বাংলাদেশের পাঁচ বছরের নিচে বয়সী শিশুদের অপুষ্টি হ্রাস ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে একটি নতুন সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে। বুধবার গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ প্ল্যাটফর্মের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়কা সিরাজকে। সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন মাইক্রোগ্রো-এর নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমাম মাহমুদ রিয়াদ।

এ প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টি রোধে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কাজকে সমন্বিত ও বিস্তৃত করা। প্ল্যাটফর্মটি রাইট টু গ্রো বাংলাদেশ প্রোগ্রাম কনসোর্টিয়ামের কার্যক্রম ও উত্তম চর্চাসমূহকে সম্প্রসারণ করে একটি টেকসই, অংশগ্রহণমূলক এবং প্রভাবশালী আন্দোলন গড়ে তুলবে।

নেদারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় ২০২১ সাল থেকে পরিচালিত রাইটটুগ্রো প্রকল্প বাংলাদেশসহ আফ্রিকার আরও পাঁচটি দেশে শিশু পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশে এই প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। কনসোর্টিয়ামের অন্যান্য সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সেইভ দ্য চিলড্রেন, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, ওয়ার্ল্ড ভিশন, এইচএলপি ফাউন্ডেশন, জাগো নারী এবং সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি।

রাইট টু গ্রো কনসোর্টিয়ামের আওতায় পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও সাতক্ষীরার ৫টি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৭০০-এর বেশি অনূর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুকে নিয়মিতভাবে গ্রোথ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৪০টি ইউনিয়ন পরিষদকে উন্নততর পুষ্টিসেবা প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন রাইট টু গ্রো কর্মীদের পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার সুশীল সমাজ প্রতিনিধি এবং ২০০-এর বেশি স্থানীয় উদ্যোক্তা। এই উদ্যোগের ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে পুষ্টি খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে এই বাজেট ছিল মোট বাজেটের এক দশমিক ৪৫ শতাংশ, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে আঠারো দশমিক ৪৯ শতাংশে।

রাইট টু গ্রোর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনূর্ধ্ব ৫ শিশুদের খর্বকায়তার হার পঁইত্রিশ দশমিক নয় শতাংশ থেকে কমে এসেছে তেইশ দশমিক নয় শতাংশে, কৃশকায়তার হার চৌদ্দ দশমিক এক শতাংশ থেকে কমে তেরো দশমিক সাত শতাংশে এবং ওজন স্বল্পতার হার ছাব্বিশ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে কমে সতেরো দশমিক দুই শতাংশে। এ ছাড়া ১লাখ ৯১ হাজার ৯২০টি (সাতাশি শতাংশ) পরিবার স্বাস্থ্যকর পুষ্টি অনুশীলন অনুসরণ করছে এবং ১৮৭টি গ্রাম স্বাস্থ্যকর গ্রামে রূপান্তরিত হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সুজন সম্পাদক ও দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর সিনিয়র উপদেষ্টা ড. বদিউল আলম মজুমদার, এইচএলপি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, এক রঙা এক ঘুড়ি’র প্রতিষ্ঠাতা এস এম মাসুদুল ইসলাম নীল, জাগো নারী-এর নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা হাসি, সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক কে এম এনায়েত হোসেন, সমুদ্র সমাজ সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলাম, পায়রা সিএসও-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, সোনালী স্বপ্ন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি আবু তারিক খান এবং সোনালী ভবিষ্যৎ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. নাজরুল ইসলাম।

প্ল্যাটফর্মের সদস্য হিসেবে আরো যুক্ত হয়েছেন ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ টি এম তারিকুল ইসলাম, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর তপন কে চক্রবর্তী, সেইভ দ্য চিলড্রেন-এর পরিচালক তানিয়া শারমিন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর অপারেশন পরিচালক সাগর মারান্ডি।

২০২৫ সাল পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মের সেক্রেটারিয়েট হিসেবে সহায়তা দেবে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে অবস্থিত রাইটটুগ্রো প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট ইউনিট। এ ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন কনসোর্টিয়াম টিম লিডার মোহাম্মদ ইকবাল আজাদ এবং প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট গোলাম রহমানী কোরায়শী।

এটি আশা করা হচ্ছে, এই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে শিশু পুষ্টি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, নীতি নির্ধারক এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ ও উদ্যোগ গড়ে উঠবে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) দুই, পাঁচ ও ছয় পূরণে সহায়ক হবে।- বিজ্ঞপ্তি