ড. আকবর আলি খান অত্যন্ত ‘প্রাইভেট’ মানুষ বলেই আমার ধারণা—বাঙালির অতি প্রিয় ‘পাস্টটাইম’ আড্ডা দেয়ার মানুষ তিনি নন। বরং একজন বইপোকা এবং নীরবে-নির্ভৃতে কাজ করার মানুষ তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর গত ৩০ বছরে যদিও ড. আকবর আলি খানের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমার একাধিকবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে, এমনকি তার বাসায় গিয়েও কয়েকবার আলাপ করেছি, চা খেয়েছি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে পদত্যাগের পর তার সঙ্গে আমার একাধিকবার অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাপ হয়। এসব আলাপে তিনি মূলত আমার এবং আমাদের (সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক) কার্যক্রম সম্পর্কেই জানতে চেয়েছেন। তাই ব্যক্তিগতভাবে ড. খান এবং তার কার্যক্রম সম্পর্কে গভীরভাবে জানার কখনো আমার সুযোগ হয়নি।

তবে আমি জানি যে, ড. আকবর আলি খান আমাকে অনেক পছন্দ করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সুজনের জাতীয় সম্মেলনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত সহস্রাধিক ব্যক্তির সামনে আমাকে পছন্দের কথা তিনি প্রকাশ্যভাবে ব্যক্ত করেছেন। অনুষ্ঠানে সুজনের বিভিন্ন কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সীমিত পরিমাণের ব্যক্তিগত ও পেশাগত মেলামেশা সত্ত্বেও ড. আকবর আলি খান আমার একজন অতি প্রিয় মানুষ। আমার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার সঙ্গে যখন সাক্ষাৎ হয়েছিল কিংবা কথা বলেছিলাম, তখন আমি শুধু পুলকিতই হই না, বিস্মিতও হয়েছি এবং চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা ও অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছি। স্ত্রী ও অকালে সন্তানহারা একজন মানুষ, যিনি নিজেও শারীরিকভাবে সুস্থ নন, তিনি তার অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞাপ্রসূত চিন্তা ও অবদান আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য রেখে যাওয়ার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন। চিন্তার খোরাক সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের বিবেক জাগ্রত করার অবিরাম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন অনেক রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেও। বস্তুত এটাই বুদ্ধিজীবী ও সমাজ চিন্তকদের কাছ থেকে গণমানুষ প্রত্যাশা করে। তার মতো অবস্থায় পৌঁছলে অনেকেই হয়তো সব বাদ দিয়ে ধর্ম-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন কিংবা অন্য কোনোভাবে অবসর জীবন-যাপন করতেন। কিন্তু তার অবস্থান থেকে নিজেকে ভাবলে মনে হয়, ড. আকবর আলি খান যদি এত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও অসুস্থ শরীর নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতেন, তাহলে আমি কেন পারব না!

ড. আকবর আলি খান নিঃসন্দেহে একজন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, গ্রামসির ভাষায় যাকে বলা যায় ‘অর্গানিক বুদ্ধিজীবী’। বহু ক্ষেত্রে রয়েছে মেধাবী এ মানুষটির পদচারণ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে রেখেছেন পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর। সহজ কথা অতি সহজে বলতে পারাই শুধু নয়, অনেক শক্ত কথাও তিনি সহজে বলতে পেরেছেন। তার সুখপাঠ্য বইগুলো পড়লে এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ বইতে অর্থনীতির মতো একটি নিরস বিষয়কে তিনি যেভাবে সহজ, আকর্ষণীয় ও সৃজনশীলভাবে উত্থাপন করেছেন তা অনেক পাঠককে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে, যার ফলে তিনি ছিলেন একজন পাঠকসমাদৃত, বহুল পঠিত লেখক। তার সুপাঠ্য প্রবন্ধের শিরোনামগুলোর দিকে তাকালেই—যেমন শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি, মোল্লা নাসিরউদ্দিনের অর্থনীতি, খোলা ম্যানহোলের রাজনৈতিক অর্থনীতি ইত্যাদি—তার সৃজনশীলতা ও সত্য বলার স্বাক্ষর মেলে।

ড. আকবর আলি খান আমার একজন প্রিয় মানুষ হওয়ার একটি বড় কারণ তার জীবনাদর্শ। সম্প্রতি সুজনের জাতীয় সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এথেন্সের ইতিহাসবিদ এবং বিখ্যাত পেলোপোন্নেসিয়ান যুদ্ধের জেনারেল থুসাইদাইদসের একটি উক্তি ব্যবহার করেন। উক্তিটি হলো, ‘The secret to happiness is freedom … and the secret to freedom is courage’। অর্থাৎ সুখের উৎস হলো স্বাধীনতা... আর স্বাধীনতার উৎস হলো সাহস। ড. আকবর আলি খানের জীবনের দিকে তাকালে আমি এ উক্তির পরিপূর্ণ প্রতিফলন দেখতে পাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১৯৪৪ সালে এক অজপাড়া গাঁয় জন্মগ্রহণ করা ড. আকবর আলি খান শৈশব ও কৈশোর থেকেই ছিলেন স্বাধীনচেতা ব্যক্তি, একজন নির্লোভ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষ। নিজের স্বীকৃতি অনুযায়ী একজন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ব্যক্তি না হলেও জীবনে নীতি-নৈতিকতার অতি উচ্চ মানদণ্ড তিনি ব্যবহার করেছেন। তিনি মনেপ্রাণে একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। সর্বোপরি পারিবারিক বিপর্যয়, নানা প্রতিকূলতা ও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি একজন সুখী মানুষ বলে আমার ধারণা এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াকু মনোভাব ও সাহসিকতা তার সহজাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। আমি নিজেও এমন জীবনাদর্শে বিশ্বাস করি—আর এজন্যই তিনি আমার জন্য অনুসরণীয়।

ড. আকবর আলি খানের স্বাধীনচেতা মানসিকতার একটি দৃষ্টান্ত পাই তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে। তার নিজের বয়ানে: ‘... উচ্চমাধ্যমিকের পর সবাই একবাক্যে উপদেশ দিলেন যে আমি যেন অর্থনীতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় আমি তর্কশাস্ত্র, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং বাংলা সাহিত্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাই। এই চারটি বিষয়ের মধ্যে আমি ইতিহাসকে বেছে নেই ... মুরব্বিদের উপদেশ অগ্রাহ্য করে আমি প্রায় জোর করে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হই।’ (পুরানো সেই দিনের কথা, পৃষ্ঠা: ১৩৮)

ড. আকবর আলি খানের অর্থের প্রতি নির্মোহ মানসিকতার আমরা পরিচয় পাই তার সাদা-মাটা জীবনযাপন এবং নিজের মেধা বিক্রি করে অর্থ আয়ের প্রচেষ্টা থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে। তিনি ইচ্ছা করলে অনেক নামিদামি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানে অতি উচ্চ পারিশ্রমিকে পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে পারতেন। তা না করে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা ও সার্বক্ষণিকভাবে লেখালেখিতে নিজেকে ব্যস্ত রেখে ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ড. আকবর আলি খান প্রতিশোধপরায়ণতা বিবর্জিত ও নির্লোভ মানসিকতাসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন। এর একটি দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই ইউনাইটেড হাসপাতালের অবহেলার কারণে তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেয়া থেকে। তার নিজের ভাষায়: ‘ইচ্ছা করলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে আমি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারতাম। আদালত হয়তো আমাকে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতেন, কিন্তু আমার স্ত্রীর প্রাণ তো আর ফিরে আসত না।’ (পুরানো সেই দিনের কথা, পৃষ্ঠা: ৮৪)

অর্থের প্রতি নির্লোভ হলেও ক্ষমতার লোভ একটি প্রায় সর্বজনীন মানবিক দুর্বলতা, বিশেষত আমাদের দেশে। বস্তুত নীতিগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিত্যাগ করার তেমন বড় দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে আছে বলে আমার জানা নেই। এক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ড. আকবর আলি খান ও তার অন্য তিনজন সহকর্মী সুলতানা কামাল, লে. জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী ও সিএম শফি সামী—২০০৬ সালের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। এটি শুধু এ চারজনের ব্যক্তিগত আত্মত্যাগই ছিল না, এটি ছিল ইতিহাস সৃষ্টিকারী একটি অসামান্য ঘটনা। ২০০৬ সালের ১১ ডিসেম্বর তারা চারজন পদত্যাগ না করলে এটি প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়, ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদত্যাগ করত না এবং ২২ জানুযারির নির্ধারিত একতরফা নির্বাচনও সম্ভবত হয়ে যেত, যার ফলে বাংলাদেশের পুরো ইতিহাসই ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতো। তবু নিয়তির পরিহাস, ড. আকবর আলি খান ও তার সহকর্মীদের একযোগে পদত্যাগের সরাসরি সুবিধাভোগীরাই পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন না করতে পারার সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও হাস্যকর অভিযোগ তোলেন।

নীতি-নৈতিকতার কারণে ড. আকবর আলি খান ছিলেন সর্বদা প্রতিবাদী ও আপসহীন। পুরানো সেই দিনের কথা বইতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বন্ধু মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে একজন কর্মকর্তার বৃত্তির টাকার জন্য উেকাচ দাবি করলে তিনি এবং তার কয়েকজন সহপাঠী তত্কালীন ডিপিআই শামসুল হকের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ প্রতিবাদের কারণে সমস্যাটির সমাধান হয়।

ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তার আপসহীনতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে রাজাকারদের শাস্তি দেয়ার জন্য রাজাকার দমন আইন পাস হলে এর আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছিলেন ড. আকবর আলি খান এবং শিক্ষামন্ত্রীকে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিতে বলেছিলেন। ‘বঙ্গবন্ধু আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশ সম্পর্কে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই’—শিক্ষামন্ত্রীর এমন জবাবেও দমে না থেকে তিনি আদেশের খসড়ার সঙ্গে আইনের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে নোটশিটে লেখেন। পরবর্তী সময়ে নোটশিটে লেখা বক্তব্যকে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমর্থন করেছিলেন। তার ভাষায়: ‘বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সচিবালয়ে একটি গুজব ছিল যে বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমি প্রশ্ন তুললাম এবং আমার কিছুই হলো না।’ (পুরানো সেই দিনের কথা, পৃষ্ঠা: ৩৩৮)

ড. আকবর আলি খানের অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিরও আমরা পরিচয় পাই তার বইয়ে। তিনি লিখেছেন: ‘তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী এই তিন বছর গুরুচরণ বাবু ছিলেন আমার গৃহশিক্ষক। সন্ধ্যায় তিনি আমাকে পড়াতে আসতেন। আমার সঙ্গে আমাদের পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সনাতন সাহার ছেলে বজ্রকিশোর সাহাও পড়ত। (ঝড়ের দিনে জন্ম হওয়াতে ওর ডাকনাম ছিল তুফাইন্যা।) আমরা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করতাম না। ওর বাবাও হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো প্রভেদ করতেন না, কিন্তু তুফাইন্যা ভিন্নমত পোষণ করত। শীতকালে যখন তুফাইন্যা আমাদের বাড়িতে পড়তে আসত, তখন তার গায়ে ভালো শীতের কাপড় থাকত না। একদিন খুব ঠাণ্ডা পড়াতে সে পড়ার সময় শীতে কাঁপছিল। আমি তাকে আমার চাদর এনে পরতে দিই। সে কোনোমতেই সেই চাদর গায়ে দিতে রাজি হয়নি। প্রশ্ন করাতে সে বলে, এই চাদরের গায়ে ‘শেইখ্যা শেইখ্যা’ অর্থাৎ ‘শেখ অথবা মুসলমানের’ গন্ধ করে।’ (পুরানো সেই দিনের কথা, পৃষ্ঠা: ১০৬)।

ড. আকবর আলি খান ছিলেন একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা। তার কিংবদন্তিমূলক সাহসিকতার বহু দৃষ্টান্ত মেলে মুক্তিযুদ্ধকালে তার অসাধারণ ভূমিকা থেকে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। অস্থায়ী সরকার গঠন হওয়ার আগে তিনি নিজ কর্মস্থল হবিগঞ্জে পুলিশের অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে যুদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করেন, নিজ হাতে তৈরি করেন অস্ত্র উন্মুক্তকরণের সরকারি লিখিত অনুমতি। পাশাপাশি অস্থায়ী সরকারের জন্য তহবিল গড়তে হবিগঞ্জ ন্যাশনাল ব্যাংকের টাকা ট্রাকে করে আগরতলা পৌঁছে দেন।

ড. আকবর আলি খানের মতে, ‘স্বাধীনতা একটা জাতির জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ।’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য—অন্য কিছুর জন্য নয়—যে স্বাধীনতাকে এথেন্সের ইতিহাসবিদ থুসাইদাইদস সকল সুখের উৎস বলে চিহ্নিত করেছেন। গত ৩ মে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ড. আকবর আলি খান তার নিজের ভাষায় এ কথারই প্রতিধ্বনি করেছিলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এজন্য গর্বিত নয় যে বাংলাদেশ হয়েছে বলে আজ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করেছি বা আমাদের লোকজন দেশ শাসন করছে। বরং আমি এ কারণে গর্বিত যে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার চেয়ে বড় অর্জন মনে হয় কিছু হতে পারে না।’ এমন জীবনাদর্শের জন্যই তিনি অনন্য, অন্য বুদ্ধিজীবীদের থেকে আলাদা ও অনুসরণীয়।

 

ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক

সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক