আজ বিশ্ব বেতার দিবস। প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব বেতার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বেতার ও জলবায়ু পরিবর্তন’।
এই দিবসের লক্ষ্য জনসাধারণের মাঝে ও সংবাদমাধ্যমে বেতারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরকে বেতারের মাধ্যমে তথ্য সুলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বেতার সম্প্রচারকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পারস্পরিক মতামত ও তথ্য বিনিময় জোরদার করা। এছাড়াও এই দিনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে রেডিওর গুরুত্ব আলোচনা করা হয়।
২০১৪ সালে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ৩৬তম অধিবেশনে ১৩ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব বেতার দিবস ঘোষণা করা হয়।
২৪ ডিসেম্বর, ১৯০৬ সালে রেডিও বিজ্ঞানী রেজিনাল্ড ফেনসডেন রেডিও সম্প্রচার শুরু করেছিলেন। ১৯১৮ সালে দ্য ফরেস্ট নিউইয়র্কের হাইব্রিজ অঞ্চলে বিশ্বের প্রথম রেডিও স্টেশন চালু হয়। তবে তখন পুলিশ এটিকে অবৈধ বলেছিল এবং এটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
বেতার সম্প্রসারণে বিজ্ঞানী ড. জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি রেডিও এবং মাইক্রো ওয়েভসের অপটিক্সে কাজ করেছিলেন।
বাংলাদেশে বেতার সম্প্রচার শুরু হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সালে। প্রথম দিকে কেন্দ্রটি পুরনো ঢাকায় নাজিমুদ্দিন রোডে একটি ভাড়া করা বাড়িতে যাত্রা শুরু করে। প্রথম নামকরণ করা হয় ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র। পরবর্তীতে কেন্দ্রটি শাহবাগে স্থানান্তর করা হয়।
বেতার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ সম্প্রচার কেন্দ্র রেডিও পাকিস্তানে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্প্রচার করা হয়। যা চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গররত একটি জাপানি জাহাজ থেকে শোনা গিয়েছিল এবং তা পুনঃসম্প্রচার করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। ভারী গোলা বর্ষণের কারণে বেতারকেন্দ্রটি কয়েকবার স্থানান্তর করা হয়েছিল। শেষে ২৫ মে কেন্দ্রটি কলকাতায় সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, যেখান থেকে যুদ্ধের বাকি সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হতো।
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার পর এর নাম বদলে বাংলাদেশ বেতার করা হয়।
বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র্যালি, শ্রোতাসম্মেলন, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ আয়োজনে বাংলাদেশ বেতারের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিল্পী ও কলাকুশলীরা অংশগ্রহণ করবেন।









