বদরুদ্দীন উমর উপমহাদেশের অন্যতম মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক। তিনি ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আবুল হাশিম ছিলেন উপমহাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির শীর্ষ নেতাদের একজন। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি এবং সংস্কৃতি পত্রিকার সম্পাদক। দেশভাগ, পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি নিয়ে তিনি অনেক গবেষণামূলক প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার তিন খণ্ডের গবেষণা গ্রন্থ ‘পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ এ দেশের রাজনৈতিক সাহিত্যে স্মরণীয় একটি গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। ভাষা আন্দোলনে শামসুল হকের ভূমিকা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শানজিদ অর্ণব ও আনিকা মাহজাবিন
১৯৪৮
সালের জানুয়ারিতে
ঢাকার ১৫০
নম্বর মোগলটুলীতে
মুসলিম লীগ
কর্মীদের একটি
ওয়ার্কার্স ক্যাম্প
হয়েছিল, যেখানে
শামসুল হকের
উল্লেখযোগ্য ভূমিকা
ছিল। বিষয়টি
আপনার পূর্ববাঙলার
ভাষা আন্দোলন
ও তৎকালীন
রাজনীতি গ্রন্থের
প্রথম খণ্ডে
পাই। সে
সময়ের রাজনীতিতে
শামসুল হকের
ভূমিকা নিয়ে
আপনার মূল্যায়ন
জানতে চাই।
১৯৪৭
সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এবং অন্যান্য অঞ্চলে মুসলিম লীগের ভূমিকা প্রথম থেকেই খুব খারাপ ছিল। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি চিন্তা প্রথম থেকেই ছিল। মুসলিম লীগের মধ্যে তথাকথিত বামপন্থী কর্মীরা ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজনও ছিলেন। ১৯৪৭ সালের জুলাইতেই তারা বুঝতে পারেন যে পাকিস্তানে এখন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দরকার। সে সময়ের সরকার যে জনগণের সরকার নয়, তা একেবারে শুরু থেকেই বোঝা গিয়েছিল। তখন প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অফিস ছিল ১৫০ নম্বর মোগলটুলীতে। সেখানে একটি মিটিং ডাকা হয়েছিল। তখন আমরা বর্ধমানে ছিলাম। আমি অন্যদের থেকে সাক্ষাৎকার নেয়ার মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। তাদের মধ্যে কামরুদ্দীন আহমদ ছিলেন অন্যতম। সভায় একটি সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে লক্ষ্যে তারা একটি ওয়ার্কার্স ক্যাম্প তৈরি করেছিলেন। ওয়ার্কার্স ক্যাম্পের উদ্যোগে ঢাকায় একটি সভা হয়েছিল। সভায় ‘গণতান্ত্রিক যুবলীগ’ নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়েছিল। সেখানে মুসলিম লীগের বামপন্থীরা ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টির কিছু কর্মীও যুক্ত হয়েছিলেন। এ যুব সংগঠন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কোনো কার্যক্রম ছিল না। ঈশ্বরদীতে আরেকটি সম্মেলন হয়েছিল। তারপর আর কিছু হয়নি। শামসুল হক তখন পূর্ব বাংলার বড় মাপের একজন নেতা ছিলেন। কাজেই তখন শামসুল হকের একটি ভূমিকা অবশ্যই ছিল।
আবুল
হাশিমের বড়
প্রভাব ছিল
শামসুল হকের
ওপর। আবুল
হাশিমের লেখা
ক্রিড অব
ইসলামের ওপর
ভিত্তি করে
তিনি বৈপ্লবিক
দৃষ্টিতে ইসলাম
শীর্ষক একটি
গ্রন্থ লিখেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে
বলবেন...
শামসুল
হকের ওপর আবুল হাশিমের প্রভাব ছিল। অন্যান্য নেতাকর্মীর ওপরও তার প্রভাব ছিল। শামসুল হকের সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক বছরের, ১৯৪৫ বা ১৯৪৬ সাল থেকে। তিনি বর্ধমানে আমাদের বাড়িতে যেতেন। আমাদের সঙ্গে দেখা হতো। এক রকম পরিবারের সদস্যের মতোই হয়ে গিয়েছিলেন শামসুল হক। দেশভাগের পরও একবার তিনি বর্ধমান গিয়েছিলেন। সম্ভবত ’৪৮ সালের শেষে কিংবা ৪৯ সালের শুরুর দিকে। আমাদের বাড়িতে থাকলেন অনেকদিন। মাসখানেক হবে। সে সময় আব্বা (আবুল হাশিম) ‘ক্রিড
অব ইসলাম’ বইটি লিখছিলেন। তার খানিকটা ডিকটেশন আমি নিয়েছিলাম। বাকি ডিকটেশন শামসুল হক সাহেব নিয়েছিলেন। এক মাস ধরে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। বর্ধমান থেকে শামসুল হক ঢাকা ফিরে এলেন। এর কিছুদিন পর কামরুদ্দীন সাহেব আব্বাকে একটি চিঠি লিখলেন। চিঠি মারফত জানা যায়, শামসুল হক সাহেব একটি বই লিখেছেন। বৈপ্লবিক দৃষ্টিতে ইসলাম। সে বইটির অধিকাংশ আব্বার ‘ক্রিড অব ইসলাম’ থেকে নেয়া। আব্বা জেনে খুব দুঃখ পেলেন অনুমতি না নিয়ে এ রকম করার কারণে। মাওলানা আজাদ সোবহানীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আব্বা রব্বানিয়তের দর্শন দাঁড় করিয়েছিলেন। বৈপ্লবিক দৃষ্টিতে ইসলাম বইয়ে রব্বানিয়ত নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন শামসুল হক। আমরা এখানে আসার আগেকার এসব ঘটনা।
মোহাম্মদ
আলী জিন্নাহর
সঙ্গে রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম পরিষদের
একটা মিটিং
হয়েছিল ১৯৪৮
সালের ২৪
মার্চ। সেখানে
শামসুল হকও
উপস্থিত ছিলেন।
এ পর্ব
নিয়ে যদি
বলেন...ভাষা
আন্দোলনের প্রাথমিক
সময়ে শামসুল
হকের ভূমিকা
নিয়ে আপনার
কাছে শুনতে
চাই।
জিন্নাহ
সাহেব ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসেছিলেন। তখন তিনি অনেকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে, উকিলদের সঙ্গে, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে। সংগ্রাম কমিটির সভায় জিন্নাহ সাহেবের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। সে সভায় অলি আহাদ ও শামসুল হক ছিলেন। আরো অনেকেই ছিলেন। অলি আহাদ জিন্নাহ সাহেবের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। আর শামসুল হক এক মজার কাণ্ড করলেন। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। তিনি একটি জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়তে বললেন। এতে জিন্নাহ সাহেব বেশ বিরক্ত হলেন। তিনি তো নামাজ পড়তেন না। তিনি মনে করলেন তাকে বিব্রত করার জন্য শামসুল হক এটি করেছেন। যা-ই হোক, শামসুল হকের নামাজ পড়াটা সে সময় একটি বিখ্যাত গল্প ছিল।
১৯৪৯
সালে টাঙ্গাইল
উপনির্বাচনে মুসলিম
লীগের প্রার্থী
খুররম খান
পন্নীকে পরাজিত
করেন শামসুল
হক। এ
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত
ও পরবর্তী
রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি
কেমন ছিল?
১৯৪৯
সালে নুরুল আমিন সরকার একটি উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয়। তখন বিরোধী দলের সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কে? শামসুল হকের চেয়ে উপযুক্ত কেউ তখন ছিলেন না। তিনি তখন খুব জনপ্রিয় ছিলেন। চমৎকার বক্তৃতা করতেন। শামসুল হক সাহেবকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হলো। টাঙ্গাইলের বিখ্যাত জমিদার পরিবারের সন্তান খুররম খান পন্নী ছিলেন মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো। খুররম খান পন্নীর সভায় সাধারণ মানুষ তেমন যেত না। কেবল মুসলিম লীগের মন্ত্রী ও সদস্যরা যেতেন। কিন্তু শামসুল হকের মিটিংয়ে প্রচুর জনসমাগম হতো। শামসুল হক একাধিকবার মুসলিম লীগের মিটিংয়ে গিয়ে মঞ্চ দখল করে বক্তৃতা করেছিলেন। মুসলিম লীগ অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেছিল। অন্যদিকে শামসুল হকের কোনো টাকা নেই। লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলে ওই নির্বাচনে ব্যয় করা হয়েছিল। এ দায়িত্ব ছিল কুমিল্লার খোন্দকার মোশতাক আহমদের ওপর। সাকল্যে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। সবাই নিজেদের পয়সায় গাড়ি ভাড়া করে সেখানে যেত। প্রচারণা চালাত। শামসুল হকের নিজের এক পাই-পয়সাও ছিল না। মুসলিম লীগের প্রতি মানুষ ছিল চূড়ান্ত বীতশ্রদ্ধ। এরই একটি প্রতিফলন নির্বাচনে হয়েছে। শামসুল হক তখন বিপুল ভোট পেয়েছিলেন। খুররম খান পন্নীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। শামসুল হক জিতেছিলেন। কিন্তু নুরুল আমিন সরকার তাকে অ্যাসেম্বলিতে বসতে দেয়নি। নির্বাচনের সময় একটি লিফলেট বেরিয়েছিল মওলানা ভাসানীর নামে। লিফলেটটিকে কেন্দ্র করে সরকার একটি মামলা করেছিল। ভাসানী তখন জেলে ছিলেন। জেলে থেকে লিফলেট বের করা তো তার পক্ষে সম্ভব নয়। এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করা হয়েছিল। মামলায় সরকারপক্ষ জিতে গিয়েছিল। আইনসভায় শামসুল হকের সদস্যপদ খারিজ করে দেয়া হয়েছিল। মুসলিম লীগ এসব অপকীর্তি করেছিল। সে সময় এখানকার রাজনীতিতে শামসুল হক সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
পূর্ব
পাকিস্তান আওয়ামী
মুসলিম লীগের
প্রতিষ্ঠালগ্নে দলের
জন্য ‘মূল
দাবী’ নামে
একটি পুস্তিকা
রচনা করেছিলেন
শামসুল হক।
এ রাজনৈতিক
দল প্রতিষ্ঠায়
তার ভূমিকা
নিয়ে বলবেন?
শামসুল
হক একটি সংগঠন করার কথা বলেছিলেন। আব্বা বেঙ্গল মুসলিম লীগের একটি ড্রাফট ম্যানিফেস্টো তৈরি করেছিলেন ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের আগে। সেটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিখ্যাত একটি ডকুমেন্ট। শামসুল হক তার ভবিষ্যৎ পার্টির জন্য তেমন একটি ম্যানিফেস্টো তৈরি করে দিতে আব্বাকে অনুরোধ করেন। আব্বা একটি ম্যানিফেস্টো লিখে দিয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম ম্যানিফেস্টো শামসুল হক তৈরি করেছিলেন। আব্বার রচিত ম্যানিফেস্টোটিই কিছুটা রদবদল করেছিলেন তিনি। আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় সেটি পাস হয়েছিল। এটিই ‘মূল দাবী’ নামে পরিচিত।
১৯৫২
সালের ২০
ফেব্রুয়ারি নবাবপুর
রোডে আওয়ামী
মুসলিম লীগ
অফিসে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
কমিটির বৈঠক
হয়েছিল আবুল
হাশিমের সভাপতিত্বে।
সেখানে আলোচনা
হয়েছিল ১৪৪
ধারা জারির
পরিপ্রেক্ষিতে করণীয়
বিষয়ে। শামসুল
হক ১৪৪
ধারা ভঙ্গের
বিপক্ষে ছিলেন।
ভাষা আন্দোলনের
এ চূড়ান্ত
পর্যায়ে শামসুল
হকের ভূমিকা
নিয়ে জানতে
চাই।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নবাবপুরে আওয়ামী লীগের মিটিং হয়েছিল। আবুল হাশিম সাহেব সেখানে সভাপতি ছিলেন। রাতভর অনেক আলোচনা হয়েছিল। অধিকাংশের ভোটে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। কেবল তিন-চারজন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ছিলেন। রাষ্ট্রভাষা কমিটির পক্ষ থেকে ছাত্রদের এ সিদ্ধান্ত জানানোর দায়িত্ব দেয়া হলো শামসুল হককে। যদি ছাত্ররা সিদ্ধান্ত মেনে নেয়, তাহলে ঠিক আছে। আর যদি তারা এর খেলাফ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা কমিটি যদি এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কিছু করে, তাহলে সর্বদলীয় কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সে অনুযায়ী শামসুল হক আমতলায় গিয়ে সর্বদলীয় কমিটির অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন। তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। আমতলার সে মিটিংয়ে আমিও ছিলাম। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিল। তখন শামসুল হক বললেন, যেহেতু সর্বসম্মতিক্রমে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুতরাং আমিও এর সঙ্গে একমত। তারপর তিনি জেলে গেলেন। জেলে থাকার সময় কী হলো কিছুই জানা যায় না। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হলেন। তার আগে উনি বিয়ে করেছিলেন। একটি মেয়েও হয়েছিল। জেলে থাকাবস্থায়ই তার মাথায় গণ্ডগোল হলো। যখন ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে এলেন, তখনো কিন্তু উনি ঠিক সুস্থ ছিলেন না। ক্রমশ তার অবস্থা খারাপ হতে লাগল। তখন আমরা গোপীবাগে রামকৃষ্ণ রোডের বাড়িতে থাকতাম। সেখানে তিনি মাঝে মাঝেই আসতেন। আমার মাকে মা ডাকতেন। খাওয়াদাওয়া করতেন। টাকাপয়সা চাইতেন। টাকাপয়সা কিছু দেয়া হতো। একসময় দেখা গেল খুবই অবস্থা খারাপ। ওনাকে আমি শেষ দেখেছিলাম জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। একটি ওষুধের দোকানের সামনে হাঁটছিলেন। পরনে ছেঁড়া কাপড়চোপড়, ময়লা। লোকের কাছে পয়সা চাইতেন। খুবই করুণ অবস্থা। সেটাই তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা। তারপর তার আর কোনো খবর জানতাম না। কিছুদিন পরে শুনলাম, তিনি মারা গেছেন। কোথায় মারা গেলেন, কীভাবে মারা গেলেন, তাও কিছু জানা যায় না। তার মরদেহও পাওয়া যায়নি। পরে ওনার ভাইপো টাঙ্গাইল থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি জানালেন, শামসুল হকের কবর চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে একটি অনুষ্ঠান হবে। আমাকে যাওয়ার জন্য বললেন। সে অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম। তখন একটি কবর দেখিয়ে ওনারা বললেন, এটি হচ্ছে শামসুল হকের কবর। শামসুল হকের যে কোনো ভূমিকা ছিল, বর্তমানে সেটিও তো শোনা যায় না। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে শামসুল হকের কোনো কথাই শোনা যায় না। অথচ শামসুল হক তখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ লোক ছিলেন। পার্টিশনের আগে তো ছিলেনই, তার পরেও দুই-তিন বছর যে আন্দোলন ছিল, সে আন্দোলনে শামসুল হক একদম প্রথম সারির শুধু নয়, একদম প্রথম লোক ছিলেন বলা চলে।





