গত
শতাব্দীর
ষাটের
দশক
যেমন
ছিল
সারা
বাংলাদেশের
জন্য
এক
অবিস্মরণীয়
কাল,
তেমনি
ছিল
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
এক
কালজয়ী
ক্রান্তিকাল।
কীভাবে
১৯৬০-এর
দশকের
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়কে
ইতিহাসের
পাতা
থেকে
খুঁজে
বের
করা
যায়
তা
নির্ণয়
করা
খুবই
কঠিন।
তাহলেও
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইতিহাস
বিভাগকে
নিয়েই
শুরু
করা
যায়।
পুরো
ষাটের
দশকই
বিভাগটি
ছিল
এক
মেধা
ও
মনন
দিয়ে
ঘেরা
ঝকঝকে
শিক্ষার্থী
দিয়ে
পরিপূর্ণ,
যারা
পরবর্তী
সময়ে
দেশ
ও
জাতির
তথা
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা
ও
পরবর্তীকালের
উন্নয়নের
কাণ্ডারি
হয়।
এ
দশকের
যদি
সামান্য
কিছু
সময়
১৯৬১-১৯৬৫
নিয়ে
স্মৃতির
ভাণ্ডারে
হাত
বুলাই
তাহলে
অবাক
করা
কাহিনী
ও
মণিরত্ন
ছাড়া
আর
কিছু
পাওয়া
যাবে
না।
কেমন
করে
যেন
ছুটে
এল
১৯৬১
সালে
সারা
পূর্ব
বাংলার
আনাচ-কানাচ
থেকে
এক
একটি
হীরের
টুকরো।
সবার
নাম
আজ
এত
বছর
পরে
হয়তো
মনে
পড়বে
না,
তবু
চেষ্টা
করছি—আকবর
আলি
খান,
মোহাম্মদ
ইসমাইল
হোসেন,
আবদুল
মুয়ীদ
চৌধুরি,
আব্দুল
মান্নান
ভূঁইয়া,
মোস্তফা
জামাল
হায়দার,
আবু
আফছার,
মোহাম্মদ
সিরাজ,
সুলায়মান
খান
মজলিশ,
হিম্মত
আলীসহ
আরো
অনেকে।
আমি
তো
বটেই,
আমরা
এসে
আশ্রয়
পেলাম
শিক্ষা,
আচার,
আচরণ,
চিন্তাভাবনা
দিয়ে
সমৃদ্ধ
একঝাঁক
তারকাসুলভ
গুরু
যাদের
আলোকচ্ছটায়
আমরাও
হয়ে
গেলাম
আলোকিত
এবং
আস্তে
আস্তে
খুদে
তারকা।
তবে
আমাদের
মধ্যে
যে
সত্যিই
উজ্জ্বলতম
তারকা
হয়ে
উঠল
সে
আর
কেউ
নয়,
সে
হলো
বাংলাদেশের
খ্যাতিমান
ব্যক্তিত্ব,
বুদ্ধিজীবী
ও
নিকটতম
অতীতের
দক্ষ
প্রশাসক
ড.
আকবর
আলি
খান।
বাংলাদেশের বিভিন্ন
প্রান্ত
থেকে
আসা
সব
অচেনা
তরুণ
বন্ধু
হয়ে
গেলাম
গুরুর
তত্ত্বাবধানে
পরিচালিত
ক্লাসরুমে।
এমনি
এক
ক্লাসে
খুব
সম্ভবত
সন্তোষ
চন্দ্র
ভট্টাচার্য
স্যারের
ক্লাসে
আমাদের
সবার
সামনে
নিজেদের
পরিচয়
দিতে
হলো।
পরিচয়
শুনতে
শুনতে
বিস্মিত
হতে
থাকলাম
কিন্তু
একখানে
এসে
স্তম্ভিত
হয়ে
গেলাম
যখন
আকবর
আলি
তার
পরিচয়,
বিশেষ
করে
তার
শিক্ষাগত
পরিচয়ের
বর্ণনা
দিতে
থাকল।
দেখতে
ছোটখাটো
সাধারণ
চেহারা
কিন্তু
বুদ্ধিদীপ্ত
ও
উজ্জ্বল
মুখমণ্ডলের
অধিকারী।
এটি
সৌভাগ্যের
বিষয়
যে
আমরা
কেবল
একই
বিভাগে
পড়তাম
না,
আমরা
একই
ছাত্রাবাসে
অর্থাৎ
সলিমুল্লাহ
মুসলিম
হলের
আবাসিক
ছাত্রও
ছিলাম।
তাই
আকবর
আলির
সান্নিধ্য
পাওয়া
যেমন
দুর্লভ
হলো
না,
তেমনি
খুব
ঘনিষ্ঠও
হয়ে
উঠলাম।
হাই
হ্যালো
থেকে
গভীর
আলোচনা
চলতে
থাকে।
অসম্ভব
পড়ুয়া
ও
জ্ঞানগর্ভ
ব্যক্তিত্ব
ছিল
এ
আকবর
আলি।
তার
জীবনের
মূল
লক্ষ্যই
ছিল
বই
কেনা
আর
বই
পড়া—এমন
ব্যক্তি
যে
গুণী
হয়ে
উঠবে
তা
বলাই
বাহুল্য।
আর তখনই
মনে
হলো
এ
বন্ধু
বিদ্যমান
পাকিস্তান
রাষ্ট্র
ব্যবস্থাপনা
ও
তত্কালীন
পূর্ব
বাংলার
হালচাল
নিয়ে
কতটা
চিন্তান্বিত।
তখন
জানতাম
না
যে
সে
ভেতরে
ভেতরে
বামপন্থী
ছাত্ররাজনীতির
সঙ্গে
জড়িত
এবং
সলিমুল্লাহ
মুসলিম
হলের
ছাত্রনেতা
তথা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্রনেতাদের
সঙ্গেও
সে
জড়িত
এবং
বহু
গুরুত্বপূর্ণ
দলিল,
নীতিমালা
এমনকি
বক্তৃতার
খসড়াও
সে
করে
দিত।
এ
প্রসঙ্গে
আমার
আর
দুজন
বন্ধু
উঠতি
ছাত্রনেতা
(ভবিষ্যতের মন্ত্রী)—ইতিহাসের
ছাত্র
আবদুল
মান্নান
ভূঁইয়া
ও
মোস্তফা
জামাল
হায়দারের
কথা
বলতে
হয়—যারা
ছিল
আকবর
আলির
খুব
ঘনিষ্ঠ।
আকবর
ছিল
আমাদের
ব্যাচের
স্টার
এবং
জানতাম
নির্ঘাত
প্রথম
শ্রেণীতে
প্রথম
হয়ে
বিএ
অনার্স
ও
এমএ
পাস
করবে।
অবশেষে
তা-ই
হলো।
১৯৬০-এর
দশকে
পূর্ব
বাংলার
আর্থসামাজিক
প্রেক্ষাপটে
উচ্চশিক্ষিত
শিক্ষার্থীদের
জীবিকার
জন্য
কর্মক্ষেত্র
যে
সীমিত
ছিল
তা
বলাই
বাহুল্য।
তবে
একটি
প্রবণতা
ছিল
তা
হলো
সরকারি
চাকরি
করা।
এটি
নানাভাবেই
আমাদের
মানসিকতা
নির্ধারণ
করত।
তাই
আমরা
জানতামই
যে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সবচেয়ে
মেধাবী
শিক্ষার্থীরা
লেখাপড়া
শেষ
করে
তখনকার
দিনের
সবচেয়ে
উচ্চ
মর্যাদা,
ক্ষমতা,
সুখ-সুবিধার
ক্ষেত্র
পাকিস্তানের
সবচেয়ে
উচ্চ
পর্যায়ের
কর্মক্ষেত্র
সিভিল
সার্ভিস
অব
পাকিস্তানে
যোগ
দেবে।
যেখানে
অর্থ
ও
ক্ষমতা
দুটিই
থাকবে
এবং
তেমন
ইচ্ছে
থাকলে
দেশ
ও
দশের
জন্যও
কিছু
করতে
পারবে।
তাই
বলাই
বাহুল্য
আমাদের
ইতিহাস
বিভাগের
আকবর
আলি
খান,
ইসমাইল
হোসেন,
আবদুল
মুয়ীদ
চৌধুরী
প্রমুখসহ
সারা
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিভিন্ন
বিভাগের
শ্রেষ্ঠ
শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয়
পাঠ
শেষে
এ
কর্মক্ষেত্রে
প্রবেশের
জন্য
প্রস্তুতি
নিতে
থাকে।
কেবল
আমিই
মনে
হয়
একমাত্র
ব্যতিক্রম
যে
শিক্ষকতাকেই
প্রথম
ও
শেষ
পছন্দ
বলে
সিদ্ধান্ত
নিই।
সিভিল
সার্ভিস
পরীক্ষা
শেষে
ফলাফল
পেয়ে
আমরা
দারুণ
উল্লসিত
হলাম।
আমাদের
বন্ধু
আমাদের
পরিচিতদের
প্রায়
সবাই
এ
উচ্চমানের
জীবনে
প্রবেশের
সনদ
পেয়েছে,
আকবর
আলি
তো
বটেই।
আকবর
আলিরা
তখন
অন্য
প্রজাতির
মানুষ
হয়ে
উঠল।
কিন্তু
দুঃখ
হলো
এর
পর
থেকেই
আমাদের
মাঝে
ছাড়াছাড়ি
হলো,
যা
মোটামুটি
এক
ধরনের
চিরস্থায়ীই
হতে
চলল।
আকবর
চলে
গেল
লাহোর
ইত্যাদি
স্থানে
আমিও
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইতিহাস
বিভাগের
শিক্ষক
হয়ে
কিছুদিন
পর
পাড়ি
দিলাম
যুক্তরাজ্যের
অক্সফোর্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ে
উচ্চশিক্ষার
জন্য।
১৯৬০-এর
শেষ
কালে
এল
কালমেঘ,
যা
আমাদের
জীবনকে
যেমন
তছনছ
করে
দিল,
তেমনি
নিয়ে
এল
এক
নতুন
জীবন
আর
নতুন
পৃথিবী
পূর্ব
বাংলার
মানুষের
জন্য।
পাকিস্তানের
স্বৈরাচারী
শাসক
প্রেসিডেন্ট
আইয়ুব
খান
পূর্ব
বাংলায়
তার
অস্বাভাবিক
ক্ষমতা
ব্যবহার
এবং
পূর্ব
বাংলাকে
শোষণের
নীতি
নিয়ে
যেতে
থাকল
চরম
স্থানে।
আর
এ
শোষণ-অত্যাচারের
বিরুদ্ধে
গর্জে
উঠলেন
বাংলার
বন্ধু
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
তার
ছয়
দফা
দাবি
ও
অন্যান্য
প্রসঙ্গ
নিয়ে।
একপর্যায়ে
সবকিছুর
দুঃখজনক
অবস্থানের
পর
এল
আমাদের
ইতিহাসের
যেমন
সবচেয়ে
করুণ
তেমনি
বাঙালির
গর্ব
১৯৭১-এর
মুক্তিযুদ্ধ।
এ নিদারুণ
মানসিক
কষ্টের
সময়
আমরা
অক্সফোর্ডে
বাঙালি
শিক্ষার্থীরা
যা
করার
করলাম।
তবে
সারাক্ষণ
দুঃখ
ভারাক্রান্ত
মন
ও
চিন্তান্বিত
মানসিকতা
নিয়ে
চলতে
থাকলাম।
মুক্তিযুদ্ধ
চলাকালে
হঠাৎ
করে
আমি
এক
চিঠি
পেলাম
আমার
স্কুলের,
পরবর্তী
সময়ে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের,
সতীর্থ
কাজী
রকিবউদ্দিন
আহমেদের
(প্রাক্তন সেক্রেটারি
ও
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ
নির্বাচন
কমিশন)
কাছ
থেকে,
যা
পাঠানো
হয়
কলকাতা
থেকে।
এ
চিঠি
থেকে
জানলাম
বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধের
সর্বশেষ
চিত্র
এবং
আমার
বেশকিছু
বন্ধু
আকবর
আলিসহ
তাদের
বীরত্বপূর্ণ
নানাবিধ
সংগ্রামের
কথা
বাংলাদেশকে
স্বাধীন
করার
জন্য।
এই শুরু
হলো
আবার
যোগাযোগ,
যা
জীবনের
নানাবিধ
ভিড়ে
এখনো
মোটামুটিভাবে
চলমান।
আমি
নানা
কারণে
বেশ
কিছুদিন
ইংল্যান্ডে
থেকে
গেলাম।
অনেক
বছর
পরে
ফিরে
এলাম
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
অধ্যাপনার
দায়িত্ব
নিয়ে।
বহুদিন
পরে
ফিরে
এসে
স্বাধীন
বাংলাদেশকে
চিনতে-বুঝতে
কিছুটা
সময়
নিল।
কিন্তু
ফিরে
এসেই
যে
কাজটা
করলাম
বা
করা
হলো
তা
আমার
সেই
১৯৬০-এর
দশকের
সতীর্থদের
সঙ্গে
যোগাযোগ।
ফিরে
এসে
দেখলাম
আকবর
আলি
এখন
একজন
অত্যন্ত
প্রভাবশালী
প্রশাসক
ও
সেই
সঙ্গে
একজন
বুদ্ধিজীবী।
লেখালেখি,
বই
প্রকাশে
ব্যস্ত।
এমনি
সময়
আমার
এক
সুযোগ
এল
সহকর্মী
ও
স্নেহভাজন
অধ্যাপক
মুনতাসীর
মামুনের
মাধ্যমে
বাংলাদেশের
জাতীয়
আর্কাইভস
ও
জাতীয়
গ্রন্থাগারের
পরিচালকের
পদে
যোগ
দেয়ার।
আমার
এ
পদের
দায়িত্ব
নেয়ার
একমাত্র
উদ্দেশ্য
ছিল
এটি
এখন
কেমন
অবস্থায়
আছে
আর
এটিকে
নিয়ে
কী
করা
যায়?
যেহেতু
আর্কাইভসের
সঙ্গে
দেশের
সব
প্রশাসনিক
শাখার
এক
নিবিড়
সম্পর্ক
রয়েছে,
তাই
শুরু
করলাম
প্রতিষ্ঠানটিকে
আরো
সমৃদ্ধ
ও
আধুনিক
করার
উদ্দেশ্যে
প্রশাসনিক
পর্যায়ে
আমার
পরিচিত
ও
বন্ধুবান্ধবদের
সঙ্গে
যোগাযোগ।
কেননা
তাদের
সাহায্য-সহযোগিতা
ব্যতীত
প্রতিষ্ঠানটিকে
শক্তিমান
ও
আধুনিক
করে
গড়ে
তোলা
সম্ভব
নয়।
শুরু হলো
আকবর
আলির
সঙ্গে
নতুন
করে
ঘনিষ্ঠ
যোগাযোগ।
তার
কাছ
থেকে
সাহায্য-সহযোগিতা
ও
উপদেশ
এবং
সক্রিয়
পদক্ষেপ,
যাতে
বাংলাদেশ
জাতীয়
আর্কাইভসে
সরকারি
দলিলপত্র
নিয়ম
মেনে
সময়মতো
আসে।
এরই
মধ্যে
আকবর
আলি
একজন
অর্থনীতিবিদ
ও
ঐতিহাসিক
হিসেবেও
খ্যাতি
অর্জন
করেছে
তার
নানা
প্রকাশনার
মাধ্যমে।
বলাবাহুল্য
আর্কাইভসকে
কীভাবে
আরো
উন্নত,
আধুনিক
ও
গবেষণাবান্ধব
করা
যায়
তার
জন্য
আবেদন
এবং
পরামর্শও
পেয়েছি
তার
কাছ
থেকে।
ভাবতে
অবাক
লাগে
কেমন
করে
যেন
আমি
দীর্ঘ
সময়
আর্কাইভসের
দায়িত্বে
ছিলাম;
যখন
নানাভাবে
এটিকে
সমৃদ্ধ
করার
চেষ্টা
করেছি।
এমনকি
আর্কাইভসের
জন্য
একটি
বিশেষায়িত
ও
আধুনিক
ভবন
নির্মাণের
প্রক্রিয়ায়
সচেষ্ট
হয়েছি।
১৯৯৯
সালে
নতুন
ভবনের
ভিত্তি
স্থাপন
করেন
প্রধানমন্ত্রী
শেখ
হাসিনা।
এক্ষেত্রে
আমার
আরেক
বন্ধুর
কথাও
বলা
প্রাসঙ্গিক,
সে
হলো
প্রয়াত
মন্ত্রী
আবদুল
মান্নান
ভূঁইয়া।
সেও
আর্কাইভসকে
সমৃদ্ধ
করার
জন্য
বহু
সহায়তা
করেছে।
লেখাটা শেষ
করতে
হয়
আকবর
আলির
কিছুটা
মূল্যায়ন
করে।
এ
প্রসঙ্গে
প্রথমই
বলতে
হয়
যে
তার
মতো
এমন
মেধাবী
ব্যক্তি
দেশে
খুব
কম
ছিল।
নিষ্ঠাবান,
সততা
তার
চারিত্রিক
বৈশিষ্ট্য।
বলিষ্ঠ
চরিত্র
ও
সাহসিকতা
তার
প্রশাসনিক
জীবনকে
করেছিল
অর্থবহ
এবং
নিজেকে
পরিচয়
করিয়ে
দিতে
পেরেছিল
একজন
নির্ভীক
দেশপ্রেমিক
এবং
জনমানুষের
বন্ধু
হিসেবে।
ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়





