলাম
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে।
ইতিহাস
বিভাগে
ভর্তির
জন্য
লাইনে
দাঁড়িয়েছি।
উল্টো
দিকে
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগ।
সেখানে
দাঁড়িয়ে
আমার
স্কুল
ও
কলেজের
বাল্যসখী
মেহের
নিগার।
সে
রীতিমতো
হাত
ধরে
টেনে
নিয়ে
এল
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে।
কোনো
কারণ
ছাড়া।
শুধু
দুই
বান্ধবী
একসঙ্গে
পড়ব
বলে।
আমার
ফুফাতো
ভাই
এসআই
খান
এ
বিভাগ
থেকেই
সদ্যপাস
করেছেন।
তিনি
শুনে
বললেন,
‘খুব
ভালো
করেছো
এখানে
ভর্তি
হয়েছো।
এ
বিভাগে
দারুণ
দারুণ
সব
শিক্ষক
আছেন।
রওনক
জাহান,
ওই
যে
কলাম্বিয়া
ইউনিভার্সিটি
প্রেস
থেকে
যার
বই
বেরিয়েছে,
তিনি
তো
ছিলেন
আমাদের
চেয়ারপারসন।’
একটু
থেমে
আবার
বললেন,
‘ধুর
ছাই,
মনে
আসছে
না
কী
যেন
তার
বইটার
নাম
Pakistan
: Failure in National Integration. তিনি
কিন্তু
হার্ভার্ডের
পিএইচডি।
ক’জন
আছেন
এ
বিশ্ববিদ্যালয়ে
হার্ভার্ডের
পিএইচডি?
তাছাড়া
সর্দার
ফজলুল
করিম,
তালুকদার
মনিরুজ্জামান,
এমাজউদ্দীন
আহমদ,
নাজমা
চৌধুরী
থেকে
জাহাঙ্গীরদের
মতো
শিক্ষক
পাবে
এই
বিভাগে।’
তার কথার
গুরুত্ব
অল্পদিনের
মধ্যেই
উপলব্ধি
করতে
পারলাম।
প্রথম
বর্ষে
পেয়ে
গেলাম
সর্দার
স্যারকে
আর
টিউটোরিয়ালে
পেলাম
নাজমা
ম্যাডামকে।
দ্বিতীয়
বর্ষে
এসে
রিসার্চ
মেথডোলজি
সুযোগ
হয়ে
গেল
রওনক
আপার
ছাত্রত্ব
লাভের।
পড়ার
যে
আনন্দ
আছে
তারাই
যেন
ধরিয়ে
দিলেন।
মুগ্ধ
হয়ে
শুনতাম
একেকজনের
লেকচার।
বিভাগের
বারান্দায়
ঘোরাফেরা
করি।
ব্যালকনির
পাশে
দাঁড়িয়ে
বান্ধবীরা
সব
আড্ডা
দিই।
আসলে
একটা
অমোঘ
আকর্ষণে
অপেক্ষা
করি।
কখন
ক্লাস
শেষে
নাজমা
ম্যাডাম
বা
রওনক
আপা
তাদের
ঘরে
ঢুকবেন।
দুজন
কিন্তু
দুই
রকমের।
একজন
গম্ভীর।
নিজের
চারপাশে
একটা
কাচের
দেয়াল
গড়ে
রাখেন।
আর
একজন
সহজেই
ডেকে
কথা
বলেন।
দুজনকেই
ভীষণ
ভালো
লাগে।
সামনে
ইনকোর্স
পরীক্ষা,
একটা
কিছু
বুঝতে
পারছি
না।
সাহস
করে
ঢুকে
পড়ি
রওনক
আপার
রুমে।
একবার
মনে
আছে,
আমাকে
দেখে
বললেন
আবার
কী
হলো,
আমি
বললাম,
স্টেট
না
বলে
অ্যালমন্ড
স্ট্রাকচার
কেন
বললেন?
হাসতে
হাসতে
বললেন,
এত
পড়ছ
কেন?
আমার
কাছে
তো
কেউ
৫০
শতাংশের
বেশি
পায়
না।
আমি
সাহস
করে
বলে
বসলাম,
‘আমি
ঠিক
পাব।’
তিনি
বললেন,
সে
দেখা
যাক।
তৃতীয় বর্ষে
উঠে
রওনক
আপা
পড়ালেন,
Political
Development and Social Change. সনাতন
সমাজের
অ্যাসক্রিপটিভ
ওরিয়েন্টেশন
আর
আধুনিক
সমাজের
অ্যাচিভমেন্ট
ওরিয়েন্টেশন
যেন
বিদ্যুতের
মতো
মাথায়
গেঁথে
ছিল।
অর্থনৈতিক
আধুনিকীকরণের
তত্ত্ব
কী
করে
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা
আমাদের
ডিসিপ্লিনে
টেনে
আনলেন
তার
কী
নিপুণ
ব্যাখ্যা!
কলা
ভবনের
২০২২-এর
ক্লাসে
তার
কণ্ঠস্বর
এখনো
কানে
বাজে।
এসব
তত্ত্বের
দুর্বলতা
মাস্টার্সে
এসে
স্পষ্ট
হয়েছে,
কিন্তু
রওনক
আপার
অসাধারণ
বোঝানোর
ক্ষমতা
আমাকে
শিক্ষক
হতে
আরো
বেশি
করে
উদ্বুদ্ধ
করেছে।
তৃতীয় বর্ষের
ক্লাস
প্রায়
শেষ।
তার
শেষ
ক্লাসে
রওনক
আপা
জানালেন
তিনি
ইউনাইটেড
নেশনসের
এশিয়া
প্যাসিফিক
ডেভেলপমেন্ট
সেন্টারে
নারী
উন্নয়ন
নিয়ে
কাজ
করতে
মালয়েশিয়া
চলে
যাচ্ছেন।
মনটা
কী
যে
খারাপ
হয়ে
গিয়েছিল।
এই
সর্বদা
হাস্যোজ্জ্বল
দারুণ
কনফিডেন্ট,
সর্বজ্ঞান
যার
দখলে
এমন
একজন
রোল
মডেলকে
মাস্টার্সে
উঠে
আর
দেখতে
পাব
না!
সে যা-ই
হোক।
সময়
বয়ে
গেল,
যথাসময়ে
এমএ
পাস
করে
বিভাগে
শিক্ষক
হিসেবে
যোগ
দিলাম।
এ
সময়
রওনক
আপা
দেশে
এসে
ডিপার্টমেন্টে
এলেন
এবং
আমাকে
নারী
উন্নয়ন
বিষয়ে
কাজ
করার
পরামর্শ
দিলেন।
নাজমা
আপাও
তাই
চাইতেন।
নারী
উন্নয়ন
নিয়ে
সরাসরি
কাজ
আমি
করিনি
বটে,
তবে
আমার
সব
কাজই
ভীষণভাবে
জেন্ডার
সেনসিটিভ।
নারী
অভিবাসনের
ওপর
আমার
বইটি
রওনক
আপাকে
খুশি
করেছিল।
এপিডিসি থেকে
আপা
চলে
গেলেন
জেনেভা।
নেতৃত্ব
দিলেন
গ্রামীণ
নারীর
কর্মসংস্থান
বিভাগের।
সে
সময়
আমি
অস্ট্রেলিয়ায়
পিএইচডি
করছি।
তাকে
আমার
বিষয়
জানাতে
তিনি
কিছু
ম্যাটেরিয়াল
পাঠালেন।
একসময়
আমার
রিসার্চ
শেষ
হলো।
সুপারভাইজার
নাম
চাইছেন
সম্ভাব্য
এক্সামিনারের।
আমার
মনে
হলো
রওনক
আপাকে
থিসিসটা
পড়াতে
পারলে
আমার
খুব
আনন্দ
হবে।
আপা
তখন
কলাম্বিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ে
সিনিয়র
রিসার্চ
স্কলার।
আপা
রাজিও
হলেন।
তবে
পরে
কোনো
কারণে
তা
আর
ফলপ্রসূ
হয়নি।
এর
পরও
আপার
সঙ্গে
আমার
যোগাযোগ
সবসময়
থেকেছে।
তার
স্নেহ
পেয়েছি।
সময়ে
সময়ে
পেয়েছি
প্রশংসা।
আমার
জন্য
তা
এক
বিশাল
প্রাপ্তি।
ছাত্রজীবনের একটা
মজার
গল্প
দিয়ে
শেষ
করব।
প্রথম
বর্ষের
ছাত্রছাত্রীদের
শিক্ষকদের
ব্যক্তিগত
বিষয়ে
বেশ
উৎসাহ
থাকে।
ক্লাসের
কোনো
ডেপো
ছেলে
এসে
জানাল
রওনক
আপা
না
বিয়ে
করেননি।
কারণ
তিনি
তার
মতো
যোগ্য
ছেলে
নাকি
খুুঁজে
পাননি।
সেই
ছেলে
ঠাট্টা
করে
বলেছিল—রওনক
আপার
ম্যাচ
তো
হতে
পারে
প্রফেসর
রেহমান
সোবহান
বা
ড.
মোশাররফ
হোসেনের
মতো
কেউ।
এর
চেয়ে
কম
হলে
তো
চলবে
না।
পরে
যখন
আপা
প্রফেসর
রেহমান
সোবহানকে
জীবনসঙ্গী
হিসেবে
বেছে
নিলেন
তখন
মনে
হলো—আমার
সেই
ডেপো
সহপাঠী
তো
ভুল
বলেনি।
ড. তাসনীম সিদ্দিকী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপারসন





