ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের ভলান্টিয়ার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানস্থ কার্যালয়ে ‘৬ষ্ঠ চট্টগ্রাম বই বিনিময় উৎসব’ এর সকল ভলান্টিয়ারকে নিয়ে ভলান্টিয়ার আড্ডা, কর্মশালা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করে স্টোরিটেলিং এ প্লাটফর্ম।
গত ১০ জানুয়ারি জামালখানে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজন করা হয় বই বিনিময় উৎসবের। যেখানে যেকোনো বয়সী যেকোনো পাঠকের জন্যই সুযোগ ছিল বই বিনিময় করার। ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ আয়োজিত এ বই বিনিময় উৎসবে এগারোটি ক্যাটাগরিতে প্রায় ২৩ হাজার বই বিনিময় করা হয় এ দিনটিতে।
বই বিনিময় উৎসবের ওপর ভিত্তি করে সাংগঠনিক দক্ষতা, একজন সংগঠকের দায়িত্ব ও কর্তব্য, বইপ্রেমী তৈরি করতে বই বিনিময় উৎসবকে ছড়িয়ে দেয়া এবং বই বিনিময় উৎসবের সম্ভাবনা শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্চ কমিটির সদস্য ও ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান সাগর। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বই বিনিময় উৎসব চট্টগ্রামের মানুষের কাছে জীবনের এক উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। এবারের বই বিনিময় উৎসবের আশাতীত সাড়া প্রমাণ করে আমরা বইপ্রেমীদের আস্থার জায়গায় পৌঁছে গেছি। সে জায়গা থেকে এখন আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য বেড়ে গেছে। বই বিনিময় উৎসবের কলেবর যত বাড়ছে আমাদের ততই নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। তাই প্রতিবার বই বিনিময় উৎসবের পর আমরা কর্মশালার আয়োজন করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের কর্মশালার আয়োজন।
সাগর জানান, এবারের কর্মশালার মূল কেন্দ্র আসন্ন ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী একত্রে বই বিনিময় উৎসব আয়োজনের জন্য দক্ষ ভলান্টিয়ার তৈরি। এ সময় তিনি আবির প্রকাশনী, অগ্নিবীণা পাঠাগার, খড়িমাটি প্রকাশনসহ যেসব প্রতিষ্ঠান বই বিনিময় উৎসবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। কর্মশালা শেষে আয়োজন করা হয় ভলান্টিয়ার আড্ডার।
আড্ডায় প্রধান অতিথি ছিলেন লেখক ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুকিত ওসমান চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে চট্টগ্রামের তরুণদের এমন এক মহতী উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশে জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান। চট্টগ্রামে পাঠক তৈরিতে এ বই বিনিময় উৎসব মহীরুহ হয়ে উঠবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুকিত।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বই বিনিময় উৎসবের সহ-সমন্বয়ক ঋত্বিক বড়ুয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবু নাসের আলিফ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাদমান ফাহিম, কাজী সদরুল্লাহ, আকিবুল ইসলাম জিশাদ, অহনা বড়ুয়াসহ অন্যান্যরা। ভলান্টিয়ার আড্ডায় ভলান্টিয়াররা বই বিনিময় উৎসবে থাকতে পেরে নিজেদের উচ্ছ্বাসের কথা জানান। প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে উৎসবের দিন অবধি প্রায় এক মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর বইপ্রেমীদের আশাতীত সাড়া দেখে তাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে এমনটাই জানান তারা। কেউ বা এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত ও মানবিক গুণাবলি তৈরি করতে পেরেছেন জানান তারা।
আড্ডা শেষে ভলান্টিয়ারদের সনদপত্র, বই ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এবার উদীয়মান সংগঠক পুরস্কার পেয়েছেন সাজেদ বিন হেলাল। সেরা ভলান্টিয়ারের পুরস্কার পেয়েছেন সুদীপ্ত পাল, শাহ মেহেদি হাসান, মুহতাদি নুর, জয়ন্তিকা চৌধুরী, আবরার চৌধুরী ও জোবায়ের আহমেদ।
৬ষ্ঠ বই বিনিময় উৎসবে সর্বমোট ৮৭ জন ভলান্টিয়ার বই বিনিময় উৎসব সফল করতে কাজ করেছেন। বই বিনিময় উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ।









