সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘অসীম ও নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার’ শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে বলে জানিয়েছে শিশু অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কিডস রাইটস।

বুধবার এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, এ সংকট এখন ‘ধ্বংসাত্মক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা জরুরি ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

আমস্টারডামভিত্তিক এনজিওটি জানায়, বিশ্বজুড়ে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। এ বয়সী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে আত্মহত্যার গড় হার প্রতি লাখে ছয়জন।

তবে সংগঠনটির ভাষ্য, আত্মহত্যার এসব উচ্চহার ‘হিমশৈলের চূড়া’ মাত্র। কারণ বিভিন্ন সামাজিক কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ব্যাপকভাবে গোপন রাখা হয় ও কম রিপোর্ট করা হয়।

কিডস রাইটসের চেয়ারম্যান মার্ক ডুলার্ট বলেন, এ বছরের প্রতিবেদনটি একটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো সতর্কবার্তা, যা আমরা আর উপেক্ষা করতে পারি না। আমাদের শিশুদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সমস্যাযুক্ত’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার ও আত্মহত্যার প্রচেষ্টার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, সম্মিলিত নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান নয়। যেমন— অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার জন্য একটি আইন পাস করেছে। কিডসরাইটস বলছে, এই ধরনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা শিশুদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, বিশেষ করে তথ্য জানার অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ভালোভাবে বুঝতে হলে বিশ্বব্যাপী পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি শিশুদের সঠিক শিক্ষা দিতে হবে ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

প্রতিবেদনে নেটফ্লিক্সের একটি মিনি-সিরিজ ‘অ্যাডোলেসেন্স’ এর উল্লেখ করা হয়। এতে শিশুদের অনলাইনে দেখা ক্ষতিকর বিষয়বস্তু সামনে আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডুলার্ট বলেন, এই মিনি-সিরিজটি বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করেছে। তবে কেবল সচেতনতাই যথেষ্ট নয়। আমাদের এখন স্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ডিজিটাল বিপ্লব বিশ্বের ২২০ কোটি শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করে, বিপদ নয়।

তিনি আরো বলেন, অর্ধেক ব্যবস্থা নেয়ার সময় এখন শেষ।