প্রতিভাদীপ্ত
শামসুল
হক
১৯১৮
সালের
১
ফেব্রুয়ারি
টাঙ্গাইলের
এলাসিন
গ্রামে
মাতুলালয়ে
জন্মগ্রহণ
করেন।
নিজ
গ্রামের
নাম
মাইঠান-টেউরিয়া।
ব্রিটিশবিরোধী
সংগ্রামী
ব্যক্তিত্ব
পিতা
দবির
উদ্দিন,
মাতা
শরিফুন্নেসা,
শিশু
জন্মের
পর
আকিকা
করলেন
এবং
শিশুটির
নাম
রাখলেন
মো.
শামসুল
হক।
শামসুল
হকের
পূর্বপুরুষ
মধ্যপ্রাচ্য
থেকে
১৪৮৩
সালে
হযরত
বাবা
আদম
ফকিরের
সঙ্গে
বিক্রমপুরে
আগমন
করেন।
অবশেষে
হানিফ
সরকার
অর্থাৎ
শামসুল
হকের
দাদামহ
টাঙ্গাইল
আগমন
করেন
১৮১৮
সালে।
মুসলিম
লীগের
সর্বভারতীয়
নেতা
মোহাম্মদ
আলী
জিন্নাহ,
শেরেবাংলা
একে
ফজলুল
হক,
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দী,
আবুল
হাশিম,
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীর
মতো
প্রবীণ
ও
সিনিয়র
নেতাদের
পরের
কাতারে
যে
তরুণ
নেতৃত্ব
সর্বতোভাবে
সক্রিয়
ছিল,
তাদের
পুরোভাগে
ছিলেন
এই
শামসুল
হক।
টাঙ্গাইলের
এক
সাধারণ
পরিবারে
জন্মগ্রহণকারী
শামসুল
হকের
মন-মানস
জন্মগতভাবেই
ছিল
দরিদ্র
শোষিতদের
প্রতি
সংবেদনশীল।
নিজের
চারপাশের
দরিদ্রতার
কষাঘাতে
জর্জরিত
মানুষদের
দেখে
দেখে
শামসুল
হকের
ভেতরে
যে
সামাজিক
সত্তা
জেগে
উঠেছিল
তাই
তাকে
প্রতিবাদী
ও
প্রগতিবাদী
রাজনীতির
স্রোতে
ঠেলে
দিয়েছিল।
শামসুল হক ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মাধ্যমে। করটিয়া সা’দত কলেজে থাকাকালেই তিনি সবার নয়নমণি হয়ে ওঠেন। সন্তোষ জাহ্নবী স্কুল থেকে ১৯৩৮ সালে অসাধারণ মেধা প্রদর্শন করে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর আইএ ক্লাসে ভর্তি হন করটিয়া সা’দত কলেজে। তখন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন সা’দত কলেজের রূপকার প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ। তিনি প্রথম দর্শনেই ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় তরুণ ছাত্র শামসুল হককে চিনে নেন। ফলে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ তার কলেজের ছাত্র সমস্যার প্রতিটি কাজে তার প্রিয় ছাত্রকে ডাকতেন। এ সময় শামসুল হকের লেখালেখির স্পৃহা দেখে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ তার দেয়াল পত্রিকা ‘বাতায়নে’ তার প্রিয় ছাত্রকে লেখার স্থান করে দেন। মূলত স্কুলজীবন থেকেই শামসুল হকের মধ্যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দেখা যায়। তিনি যখন করটিয়া সা’দত কলেজের ছাত্র, তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল বেজে ওঠে। সে সময় গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ভারতের স্বাধিকার আন্দোলন শুরু করেন। হিন্দু-মুসলিম যৌথভাবে এ আন্দোলনকে বেগবান করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আন্দোলন বেগবান করার জন্য তখন কংগ্রেস নেতারা নিয়মিত শামসুল হকের কাছে বার্তা পাঠাতেন; আর সে বার্তা অত্যন্ত গোপনে তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন। ব্রিটিশের কাপড় বর্জন করে হাতে কাটা সুতা দিয়ে খদ্দরের কাপড় পরিধান করতে তিনি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সফল হন। এ সময় ব্রিটিশের উপনিবেশগুলো একে একে হিটলারের দখলে চলে যাওয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য টলটলায়মান হয়ে ওঠে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের স্বাধিকার আন্দোলন নতুন দিকে মোড় নেয় এবং শামসুল হক এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪০
সালে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র
প্রতিনিধি
হিসেবে
ঐতিহাসিক
লাহোর
প্রস্তাবের
সর্বকনিষ্ঠ
সদস্য
হিসেবে
সক্রিয়
অংশগ্রহণ
ও
State বিতর্কে
States
এর
পক্ষে
মত
প্রকাশ
করেন।
এই
সময়
তিনি
দার্শনিক
আবুল
হাশিম,
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানী,
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দী
ও
শেরেবাংলা
এ
কে
ফজলুল
হকের
সঙ্গে
রাজনৈতিক
বন্ধনে
আবদ্ধ
হন
এবং
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সঙ্গে
পরিচিত
হন।
১৯৪৪-৪৫
সালে
ঢাকায়
প্রতিষ্ঠিত
ব্রিটিশবিরোধী
সংগঠন
‘মুসলিম
লীগ
কর্মী
শিবির’
স্থাপিত
হলে
এর
প্রধান
দায়িত্ব
তারই
ওপর
বর্তায়।
তিনি
নিষ্ঠার
সঙ্গে
দায়িত্ব
পালন
করেন।
তার
নেতৃত্বে
ঢাকার
রাজনীতি
অর্থাৎ
মুসলিম
লীগ
(জমিদার) খাজাদের
নিয়ন্ত্রণমুক্ত
হয়
এবং
জনগণের
রাজনীতি
প্রতিষ্ঠিত
হয়।
পূর্ববঙ্গের
রায়ট
বন্ধের
প্রতিনিধি
দল
নিয়ে
১৯৪৬
সালে
পাঞ্জাব
রায়ট
বন্ধে
তিনি
গুরুত্বপূর্ণ
অবদান
রাখলে
জিন্নাহ
তাকে
‘অল
ইন্ডিয়া
মুসলিম
লীগ
অর্গানাইজার’
খেতাবে
ভূষিত
করেন।
পাকিস্তান
হাসিলের
এক
সপ্তাহের
মাথায়
প্রগতিশীল,
গণতান্ত্রিক,
প্রতিবাদী
বাঙালি
নেতা
হওয়ায়
মুসলিম
লীগ
সরকার
তাকে
বহিষ্কার
করে।
১৯৪৯-এ
আওয়ামী
মুসলিম
লীগ
গঠনের
প্রি-রিকুইজিট
ফ্যাক্টর
হচ্ছে
শামসুল
হকের
টাঙ্গাইল
উপনির্বাচনে
জয়লাভ।
টাঙ্গাইলের
জনপ্রিয়
মুখ
হিসেবে
তিনি
সরকার
মনোনীত
প্রার্থীর
বিরুদ্ধে
প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
অবতীর্ণ
হলেন।
পূর্ববঙ্গের
তৎকালীন
চিফ
মিনিস্টার
নূরুল
আমীন,
শাহ
আজিজ,
রাজা
গজন
ফোরারী,
আব্দুর
রব
নিস্তার,
মোনায়েম
খান
প্রমুখের
সর্বাত্মক
প্রচেষ্টা
সত্ত্বেও
মুসলিম
লীগ
প্রার্থী
খুররম
খান
পন্নী
সর্বত্যাগী,
আদর্শ
গণতান্ত্রিক
নেতা
শামসুল
হকের
কাছে
শোচনীয়
পরাজয়
বরণ
করেন।
৮
মে
১৯৪৯
সালে
ঢাকাবাসীর
পক্ষে
‘পূর্ববঙ্গ
মুসলিম
লীগ
কর্মী
শিবির’
আইন
পরিষদ
সদস্য
জননেতা
শামসুল
হককে
ভিক্টোরিয়া
পার্কে
গণসংবর্ধনা
প্রদান
করে।
অনুষ্ঠানে
প্রধান
অতিথির
ভাষণে
শেরেবাংলা
এ
কে
ফজলুল
হক
বলেন,
‘ছেলেতুল্য
এই
শামসুল
হকই
বাংলার
ভাবি
প্রধানমন্ত্রী
হবে
এই
ভবিষ্যদ্বাণী
করছি।’
টাঙ্গাইলে
শামসুল
হকের
বিজয়
মুসলিম
লীগ
সরকারের
ওপর
অনাস্থাসহ
পাকিস্তানের
সংহতির
মূলেও
আঘাত
চিহ্ন
হিসেবে
ছিল
সুস্পষ্ট।
তৎকালীন
মুসলিম
লীগ
প্রভাবিত
দৈনিক
আজাদের
সম্পাদকীয়তে
বলা
হয়,
‘টাঙ্গাইলের
পরাজয়কে
এক
প্রকাণ্ড
বিপদ
সংকেত
বলিয়া
সকলকে
আজ
শপথ
গ্রহণ
করিতে
হইবে।
মুসলিম
লীগের
বিরুদ্ধে
উত্তোলিত
বিদ্রোহের
পতাকা
একদিন
সমগ্র
পাকিস্তানকে
আচ্ছন্ন
করিবে
কিনা,
মুসলিম
লীগ
এবং
পাকিস্তান
বিচ্ছিন্ন
ও
বিধ্বস্ত
হইবে
কিনা
এ
কথাও
হয়তো
এখন
হইতেই
চিন্তা
করিতে
হইবে।’
রাজনীতিতে
জমিদারের
বিরুদ্ধে
প্রজার
উত্থান
এ
ঐতিহাসিক
ইঙ্গিতটুকু
শামসুল
হকের
বিজয়ের
মাধ্যমে
অধিকতর
সুস্পষ্ট
হয়ে
ওঠে।
সমসাময়িক
লন্ডন
ডেইলির
ভাষ্য,
‘It is
not only a victory of Mr. Shamsul Haque, but it is a threatening to the
reactionary govenment of the world over.’
১৯৪৮
খ্রিস্টাব্দে
২
মার্চ
ফজলুল
হক
হলে
যে
বৈঠক
হয়
শামসুল
হক
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবি
প্রতিষ্ঠার
জন্য
আন্দোলনের
কৌশল
নিয়ে
আলোচনা
করেন।
আলোচনা
শেষে
শামসুল
আলমকে
আহ্বায়ক
করে
দ্বিতীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠিত
হয়।
শামসুল
হক
ওই
সংগ্রাম
পরিষদের
অন্যতম
সদস্য
নির্বাচিত
হন।
দ্বিতীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
১১
মার্চ
১৯৪৮
খ্রিস্টাব্দে
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবিতে
দেশব্যাপী
হরতাল
পালনের
কর্মসূচি
গ্রহণ
করে।
ওই
কর্মসূচি
সফল
করার
জন্য
৩
মার্চ
১৯৪৮
খ্রিস্টাব্দে
১৪
জন
জননেতার
যুক্ত
স্বাক্ষরে
একটি
বিবৃতি
পত্রিকায়
প্রকাশিত
হয়।
এই
বিবৃতিতে
শামসুল
হক
স্বাক্ষর
করেন
(সূত্র: আনন্দবাজার
পত্রিকা)।
হরতাল
কর্মসূচিকে
এগিয়ে
নেয়ার
জন্য
বিভিন্ন
রকম
প্রস্তুতিমূলক
কাজে
শামসুল
হক
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
রাখেন।
১০
মার্চ
ফজলুল
হক
হলে
সংগ্রাম
পরিষদের
যে
সভা
অনুষ্ঠিত
হয়
তাতেও
শামসুল
হক
বলিষ্ঠ
ভূমিকা
পালন
করেন।
১১
মার্চ
হরতাল
চলাকালে
শামসুল
হক
মিছিল
ও
পিকেটিংয়ে
অংশগ্রহণ
করেন।
তিনি
একটি
মিছিলে
নেতৃত্ব
দেন।
একপর্যায়ে
আব্দুল
গনি
রোডে
সেক্রেটারিয়েটের
প্রথম
গেটে
তিনি
কয়েকজন
নেতাকর্মীকে
নিয়ে
অবস্থান
গ্রহণ
করেন।
তার
সঙ্গে
পুলিশের
তর্কবিতর্ক
হয়।
তিনি
পুলিশের
জুলুম
ও
নির্যাতনের
শিকার
হন
এবং
পুলিশ
তাকে
গ্রেফতার
করে।
১৫
মার্চ
৮
দফা
রাষ্ট্রভাষা
চুক্তি
স্বাক্ষর
হলে
চুক্তির
শর্তানুসারে
অন্যান্য
বন্দির
সঙ্গে
শামসুল
হক
মুক্তি
লাভ
করেন।
১৯৫২
খ্রিস্টাব্দে
ভাষা
আন্দোলনে
শামসুল
হক
ছিলেন
শীর্ষ
পর্যায়ের
নীতিনির্ধারক।
১৯৫২
খ্রিস্টাব্দে
২১
ফেব্রুয়ারি
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
হরতাল
কর্মসূচিকে
সামনে
রেখে
২০
ফেব্রুয়ারি
থেকে
সরকার
এক
মাসের
জন্য
ঢাকা
শহরে
১৪৪
ধারা
জারি
করে।
এ
সময়
করণীয়
বিষয়
নির্ধারণের
জন্য
৯৪
নং
নয়াবপুর
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
সদর
অফিসে
আবুল
হাশিমের
সভাপতিত্বে
সর্বদলীয়
সংগ্রাম
পরিষদের
এক
গুরুত্বপূর্ণ
বৈঠক
হয়।
শামসুল
হক
ওই
বৈঠকে
শান্তিপূর্ণভাবে
আন্দোলন
চালিয়ে
যাওয়ার
পক্ষে
বক্তব্য
প্রদান
করেন
এবং
১৪৪
ধারা
ভঙ্গ
করা
সমীচীন
হবে
না
বলে
মত
দেন।
শামসুল
হকের
যুক্তিগুলো
ছিল
প্রথমত,
তারা
নিয়মতান্ত্রিক
আন্দোলনে
বিশ্বাস
করেন,
দ্বিতীয়ত,
গোলযোগে
সরকার
প্রস্তাবিত
সাধারণ
নির্বাচনকে
অনিশ্চয়তার
গর্ভে
নিক্ষেপ
করবে।
তৃতীয়ত,
ধ্বংসাত্মক
রাষ্ট্রবিরোধী
শক্তি
মাথাচাড়া
দিয়ে
উঠবে।
ফলে
১১-৪
ভোটে
প্রস্তাবটি
পাস
হয়।
২১
ফেব্রুয়ারি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র-জনতার
সমাবেশে
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
পক্ষ
থেকে
বক্তব্য
রাখার
জন্য
শামসুল
হক
সেখানে
আসেন
এবং
১৪৪
ধারা
না
ভাঙার
জন্য
বক্তব্য
রাখেন।
ছাত্ররা
সে
বক্তব্য
গ্রহণ
করেনি।
পরে
সভায়
১৪৪
ধারা
ভঙ্গের
সিদ্ধান্ত
হলে
শামসুল
হক
আন্দোলনের
পক্ষে
চলে
আসেন
এবং
চলমান
অন্দোলনের
সঙ্গে
একাত্মতা
ঘোষণা
করে
কর্মসূচিতে
সক্রিয়ভাবে
অংশগ্রহণ
করেন।
২১
ফেব্রুয়ারি
ছাত্র
হত্যার
পর
প্রথম
যে
ব্যক্তি
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
ভাষা
শহীদদের
মরদেহ
দেখতে
আসেন
তিনি
হলেন
শামসুল
হক।
পুলিশ
৯
জন
শীর্ষ
পর্যায়ের
ভাষা
সংগ্রামীর
নামে
২৮
ফেব্রুয়ারি
হুলিয়া
জারি
করে
গেজেট
করা
হয়।
হুলিয়া
জারির
পরও
শামসুল
হক
আত্মগোপন
করেননি,
গোপনে
তত্পরতা
চালাতে
থাকেন।
দেখা
মাত্র
গুলির
নির্দেশ
প্রকাশ
হলে
অবশেষে
১৯
মার্চ
১৯৫২
খ্রিস্টাব্দে
তিনি
স্বেচ্ছায়
ধরা
দেন।
কারাগারে
শামসুল
হক
মানসিক
সুস্থতা
হারান।
পাকিস্তান
সরকার
অবস্থা
বেগতিক
দেখে
১৯৫৩
সালের
১৩
ফেব্রুয়ারি
শামসুল
হককে
মুক্তি
দেন।
কিন্তু
মুক্তি
পেয়ে
শামসুল
হক
আর
স্বাভাবিক
জীবনে
ফিরে
আসতে
পারেননি।
রাজনৈতিক
ও
পারিবারিকভাবে
বিপর্যস্ত
হয়ে
উদভ্রান্তের
মতো
চিকিৎসাবঞ্চিত
পূর্ব
পাকিস্তানের
এক
প্রান্ত
থেকে
আরেক
প্রান্তে
ঘুরে
বেড়ান।
১৯৬৪
খ্রিস্টাব্দের
সেপ্টেম্বর
মাসে
তিনি
হঠাৎ
নিখোঁজ
হন
এবং
দীর্ঘ
৪২
বছর
তার
পরিণতি
নিয়ে
কিছু
জানা
যায়নি।
২০০৭
খ্রিস্টাব্দে
জানা
যায়
শামসুল
হক
সাহেব
১৯৬৫
খ্রিস্টাব্দের
১১
সেপ্টেম্বর
শনিবার
বাদ
জোহর
যোগারচরের
বিখ্যাত
কংগ্রেস
নেতা
মরহুম
মৌ.
মহির
উদ্দিন
আনছারীর
বাড়িতে
মৃত্যুবরণ
করেন।
মরহুম
আনছারীর
ছেলেরা
পূর্ব
পরিচিত
অসুস্থ
হক
সাহেবকে
বাড়িতে
রেখে
সেবা-যত্ন
চিকিৎসা
করান।
সাতদিন
চিকিৎসার
পর
নেতার
মৃত্যু
হলে
জিগাতলার
হুজুর
শামস
উদ্দিন
মওলানা
কর্তৃক
জানাজা
শেষে
নেতাকে
কদিম
হামজানি
কবরস্থানে
দাফন
করা
হয়।
তার
কবরটি
অযত্নে
অবহেলায়
রয়েছে।
রাজনৈতিক
নেতা
শামসুল
হক
বিস্মৃত
এক
নাম,
বিশেষ
করে
বর্তমান
প্রজন্মের
কাছে,
কেননা
ইতিহাসে
এই
নামটি
নেই
বললেই
চলে।
অথচ
বাঙালির
স্বাধিকার
আন্দোলনে,
ভাষা
আন্দোলনে,
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
প্রতিষ্ঠাতা
সাধারণ
সম্পাদক
হিসেবে
তার
ভূমিকা
ছিল
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
ভাষা
আন্দোলন
এবং
এ
দেশের
রাজনীতিতে
গুরুত্বপূর্ণ
অবদানের
জন্য
তিনি
অমর
হয়ে
থাকবেন।
ডা. মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন: সভাপতি, শামসুল হক ফাউন্ডেশন





