ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরটায় ঢুকতেই মনে হচ্ছিল, বিজ্ঞান যেন হঠাৎ করেই ক্যাম্পাসজুড়ে প্রাণ পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা শুনছে কীভাবে সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বৃষ্টির পানি থেকে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেখছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। কৌতুহলী তরুণরা ভিড় করে শুনছে ইলেকট্রিক বাইকের সুবিধা আর ব্যবহার পদ্ধতি।

এটাই ছিল `সত্যেন বোস জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব ২০২৫'-এর প্রাণ। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির ঝলক—প্রদর্শনীগুলোতো কল্পনা আর প্রযুক্তির সংমিশ্রণে ফুটে উঠেছে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।

উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। অনুষ্ঠিত হয়েছে সায়েন্স অলিম্পিয়াড, আইটি হ্যাকাথন, উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, ইনোভেশন এক্সপো। প্রতিটি ইভেন্টেই দেখা গেছে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির ঝলক।

দুইদিন দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। অন্যদের সামনে উপস্থাপন করছেন তাদের উদ্ভাবন।

আয়োজনে আছে বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক খেলাধুলার প্রতিযোগীতাও। আয়োজনের প্রথম দিনে ছিল ওপেন রেটেড দাবা প্রতিযোগিতা। আর দ্বিতীয় দিনে রুবিক্স কিউব চ্যালেঞ্জ। আছে বিজ্ঞানসম্পর্কিত কুইজ প্রতিযোগিতাও।

উৎসবে শুধু প্রযুক্তি-নির্ভর প্রদর্শনী নয়, আছে পোস্টার ও গবেষণা উপস্থাপনের এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। ঢাকার বাইরের অনেক কলেজের শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন, মঙ্গলগ্রহে বসবাসের সম্ভাবনা, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কিংবা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চমৎকার গ্রাফিক ও ইনফো-ডেটা পোস্টার তৈরি করে এনেছে।

প্রদর্শনী স্টলগুলোর পরেই রয়েছে কয়েকটি বইয়ের স্টল। বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন বই উল্টেপাল্টে দেখছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা।

এই বিস্ময়কর প্রদর্শনীগুলোর পেছনে ছিল একটাই প্রেরণা—সত্যেন বোস। তাঁর নামেই এই বিজ্ঞান উৎসব, আর সেই সূত্রেই উৎসব ঘিরে একধরনের আবেগ কাজ করেছে বলে জানালেন আয়োজক মমিনুল ইসলাম বিধান। জানালেন উৎসবের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।

উৎসবের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বিজ্ঞান আড্ডা’। সহযোগিতায় রয়েছে ব্র্যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের বিভিন্ন অনুষদে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম এই ‘বিজ্ঞান আড্ডা’। বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও বিজ্ঞানমনস্কদের নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মমিনুল ইসলাম বিধান, উমামা ফাতেমা, সিয়অম হোসেন ও খন্দকার আফসিন আজাদ `সত্যেন বোস জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব ২০২৫'- এর উদ্যোক্তা।