চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি ও গণঅভ্যুত্থানে হওয়া প্রতিটি হত্যার বিচার দাবিতে আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর পূর্বাচলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) কনভেনশন ডেকেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। সেফটি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় আজ রোববার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ’ যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য কনভেনশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত জেলা ও উপজেলা থেকে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত শহীদ পরিবার এবং আহতদের তালিকা থেকে আনুমানিক চার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সরকারের সচিবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এ কনভেনশনে যোগ দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে যে যেসব শহীদ পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বাইরে থেকে আসবেন, পরিবহন মালিকেরা তাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের থাকা ও খাবারের সু-ব্যবস্থাও করা হবে। ঢাকা থেকে যেসব শহীদ ও আহত পরিবাররা যোগদান করবেন, তাদের জন্যও বিআরটিসি বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেয়া হবে। শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যদের সাধ্যমতো অনুদান এবং সরকারি-বেসরকারি স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে এ কনভেনশন আয়োজন করা হবে।
জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির চেয়ারম্যান ও শহীদ গোলাম নাফিজের বাবা গোলাম রহমান মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারকার্য সরাসরি দেখার সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির উপদেষ্টা ও শহীদ জাবিদ ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন বলেন, এই সরকার যেহেতু শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই এ সরকারের সময়সীমার মধ্যেই যাতে বিচারকার্যের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়, তার জন্য উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সহসভাপতি আবুল হাসান, শহীদ ইমন মিয়ার মা জহুরা বেগম, শহীদ মোবারক হোসেনের মা ফরিদা বেগমসহ শহীদ ও আহত পরিবারের অর্ধশতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা ক্লাব কর্তৃপক্ষ মানবিক এ কার্যক্রমের অংশ হতে পেরে এর পৃষ্ঠপোষক ‘সেফটি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ’-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ’কে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার বিষয়ে ক্লাব সভাপতি আশরাফুজ্জামান খান পুটন আশ্বাস প্রদান করেন। —বিজ্ঞপ্তি










